ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 41

লেখক: F. Tabassum

দশ দিনের দীর্ঘ এক নিচ্ছিদ্র অন্ধকার যেন তার চোখের পাতায় পাথর হয়ে চেপে বসেছিল। সেই ভার সরিয়ে যখন প্রথমবার চোখ মেলল, এক ঝলক তীব্র আলো তীরের মতো বিঁধল তার মগজে। যন্ত্রণায় কুঁচকে গেল কপাল, চোখের পাতাগুলো রিফ্লেক্স অ্যাকশনে আবার বন্ধ হয়ে এল। মাথাটা এক অদ্ভুত ঝিনঝিন শব্দে ভরে উঠেছে। মনে হচ্ছে মস্তিষ্কটা কোনো এক অজানা গহ্বর থেকে মাত্র সজাগ হতে শুরু করেছে। কয়েক মুহূর্ত পর আবার ও সন্তর্পণে চোখ মেলল সে। কিন্তু এবার আলোর চেয়েও বেশি অস্বস্তি জাগাল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একগুচ্ছ অচেনা মুখ। নিজের শরীরটার দিকে নজর যেতেই ভয়ে কুঁকড়ে গেল মেয়েটি। কপালে সাদা ব্যান্ডেজ, হাতে একই আবরণ। এমনকি ডান কপালের ছোট একটা ব্যান্ডেজ লাগানো। নিজের এই জখম হওয়া শরীর আর এই অচেনা মানুষদের ভিড় তাকে এক মুহূর্তেই আতঙ্কিত করে তুলল। সে বিছানার এক কোণে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে কাঁপা গলায় প্রশ্ন করল,
"—কা... কারা তোমরা?"
আশরাফ শাহ ইষানকে উদ্দেশ্য করে নিচু স্বরে বললেন,
"—মেয়েটার কি কিছুই মনে নেই?"
মেয়েটা বড় বড় চোখ করে আশরাফ শাহের দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে একরাশ বিভ্রান্তি,
"—উনি.... উনি আমার কে হন?"
ইষান এক মুহূর্ত স্থির থেকে শান্ত গলায় উত্তর দিল,
"—তোমার বাবা।"
মেয়েটা এবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাবিহা বেগমের দিকে আঙুল তুলে জিজ্ঞেস করল,
"—আর উনি?"
"—তোমার মা," ইষানের সংক্ষিপ্ত উত্তর।
মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে দেওয়ালের দিকে তাকাল। সেখানে ইষান, আশরাফ শাহ আর সাবিহা বেগমের একটি সুন্দর ফ্রেমবন্দি ছবি ঝুলছে। ছবিটা দেখে নিজের মনেই এক অদ্ভুত সমীকরণ মেলাল সে। ইষানের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
"—তার মানে.... তুমি আমার ভাই?"

প্রশ্নটা শুনে ইষান যেন আকাশ থেকে পড়ল। কিছুটা হতমত খেয়ে অপ্রস্তুত গলায় সে বলে উঠল,
"—আরে না না! আমি তোমার হাসব্যান্ড। তারা আমার বাবা-মা। তুমি তো অনাথ ছিলে... আমাদের বিয়ের পর থেকেই তুমি তাদের মা-বাবা বলে ডাকতে।"

"অনাথ? হাসব্যান্ড?" মেয়েটা দুই হাতে নিজের মাথাটা চেপে ধরল। তার ভেতর এক প্রবল তোলপাড় শুরু হয়েছে। হাজার চেষ্টা করেও সে মস্তিষ্কের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে কোনো স্মৃতি হাতড়ে বের করতে পারছে না।
"—আমার নাম কি? কেন... কেন আমার কিছুই মনে পড়ছে না?"
যন্ত্রণায় তার মুখটা নীল হয়ে এল। বন্ধ চোখের পাতায় কিছু একটা ভেসে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু সবটাই কুচকুচে অন্ধকার। সেই অন্ধকারের দেওয়ালে মাথা কুটে মরছে তার বর্তমান।
ইষান দ্রুত তার কাছে এগিয়ে আসে,
"—তোমার নাম ইন...." বলতে গিয়েও ইষান নিজেকে সামলে নিল। এক পলক থেমে স্নিগ্ধ স্বরে বলল,
"—তোমার নাম নীলা। মাথায় একদম চাপ দিও না। যত মনে করার চেষ্টা করবে, তোমারই কষ্ট বাড়বে। একটু শান্ত হও, দেখবে সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
নীলা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। ঠোঁট দুটো থরথর করে কাঁপছে তার,
"—আমার নাম নীলা? কিন্তু.... কিন্তু আমার নিজের নামটাই কেন মনে নেই?"
নীলা যখন আর্তনাদ করে মাথা চেপে ধরল, ইষান দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত স্বরে বলল,
"একটা ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল নীলা। মাথায় প্রচণ্ড চোট পাওয়ার কারণেই তুমি তোমার সব স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছ।"
নীলার সহ্যক্ষমতা যেন ফুরিয়ে আসছিল। সে চিৎকার করে উঠল, "দোহাই তোমাদের, আমাকে একটু একা থাকতে দাও! মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে আমার!"
ইষান আর দেরি করল না। বাবা আর মাকে চোখের ইশারায় বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে নিজেও বেরিয়ে এল। দরজা আটকানোর সময় চোখ তুলে নীলার দিকে তাকাল। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসি দিয়ে মনে মনে বলল,
"যতই চেষ্টা কর না কেন কিছুই মনে পড়বে না তোমার। প্রথমেই যদি রাজি হয়ে যেতে তাহলে আমার এত কিছু করতেই হতো না।"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 41 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন