ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের বাজিমাত

৩৪তম পর্ব

লেখক: রোজ ও রুশা

#প্রেমের_বাজিমাত

#লেখনিতে_রোজ_ও_রুশা

#পাঠ_৩৪

❌ কপি করা নিষেধ ❌

>>>>>>

রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। ঢাকার ব্যস্ত শহর ধীরে ধীরে যানযট কিছুটা ছাড়েছে আজ কোলাহল কমে নি বিন্দু পরিমান ও কাজল ভিলায় থাকতে কাজল খান কে একটা মেসেজ তাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সাদা-কালো শাড়িতে মোড়া ব্যক্তিত্বময়ী নারীটা দূরের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, নিজ স্বামী ও সন্তান কে এমন ভাবে আবদার করতে দেখে, নিমিষেই শক্ত পোক্ত মন টা মোমের মতো নরম হয়ে যায়। লোভ হয় প্রিয় মানুষ টার সাথে শেষ বয়সের সময় পার করতে। সব ভুলের তো অবসান ঘটেছে। জয় তো হয়েছে তার অপেক্ষার, ভুল করে অনুতপ্ত হয়েছে, তার থেকেও কষ্ট পাচ্ছে বেশি মানুষটা । কিন্তু অভিমান পুরুপুরি শেষ করতে পারছে না তবুও। তার উপর শামসুল সব ঘোলাটে করে দিয়েছে বার বার ।

কিছুক্ষণ আগেই একটা খবর এসেছে—শামসুল তার অফিসে বসে আছে। আর সেই খবরের সাথে এসেছে এমন কিছু ছবি, যা একজন মায়ের বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তার ছেলেদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তাদের জীবনে ফাঁদ পাতা হচ্ছে। কাজল খান দেরি করলেন না। নিজ স্বামী সন্তান কে ফিরিয়ে দিয়ে অই অবস্থায়। চোখের চশমাটা পরে গাড়ির চাবি হাতে তুলে নিলেন। এসিস্ট্যান্ট মেয়ে তন্নি ভয়ার্ত গলায় বলেছিল—

“ম্যাম, এত রাতে একা যাবেন?

কাজল খান ঠান্ডা গলায় উত্তর দিয়েছিলেন—

“যে নারী নিজের সন্তানকে, আত্নার সম্পর্ক বাঁচাতে নামে, সে একা না। তার সাহস তার সাথে থাকে।

গাড়ি ছুটে চললো রাতের ফাঁকা রাস্তায়।

অফিস বিল্ডিংয়ের সামনে গাড়ি থামতেই গার্ডরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে গেল। কারণ কাজল খান শুধু একজন এডভোকেট নন তিনি এমন একজন নারী, যিনি নিজের নাম নিজেই তৈরি করেছেন। এডভোকেট এম এল এ কাজল খান! লিফটের দরজা খুলতেই ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগলো। পুরো ফ্লোর অন্ধকার।

শুধু ভেতরের কেবিনে আলো জ্বলছে। কাজল খান ধীরে ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন। আর ভেতরের দৃশ্য দেখে তার চোখ কঠিন হয়ে উঠলো। শামসুল আরাম করে তার চেয়ারে বসে আছে। হাতে ওয়াইনের গ্লাস, ঠোঁটে ব্যঙ্গাত্মক হাসি। যেন এটা তারই জায়গা।

কাজল খান দরজা বন্ধ করে ধীরে বললেন—

“ তুই কেনো এই মরণ খেলায় মেতে উঠেছিস?

শামসুল গ্লাস ঘুরাতে ঘুরাতে হাসলো।

“ উফফ সুন্দরী… আগে কুল হও। এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত খাও, তারপর কথা বলো। ইসস… ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গেছো! এত রাতে ছুটে এসেছো… কত এনার্জি লস হয়েছে বলো?

কাজল খান সামনে এগিয়ে এলেন।

তার চোখে ঘৃণা স্পষ্ট।

“তোর এই নোংরা নাটক বন্ধ কর। একটা না চার টা সংসার শেষ করেও শান্তি হয়নি তোর ? এখন আবার আমার ছেলেদের নিয়ে খেলতে নেমেছিস?

শামসুল হেলান দিয়ে বসল।

“খেলাটা তো এখন শুরু হয়েছে সুন্দরী!

“তোকে কাফন ছাড়াই দাফন করবো এবার দেখিস, যদি আমার দুই চাঁদের দিকে আবার হাত বাড়াস।

শামসুল হেসে উঠলো।

“উফফ… এখনো আগের মতো আগুন আছো তুমি সুন্দরী!

“ আমার আগুন কেমন, সেটা তুই খুব ভালো করেই জানিস।”

শামসুল এবার চোখ সরু করলো।

“তোমার কি মনে হয় তুমি জিতে গেছো? তোমার স্বামী তোমার কাছে নত হয়েছে দেখে?

তেজি গলায় কাজল খান বললেন!

“ আমি হারিনি বলেই আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি।

শামসুল টেবিলের ওপর কিছু ছবি ছুঁড়ে দিল।

কাজল খান মুহুর্তে চুপ হয়ে যায়। ঠান্ডা তেজি কন্ঠে বলে উঠে!

“কি চাই তোর?

শামসুল ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।

“তোমার ছেলের বউটাকে নিলয়ের মানে আমার ছেলের হাতে তুলে দাও। ছেলেটা বড্ড পাগল মেয়েটার জন্য! আর তুমি আমার হয়ে যাও শেষ বয়সে দুজনে পানের ঢালার সংসার পাতবো!!

কাজল খান মুহূর্তেই তেড়ে এলেন।

“মুখ সামলে কথা বল!

শামসুল হেসে বললো

“ জানো আমার ছেলে। দামি জিনিস চিনতে ভুল করেনি। ঠিক আমার মতো বাজ পাখির চোখ পেয়েছে। যে কাজ আমার দ্বারা হয় নি সে কাজ সে করবে। তাই ছেলেকেও সায় দিচ্ছি।

“ তুই বা তোর ছেলে যদি আবার আমার পরিবারের দিকে চোখ তুলে তাকাস, আমি তোদের চোখ উপড়ে ফেলবো।”

শামসুলের মুখের হাসি একটু মিলিয়ে গেল।

“হুমকি দিচ্ছো?”

“না। একজন মায়ের সতর্কবার্তা দিচ্ছি।”

কেবিনের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। শামসুল ধীরে ধীরে বললো --

" এখন তোমার স্বামী আসবে সিউর, এখানেই আসবে। তাদের সামনে এই কাগজটা এগিয়ে দিবে… আর বলবে তুমি মুক্তি চাও। তার থেকে!! নইলে,, নইলে,, কি হবেএএএ,,, বলো তো সুন্দরি!!?

শামসুল ধীরে ধীরে কথাগুলো বলছিল। ঠোঁটের কোণে সেই ভয়ংকর হাসি… যেটা মানুষকে ভিতর থেকে কাঁপিয়ে দেয়। তার আঙুলের ফাঁকে ধরা ডিভোর্স পেপারটা যেন কেবিনের বাতাসকেও ভারী করে তুলেছিল।

কাজল খান স্থির হয়ে বসে আছে। চোখে রাগ, অপমান, ভয়… সব একসাথে জড়ো হয়েছে। অথচ মুখে কিছু বলতে পারছে না। কারণ সে জানে—এই মানুষটা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। শামসুল একটু ঝুঁকে এলো তার দিকে।

“এতো চালাকি করেছো আমার সাথে তুমি… জাওয়াদ খানকে ডিভোর্স দিয়েছো, মিথ্যে রটিয়েছো… তখনই বুঝা উচিত ছিলো তোমার নামের পিছনে ‘খান’ লাগানো কেনো। তুমি কখনো পুরোপুরি আমার ছিলে না সুন্দরী… কখনো না। আমি যে এটাই মানতে পারছি না। এতো কিছু হয়ে ও কেনো হলে না আমার।

তার চোখে হিংস্র ঝিলিক।

“আমার কথার হেরফের হলে কি করতে পারি জানো তো? আমি মোটেও ভালো মানুষ না। তোমাকে ভালোবেসে কত পাপ করেছি জানো? অর্ধেক জীবন শেষ করে ফেললাম শুধু তোমার জন্য। এখন সময় এসেছে সব ছিনিয়ে নেওয়ার… হয় নিবো নয় ধংস করবো এক এক করে।

কাজল খান দাঁতে দাঁত চেপে তাকালো তার দিকে।

“ তুই কখনো ভালোবাসতে পারিস নি কাওকে শামসুল। তুমি খারাপ খেলায় মেতে উঠেছিস!

শামসুল হেসে উঠলো। সেই হাসিতে বিষ মিশে আছে যেন ।

“তবুও শেষ পর্যন্ত এই খারাপ মানুষ এর কাছেই ফিরতে হবে । কিন্তু একটা কথা মানতেই হবে… তোমার দম আছে। কিভাবে সব সত্যি বের করলে বলো তো? এত বছর পরও সব হিসাব টেনে বের করেছো… সুন্দরী?

কাজল খান উত্তর দিল না। তার বুকের ভিতরটা কাঁপছে। কারণ সে জানে—জাওয়াদ খান যদি এখানে আসে, তাহলে ভয়ংকর কিছু হবেই।

আর ঠিক তখনই—কেবিনের দরজা সজোরে খুলে গেল। জাওয়াদ খান ভিতরে ঢুকতেই চোখ আটকে গেল শামসুল আর কাজল খানের দিকে। মুহূর্তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো।

“তুমি এই থার্ড ক্লাস লোকটার সাথে দেখা করতে চলে এসেছো আমাদের ওইভাবে রেখে?”

তার কণ্ঠে রাগ ছিল… কিন্তু সেই রাগের গভীরে ছিল আহত ভালোবাসা। বিশ্বাস ভাঙার যন্ত্রণা। কাজল খান চোখ ফিরিয়ে নিল।

“জাওয়াদ… তুমি চলে যাও। আমরা দরকারি কথা বলছি।”

“কি কথা? আমি শুনতে চাই।”

“না।”

“কেনো না?

" জাওয়াদ খান এক পা এগিয়ে এলো।

“তুমি আমার বউ। তোমার জীবনের প্রতিটা কথায় আমার অধিকার আছে।

কথাটা বলার সময় তার চোখে অদ্ভুত এক জেদ ছিল। যেন দুই যুগ পরও সে এই নারীকে নিজের হৃদয় থেকে আলাদা করতে পারেনি। কাজল খান তাচ্ছিল্যের হাসি দিল।

“দুই যুগ আগে সেই অধিকার হারিয়েছো তুমি।”

কথাটা শুনে জাওয়াদের বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। অথচ সে কিছু বলার আগেই শামসুল হেসে উঠলো।

“শুনলি সৎ ভাই?

সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।

“এখন তোকে আর ভালো লাগে না সুন্দরীর। বুড়ো হয়ে গেছিস না? আগে মানালেও এখন আর মানাবে না। তাই শেষ বয়সে আমাকে চুজ করেছে। দেখ তোর থেকে কতো ফিট আছি আমি, তোর তো চুল পেকে যাচ্ছে কিছুটা কিন্তু আমার একটাও পাকে নি।

জাওয়াদ খানের চোখ রক্তিম হয়ে উঠলো।

পরের মুহূর্তেই সে শামসুলের কলার চেপে ধরলো।

“তোর জন্য আমি সব হারিয়েছি !

তার গলা কাঁপছিল রাগে।

“তোর জন্য আমার সংসার শেষ হয়েছে… আমার বোনের জীবন শেষ হয়েছে… তোকে আজ আমি!!

এক ঘুষিতে শামশুল মেঝেতে পড়ে গেল। কিন্তু জাওয়াদ থামলো না। বছরের পর বছর জমে থাকা রাগ, কষ্ট, বিশ্বাসঘাতকতা—সব যেন আজ বিস্ফোরিত হচ্ছে। সে শামশুলকে ধরে এলোপাতাড়ি মারতে লাগলো। কাজল খান হতভম্ব হয়ে গেল। এত বছর পরও জাওয়াদ তাকে নিয়ে এমন পাগলের মতো রিঅ্যাক্ট করবে… সে ভাবেনি। আর শামসুল… মার খেয়েও ঠোঁটের কোণে হাসি ধরে রেখেছে। কারণ সে জানে—এই রাগই তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আজ যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়… তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে।

“কি করছো জাওয়াদ! থামো!”

কাজল খান ছুটে এসে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলো।

“শামসুলকে আঘাত করবে না!”

জাওয়াদ থমকে গেল। তার চোখ ধীরে ধীরে ঘুরে এলো কাজল খানের দিকে।

“কেনো?”

তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল।

“ওর জন্য এত দরদ কেনো তোমার?”

কাজল খানও চিৎকার করে উঠলো।

“কারণ তুমি মানুষকে মানুষ মনে করো না!”

“ও কি মানুষ?” জাওয়াদ গর্জে উঠলো।

“ মানুষ না হলেও তোমার মতো না!”

কথাটা শুনে পুরো কেবিন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নাভান হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নিজের মা-বাবার দিকে। মায়ের এমন কথায় বলে উঠে।

“মা…

নাভানের গলা কেঁপে উঠলো।

কাজল খান চোখ বন্ধ করে ফেললো এক মুহূর্তের জন্য।

তাদের এসবের মাঝে ছেলে মেয়েকে জরাতে চান না তিনি কিন্তু নাভান কোনো না কোনো ভাবে সব জেনে যাচ্ছে। একটা মায়ের কাছে এর থেকে আর কি লজ্জার হতে পারে,যে বয়সে ছেলে ছেলের বউ দের খুনসুটি দেখবে এই বয়সে ছেলে মাকে নিয়ে টানা টানি করতে দেখছে। তাও দুই ভাই। এটা একটা মায়ের জন্য কতোটা লজ্জাজনক তা যারা এমন পরিস্থিতিতে পরেছে তারাই যানে।

“আমি এসব চাই না…প্লিজ।

কাজল খান এর কণ্ঠ এবার ভাঙা।

“আমি যেমন ছিলাম তেমনই থাকতে চাই। দয়া করে আমার জীবনে আবার ঝড় তুলো না।”

জাওয়াদ খান স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো। এই নারীকে সে আজীবন ভালোবেসেছে।ভুল করেছে… অনেক কষ্ট দিয়েছে… কিন্তু ভালোবাসা কখনো কমেনি।

আর আজ সেই নারী তার সামনে অন্য পুরুষকে বাঁচানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। তাও সেই পুরুষ যার জন্য তাদের বিচ্ছেদ,তাদের সুন্দর সাজানো গোছানো সংসার ধংস হয়েছে? এই দৃশ্যটা যেন জাওয়াদ খান কে ভিতর থেকে শেষ করে দিচ্ছিল। হঠাৎ—

কেবিনের ভেতরের বাতাসটা যেন ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছিল। চোখ দুটো রক্তিম। তার দৃষ্টি গিয়ে আটকে আছে টেবিলের উপর রাখা কাগজটার দিকে। ডিভোর্স পেপার। সাদা কয়েকটা পাতাই যেন মুহূর্তে তার দুই যুগের ভালোবাসাকে উপহাস করছে।

কাজল খান কিছু বলার আগেই জাওয়াদ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। তার হাঁটার শব্দ পর্যন্ত অদ্ভুত ভারী লাগছিল।

শামশুল ঠোঁটের কোণে হাসি মার খেয়েও,

তার গলায় ব্যঙ্গ।

“ভালোই হয়েছে। আজ একটা সুন্দর সমাপ্তি হবে।( শামসুল)

জাওয়াদ কোনো উত্তর দিল না।

সে টেবিলের উপর রাখা কাগজটা হাতে তুলে নিল।

চোখ বুলালো কয়েক লাইন। আর পরের মুহূর্তে

সজোরে হাত আঘাত করলো টেবিলের উপর।

এত জোরে যে টেবিলের গ্লাসটা কেঁপে পড়ে ভেঙে গেল মেঝেতে। তার পর মুহুর্তে কাজল খান এর গালে সজোরে থাপ্পড়!!

কাজল খান ঠাই দাঁড়িয়ে আছে, এই প্রথম জাওয়াদ তার গায়ে হাত তুলেছে। নাভানও হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। জাওয়াদ খানের চোখে তখন ভয়ংকর ঝড়।

“ডিভোর্স?

সে ধীরে ধীরে উচ্চারণ করলো শব্দটা।

“তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবে?

তার হাসিটা কেমন যেন ভাঙা ছিল।

“দুই যুগ ধরে যে নারীকে বুকের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি… তাকে আমি একটা কাগজে সাইন করে অন্য কারও হাতে তুলে দিবো?”

শামসুল হেসে উঠলো।

“কেনো দিবি না? ( শামসুল)

সে উঠে দাঁড়ালো।

“যখন ছেড়ে গেছিলি তখন তো খুব সহজ ছিলো। এখন আবার এত প্রেম উথলে উঠছে? (শামসুল)

জাওয়াদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার চোখে তখন শুধু রাগ না… ভয়ও ছিলো। হারিয়ে ফেলার ভয়। নাভানের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠলো—

“নাভান, তুমি বাইরে যাও।

“কিন্তু বাবা। ( নাভান)

“আমি বলেছি যাও। ( জাওয়াদ খান)

কণ্ঠটা এত কঠিন ছিল যে নাভান আর কিছু বলতে পারলো না। একবার মায়ের দিকে তাকালো… তারপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল।

দরজা বন্ধ হতেই কেবিনে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।

জাওয়াদ খান ধীরে ধীরে কাজল খানের দিকে ফিরলো। তার চোখের রাগটা এবার গভীর কষ্টে বদলে গেছে।

“তুমি আমার থেকে মুক্তি পাবে না কাজল রেখা …তুমি আমার প্রথম প্রেম প্রথম ভালোবাসা প্রথম নেশা ছিলে, এতো ভুল বুঝাবুঝির পরেও তোমায় আমি ডিবোর্স দেই নি। আর আজ সত্ত্যি সামনে আসার পরে কিভাবে ভাবলে তোমার এসব কথায় আমি তোমায় ছেড়ে দিবো। আর যেখানে জানি কাল নাগ তোমার সাথে আছে। আমাকে কি এতো বোকা পেয়েছো তুমি, যে তোমার কথায় আমি ডিবোর্স দিবো।

কথাটা বলার সময় তার গলা কেঁপে উঠলো।

“দুই যুগ আগে একটা ভুল করেছিলাম আমি। তোমাকে নিজের থেকে দূরে যেতে দিয়েছিলাম। সেই ভুল দ্বিতীয়বার করবো না।”

কাজল খান তাকিয়ে আছে তার দিকে। বুকের ভিতরটা কেমন অদ্ভুত ভারী লাগছে। জাওয়াদ আবার বললো—

“তুমি যেভাবে ইচ্ছে চলো… আমার সাথে থাকো বা না থাকো,ঘৃণা করো, অপমান করো… তবুও আমি এই কাগজে সাইন করবো না। তুমি আমার বউ এটা এতো দিন বহন করেছো সারাজীবন করতে হবে।

সে ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললো না।

বরং মুঠোর মধ্যে চেপে ধরলো।

“মরার পরেও না।”

কথাটা বলেই সে ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।

তার চোখে পানি চিকচিক করছে… কিন্তু সেই মানুষটা কাঁদলো না। কারণ জাওয়াদ খান ভালোবাসতে জানে… সে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করলো। আর ঠিক তখনই—

শামসুল হেসে উঠলো। ধীরে… তাচ্ছিল্যের সাথে।

“দেখলে সুন্দরী?

শামসুল চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো, গলায় হাত দিয়ে ঘসতে লাগলো।

“এই লোকটা এখনো ভাবে তুমি ওর।

কাজল খান ধীরে ধীরে মুখ তুললো।তার চোখে এবার ভয় ছিল না। ছিল জমে থাকা আগুন।

“ চুপ কর শামসুল। কি মনে করেছিস আমায় ট্রেপে ফেলবি,ওকে ফেল আমি তোর কথা মতই চলবো, কিন্তু বিপরিদ কিছু হলে আমায় দোষ দিবি না গট ইট।

শামসুল ভ্রু তুললো।

“ওহ… রাগ হচ্ছে নাকি সুন্দরী?

কাজল খান এক পা এগিয়ে এলো।

“তুই ভাবছিস সবসময় তোর মতো করে খেলতে পারবি তুই ?

কাজল খান এর কণ্ঠ ঠান্ডা।

“মানুষের জীবন ধ্বংস করে… সম্পর্ক ভেঙে… মিথ্যা বলে যে শান্তি পাচ্ছিস এটা বেশি দিন এর নয়।

শামসুল আরাম করে সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে।

চোখেমুখে সেই ভয়ংকর আত্মবিশ্বাস… যেন দুনিয়ার সবকিছু টাকার বান্ডিলের মতো তার হাতের মুঠোয়।

আর সামনে দাঁড়িয়ে কাজল খান— চোখেমুখে বিরক্তি, রাগ আর ঘৃণার মিশ্র ছাপ।

শামসুল ধীরে ধীরে গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বললো।

“আমি যা চাই… তা নিয়েই ছাড়ি সুন্দরী।

ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস। যে জিনিসে আমার নজর পড়ে… সেটা হয় আমার…

না হলে কারো না।”

কাজল খান ঠান্ডা চোখে তাকালো।

“তোর এই অসুখ এখনো গেলো না?

বয়স বাড়ছে, কিন্তু লজ্জা বাড়ে না তোর।”

শামসুল হেসে ফেললো।

“লজ্জা? ক্ষমতাবান মানুষ লজ্জা নিয়ে চলে না সুন্দরী…

মানুষকে চালায়।”

সে এবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে কাজল খানের দিকে এগিয়ে এলো।

“চলো না… এত বছর পর এবার আমার কাছে চলে আসো। জীবনের বাকি সময়টা রানির মতো রাখবো তোমায়।”

কাজল খান ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

“ছি! তুই কি আয়নায় নিজেকে দেখিস না?

বুড়া বয়সে ভীমরতি ধরছে?

চুলে পাক ধরেছে… তবুও প্রেম করার শখ যায় না!”

শামসুল নিজের কোট ঠিক করতে করতে মুচকি হাসলো।

“আমায় দেখে কি সত্যি বুড়া লাগে সুন্দরী?

সে চোখ টিপে বললো—

“এই বয়সেও মেয়েরা আমার জন্য পাগল।”

“মেয়েরা তোর পিছে ঘুরে না , তোর টাকার পিছনে ঘুরে!”

কাজল খান তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো।

“আর তুইও সুযোগ পেলেই গলে যাস।

শামসুল এবার হো হো করে হেসে উঠলো।

“আচ্ছা বাদ দাও আমার কথা। মূল কথা হলো—

তুমি আমার বউ হবে… আর তোমার ছেলের বউ হবে আমার ছেলে নিলয়ের বউ।”

কাজল খান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইলো। তারপর ঠাস করে টেবিলে হাত রাখলো।

“তোর মাথা পুরো গেছে!

আমার ছেলের বউয়ের দিকে নজর দিচ্ছিস দুই বাপ ছেলে?”

শামসুল নির্বিকার।

“ ছি ছি আমি তোমার দিকে নজর দি, ছেলের বউ এর দিকে নয়, এতো খারাপ কিন্তু আমি নই সুন্দরী। নিলয় মেয়েটাকে চায়। আর আমার ছেলে যা চায়… সেটা আমি এনে দেই।”

“এটা বাজারের কোনো জিনিস না!

কাজল খান গর্জে উঠলো।

“একটা মেয়ের জীবন!

সম্পর্কের মূল্য বুঝিস তুই?

শামসুল ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো—

“সম্পর্ক? দুনিয়ায় সম্পর্ক টেকে ক্ষমতায় সুন্দরী।

ক্ষমতা থাকলে মানুষ নিজের নিয়ম নিজেই বানায়।”

“তুই নিয়ম না, পাপ বানাস!

কাজল খান দাঁত চেপে বললো।

***আমার ছেলে নিজের বউকে ভালোবাসে।

এই মেয়ের জন্য বছরের পর বছর পাগলামি করেছে।

এত বছরে অন্য মেয়ের দিকে ফিরেও তাকায়নি।

আর তোর ছেলে এখন তার বউকে চাইছে? কঠিন মারা খাবি রে শামসুল,কঠিন মারা খাবি!! ****

শামসুল এবার সিগারেট ধরালো।

“ভালোবাসা বড় অদ্ভুত জিনিস।

একজনের হলে আরেকজনের কেন হবে না?”

“কারণ আমরা মানুষ পশু না! যে সবার সাথে থাকবো!

কাজল খান তীব্র ঘৃণায় বললো।

“তুই আর তোর ছেলে ভাবিস সবকিছু টাকার জোরে কিনে ফেলবি?”

শামসুল ধোঁয়া ছেড়ে শান্ত গলায় বললো—

“আমি টাকা দিয়ে না… ক্ষমতা দিয়ে সব নিই।”

“সয়তানও তোকে দেখে ভয় পাবে।

কাজল খান তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো।

“বাপ-ছেলে দুইজন মিলে আমাদের জীবন নিয়ে খেলতে চাইছিস!

শামসুল এবার চোখ সরু করলো।

“কথা সামলে বলো সুন্দরী।”

“না হলে কি করবি?

কাজল খান এগিয়ে এলো।

“তোর আসল চেহারা আমি খুব ভালো করেই জানি।

রাজনীতির মুখোশ পরে থাকিস বলে মানুষ তোকে সম্মান দেয়।যেদিন সবাই জানবে তুই আসলে কত নোংরা কাজের সাথে জড়িত…কত জীবন শেষ করেছিস…সেদিন এই ক্ষমতা থাকবে না, এই হাসিও থাকবে না।”

শামসুলের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো।

“থ্রেট দিচ্ছো আমাকে?”

“না।”

কাজল খান ধীরে ধীরে বললো—

“তোর পাপের খাতা খুলে দেখাচ্ছি।

তুই যতটা ভয়ংকর ভাবিস নিজেকে…

তার থেকেও ভয়ংকর সত্যি হলো—

তুই মানুষরূপী জানোয়ার।”

ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো।দুজনের চোখে চোখ আটকে আছে—একজনের চোখে বিষাক্ত অহংকার…

আরেকজনের চোখে আগুনের মতো ঘৃণা।

****

হেরা একটু সুস্থ বোধ করতেই ধীরে ধীরে উঠে বসল। মাথাটা এখনো ঝিমঝিম করছে, শরীরটাও বেশ দুর্বল লাগছে। তবুও সামনে বাবাকে এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে বুকটা ধক করে উঠল তার।

জাওয়াদ খানের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, চুল এলোমেলো, মুখজুড়ে ক্লান্তির ছাপ। মনে হচ্ছে যেন এক রাতেই মানুষটা বহু বছরের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছে।

হেরা নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল তার দিকে।

কারণ সে সব শুনেছে… সবকিছু।

জ্ঞান অনেক আগেই ফিরে এসেছিল তার। কিন্তু চোখ বন্ধ করে পড়ে ছিল শুধু সত্যিটা শোনার জন্য। নিজের জন্ম, নিজের পরিচয়, নিজের মা-বাবার মৃত্যুর ভয়াবহ সত্য—সবই শুনেছে সে।

মেয়েকে চোখ খুলতে দেখে জাওয়াদ খান যেন বুক ভরে শ্বাস নিলেন। তড়িঘড়ি করে মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠলেন—

“আম্মাজান… এখন কেমন লাগছে?”

কণ্ঠে এমন আতঙ্ক, যেন হেরার সামান্য কষ্টও মানুষটাকে ভেঙে ফেলবে।

হেরা ধীরে ঠোঁট নাড়াল।

“আমি ভালো আছি, বাবা…”

“বাবা” ডাকটা শুনেই জাওয়াদ খানের চোখ ভিজে উঠল।

তিনি আবার উৎকণ্ঠিত গলায় বললেন—

“মাথা ঘুরছে? শরীর খারাপ লাগছে? কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?

হেরা মলিন মুখে মাথা নাড়ল।

নিজের আসল মা-বাবার মৃত্যুর কথা শুনে বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে গেছে তার। কষ্ট হচ্ছে… খুব কষ্ট। কিন্তু সেই কষ্টটাকে পুরোপুরি অনুভব করতে পারছে না।

কারণ সামনে বসে থাকা মানুষটার প্রতি তার মায়া, টান আর ভালোবাসা যেন সব ব্যথাকে ঢেকে দিচ্ছে।

এই মানুষটাই তো তাকে এত বছর আগলে রেখেছেন।

নিজের মেয়ের মতো বড় করেছেন।

নিজের সম্মান, নিজের জীবন দিয়ে তাকে রক্ষা করেছেন।

হেরা ধীরে ধীরে উঠে বসে বলল—

“বাবা… চলো আমরা এখান থেকে চলে যাই…”

কথাটা শেষ হতেই পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

পরমুহূর্তেই ভারী, কঠিন একটি কণ্ঠ ভেসে এলো—

“এক পা-ও এই বাড়ির বাইরে যাবে না।”

নাভানএর কণ্ঠ এতটাই দৃঢ় ছিল যে উপস্থিত সবাই নিঃশব্দ হয়ে গেল। হেরা ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকাল তার দিকে।

লালচে চোখ দুটো রাগে জ্বলছে, চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। কিন্তু সেই রাগের আড়ালেও ভয় স্পষ্ট।

হেরার বুকটা কেঁপে উঠল।

হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল প্রথম দেখার দিনগুলোর কথা।কেন প্রথম দেখাতেই এই মানুষটার প্রতি অদ্ভুত এক টান অনুভব করেছিল। কেন নাভানের কাছাকাছি গেলেই বুকের ভেতর অস্থিরতা জন্ম নিত।

আজ যেন সব প্রশ্নের উত্তর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

হেরা দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল।

নাভানের চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা মানেই নিজেকে হারিয়ে ফেলা।

অধীর ধীরে ধীরে এসে জাওয়াদ খানের পাশে বসল। তারপর সরল কণ্ঠে বলল—

“আ… আংকেল, আমি বলছিলাম কি… তুমি কিউটিপাইকে নিয়ে এই বাসাতেই থেকে যাও না। মা এখন তোমাকে না মানলেও, সামনে থাকলে দেখবে ধীরে ধীরে রাগ কমে যাবে। প্লিজ… তুমি নাভান ভাই এর কথা শুনে যাও…”

অধীরের নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে জাওয়াদ খানের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।

এই ছেলেটাকে নিয়ে কতো বাজে কথা বলেছে শামসুল,নাভান অধীর এর পরিচয় যতটুকু যানে ততটুকু বলেছে বাবাকে,যাতে মাকে আর সন্দেহ না করে। নাভান অধীর এর পরিচয় কাওকে বলে না । রোজ, হেরা, রুশা—সবাই এখনো মনে করছে অধীর জাওয়াদ খানেরই সন্তান।

শামসুলের বলা নোংরা কথাগুলো মনে পড়তেই জাওয়াদ খানের বুকের ভেতর তীব্র যন্ত্রণা জমল।

এই ছোট একটা শিশুকে নিয়েও মানুষ এত নিষ্ঠুর হতে পারে! ওদিকে নাভান কোনো কথা না বলে হঠাৎ হেরাকে পাঁজাকোলে তুলে নিল। হেরা চমকে উঠল।

নাভানের বুকের সঙ্গে ধাক্কা খেতেই শরীর কেঁপে উঠল তার।

নাভান গম্ভীর কণ্ঠে বলল—

“বাবা, আমি হেরাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি। ডাক্তার ইমিডিয়েট চেকআপ করতে বলেছেন।”

তার কণ্ঠে এমন এক কর্তৃত্ব ছিল, যেন তাকে থামানোর সাহস কারো নেই।

জাওয়াদ খান কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।

তিনি খুব ভালো করেই জানেন, নাভান একবার যা সিদ্ধান্ত নেয়, তা আর বদলায় না।

নাভান হেরাকে নিয়ে বের হয়ে যেতেই ঘরে অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এলো।

তারপর জাওয়াদ খান ধীরে ধীরে অধীরের দিকে তাকিয়ে নরম কণ্ঠে বললেন—

“শেহতাজকে ভাই বলিস… কাজল খানকে মা বলিস… তাহলে আমায় আংকেল কেন ডাকিস? সবাইকে বুঝাতে চাস আমি তোর জন্মদাতা না?

কথাগুলো বলার সময় তার কণ্ঠ কেঁপে উঠছিল।

অধীর হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।

ছোটবেলা থেকে বাবার অভাব কখনো বুঝতে দেয়নি নাভান আর কাজল খান।

যখন যা প্রয়োজন হয়েছে, তার আগেই এনে দিয়েছে।

ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছে।

তবুও “বাবা” ডাকটার ভেতরে এক অন্যরকম আশ্রয় আছে। আজ সেই অনুভূতিটাই হঠাৎ করে বুক ভরে দিল তাকে। অধীরের চোখ ভিজে উঠল। পরমুহূর্তেই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাওয়াদ খানকে জড়িয়ে ধরল।

হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলল—

“এই পৃথিবীর সবাই জানবে তুমি আমার বাবা… আমি তোমার ছেলে… বাবা!

“বাবা” ডাকটা শুনে জাওয়াদ খান আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।

তিনি দুহাতে অধীরকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিলেন। যেন বহু বছরের হারানো কিছু ফিরে পেয়েছেন।

তার বুক কাঁপছে… চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছে… কিন্তু সেই কান্নার মাঝেও আজ শান্তি আছে।

দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সবার চোখ ভিজে উঠল।

রোজ চুপচাপ চোখ মুছছে।

রুশা ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে রাখার চেষ্টা করছে।

কাজল খান স্থির চোখে তাকিয়ে আছেন সেই দৃশ্যের দিকে। বুকের ভেতর জমে থাকা বরফ যেন ধীরে ধীরে গলছে তার। আর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাভান…

তার শক্ত, দাম্ভিক মুখের আড়ালেও আজ একফোঁটা প্রশান্তি নেমে এসেছে।

কারণ সে জানে—

ভালোবাসা যতই লুকিয়ে রাখা হোক না কেন,

তা প্রকাশ পাবে একদিন না একদিন, কাজল খান এসব দেখে নিজের রুমে চলে যায় গট গট পায়ে, নাভান যাওয়ার আগে রোজ রুশা সবার রুম দেখিয়ে দিতে বলেছে কাজের মেয়েকে ।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন