ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক মিঠে রোদের গল্প

পর্ব 1

লেখক: writer_oishi

#উপন্যাস_নাম

#এক_মিঠে_রোদের_গল্প

#লেখিকা: ঐশী

#সূচনা_পর্ব

প্রাণপণে দৌড়াইতাচ্ছি আমি পিছনে তাকানোর সময় নাই, একবার যদি আমারে ধইরা ফেলে কামড়াইয়া খেইয়া ফেলবে আমারে। আমি যত দৌড়াইতাচ্ছি! কুত্তগুলা যেন আরও ক্ষেপে গিয়া ধরবার আইতাছে আমারে পিছনে একটু তাকাতে গিয়ে সামনে কার লগে যানি ধাক্কা খেইলাম! সামনে কে আছে, না আছে দেহুনের এত সময় নাই! যে থাকুক আগে আমাকে বাঁচা লাগবো, একবার যদি ওই কুত্তাগুলোর কবলে পড়ি শেষ আমি।

সামনে ধাক্কা লাগা লোকটাকে ভয়ে জাপ্টে ধরে নূরারী বলতে লাগলো,

—বাঁচান আমারে, বাঁচান! ওই কুত্তাগুলা আমারে মাইরা ফেলাইবো বাঁচান আমারে!

ভয়ে চোখ বন্ধ করে একনাগাড়ে বলতে লাগলো নূরারী,

হঠাৎ এক পুরুষালি কণ্ঠে বলে উঠল,

—ছাড়ো আমাকে কুকুর চলে গেছে,

নূরারী ভয়ে এখনো জড়িয়ে আছে।

মৃন্ময় এবার কিছুটা বিরক্তিতে ধমকে বলে উঠলো,

—ইডিয়েট গার্ল ছাড়ো বলছি,

এমন ধমকে ছিটকে দূরে সরে গেলো নূরারী। আর সামনে দেখতে পেলো এক সুদর্শন যুবক কে,

যে কিনা তার দিকে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে।

একটা ছেলে এত সুন্দর হতে পারে?

নূরারী মনে মনে একটু বর্ণনা করলো,

শ্যামলা গাঁয়ের রং, সুপারি গাছের মতো লম্বু, চোখ কি রসগোল্লার মতো হবে, চোখে তো কালা চশমা পরা বুঝা যায়তাছে না, হাতে আবার কতো সুন্দর ঘড়ি, কালো পেন্ট সাদাকাল শার্ট ভালো তো দেহা যায়। কই আমাগোর গ্রামে তো এতো সুন্দর বেটা ছেলে নাই, তাইলে এই লোক আইলো কই থাইক্কা?

নূরারী আবার লোকটার দিকে তাকালো। তার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে,

কী দেখছে এমন করে?

মৃন্ময় আবার ধমকের সুরে বলে উঠল,

—ইডিয়েট! সামনে তাকিয়ে হাঁটতে পারো না? ঘাড়ের উপর উঠে পড়ো সামনে থেকে সরো,

এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি?

নূরারী তখন আশেপাশে তার চুরি করা পেয়ারা খুঁজছিলো

মৃন্ময়ের এমন ধমকে কেঁপে উঠলো!

মনে মনে গালি দিয়ে বিরবির করলো,

—আজব তো লোকটা আমারে এমনে ধমকাইতাছে কেন?

আমি মনে হয় উনার গাছের পেয়ারা চুরি করছি,

ওই টাকলা মদিনের না?

আমি তো শুধু একটু সাহায্য চাইলাম, বেটা খবিস আমারে ধমকাইতাছে সুন্দর বেটারা কি এমন রাগী খবিস হয় নাকি, আবার ইংলিশে গালি দেয়।

তবও নূরারী কিছু বলে না,

পেয়ারার টুবলাটা মৃন্ময়ের পায়ের কাছে দেখতে পেয়ে ওটা তুলে নিতে যাবে,

আবার বলে উঠলো মৃন্ময়,

—আবার আমার কাছে আসছো কেন ? স্টুপিড গার্ল!

মহা মুশকিল তো! লোকটা সুন্দর বলে কি নূরারী বারবার তাকে জড়িয়ে ধরবে নাকি?

নূরারী পেয়ারা টুবলাটা মৃন্ময়ের পায়ের কাছ থেকে তুলতে তুলতে বললো,

—অনেকক্ষণ ধইরা আপনের প্যাচাল হুনতাছি গ্রামে নতুন মনে কইরা কিছু কই নাই। আমনে কি আমারে মগা পাইছেন?

আমারে ইংলিশে গালি দিবেন, আমি বুঝতাম না হে? আমিও আপনারে গালি দিবার পারি, কিন্তু দিমু না দেখতে তো বয়সকো লাগতাছে! আমি আবার বুড়া মানুষরে মেলা সম্মান করি।

মৃন্ময় অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইল,

নূরারী যে তাকে বুড়ো বললো, সেটা মনে হয় মানতে পারলো না।

নূরারী মনে মনে একটু কুটিল হাসলো।

মৃন্ময় ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলে উঠলো,

—এই মেয়ে! তোমার সাহস তো কম না আমাকে বুড়ো বলো?

—হো! বলছি এহন সরেন তো, আমি যামু।

তখনই আবার আরেকটা লোক সামনে আসলো, এমনি নূরারীর রাগ উঠছে! আবার আরেক খাম্বা সামনে

—তোমার নাম কী?

শান্ত সুরে জিজ্ঞেস করলো সামির,

নূরারী তেড়া ভাবে বলতে লাগলো,

—আপনারে কেন কইতে যামু! আপনে কেডা?

আমার নাম হুনলে কি খুশিতে ডিস্কো ডান্স দিবেন নি?

—তুমি একদম পুতুলের মতো দেখতে, আর গ্রামে তোমার সাথে প্রথম দেখা তাই নামটা জানতে চাচ্ছি, তোমার নামটা বলো! না হলে আবার কুকুরের কাছে ছেড়ে দিব।

এমনিতেই নূরারী কুকুর খুব ভয় পায়! যদি সত্যি কুকুরের কাছে ছেড়ে আসে, তাই ভয়ে ভয়ে নামটা বলতে লাগলো,

—নূ..নূ..

শেষ করার আগে সামির বলে উঠল,

—কি তোমার নাম নুনু?

সামির এই কথা শুনে নূরারীর চোখ ইয়া বড় বড় হয়ে গেল! কী বলএই লোক? তার নাম নুনু হতে যাবে কেন? (মনে মনে হে আল্লাহ আমার নামটা কি বানিয়ে দিলো)

সামির আবার বলে উঠল,

—মেয়েদের নাম নুনু হয়? আমি তো জানতাম ছেলেদের থাকে নু....

আর বলতে পারল না, তার আগেই মৃন্ময় বলে উঠল

—সামির জাস্ট শাট আপ, এই মেয়ে যাও এখান থেকে এত টাইম নেই তোমার বকবক শোনার।

আশ্চর্য নূরারী কি আটকিয়ে রেখেছে নাকি? চলে তো যাচ্ছিলো তারা তো নাম জিজ্ঞেস করল, আবার ধমকাচ্ছেও!

নূরারী মনে মনে দুইটা গালি দিয়ে, মৃন্ময়ের দিকে তাকিয়ে বললো,

—এই যে হুনেন আমি এই মেয়ে না, আমার সুন্দর একটা নাম আছে #নূরারী_শিকদার। আর এই নূরারীর সাথে কেউ উঁচা গলায় কথা কয় না, আর আপনে আমারে বিনা দোষে ধমক দিলেন আপনের শাস্তি তুলা রইলো সুদে-আসলে ফিরত দিয়াম।

এই বলে এক দৌড়ে চলে গেলো নূরারী,

—মৃন্ময়, মেয়েটা একদম পুতুল, তাই না বল? আর এত সুন্দর নাম তাহলে প্রথমে নু.....

—আর একটা কথা বলবি, তোকে এখানে রেখে চলে যাব।

—আরে, তুই আমাকে ধমকাচ্ছিস কেন, মৃন্ময়? একটু আগে মেয়েটাকেও ধমকেছিস, মেয়েটার কোনো দোষ ছিল না। আর তোর তো সব সময় বাজখাঁই....

আরও কিছু বলতে যাবে তার আগেই দেখে মৃন্ময় চলে যাচ্ছে গাড়ির দিকে। মৃন্ময়ের যে রাগ সত্যি সত্যি তাকে ফেলে চলে যেতে পারে , সামির পিছনে দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসে।

গাড়িতে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছিলো না। তাই বাইরে বের হয়ে কারো সাথে কথা বলছিলো মৃন্ময়। আর এর মাজে ঘটে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

সামির বসতেই মৃন্ময় আবার গাড়ি স্টার্ট দিল,

সামির সারা রাস্তা বকবক করতে থাকল, এটা তার স্বভাব মৃন্ময় কে জালানো, আর সে কখনো চুপচাপ থাকতে পারে না। কিছুক্ষণ পরে তারা এসে গেলো তালুকদার ভিলার সামনে।

তালুকদার ভিলা

______০_______

দীর্ঘ ১৫ বছর পর নিজ গ্রামে ফেরলো তালুকদার বাড়ির মেজো ছেলে ডঃ মৃন্ময় তালুকদার। এবং নাতি ডঃ সামির সিকান্দার। সেও ১০ বছর আগে পারি দিয়েছিলো সুইজারল্যান্ড। এখন দুজনে ডাক্তার হয়ে ফিরে এসেছে।

বাড়ির ছেলে এবং নাতি এতো বছর পর ফেরার খুশিতে ঝলমল করছে পুরো তালুকদার ভিলা। ভোর হওয়ার সাথে সাথে বাড়ির ভিতরে সকলের ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে।

(পরিচয় পর্ব)

সুলতান তালুকদার। তালুকদার বাড়ির বড় কর্তা,

তার বেগম আমেনা খাতুন তালুকদার।

তাদের তিন ছেলে এক মেয়ে, সবারি বিয়ে হয়ে গেছে।

বড় ছেলে আফিকুল তালুকদার, তার স্ত্রী নাম শিরীন তালুকদার।

তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে,

বড় ছেলে আসিফ তালুকদার, তার বিয়ে হয়ে গেছে। স্ত্রী নাম রিমঝিম তালুকদার।

মেজো ছেলে শায়ন তালুকদার,ছোট্ট মেয়ে শায়নী তালুকদার।

আমেনা খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে,

সায়ফুল তালুকদার, তার স্ত্রী মধুমিতা তালুকদার।

তাদের এক ছেলে মেয়ে, বড় ছেলে "মৃন্ময়_তালুকদার"

ছোট্ট মেয়ে "মায়া_তালুকদার"

আমেনা খাতুনের তৃতীয় ছেলে,

তৌফিক তালুকদার, তার স্ত্রী জেসমিন তালুকদার।

তাদের দুই মেয়ে এক ছেলে,

বড় মেয়ে সেঁজুতি তালুকদার , জমজ ছেলে মেয়ে জিহাদ,জুথী তালুকদার।

আমেনা খাতুনের ছোট্ট মেয়ে,

মোছাঃ আফিয়া সিকান্দার, স্বামী সাইমান সিকান্দার।

তাদের এক ছেলে মেয়ে,

"সামির_সিকান্দার"

"আনিশা সিকান্দার"

চলবে.....

কপি করা নিষিদ্ধ ❌

( আমার লিখা নতুন & প্রথম লেখা উপন্যাস ভুল ত্রুটি থাকতে পারে বানান ভুল হতে পারে, একটু বুঝে পড়ে নিয়েন🥹 আর সবাই বলে যাবেন কেমন লাগছে উপন্যাসটা ভালো রেসপন্স পেলে কন্টিনিউ পর্ব দিবো 😊 সবাই ভালো থাকবেন আর লাইক, কমেন্ট করে পাশে থাকবেন 🥹🫶)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন