ফন্ট সাইজ:
থিম:
চোখের আড়ালে ভালোবাসা

পর্ব 7

লেখক: মেহেজাবিন আভা

পর্ব—৮

----------------

আরও তিনটা ক্লাস কেটে গেল হাসি, মজা আর দুষ্টামির মধ্য দিয়ে।

এই তিনটা ক্লাসে ইসরাত, তানু, নাইমা, তিথি, আভা আর আরিয়ান মিলে কত যে দুষ্টামি করল, তার হিসাব নেই। কখনো একজন আরেকজনকে খোঁচা দিচ্ছে, কখনো আবার ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সবাই মিলে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে।

ক্লাসের ফাঁকে তানু তিথির খাতা লুকিয়ে রাখল। তিথি খাতা খুঁজে না পেয়ে যখন রেগে গেল, তখন তানু এমন ভাব করল যেন সে কিছুই জানে না।

— তানু, আমার খাতা কোথায় রেখেছিস? তিথি রেগে বলল।

— আমি কীভাবে জানব? তোর খাতা কি আমি পাহারা দিই? তানু মুখ চেপে হাসতে হাসতে বলল।

নাইমা আর ইসরাত তখন হাসতে হাসতে শেষ। আভাও হাসি থামাতে পারছিল না। আরিয়ান পাশে বসে সবার কাণ্ড দেখছিল আর মাঝেমধ্যে আভার দিকে তাকাচ্ছিল।

অবশেষে তানু খাতাটা বের করে দিতেই তিথি বলল,

— দাঁড়া, তোকে আমি পরে দেখাচ্ছি!

— আগে আমাকে ধর, তারপর দেখাস! বলে তানু দৌড়ে পালানোর ভান করল।

আবারও সবাই হেসে উঠল।

এভাবেই দেখতে দেখতে তিনটা ক্লাস শেষ হয়ে গেল। শুরু হলো টিফিন পিরিয়ড।

আভা, আরিয়ান, নাইমা, তিথি, ইসরাত আর তানু সবাই মিলে মাঠে চলে গেল। মাঠের এক পাশে বসে তারা গল্প করতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ এদিক-ওদিকের গল্প করার পর হঠাৎ আরিয়ান বলে উঠল,

— কিরে, তুই না বললি গ্রুপ নিয়ে সবার কথা বলবি? দে, এক এক করে সবার বাসার ঠিকানা বল আর কে কয় ভাইবোন, সব বল!

আভা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আচ্ছা, আগে গ্রুপের নাম ঠিক কর। তারপর সবার কথা বলছি।

তিথি সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— নাম দে, ‘পাগলদের রাজ্য’!

তানু বলল,

— না না, ‘দুষ্টু কোম্পানি’!

ইসরাত বলল,

— ‘হাসির কারখানা’ কেমন হবে?

আরিয়ান বলল,

— তোদের নাম শুনে মনে হচ্ছে গ্রুপ খোলার আগেই মাথা নষ্ট হয়ে যাবে!

সবাই একসঙ্গে হেসে উঠল।

অনেকগুলো নাম বলার পর নাইমা হঠাৎ বলে উঠল,

— আচ্ছা, ‘বন্ধুদের আড্ডাখানা’ রাখলে কেমন হয়?

আভা নামটা শুনে মাথা নেড়ে বলল,

— হ্যাঁ, ঠিক আছে! তাহলে গ্রুপের নাম হবে ‘বন্ধুদের আড্ডাখানা’। এখন সবাই নিজেদের নম্বর আমাকে দিয়ে দে। আমি বাসায় গিয়ে গ্রুপ খুলব।

আরিয়ান বলল,

— ঠিক আছে। কিন্তু বাসায় গিয়ে তাড়াতাড়ি খুলিস।

আভা হেসে বলল,

— আচ্ছা বাবা, খুলব! এত তাড়া কিসের?

