ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাত্র্যোশকা

Born to be villains part 43

লেখক: মিথুবুড়ি

"আই মিসড ইউ, লাভ।"

সোফিয়া ছবিটা বুকের সাথে চেপে ধরে ফুঁপিয়ে উঠল। কিছুদিন আগেও যে ঠোঁট দুটো থেকে আগুনের ফুলকি ঝরছিল, ঝড়ের রাতে দোলা কচি চারাগাছের মতো আজ সেই তেজস্বী ঠোঁট জোড়াই তিরতির করে কাঁপছে। আড়ষ্ট রমণীর কণ্ঠনালি চিরে কান্নার তীব্র আর্তনাদ বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়, কিন্তু সে তা জোরপূর্বক চেপে রাখে। বিষাক্ত সব অনুভূতি পেরেক দিয়ে বুকের গহীনে বিঁধে রেখে বর্ণিল যন্ত্রণায় নিজেকে তিলে তিলে পোড়ায় সে।

খাটের এককোণে একলা গুটিয়ে বসে ছিল সোফিয়া। বুকের ভেতরের বেসামাল যন্ত্রণাগুলো যখন মেঘের মতো অশ্রু ঝরিয়ে শান্ত হয়, তখন সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে নেয়। হাঁটু থেকে মুখ তুলে সোজা হয়ে বসে ফাঁপা চোখে তাকায় ছবিটার দিকে। ছবিতে এক মধ্যবয়স্ক লোক, তার কোলে লাল চুলের তিন-চার বছরের ছোট্ট একটি মেয়ে। লোকটির ঠোঁটে লেগে আছে অনিন্দ্য সুন্দর, সুশ্রী হাসি। সোফিয়া ছবির ওপর হাত বুলিয়ে তার কোমল মুখটা স্পর্শ করে। আর অমনি কান্নার জল আবারও ভেতর থেকে উথলে উঠল।

কাঁপা কাঁপা গলায় সে বিড়বিড় করে, "তোমার হত্যার প্রতিশোধ আমি কীভাবে নেব দাদুন? আমি যে বারবার নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছি! ওই মুখটার দিকে তাকালেই আমার ভেতরের প্রতিশোধের দহন যে এক নিমেষে নিভে যায়!"

হঠাৎ রুমের বাইরে কারো পায়ের শব্দ পেয়ে তড়িঘড়ি করে ছবিটা বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেলল সোফিয়া। হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছতে যাবে, ঠিক তখুনি নিভে গেল আলো। মুহূর্তের মধ্যে গাঢ়, নিরেট অন্ধকার গিলে খেল চারদিক!

অন্ধকারের ভয়ে দু'হাতে কান চেপে ধরে মেঝেতে বসে পড়ল সোফিয়া। তীব্র নিকটোফোবিয়ার কারণে অন্ধকার তার কাছে একটি বিভীষিকার নাম। এই দমবন্ধ অন্ধকার সে এক সেকেন্ডও সহ্য করতে পারে না। খাটের পাশে বসে থরথর করে কাঁপতে থাকে সোফিয়া। ভয়ার্ত চোখের তারায় ভেসে ওঠে দশ বছর আগের সেই ভয়াল স্মৃতিগুলো। কতগুলো হিংস্র, নোংরা হাত তার দিকে ধেয়ে আসছে, গায়ের পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলছে, পশুর মতো আঁকড়ে ধরছে তাকে! সোফিয়ার কানে বাজতে থাকে তার নিজেরই অতীত আর্তনাদ আর সেই নরপশুদের বীভৎস, বিদঘুটে হাসির শব্দ।

সহ্যের সীমা পেরিয়ে গেলে সে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। গভীর বিভ্রমে আচ্ছন্ন হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীনদের মতো চিৎকার করতে থাকে, "ছুঁবে না আমাকে! ছুঁবে না... একদম কাছে আসবে না!"

বাইরে ঝুম বৃষ্টি নেমে এলো, বিকট শব্দে ফেটে পড়ল বজ্রপাত। সেই গর্জনে সোফিয়ার চিৎকার মিলিয়ে যেতে না যেতেই শোনা গেল দ্রুত কারো ছুটে আসার শব্দ। কেউ যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে আসছে! পরমুহূর্তেই রুমের অন্ধকারে জ্বলে উঠল একটা টর্চের আলো। আধো-আলোয় রুমটা আবছা দৃশ্যমান হতেই সোফিয়ার কাঁপতে থাকা কাঁধে গিয়ে পড়ল একটি কোমল হাতের পরশ। অত্যন্ত মিহি কণ্ঠে কেউ তাকে আশ্বস্ত করে বলল, "আমি আছি... শান্ত হও তুমি।"

কাঁধে সেই ভরসাযোগ্য স্পর্শ আর অভয়বাণী শুনে কাঁপতে কাঁপতে মুখ তুলল সোফিয়া। আধো-আলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠল এলিজাবেথের দুধে-আলতা মুখখানি। অদেখা কোনো অজানা মানুষের জন্য কেন এই মুখটাতে এত উদ্বেগ, এত ব্যাকুলতা? এভাবে ছুটে আসা কি তবে শুধুই ওই অচেনা মানুষটার জন্য?

সোফিয়া হঠাৎ ভীষণভাবে হাঁপাতে শুরু করল। ঘন ঘন তীব্র নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে তার মুখ থেকে অস্পষ্টভাবে ছিটকে এলো একটিই শব্দ,"হনহেলার!"

এলিজাবেথ উদ্বেগে তার দিকে তাকিয়ে অবাক কণ্ঠে শুধাল, "তোমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে?"

সোফিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে বহু কসরতে মাথা নাড়ল। অক্সিজেনের অভাবে তার গোলাপের মতো সুন্দর মুখখানা ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে ও রক্তহীন হয়ে আসছে। এলিজাবেথ আর এক মুহূর্ত মাত্র দেরি না করে সোফিয়ার আঙুলের ইশারা অনুসরণ করে ড্রয়ারের দিকে ছুটে গেল। দ্রুত সেখান থেকে ইনহেলারটি বের করে আনল। মনে হাজারো দ্বিধা থাকলেও এই মুহূর্তে তার কাছে তা গুরুত্ব পেল না; বরং ভেতরের গভীর উদ্বিগ্নতাই প্রকাশ পেল স্পষ্ট হয়ে। সেই আকুলতা থেকেই এলিজাবেথ সোফিয়ার পিঠে নরম হাত রেখে আলতো করে ঘষতে লাগল, যাতে তার শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।

ইনহেলার ব্যবহার করার পর সোফিয়ার দম কিছুটা স্বাভাবিক হলো, শরীর শান্ত হয়ে এলো। সে পরিশ্রান্ত হয়ে বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে মাথা এলিয়ে দিল। টর্চলাইটের আলোটা তখন সোফিয়ার মাথার পেছনে রাখা।

এলিজাবেথ আবেগাপ্লুত চোখে সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,"আমারও আগে এই শ্বাসকষ্টের সমস্যাটা খুব হতো। এখন অবশ্য অনেকটাই কমে গেছে।"

তার এই কোমল, নমনীয় বাণীর বিপরীতে সোফিয়া ছুড়ে দিল বরফশীতল কর্কশ প্রশ্ন,

"কেন এসেছ এখানে?"

সোফিয়ার এমন তির্যক প্রশ্নে থমকে গেল এলিজাবেথ। সত্যিই তো, সে কেন এভাবে ছুটে এলো? তার যে কাজে আসার কথা ছিল, সেটা তো কাল সকালেও করা যেত। তবে কি এই মেয়েটার যন্ত্রণাক্ত আর্তনাদ শুনেই সে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি?

নীরবতা ভারী হয়ে উঠল। কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা ভেঙে এলিজাবেথ নিজেই শান্ত স্বরে উচ্চারণ করল,

"আমি চাইলেও তোমাকে ঘৃণা করতে পারছি না।"

এলিজাবেথের কণ্ঠের এই নির্ভেজাল সত্য শুনে সোফিয়া ঘাড় কাত করে তার দিকে তাকাল। ঠোঁটের একপাশ তাচ্ছিল্যের হাসিতে বাঁকিয়ে বলল,

"তুমি আমাকে কখনোই ঘৃণা করতে পারবে না।"

"কারণ?"

"সব কারণের উত্তর হয় না,"সোফিয়ার উত্তর কাঠখোট্টা,"কি জন্য এসেছ, সেটা বলো।"

এলিজাবেথ বুকচেরা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই মেয়েটা সত্যিই বড় অদ্ভুত, বিরাট এক ধাঁধা! কখনো সে তাসের ঘরের মতো সামনে এসে ভেঙে পড়ে, কখনো তাকে বিষাক্ত শত্রুর মতো দূরে ঠেলে দেয়, আবার কখনো তার জন্যই নিজের জীবন বাজি রাখতে দ্বিধা করে না!

নিজেকে সামলে নিয়ে এলিজাবেথ বলল, "ওই বইটা নিতে এসেছি।"

সোফিয়া ধীরপায়ে উঠে দাঁড়াল। বেডসাইড টেবিল থেকে বইটা তুলে নিয়ে এলিজাবেথের বাড়ানো হাতে দিল। তারপর অত্যন্ত শান্ত গলায় জানতে চাইল,

"ঠিক কী জানতে চাও তুমি?"

বইটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে এলিজাবেথ চোখ তুলে তাকাল সোফিয়ার রহস্যময় চোখের দিকে। ধীরকণ্ঠে বলল,

"অতীত!"

সোফিয়ার ঠোঁটে ফুটে উঠল বিষাদময় হাসি। সে স্নান হেসে বলল,

"উপন্যাসে পূর্ণতার সুখপাঠ পড়ে বাস্তবতার এই কঠিন অপূর্ণতাগুলো মেনে নিতে পারবে তো?"

সোফিয়ার এমন অপ্রত্যাশিত, গভীর প্রশ্নে তাজ্জব হয়ে গেল এলিজাবেথ। অবাক কণ্ঠে বলল, "মানে?"

"মাত্র্যোশকা পুতুলের নাম শুনেছ?"

এলিজাবেথ মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বলল, "আমি দেখেছি। একটা বড় পুতুলের পেটের ভেতর আরও অনেকগুলো ছোট পুতুল লুকানো থাকে।"

"মানুষের জীবনের গল্পগুলোও ঠিক তেমনি," সোফিয়া অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, "বাইরে থেকে যা অত্যন্ত সাদাসিধে ও সাধারণ মনে হয়, তার প্রতিটা পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে গভীর রহস্য আর না-বলা অসংখ্য গোপন গল্প!"

এলিজাবেথ সোফিয়ার এমন পেঁচানো, রহস্যময় কথার মূল ভাব উদ্ধার করতে পারে না। সে কৌতূহল আর প্রশ্নভরা চোখে তাকিয়ে থাকে সোফিয়ার দিকে। সোফিয়া আর কথা বাড়ায় না। গম্ভীর মুখে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বেশ শক্ত গলায় বলে,

"চলে যাও।"

এলিজাবেথ তাও কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নির্নিমেষ চেয়ে থাকে সোফিয়ার বিষাদময় মুখের দিকে। সত্যি বলতে, সে-ও এই মেয়েটার কাছে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে চায় না। অথচ কার যেন এক অদৃশ্য টানে সে বার বারবার থমকে যায়, আর তখন নিজেকে বড্ড দুর্বল লাগে। কেন এমন হয়, তার কোনো হিসাব এলিজাবেথের নিজের কাছেও নেই। সে ঘুরে পা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখুনি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল টর্চটি!

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ফের নিরেট অন্ধকারে ডুবে গেল।সঙ্গে সঙ্গে সোফিয়া পূর্বের মতোই আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠে দু'হাতে কান চেপে ধসে পড়ল মেঝেতে। এলিজাবেথ হাতের বইটা রেখে ছুটে গিয়ে সোফিয়াকে আঁকড়ে ধরল। পরম মমতায় এক বোনের মতো শক্ত করে সোফিয়াকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে টর্চটা জ্বালাবার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু টর্চ জ্বলল না। ব্যাটারি শেষ!

সোফিয়া কাঁপা কাঁপা গলায় অস্ফুটে বলে, "কোথাও নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে... আমি অন্ধকারকে ভীষণ ভয় পাই আজকে রাতটা একটু থাকবে আমার সাথে?"

সামনের থাই গ্লাস ভেদ করে বাইরের বিজলির আলো এসে পড়ল ভেতরে, আবছা আলোয় আলোকিত হয়ে উঠল চারপাশ। সেই আলোতেই সচেতন হয়ে এলিজাবেথ একটু পিছিয়ে এলো সোফিয়ার কাছ থেকে। শুকনো গলায় ঢোক গিলে মিথ্যে বলতে ইতস্তত করল, তবুও বলল,

"আমার স্বামী তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে!"

কথাটা শোনামাত্রই যেন তীব্র যন্ত্রণা আঁচড় কেটে গেল সোফিয়ার বুকে। একইসাথে ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল বিষাদময় হাসি। সে বিছানার মাথায় গা এলিয়ে দিল। ফাঁপা, করুণ দৃষ্টিতে বারান্দা দিয়ে তাকাল গর্জন তোলা কালো মেঘের আকাশের দিকে। তার ব্যথাক্লিষ্ট ঠোঁট দুটো তাচ্ছিল্যের সুর তুলে ফিসফিস করে আওড়ালো,

"ভালোবাসার এমন ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা তো একসময় আমারও ছিল! কিন্তু আজ পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হচ্ছে না? একটা রাত তুমিও নাহয় মানিয়ে নাও! সঙ্গীহীন শূন্য বিছানায় একাকী শুয়ে দেখো, নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা ঠিক কতটা গাঢ় হয়!"

কিন্তু সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে একটা বজ্রপাত হলো বাইরে। সেই গর্জনে সোফিয়ার ক্ষোভ আর যন্ত্রণামাখা কথাগুলো এলিজাবেথের কান পর্যন্ত পৌঁছাল না। সোফিয়া একপর্যায়ে ক্লান্তিতে চোখ বুঁজল। এলিজাবেথ তখনও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এই অদ্ভুত মেয়েটার শান্ত, নিস্তব্ধ মুখের দিকে।

সোফিয়া বিছানায় হেলান দিয়ে নিথর হয়ে পড়ে থাকলে এলিজাবেথ একটু ঘুরে বসল। সোফিয়ার দিকে ঘাড় কাত করে বিছানার একপাশে মাথা রাখল সে। সোফিয়া বোধহয় এরমধ্যেই ঘুমে তলিয়ে গেছে। তার দেহে আর কোনো নড়চড় নেই, সাড়াশব্দ নেই।

হঠাৎ করেই এলিজাবেথের মনে হলো সময়টা যেন এখানেই থমকে যায়৷ মনে হলো এই নিস্তব্ধ নীরবতাতেই যেন অদ্ভুত ভালোলাগা লুকিয়ে আছে। সে ধীরে ধীরে সোফিয়ার আরো কিছুটা কাছে ঘেঁষে এলো। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ঘুমন্ত সোফিয়ার নিষ্পাপ, নির্মল মুখখানার দিকে। মেয়েটার বন্ধ চোখের কোণে তখনো একফোঁটা অশ্রু জমে রয়েছে। কিসের এই অনভিল কষ্ট, কিসের এই কান্না, তা এলিজাবেথ জানে না। তবে সোফিয়ার শরীর থেকে সুবাসিত মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে আসছে, যা এলিজাবেথকে এক মায়াবী মোহে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এই ঘ্রাণের মোহেই সে আর সেখান থেকে উঠে যেতে পারল না। একা এমন ভয়াবহ অন্ধকার ঘরে মেয়েটাকে ফেলে রেখে যাওয়ার মতো নিষ্ঠুরতা তার মন সইলো না।

এলিজাবেথ নিষ্প্রভ সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল, "তোমার গায়ের গন্ধটা খুব মিষ্টি!"

মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে অনেকটা সময় পার হয়ে গেল, আর এলিজাবেথ নিজেই যে কখন ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল, সে টেরও পেল না। যেভাবে সে সোফিয়ার কাছে শুয়ে ছিল, সেভাবেই ঘুমিয়ে পড়ল।

এলিজাবেথ ঘুমিয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পরেই সোফিয়ার ঘুম ভাঙে। তখনো বিদ্যুৎ ফেরেনি, আলো নেই। তবে বাইরে বারবার চমকে ওঠা বিজলির তীব্র আলোয় ভেতরের সবকিছু বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সোফিয়া পাশ ফিরে তাকাতেই থমকে গেল। এলিজাবেথকে এতখানি কাছে দেখে প্রথমে চমকে উঠলেও, পরক্ষণেই তার নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখখানার দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল সোফিয়া।

তার ডান হাতটা অজানতেই গিয়ে স্পর্শ করল এলিজাবেথের নরম গাল। ঠোঁট দুটো নড়ে উঠে অস্ফুটে বলে উঠল,

"তুমি দেখতে ভীষণ মিষ্টি। তোমার শরীর থেকে একটা আদুরে বোন বোন গন্ধ আসে, এলিজাবেথ!"

_____

সমুদ্র আজ উত্তাল। গর্জনের মতো এক-একটি উত্তাল ঢেউ বালুচরে এসে আছড়ে পড়ছে। ফ্যানিল ফেনায় সাদা চিকমিক করা বালিগুলো যেন চিরচেনা সঙ্গী খুঁজে পেয়ে ঢেউয়ের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।

সমুদ্রের সেই গুরুগম্ভীর গর্জন আর উত্তাল গর্জনে আজ খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল সোফিয়ার। ঘুম ভাঙার পর থেকে সে এলিজাবেথের পাশে মাথা রেখে একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। সেই দৃষ্টিতে যেন কত যুগের জমানো তৃষা আর গভীর প্রীতি মিশে আছে। কিন্তু সোফিয়ার এই একগুঁয়ে, স্নেহাদ্র দৃষ্টিতে ছেদ পড়ল হঠাৎ রুমের বাইরের ভারি গমগমে পায়ের শব্দে। পায়ের শব্দে এলিজাবেথেরও ঘুম ভেঙে গেল। এলিজাবেথকে চোখ মেলতে দেখে সোফিয়া দ্রুত নিজেকে একটু সামলে নিয়ে সরে বসল।

"এত সকালে আবার কে আসছে?"

তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্নটা ছুড়েই সোফিয়া খাটের নিচ থেকে হকিস্টিকটা বের করতে চাইল। কিন্তু তাকে সাথে সাথে থামিয়ে দিল এলিজাবেথ। একটা আলসে হাই তুলে খুব শান্ত কণ্ঠে এলিজাবেথ বলল, "থামো। উনি এসেছে।"

সোফিয়া থমকে গেল। কপাল কুঁচকে সে বিস্ময় নিয়ে তাকাল, "তুমি এত নিশ্চিত হয়ে কীভাবে বলছ?"

এলিজাবেথের উত্তর এলো একদম স্পষ্ট ও নির্দ্বিধ,

"উনার পায়ের শব্দ আমার চেনা। উনি আশেপাশে আছেন মানে আমরা নিরাপদ, কোনো বিপদ আমাকে ছুঁতেও পারবে না।"

এলিজাবেথের এই অন্ধ আর অটুট বিশ্বাস দেখে সোফিয়া তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। হালকা গলায় বলল,

"পুরুষ মানুষকে এভাবে অন্ধ বিশ্বাস করতে নেই, সিস্টা। একদিন এই অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই তোমাকে অন্ধ করে দিয়ে চলে যাবে।"

সোফিয়ার তাচ্ছিল্যের ভেতরের সূক্ষ্ম খোঁচাটা ধরতে এলিজাবেথের এক মুহূর্তও সময় লাগল না। সে সোফিয়ার চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ল, "যাকে শত অর্ধনগ্ন নারীর ভিড়ে রেখে আসলেও সে চোখ বুঁজে নিজের স্ত্রীর পথ চেয়ে বেরিয়ে আসে, তাকেও অবিশ্বাস করতে বলছ?"

সোফিয়া চোখের দৃষ্টি স্থির রেখেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল,"পরীক্ষা হয়ে যাক?"

এলিজাবেথ মুখে বাঁকা হাসি নিয়ে সম্মতি জানাল,"হোয়াই নট, হানি?"

মুহূর্তের মধ্যে দুজনে দরজার দুই পাশে টাঙানো পর্দার আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। কিন্তু হঠাৎ-ই এলিজাবেথকে অস্বস্তি আর স্তম্ভিত অবস্থায় ফেলে সোফিয়া তার ইনার খুলে দরজার সামনে ছুড়ে মারল। সোফিয়ার এমন কুরুচিপূর্ণ কাণ্ড দেখে এলিজাবেথের চোয়াল ফাঁক হয়ে গেল। তার ক্ষিপ্র দৃষ্টি সোফিয়ার দিকে ধেয়ে যেতেই, সোফিয়া পর্দার আড়াল থেকে চোখ মারল। রাগে এলিজাবেথের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই পুরো ব্যাপারটা ওর কাছে পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। সবটা বুঝতেই সোফিয়ার এই বোকামি আর ভঙ্গুর আত্মবিশ্বাসের ওপর এলিজাবেথের এক ধরনের করুণা হলো। একটা মেয়ে কতটা নির্বোধ হলে রিচার্ড কায়নাতের মতো পুরুষকে দৈহিক লোভে ফাঁদে ফেলার চিন্তা করতে পারে!

রিচার্ড সারারাত ম্যানশনে ছিল না। এখন ফিরল। তার পরনের রয়্যাল স্যুটটা বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে আছে।অর্থাৎ স্পষ্টতই রাতের পুরো ঝড়টাই সে খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছে। ম্যানশনে ফিরেই সমস্ত অভিমানের দেয়াল ভেঙে সে হন্যে হয়ে ছুটে গিয়েছিল এলিজাবেথের খোঁজে। কিন্তু ওকে না পেয়ে পুরো ম্যানশনে এলিজাবেথকে খুঁজতে খুঁজতে রিচার্ড শেষ পর্যন্ত এসে থামল সোফিয়ার রুমের সামনে।

রুমের দরজাটা খোলা ছিল। কিন্তু দরজার ঠিক সামনে ফ্লোরে এভাবে ইনার পড়ে থাকতে দেখে রিচার্ড সঙ্গে সঙ্গে চোখ-মুখ কুঁচকে উল্টো ঘুরে গেল। সে এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার জন্য পেছনে ঘুরে পা বাড়াল।

পর্দার আড়াল থেকে রিচার্ডকে চলে যেতে দেখে এলিজাবেথ সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে বিজয়ের হাসি দিল। কিন্তু সেই হাসি বেশি সময় স্থায়ী হলো না। এলিজাবেথের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়ে বাইরে থেকে হঠাৎ ভেসে এলো পরিচিত গম্ভীর, পুরুষালী কণ্ঠটি,

"রেড, আই নো তুমি আশেপাশে কোথাও আছো। বেরিয়ে আসো।"

মুহূর্তেই ধড়াস করে কেঁপে উঠল এলিজাবেথের বুক। রমণীর প্রতিটি রক্তকণিকায় যেন বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল! রিচার্ড চলে যায়নি, সে উল্টো ঘুরে ওখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। এলিজাবেথের বুকে অনুভূতির সুনামি তুলে সে আবারও ডেকে উঠল,

"আমি তোমার শরীরের স্মেল পাচ্ছি, রেড। বেরিয়ে আসো।"

______

একসময় যে মানুষটাকে একনজর দেখার জন্য লাস্যময়ী হৃদয় অস্থির হয়ে উঠত, রাতের পর রাত কেটে যেত নিদ্রাহীনতায়, বুকের ভেতরের শূন্যতা খাঁ খাঁ করে হাহাকার তুলত আজ সেই মানুষটার মুখোমুখি দাঁড়াতেই তীব্র অস্বস্তি আর আড়ষ্টতা ঘিরে ধরছে। এজন্যই বুঝি সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব আনতে নেই! সামান্য কিংবা অসামান্য—যেকোনো মান-অভিমান তখনই মিটিয়ে নেওয়া শ্রেয়। নতুবা ক্ষণিকের এই বিচ্ছেদ দীর্ঘদিনের গভীর ভালোবাসায় অবধারিত ফাটল ধরাতে সক্ষম।

লিভিং এরিয়ার কুচকুচে কালো ভেলভেট কাউচে শান্তমূর্তির ন্যায় বসে ছিল রিচার্ড। তবে তার আজকালের বসার ভঙ্গিতে সেই চিরচেনা রাজকীয় দাপট অনুপস্থিত। লোকটাকে আজ বড্ড শান্ত দেখাচ্ছে। এই অতিপ্রাকৃত শান্ত ভাবটা কিছুতেই তার ব্যক্তিত্বের সাথে মানাচ্ছে না। যার দরুন এলিজাবেথের ভেতরের অস্বস্তি দ্বিগুণ আকার ধারণ করল। সে ঝরে পড়া পাতার মতো একদম নীরবে এসে রিচার্ডের সামনে দাঁড়াল।

বাতাসে প্রিয় নারীর শরীরের মাতাল করা সুবাস ভেসে আসতেই রিচার্ড চোখের পাতা তুলল। মোহাবিষ্টের মতো কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল এলিজাবেথের দিকে। কতগুলো দীর্ঘ দিন ধরে এই গোলাপ-কোমল মুখখানি কাছ থেকে দেখা হয়নি, স্পর্শ করা হয়নি! রিচার্ডের এই গহীন, নিবিড় দৃষ্টি এলিজাবেথের বুকের ভেতর উথাল-পাথাল আন্দোলন সৃষ্টি করে। লোকটার এই গাঢ় চাহনি যেন তাকে নববধূর লজ্জায় রাঙিয়ে তুলল। আড়ষ্টতায় আচ্ছন্ন এলিজাবেথ কাচুমাচু ভঙ্গিতে মাথা নত করে মেঝের দিকে চেয়ে রইল, অহেতুক পায়ে আঙুল ঘষে সময় কাটানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালাল।

রিচার্ডের স্তব্ধ, নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে এবার সামান্য চঞ্চলতা ফুটল। সে দৃষ্টি সরিয়ে সামনের কাঁচের ছোট টেবিলটিতে রাখা ল্যাপটপের স্ক্রিনটি এলিজাবেথের দিকে ঘুরিয়ে দিল। কুণ্ঠিত চোখে এলিজাবেথ স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই শিউরে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ওয়াসিম ভিলার পেছনের অংশ। দেখা যাচ্ছে, সুরকার ইমনকে হিপনোটাইজ করে ফেলার পর ইমন মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধীরে ধীরে গভীর জঙ্গলের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। অফিসার প্রেম তাকে সর্বশক্তি দিয়ে থামানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সব বৃথা। ইমন যেন কোনো অদৃশ্য মন্ত্রের বশে মৃত্যুকূপের দিকে ধাবিত হচ্ছে ।

ওদিকে জঙ্গলের গহীনে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল রিচার্ডের সশস্ত্র রক্ষীরা। সন্দেহজনক কাউকে পেলেই গুলি করার প্রস্তুত ছিল তারা। পেছনে সুরকার আর প্রেমের মাঝে চলছে জীবন-মরণ লড়াই, আর ওদিকে ইমন নিজের পায়ে হেঁটে চলেছে নিজের ধ্বংসের দিকে। যে-ই সে জঙ্গলে পা রাখল, অমনি ড্রাগন সোলজারের একটি নির্মম বুলেট এসে বিদ্ধ করল তার বুকের এক পাশ। মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সে। দৃশ্যটি স্পষ্ট করে দিল ইমন হত্যাকাণ্ডে রিচার্ডের প্রত্যক্ষ কোনো হাত ছিল না। সে সম্পূর্ণ নির্দোষ।

সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এলিজাবেথ স্তব্ধ হয়ে গেল। যে মানুষটি অপরাধী ছিল না, তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে কত বড় এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল! বিগত কয়েক দিনে অনর্থক কতটা যাতনা দিয়েছে লোকটিকে! একদিকে অনুশোচনা, অন্যদিকে চোখের সামনে ভাইয়ের নির্মম মৃত্যুর দৃশ্য, এই দুইয়ের অভিঘাতে ভেতর থেকে একেবারে গুঁড়িয়ে গেল এলিজাবেথ। তার চোখের কোণ ঘেঁষে নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ল একফোটা যন্ত্রণামাখা অশ্রু।

"এই দূরত্ব আর সহ্য হচ্ছে না। লেটস ফিক্সড ইট। আই'ম স্যরি, জান।"

এলিজাবেথ চোখ তুলে তাকাল। রিচার্ড একদৃষ্টে তখনও তার দিকেই চেয়ে আছে। লোকটির চোখে ফুটে ওঠা ব্যাকুলতা এলিজাবেথের ভেতরটা ছিন্নভিন্ন করে দিল। ইচ্ছে হলো, সব ভুলে ছুটে গিয়ে তার বুকের মাঝে আছড়ে পড়ে। কিন্তু ঠিক পরমুহূর্তেই মিরর হাউস এর সেই অন্ধকার স্মৃতি মনে পড়ে যেতেই ক্ষোভে- অভিমানে ভারী হয়ে ওঠে তার চিবুক।

"আমি আপনার ওপর ভীষণ রেগে আছি। আপনি আমাকে অমানুষিক কষ্ট দিয়েছেন।"

রিচার্ড হেঁচকা টানে এলিজাবেথকে নিজের অতি নিকটে নিয়ে এলো। এরপর অতীব অস্বাভাবিক কাজটি সে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সম্পন্ন করল; পরম আদরে এলিজাবেথের নরম পা-খানি তুলে এনে রাখল তার বুকের বাম পাশে, যেখানে হূৎপিণ্ড স্পন্দিত হয়।

"বুকে পা রাখো, জান। পা দিয়ে পিষে দাও এই জায়গাটা। এখানে ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে।"

এলিজাবেথের কোমল ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠল। সে অভিমান ভরে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, "না, তাতে আমার রাগ কমবে না। আপনি আমার সাথে যা করছেন, তা ভয়াবহ! আমি মরেও যেতে পারতাম!"

"কেউ স্বেচ্ছায় নিজেকে শেষ করতে চায় না, রেড। মানুষ তা-ই করে, যাতে সর্বাগ্রে নিজেকে রক্ষা করা যায়। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। নিজের আত্মাকে আমি কীভাবে মরতে দিতে পারি?"

এলিজাবেথ মুখ ফেরাল না, তবে তার সসংযম কান্না এবার ফুঁপিয়ে উঠল। ভেতরের সমস্ত ভাঙচুর সামলে দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে শক্ত কণ্ঠে সে বলল, "ইউ আর সো হার্টলেস!"

এই চিরন্তন সত্য অস্বীকার করার কোনো অবকাশ ছিল না। রিচার্ডও তা পারল না। সে নিজের এই নির্মমতাকে মেনে নিল একধরনের নিঃসংকোচ ব্যর্থতায়। ঠোঁট উল্টে নির্দ্বিধায় কাঁধ ঝাঁকাল সে,"আই নো!"

জ্বলে উঠল এলিজাবেথ, "ওকে, লিভ ইউর লাইফ!"

বলেই এলিজাবেথ তেজ দেখিয়ে পা সরিয়ে দূরে সরে যেতে চাইলে অমনি পেছন থেকে তীব্র অধিকারে ওর হাতটি আঁকড়ে ধরল রিচার্ড। অতঃপর সমস্ত আকুলতা ঢেলে দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে আওড়ালো,

"উইথআউট ইউ? স্যরি, আই কান্ট।"

এলিজাবেথ ঝটকা মেরে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল,"আমি আর থাকব না আপনার সাথে।"

"আমি বাধ্য করব।"

"তবুও আমাকে ধরে রাখতে পারবেন না।"

"আমি খুব ভালো করেই ধরে রাখতে জানি। পাখিকে কীভাবে খাঁচাবন্দী করতে হয়, সে বিষয়ে আমি সিদ্ধহস্ত, রেড।"

মুহূর্তের মধ্যে রিচার্ড এলিজাবেথকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল। মেয়েটা তখন রাগে-ক্ষোভে তার বুকের ওপর অঝোরে কিল-ঘুষি বসিয়ে চলেছে। সেই অবাধ্য মেয়েটিকে জোরপূর্বক বাহুডোরে চেপে ধরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে ভারি গলায় রিচার্ড বলল,

"ভুলে গেলে, কীভাবে তোমাকে না ছুঁয়ে, না দেখা দিয়ে আমার প্রেমে ব্যাকুল করেছিলাম?"

এলিজাবেথের হাত থামে না। তার নরম হাত দুটো রিচার্ডের পাথরের মতো শক্ত বুকে আঘাত করতে করতে নিজেই ব্যথিত হচ্ছিল। তীব্র ক্ষোভে চেঁচিয়ে উঠে সে,

"ওটা ভালোবাসা ছিল না, ওটা ছিল চতুর ম্যানিপুলেশন! এই ছলনা আপনি বারবার করতে পারবেন না। ভুলে যাবেন না, আপনি আজও বেঁচে আছেন কারণ গুলিটা আপনার কাঁধে চালিয়েছিলাম আমি। যেদিন আমার নিশানা একেবারে নিখুঁত হবে, সেদিন কিন্তু আর বাঁচবেন না, মি. কায়নাত! সেদিন গুলিটা সোজা বুক ভেদ করে যাবে।"

রিচার্ড ঠোঁটে সূক্ষ্ম হাসি ফুটিয়ে বলে, "এখনও তো বুকেই আছো। চালিয়ে দাও না গুলি!"

"রিভলবারটা দিন!"

"আমাকে মারার অস্ত্র আমি নিজেই তোমার হাতে তুলে দেব? তুমি নিজেকে বোকা বললে, না আমাকে ভাবলে?"

রিচার্ড এলিজাবেথকে সরাসরি বেডরুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসাল। তারপর দরজাটি ভেতর থেকে লক করতে উদ্যত হতেই পেছন থেকে এলিজাবেথ বিস্ময়ের সাথে বলে উঠল,

"আপনি ডিঙ্কস করেছেন?"

রিচার্ড ধীরপায়ে ঘুরে এলিজাবেথের দিকে তাকাল। নিঃশব্দ পদক্ষেপে এগিয়ে এসে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল এলিজাবেথের সরু কোমর। আবেশ জড়ানো কণ্ঠে বলল,

"আমি মদ ছুঁয়েও দেখিনি। বিশ্বাস না হলে তোমার ঠোঁট দুটো আমার ঠোঁটে ছুঁইয়ে যাচাই করে দেখো একবার।"

এলিজাবেথ স্তব্ধ, হতবিহ্বল হয়ে পড়ল। রিচার্ড আরও ঘনিষ্ট হয়ে ওর বুকে মুখ লুকায়। এতদিনকার বিচ্ছেদের তীব্র দহনে পুড়তে পুড়তে বড্ড কাতর স্বরে ফিসফিস করে বলে উঠে,

"এই দূরত্ব আর সহ্য হয় না। সব ভুলে কাছে টেনে নাও না, লক্ষ্মীটি!"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে Born to be villains part 43 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন