#আসবো_ফিরে_আবারো
#বোনাস_পর্ব
#সুরভী_আক্তার
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ )
যে ইমাম কে তুলে আনা হয়েছে , তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত । তোরজোর করে কিছু না বলেই ঘুম থেকে উঠিয়ে আনা হয়েছে তাকে । আলাদা করে সব বলে কয়ে বোঝাতে গিয়ে সময় নষ্ট করেনি কেউ ।
এখন তিনি এমতাবস্থায় সঙ্কিত হয়ে বসে আছেন একপাশে । হাতে কাগজ কলম । রৌদ্র আর মেঘা বসা পাশাপাশি । ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ঘরোয়া ভাবে বিয়ে পড়ানো হবে কেবলই । তবে সুইজারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী সর্বপ্রথম সিভিল রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে আইনি ভাবে বিয়ে সম্পন্ন করতে হয় । সেই রেজিস্ট্রি পেপার ব্যাতীত বিয়েকে কার্যকর ধরা হয় না । রৌদ্র আর মেঘার রেজিস্ট্রি করা আছে আগে থেকেই । এখানে আর আলাদা করে সমস্যা পোহাতে হলো না । ইমাম সাহেব কে সব বোঝানো মাত্রই তিনি নতুন করে কাগজে কলমে বিবাহ নামা লিখলেন । সাক্ষি উপস্থিত সবাই । মেঘার মাথায় লাল ওরনা টেনে দেওয়া হয়েছে কপাল পর্যন্ত ।
ইমাম সাহেব লেখার মাঝে চোখ তুলে শুধোলেন কলম থামিয়ে.....
" দেনমোহর কত লেখা হবে ?
পেছন থেকে মাহির বলে ওঠে ত্বরিতে.....
" বাইশ বাইশ মিলিয়ে বাইশ লাখ লিখুন ! আজ সব বাইশের ঘরে যাবে । ঠিক বললাম তো বস ?
মাহিরের কথা শুনে রৌদ্র কিছু বলার আগেই লিখতে উদ্যত হলেন মৌলভী লোকটা । তাৎক্ষণিক গুরুভার কন্ঠে বাঁধা দিলো রৌদ্র.....
" আমার স্ত্রীর বাইশ তম জন্মদিন আজ । সেই সাথে মিলিয়ে বাইশ কোটি লিখুন । দেনমোহর তো সামর্থ্য অনুযায়ী দিতে হয় তাই না ? বাইশ কোটি দেওয়ার সামর্থ্য আছে আমার , যা আগে ছিলো না । আমি আমার স্ত্রীকে দ্বিতীয় বার বিয়ে করছি । সামর্থ্য অনুযায়ী বাইশ কোটি দেনমোহর ধার্য করুন এই বিয়েতে ।
হাঁ বনে মুখে হাত তুললেন সকলে । থমকালেন ইমাম সাহেব । এই জীবনে বিয়ে পড়িয়েছেন কম, তবে ঠেকায় পড়ে যে কটা পড়িয়েছেন, সেসবে এতো মোহরানা ছিলো না । তিনি স্তম্ভিত হয়ে শুষ্ক ঢোক গেলেন ।
এদিকে ঘোমটার আড়াল থেকে আড়চোখে রৌদ্রের দিকে তাকায় মেঘা । রৌদ্রের কথাটা মোটেও পছন্দ করে না সে । মুখ গুটিয়ে বাম কাঁধে হাত রাখে । আঁচলে ব্রোঞ্জ লাগানো আছে । সেটা খুলে হাতে নেয় দ্বাবিংশী ।
ইমাম সাহেব হতবুদ্ধতা কাটিয়ে কাগজে কলম বসাতে গেলে এবার বাঁধা দিলো মেঘা । ঘোমটা সরিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো.....
" বিয়ের ক্ষেত্রে যদি কাগজে দেনমোহর উল্লেখ করাটা বাধ্যতামূলক হয়েই থাকে, তাহলে আপনি বাইশ টাকা দেনমোহর উল্লেখ করুন । আর তার পাশে রুডভিক কাবির রৌদ্র কে উল্লেখ করে দিন । আলাদা করে অর্থ বুঝে দেনমোহর চাই না আমার । আমার কেবলই রৌদ্রকে চাই ।
রৌদ্র ত্বরান্বিত চোখে চাইলো । মেঘার দৃষ্টি পেপারের পানে । মুখ শুকনো । শব্দহীন হাসলো বেপরোয়া যুবক । মেঘা না তাকিয়েও সবার প্রখর দৃষ্টি অনুমান করে একটু চুপ থেকে বললো.....
" আমার দেনমোহর পরিশোধ করা আছে । প্রথম বিয়ের সময়েই আমাকে দেনমোহর পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে । এই বিয়েতে আলাদা করে কোটি টাকা চাইনা আমার । আমি যা বলছি তাই করুন । বাইশ টাকা লিখুন, তার পাশে রুডভিক কাবির রৌদ্রের নাম । আমি ছাড়তে চাইলেও সে যেনো আমার দেনমোহর আমাকে বুঝিয়ে দেয় । মানিয়ে নেয় যেনো আমাকে ।
রৌদ্র এবারে কপাল গুটায় । একটু কাছ ঘেঁষে শুধোয়....
" দেনমোহর পরিশোধ আছে মানে ?
মেঘা শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো এবার । মিষ্টি করে হাসলো । হাতের দিকে দৃষ্টি ফেলে ইশারা করলো । রমনীর হাতের মুঠোয় সোনালী রঙের চিকচিকে একখানা ফ্লাওয়ার ব্রোঞ্জ । রৌদ্রের চোখ কপালে উঠলো তা দেখে । অস্ফুটে বললো....
" সুইটহার্ট,,, এটা ছিলো তোমার কাছে ?
" রেখে দিয়েছিলাম ! আর কিছু চাই না । এটা, বাইশ টাকা, আর রুডভিক কাবির রৌদ্রকে হলেই চলবে । রৌদ্র তো আছে আমার জন্য, আলাদা করে আর সম্মান সূচক অধিকার দেওয়ার প্রয়োজন নেই । আমার চাওয়ার নেই বেশি কিছু ।
" উমমম, রৌদ্র ছিলো, আছে আর থাকবে । রৌদ্র কেবলই তার রৌদ্রময়ীর হয়েই বাঁচবে । ইমাম সাহেব, আপনি বাইশ টাকা দেনমোহর ধার্য করুন । আর তার পাশে আমাকে । আমার স্ত্রী যা বলছে তাই করুন ।
ঠান্ডা বাণীতে এবারে সন্তুষ্ট হলেন সকলে ।
প্রশন্য চিত্তে দ্বিতীয় বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো রুডভিক কাবির রৌদ্র আর ইভারা তাসনিম মেঘা । ওদের বিয়ের সব ঝামেলা মিটতে মিটতে রাত্রি আড়াইটা বেজেছে । সবশেষে দায়িত্ব নিয়ে ইমাম সাহেব কে তার বাড়িতে রেখে আসা হয়েছে ।
রাত বেড়েছে অনেক । ভীষণ ঘুম পেলেও নিজেকে ধাতস্থ করে মেঘা সবিশেষে ঘরে যেতে পারলো দুটো পঁয়তাল্লিশ মিনিটে । তখন শান্ত পুরো বাড়ি । যে যার ঘরে পৌঁছেছেন । মেঘা একাই ঘরে ঢুকলো ।
রৌদ্র নিচে । মাহির সঙ্গে আছে । রৌদ্র ওকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে । তীক্ষ্ণ স্বরে বলে.....
" ডোন্ট ওয়ারি, আগামী এক মাসের মধ্যে তোমার বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমার । ধেড়ে খোকা, লজ্জা করে না ? বয়স তো কম হলো না । এখনো আমার ভরসায় পড়ে আছো ! এদিকে আমি দু-দুবার বিয়ে করে নিলাম । এখন যাচ্ছি বাস....
" বস ,,, কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়া টা খুব দরকার ? আপনি রুমে যান , ম্যাম অপেক্ষা করছে ।
রৌদ্র কে সম্পুর্ন কথা শেষ দেয়নি মাহির । এই লোক ঠোঁট কাটা , তা সে জানে খুব ভালো করেই ।
উঠে দাঁড়ালো রৌদ্র । গলা ঝেড়ে কলার ঠিক করলো । ভাব সাব নিয়ে কদম এগিয়ে বললো....
" ওকে , গুড নাইট । এক মাসের মধ্যে তোমার জীবনেও এরকম গুড নাইট আসবে । এখন গিয়ে ব্যাড নাইট সেলিব্রেট করো । বাড়ি ফিরতে হবে না । থেকে যাও আজ । কাল মিনিকে নিয়ে হসপিটালে যেতে হবে চেকআপের জন্য । মনে রেখো, দুপুরে হসপিটাল থেকে ফেরার পর ইভারা কে নিয়ে ও বাড়িতে যাবো ।
" কালকেই ?
" হুম ।
রৌদ্রের ছোট্ট উত্তরে মাহির কেবলই দীর্ঘ এক দম ছাড়লো । ঘরে উঠলো রৌদ্র । মেঘা তখন আয়নার সামনে । তড়িঘড়ি করে শাড়ি পড়েছে তখন । এই প্রথম একলা শাড়ি পড়েছে । ঠিকঠাক গোছাতে পারেনি । সেফটিপিন দিয়ে আটকেছে কোনো রকমে ।
এখানে ওখানে একাধিক পিন গেঁথেছে । সেসব খুঁজে খুঁজে খুলতে হচ্ছে এখন । চোখ ও সইছে না । এতক্ষণে ঘুমে কাদা হওয়ার কথা ।
ঘরে ঢুকে শব্দ হীন দরজা লাগিয়ে মেঘার দিকে এগোয় রৌদ্র । ঠোঁটে তাঁর ঝলমলে হাসি । রমনীকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঝিমুতে দেখে হাসি চওড়া হয় কিছুটা ।
কাছে গিয়ে আলতো করে জড়িয়ে নেয় পেছন থেকে । কাঁধে থুতনি গুঁজে বলে....
" ঘুম পাচ্ছে ?
" হুম ।
" ঘুমোবে এখন ?
" হুম ।
" বিয়ের রাতে কে ঘুমায়, সুইটহার্ট ?
" আমরা ঘুমাবো ।
মেঘার ছোট্ট বাক্য । চোখ সরু । ঘুমে ভার পাপড়ি যুগল । সে প্রত্যুত্তর করে হাসার চেষ্টা করে । পিঠ ঘুরিয়ে মুখোমুখি হয় । হাসি প্রগাঢ় করে নিদারুণ কন্ঠে বলে রৌদ্রের দু কাঁধে হাত উঠিয়ে....
" থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ,,,,
এতো সুন্দর একটা সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য অনেক অনেক থ্যাংক ইউ রাইনো মুখো । আমি তো ভেবেছিলাম আপনি হয়তো জানেনই না । ইনফ্যাক্ট আমার নিজেরই মনে ছিলো না । আদ্র ভাইয়া উইশ করার পর মনে পড়েছে , যে আজ ছয় তারিখ ।
আদ্রের কথা শুনতেই অগত্যা রৌদ্রের কপালে তিন স্তর ভাঁজ পড়লো । গলা হলো তড়তড়ে...
" আদ্র উইশ করেছে মানে ?
" হুমম । ভাইয়া সেই দশটার আগে এডভান্স উইশ করে দিয়েছে । তখনই মনে পড়লো, যে আজ আমার জন্মদিন । গত পাঁচ বছরে ভাইয়াই সবার আগে উইশ করতো আমায় । রাত বারোটা হতে না হতেই সুন্দর করে সারপ্রাইজ দিতো । এবারেও ভোলেনি । কিন্তু এবারে তো কাছে নেই, তাই ফোনেই উইশ করেছে ।
মেঘা হাসি হাসি মুখে কথা গুলো শেষ করলেও রৌদ্রের মোটেও সহ্য হলো । ওর আগে আদ্র উইশ করেছে, এটা মানা যায় না । চোয়াল খিচে নিলো সে । কুঁচকে নিলো আঁখি লতা । মেঘা কে আলতো করে ঠেলে দূরে সরালো । গুরুভার কন্ঠে বললো....
" কিভাবে সারপ্রাইজ দিতো ? আমার থেকেও স্পেশাল করে ?
" এতোটা স্পেশাল করে নয়, তবে ভাইয়ার টাও স্পেশাল ছিলো আমার কাছে ।
রৌদ্রের মস্তিষ্ক চড়াও হলো নিমিষেই । গিজগিজ করে মেঘার সামনে থেকে সরে আসলো ।
" আসলেই স্পেশাল ছিলো ?
" হুম তা তো একটু ছিলোই । কারন আপনি ছিলেন না তখন । আদ্র ভাইয়াই তখন সব ছিলো আমার জীবনে ।
ফোঁস করে ওঠে বেপরোয়া যুবক । কপালের ধারের শিরা ফেঁপে ওঠে । মুখ ভার করে বলে....
" সব ছিলো ? বাহ্, খুব ভালো । আমার আগে উইশ করেছে, গত পাঁচ বছরেও এভাবে উইশ করে এসেছে, স্পেশাল তো হবেই তাই না ? তা থ্যাংকিউউউউ বলো নি তাকে, তোমার ঐ আদ্র ভাইয়া কে ?
" বলেছি তো । ভাইয়া আমার জন্য গিফট ও রেখেছে । দেশে গেলেই দিয়ে দেবে ।
" ওওওওও আচ্ছা,,, ভেরি গুড । তাহলে দেশে যাবো খুব শীঘ্রই । আদ্র ভাইয়ার থেকে গিফট নিতে হবে তো ?
" তা তো হবেই । তাড়াতাড়িই দেশে যাবো, ওকে ?
" ওক্কে মেঘ বুড়ি । রাত হয়েছে অনেক । ঘুম পাচ্ছে তো , ঘুমাও এখন ।
রৌদ্রের কথার অর্থ বুঝতে বেগ পেলো না রমনী । মেঘ বুড়ি ডাকটা শুনে হাসি পেলো বড্ড । এমনকি মুখ টিপে ফিক করে হেসেও ফেললো সে । রৌদ্র বরাবরই আদ্র কে হিংসে করে । তা সে জানে । তাই ইচ্ছে করেই খোঁচালো একটু । বেপরোয়া যুবক রাগে হিসহিসিয়ে সরে গেছে । বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে কব্জি হতে ঘড়ি খুলে ছুড়ে মারলো । ঘাড় ডলে মাথার চুল ব্যাক ব্লাশ করে পেছনের দিকে ঠেলে দিলো । মুখ গোল করে নিজেকে সামলাতে শ্বাস ফেললো লম্বা ।
এখন সে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে । মেঘা লক্ষ্য গাঢ় করে পরখ করলো ওকে । গলা ঝেড়ে বললো একটু এগিয়ে.....
" ঘুম পাচ্ছে না আর ।
" ভালো,,, তাহলে আদ্র ভাইয়াকে ফোন করে কথা বলো ।
" আপনি থাকতে আদ্র ভাইয়া কেনো ?
রৌদ্র মুখ বাঁকায় মেয়েদের মতো । কিছু বলে না । বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার আগেই মেঘা এসে আলগোছে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ওকে । সুঠাম দেহি যুবকের পিঠে মাথা এলিয়ে উদর পেঁচিয়ে বললো মিহি স্বরে.....
" রাগ করলেন ?
" আমি কে রাগ করার ? ছাড়ো, ঘুমাবো !
" বিয়ের রাতে কে ঘুমায়, রাইনো মুখো ?
রৌদ্র আড়ালে হাসে মিটিমিটি । গলা ভার রেখেই আওড়ায়....
" আমরা ঘুমাবো ! ছাড়ো ।
" উঁহু ।
" হু ।
মেঘাকে সরিয়ে দিলো সে ।
বিছানায় উঠে গা এলিয়ে চোখ বুজলো । রাগ বোঝালো উপর উপর । মেঘা ওর এমন উপেক্ষিত ব্যবহারে চোখ কুঁচকে ফেলে । কোমরে হাত ঠেসে ডাকে...
" রৌদ্র !
উত্তর করলো না বেপরোয়া যুবক । বরং উবু হয়ে শুয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলো বিপরীত দিকে ।
হাসলো মুখশ্রী আড়াল করে । মেঘার মুখখানা চুপসে আসে । আলগোছে বিছানায় উঠে রৌদ্রের কাছ ঘেঁষে তার পিঠের উপর শরীর এলিয়ে দেয় উবু হয়ে । শার্টের উপর তর্জনী দিয়ে আঁকিবুঁকি করতে করতে চট করে ঠোঁট ছোঁয়ায় চওড়া কাঁধে । জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে বলে....
" লাভ ইউ রৌদ্র !
" থ্যাংক ইউ ।
" লাভ ইউ এর পৃষ্ঠে থ্যাংক ইউ বলে কে ?
" আমি বলি ! সরো , ঘুমাবো ।
" সরবো না ।
" ওকে, ওভাবেই থাকো !
" এইই রাইনো মুখো,, কি হয়েছে ?
" কিছুনা !
মেঘা আর সহ্য করলো না ওর নাটক । চোখ মুখ পাকিয়ে ফোঁস করে উঠে বসলো । বাজখাঁই গলায় বলল.....
" থাকুন আপনি ! আমি ঘুমোলাম ।
মেয়েটা বিলম্ব না করে উল্টো ফিরে শুয়ে পড়লো । মাঝে ফারাক দিয়ে রাখলো একটা কোলবালিশ ।
রৌদ্র পিটপিট করে চোখ খোলে । মেঘাকে দূরে দেখে ঝট করে উঠে বসে । বেশি বেশি হয়ে গেছে । জিভে কামড় বসালো সে । অধর চুবিয়ে বালিশটা সরালো মাঝ থেকে । নির্লজ্জের মতো এবার নিজে কাছ ঘেঁষলো । রমনীর উদর পেঁচিয়ে কাছে টেনে নিজের বুকে তার পিঠ মিশিয়ে নিলো । চুলের ভাঁজে নাক ডুবিয়ে বললো হাস্কি টোনে.....
" লাভ ইউ, সুইটহার্ট ।
" থ্যাংক ইউ ।
মেঘার তড়তড়ে জবান ।
" উমম,, নটি গার্ল । লাভ ইউ এর পৃষ্ঠে থ্যাংক ইউ বলে কে ?
" আমি বলি, সরুন ঘুমাবো !
" সরবো না ।
" তাহলে ওভাবেই থাকুন ।
রৌদ্র ওকে টেনে সোজা করে । বাহু বন্ধনে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নেয় তার ছিমছাম তন্বী । গ্রীবার ভাঁজে মুখ গুজে সেথায় ছোট ছোট একাধিক পরশ আঁকতে আঁকতে এলোমেলো জবানে আওড়ায়.....
" স্যরি জান । ওভাবে থেকেই শেষ নয়, এখন বাঁধবো অন্য বাঁধনে । সিডিউস করেছো এতক্ষণ । এবার আর ছাড়ছি না ।
কুঁকড়ে গিয়ে ছটফট করলো দ্বাবিংশী । চোখ খিচে রৌদ্রের গলার নিকট নখ দাবিয়ে খামচি কেটে বললো....
" অসভ্য রাইনো মুখো, আই হেইট ইউ !
" বাট আই লাভ ইউ সভ্য মেয়ে ! তোমার ঘৃণার বিপরীতে তোমাকে এতোটা ভালোবাসি । ভেবে দেখো, তোমার ভালোবাসার বিপরীতে না জানি আরো কত ভালোবাসতাম তোমায় ।
মুখ তুললো রৌদ্র । চোখে চোখ পড়লো দুজনার । মেঘা ডান হাত উঠিয়ে যুবকের চুলের ভাঁজে আঙুল ডোবায় । মাথা তুলে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে.....
" কাউকে খুব বেশি ভালোবাসতে নেই, রুডভিক কাবির রৌদ্র । নজর পড়ে । শেষে ফুরিয়ে যায় ভালোবাসা, নয়তো হারিয়ে যায় ভালোবাসার মানুষ ।
রৌদ্র নিজেও ঠোঁট নামিয়ে রমনীর আঁখি লতার গোড়ে ঠোঁট ছোঁয়ায়.....
" আমার ভালোবাসা ফুরাবার নয় । আর না তুমি হারাবার ।
আই লাভ ইউ ইভারা । যতদিন বাঁচবো, সমান ভাবে আগলে ভালোবাসবো ।
,,,,,,
ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্ধ্যা গড়িয়েছে । সাতটা বাজলো ঘড়িতে । তবে ইয়াশ ফেরেনি হসপিটাল থেকে । শাফাহ্ ফোন পেয়েছে থেকে এখন আর একলা থেকেও বোর হয় না খুব একটা । সারাদিন ফোন ঘাটে । রান্না বান্নায় হাত লাগানোর পর থেকেই ইউটিউব ঘেঁটে ঘেঁটে বিভিন্ন খাবারের রেসিপি দেখে গোটা সময় জুড়ে । টুকটাক রাঁধতেও পারে ইদানিং ।
তাও সাথে থাকে ইয়াশ ।
এখন এই সন্ধ্যা গড়িয়েছে, তবুও লোকটা ফিরছে না । কিছুটা চিন্তিত হলো চঞ্চলা রমনী । ইয়াশ সবসময় এই সময়ের আগেই ফিরে আসে । আবার অনেক সময় রাতে ইমার্জেন্সি হলে ছুটতে হয় হসপিটালে ।
আজ এখনো আসছে না কেনো,কে জানে ? ফোন হাতে নিয়ে লিভিং রুম জুড়ে পায়চারি করছে মেয়েটা । আর পারলো না স্থির থাকতে ।
হাতের ফোন চোখের সামনে ধরে কল লাগালো এবারে । ওর ফোনে ইয়াশ নিজেই তার নাম্বার সেভ করে দিয়েছিলো । নাম দিয়ে সেভ করেছিলো । পরে শাফাহ্ নাম পাল্টে নিজে মাতব্বরি করে “মেঘার ভাইয়া” নামে সেভ করেছে ওর নাম্বার ।
কল লগ হতে সেই সেভ নাম্বার টা ঘেঁটে ফোন লাগালো রমনী । প্রথম বার রিসিভ হলো না । দ্বিতীয় বার কল করলো । এবারো রিসিভ হলো না ।
হয়তো কোনো জরুরি কাজে ফেঁসেছে । মুখ মলিন করে ডিভানে বসলো শাফাহ্ । বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী এই ভোর ভোর বাড়িতে কাউকে ফোন করে ডিস্টার্ব করার ইচ্ছে হলো না ।
হাঁটু জড়িয়ে মাথা নামালো হাঁটুর ভাঁজে ।
মিনিট কয়েকের মাথাতেই টুং টাং আওয়াজে বেজে উঠলো তার ফোন । হকচকিয়ে ফোনের দিকে তাকালো রমনী । ইয়াশ কল ব্যাক করেছে । নিমিষেই ঝিকঝিক করে উঠলো চঞ্চলা রমনীর মুখাবয়ব । তড়িঘড়ি করে কল রিসিভ করে কানে ঠেকালো । আগ বাড়িয়ে বললো না কথা । নীরবতা দেখে ইয়াশ নিজেই বলে.....
" বলো !
মেয়েটা মিনমিন করে শুধোয়.....
" কোথায় আপনি ?
" হসপিটালে !
" এখনো ?
" হুম ।
".......
" কি হয়েছে ? ফোন করেছো কেনো ?
" আমি কই ফোন করলাম ? আপনিই তো করলেন !
" কল ব্যাক করেছি আমি । তার আগে দুবার কে ফোন করলো , শুনি ? এখন কি বলবে বলো ?
মুখ ভেংচায় শাফাহ্ । খিটখিটে হয়ে প্রশ্ন করে....
" আজ এখনো আসছেন না কেনো ?
" মিস করছো ?
" মোটেও না । ভয় লাগছে আমার । কখন আসবেন ?
" এক্ষুনি আসবো ।
ফের নিশ্চুপ হলো রমনী । পাল্টা বললো না কিছু ।
" আর কিছু বলবে ? যা বলবে বাড়ি এসে শুনছি । রাখলাম এখন ।
" শুনুন,,,
ইয়াশ ফোন কাটতে যাবে, তার আগেই ডাক পেয়ে থামলো । উত্তর করলো......
" শুনছি !
" ডিম শেষ হয়ে গেছে । বাড়িতে ফেরার সময় মনে করে দু-কেজি ডিম নিয়ে আসবেন ! ওকে ? মনে থাকবে ?
তব্দা খায় ইয়াশ । সে নামছিলো সিঁড়ি বেয়ে ।
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সিঁড়ির পথেই থামলো । হেসে ফেললো শব্দ হীন । প্রশ্ন সূচকে বললো.....
" দু-কেজি ডিম ?
" হুম । মনে করে নিয়ে আসবেন কিন্তু ।
" আচ্ছা, এক্ষুনি নিয়ে আসছি । সংসারী বউয়ের আদেশ বলে কথা, নিয়ে আসছি ওয়েট । রাখি এখন !
ফোন কেটে দুদিকে মাথা নাড়ায় তপ্ত যুবক ।
সে বাড়ি ফিরতে ফিরতে আধা ঘন্টা পেরিয়েছে । পাসওয়ার্ড দিয়ে ডোর আনলক করে ভেতরে ঢুকলো । শাফাহ্ তখন কিচেনে । ঠুকঠাক আওয়াজ পেয়ে চটজলদি সেদিকে এগোলো ইয়াশ । ভড়কানো গলায় বলল পিছন থেকে.....
" টুকটুকি,,, এখানে একা একা কি করছো তুমি ?
" এসে গেছেন আপনি ? ডিম এনেছেন ?
আমি ভাত বসিয়ে দিয়েছি । ডিম ভেজে খেয়ে নেবো আজ । চলবে না ?
" তা চলবে । কিন্তু তুমি একা একা কিচেনে এসেছো কেনো ? ভরসা নেই তোমায়, যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে ? আজকের পর আর কিচেনে আসবে না একা একা ।
চোয়াল ঝুলে আসে রমনীর....
" সে কি ! রান্না শিখতে হবে না ?
" হবে , আমি সাথে থাকলে তবেই । একা একা মাতব্বরি করতে বলিনি তোমায় । আর এই নাও , তোমার দু কেজি ডিম । দেখো তো ঠিক আছে কিনা ?
শাফাহ্'র দিকে ডিমের একটা প্যাক এগিয়ে দিলো ইয়াশ । এই প্যাকে ত্রিশ টি ডিম আছে ।
শাফাহ্'র হাতে না দিয়ে কেবিনেটের উপর রাখলো সোজাসুজি । শাফাহ্ সব দেখে মুখ গোল করে বোকা বোকা স্বরে বলে.....
" আপনি একটা গাধা, আপনাকে দু-কেজি ডিম আনতে বলেছি আমি । এতো গুলো এনেছেন কেনো ?
তাৎক্ষণিক রেগে তাকালো ইয়াশ । বুকে হাত গুটিয়ে বললো কন্ঠ চিপে.....
" আমিই গাধা ?
" একদম !
" শাট আপ স্টুপিড । দু কেজি ডিমই এনেছি ।
" এহহ্, বললেই হলো । দু কেজিতে কয়টা ডিম থাকে আপনি জানেন ?
" শুনি, কয়টা থাকে ?
" আটটা । আর আপনি এখানে এনেছেন ত্রিশ টা । এটুকুও জানেন না ?
দাঁতে দাঁত পিষে ফোঁস করে ওঠে তপ্ত যুবক । বাম হাতে হেঁচকা এক টান মেরে চঞ্চলা রমনীকে আছড়ে ফেলে নিজের বুকের উপর । একহাতে কোমড় পেঁচিয়ে অন্য হাতে মেয়েটার নরম চোয়াল আলতো করে দাবিয়ে ধরে । দৃষ্টি নামিয়ে চোখে চোখ রেখে হিসহিসিয়ে বলে.....
" ইউ স্টুপিড টকেটিভ লেডি, আমাকে শেখাতে এসেছো ? পন্ডিত হয়েছো দেখছি ! তা বলো শুনি, ডিম কেজিতে বিক্রি হয় কবে থেকে ?
#চলবে.........