— আমার আবার কিসের তাড়া! আমি শুধু মনে করিয়ে দিলাম, আরিয়ান স্বাভাবিকভাবে বলল।

কিন্তু তার কথায় তিথি আর তানু একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

এরপর শুরু হলো সবার বাসার ঠিকানা আর পরিবারের কথা বলা।

প্রথমে আরিয়ান বলল,

— আচ্ছা, আগে আমি বলি। আমার দুই ভাই আর এক বোন। সবার বড় আমার বোন, তারপর আমি, আর আমার ছোট ভাই সবার ছোট। আমার আম্মু-আব্বু বিদেশে থাকে।

নাইমা অবাক হয়ে বলল,

— তার মানে তুই আর তোর ছোট ভাই বাসায় থাকিস?

আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল,

— হ্যাঁ, আমাদের পরিবারের অন্যরাও আছে। আর আমাদের বাসা চট্টগ্রামের রূপনগর গ্রামের দিকে।

এরপর নাইমা নিজের কথা বলল,

— আমার দুই বোন। আর আম্মু-আব্বু আছে। আমার বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে।

তানু বলল,

— তাহলে তোর বড় আপু তোকে নিশ্চয়ই অনেক আদর করে!

নাইমা হেসে বলল,

— আদর করে, আবার মাঝে মাঝে বকেও!

এরপর ইসরাত বলল,

— আমার এক ভাই আর এক বোন। আমি বড়, আর আমার ছোট একটা ভাই আছে। আমার আম্মু আর দাদু বাসায় থাকেন। আব্বু বিদেশে থাকে।

আভা জিজ্ঞেস করল,

— তোর ছোট ভাই কি খুব দুষ্টু?

ইসরাত হেসে বলল,

— আর বলিস না! ওর দুষ্টামির জন্য বাসায় শান্তিতে থাকাই যায় না।

সবাই হেসে উঠল।

এরপর তিথি বলল,

— আমাদের তিন বোন আর এক ভাই। আমি সবার বড়। আমার আরও দুইটা ছোট বোন আছে, তারপর আমার ভাই। আম্মু-আব্বু দুজনই চাকরি করেন।

তানু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,

— তার মানে তুই বাসার বড় আপু! ছোটদের সব আবদার তোকে সামলাতে হয়?

তিথি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— হ্যাঁ রে! মাঝে মাঝে মনে হয় আমি আপু না, ওদের বাসার আয়া!

কথাটা শুনে সবাই আবার হেসে উঠল।

এবার তানুর পালা।

তানু বলল,

— আমার তিন বোন। আমি সবার বড়, আর আমার আরও দুইটা ছোট বোন আছে। আমার আব্বু দোকান করেন।

নাইমা জিজ্ঞেস করল,

— তোর ছোট বোনেরা তোকে জ্বালায় না?

তানু বলল,

— জ্বালায় না মানে! ওরা দুজন মিলে আমার জীবন শেষ করে দেয়!

— তোদের সবার বাসায় এত দুষ্টু মানুষ কেন রে? আভা হেসে বলল।

সবাই এবার আভার দিকে তাকাল।

— এবার তোর পালা, আভা। তোর কথা বল, আরিয়ান বলল।

আভা মুচকি হেসে বলল,

— আমার তো কোনো ভাইবোন নেই। আমি একমাত্র মেয়ে। আমার আম্মু আছে, আর আমার চাচি-জেঠিরা আছেন। আমার দাদু আর দাদাও আছেন। আব্বু, আমার দুই জেঠা আর এক চাচা বিদেশে থাকেন। আমাদের বাসা চট্টগ্রামের শান্তিপুর গ্রামে।

আভার কথা শেষ হতেই সবাই একসঙ্গে বলে উঠল,

— তার মানে তুই তো অনেক আদরের!

আভা হাসিমুখে বলল,

— হ্যাঁ!

তানু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,

— বুঝেছি! একমাত্র মেয়ে বলে নিশ্চয়ই বাসায় যা চাইবি, তাই পাবি!

আভা মাথা নেড়ে বলল,

— সবকিছু না, তবে আম্মু আমাকে অনেক আদর করে।

ইসরাত আভার হাত ধরে বলল,

— তুই সত্যিই অনেক ভাগ্যবতী রে।

আভা মুচকি হেসে বলল,

— তোরা থাকলে আমার আর কী চাই!

কথাটা শুনে সবাই কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে গেল। তারপর তিথি আভাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

— আহা! আমাদের আভা আজকে এত সুন্দর কথা বলছে কেন?

— ছাড় তো! নাটক করিস না! আভা হেসে বলল।

আবারও শুরু হলো তাদের হাসি-ঠাট্টা।

কথা বলতে বলতে কখন যে টিফিন পিরিয়ড শেষ হয়ে গেল, কেউ বুঝতেই পারল না। ঘণ্টা পড়তেই সবাই ক্লাসে ফিরে গেল।

এরপর বাকি ক্লাসগুলোও শেষ হলো। ছুটির ঘণ্টা বাজতেই সবাই ব্যাগ গুছিয়ে বাসায় যাওয়ার জন্য বের হলো।

স্কুলের গেটের কাছে এসে আরিয়ান আবার আভাকে মনে করিয়ে দিল,

— এই আভা, গ্রুপটা কিন্তু আজকেই খুলবি। ভুলে যাস না!

আভা বিরক্ত হওয়ার ভান করে বলল,

— আরে বাবা! মনে আছে তো! বাসায় গিয়েই খুলব।

— আচ্ছা, দেখি কত তাড়াতাড়ি খোলিস!

— তুই শুধু দেখতেই থাকিস! আভা বলে হেসে ফেলল।

সবাই নিজেদের পথে চলে গেল।

বাসায় ফিরে

বাসায় ফিরে আভা ফ্রেশ হয়ে নিজের ঘরে গেল। তারপর খাতায় লেখা সবার নম্বর বের করে ফোন হাতে নিল। একে একে সবাইকে গ্রুপে যুক্ত করে গ্রুপের নাম দিল—

‘বন্ধুদের আড্ডাখানা’

গ্রুপ খোলার পর আভা প্রথম মেসেজ দিল,

আভা: এই যে, সবাই চলে আয়! আমাদের আড্ডাখানা খুলে গেছে!

কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে সবাই মেসেজ দিতে শুরু করল।

তিথি: অবশেষে আমাদের গ্রুপ খুলল!

তানু: এখন থেকে প্রতিদিন এখানে আড্ডা হবে!

নাইমা: তোরা আবার সারারাত জাগিস না যেন!

ইসরাত: আগে গ্রুপের একটা নিয়ম বানানো দরকার।

আরিয়ান: নিয়ম পরে হবে, আগে আড্ডা শুরু হোক!

আভা মেসেজগুলো পড়ে হেসে ফেলল।

কিছুক্ষণ পর আরিয়ান আভাকে ব্যক্তিগতভাবে মেসেজ দিল।

আরিয়ান: এই, গ্রুপ খুলেছিস অবশেষে!

আভা: হ্যাঁ, আর কতবার মনে করিয়ে দিবি?

আরিয়ান: আমি আবার কী করেছি?

আভা: স্কুলে কতবার বললি গ্রুপ খুলতে! বাসায় এসে দেখি তোর কথাই আগে মনে পড়ছে।

আরিয়ান: বাহ! তার মানে আমাকে মনে পড়েছে?

আভা: ধুর! গ্রুপের কথা মনে পড়েছে, তোর কথা না!

আরিয়ান: আচ্ছা আচ্ছা, বুঝলাম!

আভা: কী বুঝলি?

আরিয়ান: কিছু না। কাল স্কুলে আসবি তো?

আভা: হ্যাঁ, কেন?

আরিয়ান: এমনিই জিজ্ঞেস করলাম। কাল দেখা হবে।

আভা: আচ্ছা, এখন রাখি। আম্মু ডাকছে।

আরিয়ান: ঠিক আছে, ভালো থাকিস।

আভা: তুইও।

মেসেজ শেষ করে আভা ফোনটা পাশে রেখে দিল। তারপর আম্মুর কাছে চলে গেল।

অন্যদিকে আরিয়ান ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

কেন জানি, আভার সঙ্গে একটু কথা বললেই তার মনটা ভালো হয়ে যায়।

কিন্তু এই ভালো লাগার নাম যে কী, সেটা আরিয়ান নিজেও তখনো বুঝে উঠতে পারেনি।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 7 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন