ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 47

লেখক: F. Tabassum

বাসায় ফেরার পর থেকেই নীলার শরীরের অগ্রগতি কিছুটা কমেছে। হয়তো হাসপাতালের কড়া ওষুধের প্রভাবে জ্বরটা আগের চেয়ে কিছুটা কমছে।

বিকেলবেলা ইষান একটি জরুরি কাজে বাইরে গেল। নীলা তখন নিজের রুমে— যে রুমটাকে ও এখন নিজের বলেই জানে— একটু আয়েশ করে বসে ছিল।
হঠাৎ দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকল সায়রা। মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করল, "কেমন আছো ভাবী?"
নীলা একটু ম্লান হেসে জবাব দিল, "আগের চেয়ে একটু সুস্থ বোধ করছি। তুমি কেমন আছো?"
"আমি তো অলওয়েজ গুড!" সায়রা চনমনে গলায় বলল। দুজনের মধ্যে টুকটাক ঘরোয়া আলাপ চলল কিছুক্ষণ।
হঠাৎ করেই নীলা বলে বসল, "আচ্ছা সায়রা, আমাদের বিয়েটা— মানে তোমার ভাইয়া আর আমার বিয়েটা ঠিক কবে হয়েছিল???"
প্রশ্নটা শুনে সায়রার মুখের হাসি যেন চট করে মিলিয়ে গেল। ও একদম হতমত খেয়ে গেল, চোখের তারা দুটো অস্থিরতায় এদিক ওদিক ঘুরতে লাগলো। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে একটু আমতা আমতা করে বলল, "ওহ্... ওইতো দেড় বছর আগে।"
নীলা একটু কৌতূহলী হয়ে আবার জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা, আমাদের কি লাভ ম্যারেজ ছিল?"
সায়রা এবার খুব দ্রুত আর সংক্ষেপে উত্তর দিল, "হুম।"
নীলা ধীর গলায় বলল, "আসলে অ্যাক্সিডেন্টে সব ভুলে গিয়েছি তো, তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু অ্যাক্সিডেন্টটা ঠিক কিভাবে হয়েছিল?"
সায়রার কপালে এবার বিন্দু বিন্দু ঘাম জমল। ও একটু ইতস্তত করে বলল, "আসলে... আপনি ভাইয়ার উপর রাগ করে বাসা থেকে চলে গিয়েছিলেন, ওই সময়ে বাসে করে যাওয়ার পথে বাস অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল।"
কথাটা শুনে নীলা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। সায়রাকে আর বেশি অপ্রস্তুত করতে চাইল না ও। ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা দামী একটা মেকআপ সেট এগিয়ে দিল সায়রার দিকে।
"এই নাও সায়রা। আমি তো তেমন একটা মেকআপ করি না, তোমার কাজে লাগাতে পারো।"
দামী মেকআপ সেটটা হাতে পেয়ে সায়রা এক মুহূর্তের জন্য সব অস্বস্তি ভুলে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল। "থ্যাঙ্কস ইউ ভাবী!" বলেও প্রায় নাচতে নাচতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

রাত ঘনিয়ে এসেছে। ইষান নীলার রুমের দরজায় এসে একটু উঁকি দিল, দেখল নীলা বিছানায় হেলান দিয়ে ফোনে নিউজ দেখছে।
ইষানকে ভেতরে ঢুকতে দেখে নীলা ফোনটা পাশে রেখে সোজা হয়ে বসল।
ইষান খুব স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করল, "এখন কেমন আছো? শরীর কি একটু সুস্থ লাগছে?"
নীলা কোনো কথা না বলে শুধু ওপর-নিচ মাথা নাড়ল। ওদের মধ্যে খুব সাধারণ কিছু কথাবার্তা হলো। কিন্তু নীলা সুযোগ বুঝে হুট করেই প্রশ্ন করে বসল, "আচ্ছা, আমাদের বিয়েটা কবে হয়েছিল?"
ইষান একটুও সময় না নিয়ে শান্ত গলায় বলল, "এই তো, এক বছরের একটু বেশি হবে।"
নীলা মনে মনে সায়রার বলা 'দেড় বছর' আর ইষানের 'এক বছর'— দুটোকে মেলানোর চেষ্টা করল। ও আবার জিজ্ঞেস করল, "ওহ আচ্ছা। আমাদের কি লাভ ম্যারেজ ছিল?"
ইষান ছোট করে উত্তর দিল, "হুম।"
"তাহলে তুমি পাশে থাকার পরেও আমার এমন ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্ট হলো কীভাবে?"— নীলার এই সরাসরি প্রশ্নে ইষান এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল, তবে পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলল, "আসলে তুমি আমার ওপর রাগ করে একটা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলে, আর তখনই অ্যাক্সিডেন্টটা হয়েছিল।"
নীলা এবারও শুধু 'ওহ আচ্ছা' বলে চুপ করে রইল। কিছুক্ষণ পর ইষান রুম থেকে চলে গেলে ও নীলার ঘুম এল না। ও বিছানায় শুয়ে ভাবছে— সায়রা বলল বাস অ্যাক্সিডেন্ট, ইষান গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট, বিয়ের সময়ও ঠিক বলল না কেউ। দুজনের কথার কোনো মিল নেই, তবে ওরা কি মিথ্যা বলছে? নাকি আমিই বেশি ভাবছি?
_______

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 47 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন