#শ্যামকন্যা
#পর্ব_২
#ছুরাইয়া_আক্তার
শ্যামা ফেল করায় মায়ের কাছে কাল উত্তরমাধ্যম খেয়েও রাতে রেহাই মেলে নি তার আব্বার কাছ থেকে। তিনি বাসায় এসেই খবরটি শুনে খুব বকেছেন তাই রাতে ভাত না খেয়ে ঘুমিয়ে সারারাত পার করেছে। এমনিতেই কাল রাত থেকে আব্বা ওপর রাগ করে ছিলো কিন্তু আজ সকালে আব্বার কর্মকান্ডে রাগ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেই থেকে সকালের খাবারটাও মুখে নেই নি শ্যামা। এ নিয়ে একবার তাঁরা বেগম বকাঝকা করলেও পরে খাবার প্লেট এনে মেয়ের পাশে বসে শান্ত শুরে বলেন,
কী হয়েছে আমার শ্যামরাজকন্যার,তোর আব্বার ওপর রাইগা আছিস?
শ্যামা মাথা উপর নিচ করে হ্যা বলে,
হইছে আর রাগ কইরা থাকিস না নে ভাত টুকু খেয়ে নে।
শ্যামা আবার মাথা নেরে না বলে সে খাবে না।
এবার তাঁরা বেগম কিছুটা রেগে বলেন,
দেখ তোর আব্বায় কিন্তু আইসা তোর রাগ ভাঙ্গাইবো না তাই হুদাই নাটক না করে খাইয়া নে।
শ্যামা এবার ভাঙ্গা স্বরে মায়ের কাছে বাপের নামে অভিযোগ করতে শুরু করে,
মা আব্বা এমন কেন আমারে একটু ভালোবাসে না। আজ সকালে আব্বা বাজার করে আসার সময় নিশি সিয়াম আর খালার জন্য আইসক্রিম আনছে আমি গেছিলাম আমারটা নিতে কিন্তু আব্বা আমার জন্য আনে নাই। কেন আব্বা এমন করে। সবসময় কী তার মনে থাকে না আমার কথা। নিশি সিয়াম আর বড় আপাও তো আব্বাকে তুমি কইরা কয় তাহলে আমারে কেন আপনি কওয়া শিখাইছে,আপনি কইরা কইলে তো কেমন পর পর লাগে৷
শ্যামার ভাঙ্গা কন্ঠ শুনের তাঁরা বেগমের বুঝতে অসুবিধা হয় নি তার আসার আগে মেয়েটা কাঁদছিলো। তাঁরা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
তোর আব্বা তোকেও ভালোবাসে শ্যামা, দেখ যাইয়া আইসক্রিম তোর জন্যও আনছিলো তোর খালায় সেটা দেয় নাই নিজে খাইছে।
শ্যামা মুখ ভেংচি দিয়ে বলে,
বললেই হলো
হইছে এখন খা তো আর তোর আব্বার ইচ্ছা ছিলো তার কোনো সন্তান তারে আপনি করে বলে যেনো বুঝেছিস।তোর আব্বা চাইছিলো তোরে মাদ্রাসায় পড়াইতে কিন্তু তুই যে বান্দর ছিলি আর যা মেধা ছিল তোরে আর মাদ্রাসায় পড়ানো হইলো কই।
মিথ্যা বলো না তো মা আমি অনেক মেধাবী । কিন্তু আব্বারে আপনি ডাকতে আমার একটুও ভালো লাগে না।
উফ,এই অভিযোগ গুলা আর কতো করবি শ্যামা ক্লান্ত লাগে না এক কথা বারবার কইতে।
শ্যামা মুখভার করে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
তুমি ছাড়া আর কে আছে আমার যাকে আমি আমার মনের কথা বলবো তুমি আমার খোলা ডাইরি যাতে আমার সব কথা গুছিয়ে লেখা থাকে আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি মা।
মেয়ের কথা শুনে তাঁরা বেগম মুচকি হাসছিলেন তিনি তার হাসি রিরত রেখে ভাত মাখাতে মাখাতে বলেন,
নে এবার লক্ষী মেয়ের মতো খেয়ে নে তো রাত থেকে কিছুই তো পেটে যায় নি। তুই না খিদা সর্য্য করতে পারিস না এতক্ষণ না খেয়ে আছিস কেমনে?
শ্যামা দাত বের করে হাসতে হাসতে মনে মনে বলে,
আমিতো রান্নাঘরের রাখা বিস্কুট গুলো সাবার করে দিয়েছি মা।
তাঁরা বেগম শ্যামার দাঁত কেলানি দেখে ভ্রুকুচকে বলেন,
এভাবে বাদরের মতো হসছিস কেন?
মায়ের কথা শুনে শ্যামা দ্রুত হাসি বন্ধ করে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে ফের হেসে বলে,
"সিফাত ভাইয়ের কথা ভেবে হাসছি মা।
জানো মা সিফাত ভাই ও বুঝি আমাকে ভালোবাসে আমাকে আর শেফাকে কাল স্কুল থেকে ফেরার সময় ঝালমুড়ি কিনে দিছে। আবার মাঝে মাঝে এটা ওটা কিনে দেয় আর সিফাত ভাই আমার সাথে কী মিষ্টি করে কথা বলে,,
শ্যামার কথা শেষ না করতে দিয়ে তাঁরা বেগম শ্যামার মুখে একদলা ভাত গুজে দেন। শ্যামা মুখে ভাত নিয়ে কিছু বলতে নিলে তাঁরা বেগম বলে ওঠে,
কথা কম বলে মুখ চালা আমার আরো কাজ আছে বেয়াদব মেয়ে।
সিফাত কে নিয়ে শ্যামার বলা কথাগুলো শুনে তাঁরা বেগম অবাক হলেন না তিনি মেয়ের কাছে প্রায় প্রায় সিফাতের গুনগান শুনেন। মেয়ে যখন তাকে তার ভালোবাসার অনুভূতি সম্পর্কে বলেন তিনি সবসময় ভালো-খারাব সম্পর্ক বুঝিয়ে দেন আজও তার বেতিক্রম হালো না তিনি শান্ত স্বরে বলেন,,
সিফাত ছেলেটা আবশ্য ভালোই তবে শুনেছি তার বাপের বেশ অহংকার যাই হক ছেলেটা তোকে সত্যি ভালোবাসে কী না তা না যেনে একেবারে তোর মন দিয়ে দিস না পরে কষ্ট তুই বেশি পাবি আর একপাক্ষিক ভালোবাসা কখনো সুখ বয়ে আনে না বুঝতে পেরেছিস।
শ্যামা খাবার চিবোতে চিবোনা মাথা নেরে হ্যা বলে।
আজ শ্যামা স্কুলে যায় নি তবে নিশি গিয়েছিলো নিশি স্কুল থেকে এসে গোসল দিয়ে রান্না ঘরে ঢুকেই চিল্লাচিল্লি সুরু করে দিয়েছে কারন রান্নাঘরে নাকি তার পছন্দের বিস্কুট রাখা ছিলো কিন্তু এখন নাকি একটাও নেই। নিশির চেচামেচির জন্য তাঁরা বেগম চাঁদ বেগম ও সিয়াম ও উঠানে উপস্থিত শুধু শ্যামা ঘাপটি মেরে ঘরে বসে আছে। নিশিকে কেউ কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিশি বাজখাঁই গলায় চেচিয়ে বলে,
মা আমার বিস্কুট কে শেষ করছে, আমার মনে হয় সিয়াম সব খাইছে আমি কিন্তু আজ ওরে মাইরা শেষ করুম।
নিশির মিথ্যা অভিযোগে সিয়াম লাফ দিয়ে উঠে বলে,
আপা আমি তোমার বিস্কুট খাই নাই আমি তো জানি না তোমার কাছে বিস্কুট আছে বিশ্বাস করো আল্লার কসম না এই যে সিয়াম নিজের মাথার উপর হাত দিয়ে বলে আমার কসম।
চাঁদ বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
নিশি আমার পোলার অসব চুরির সভাব নাই, ওর দোষ খবরদার দিবি না, কি হইছে সেটা খুইলা বল?
আব্বা আমার পছন্দের বিস্কুট আনছিলো সিয়ামের ভয়ে আমি রান্নাঘরে থুইছিলাম আমি মাত্র দুইটা বিস্কুট খাইছি আর বাকিগুলা নাই বাক্স পুরাই ফাকা তোমার ছেলে না খাইলে কে খাইছে?
চাঁদ বেগম কিছুটা চিন্তা করে তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন,,
রান্নাঘরে তো বড় আপা আর তার মেয়েই যায় বেশি। আমরা তো হঠাৎ কোনো প্রয়োজনে যাই মনে হয় ওদের মধ্যেই কেউ খাইছে। ছিহ খাওয়ার আগে অন্তত জানা দরকার ছিলো কার জিনস ওগুলো চোরের মতো মা মেয়ে পেটে চালান করেছে।
তাঁরা বেগমের এই অপমানটা গায়ে লাগলো না যেনো অভ্যাস হয়ে গেছে এধরনের কথায়।তবে চুপ না থেকে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন
মুখ সামলে কথা বল চাঁদ, কার চুরি করার অভ্যাস আছে তা তুই ভালো করেই জানিস আমার আর শ্যামার দিকে আঙ্গুল তোলার আগে কয়েকবার ভেবে নিবি নয়তো,,,,
তাঁরা বেগমকে আর কিছু বলতে না দিয়ে চাঁদ বেগম গর্জে বলে ওঠে
"নয়তো নয়তো কী, কী করবে আমার মারবে আমায়,,,,,
চাঁদ বেগমের মতোই তাঁরা বেগমেও চাঁদের কথা শেষ না করতেই বলেন,,
আমি তোর সাথে কোনো ঝগড়ায় লিপ্ত হতে চাই না। আর সামান্য বিস্কুটের জন্য এরকম অশান্তি না করে নিশির বাপকে বলিস আবার বিস্কুট এনে দিবে।
তাঁরা বেগম আর না বাড়িয়ে নিজের ঘরে চলে যান আর এদিকে চাঁদ বেগম বিলাপ করতে থাকেন।
তাঁরা বেগম ঘরে ঢুকে শ্যামাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে বলেন,
কীরে বাসায় চিল্লাচিল্লি হইলে তুই সবার আগে সেখানে উপস্থিত থাকিস তাহলে আজ কী হলো উঠানে তো তোকে একবারো দেখলাম না।
শ্যামা মুখভার করে বলে,,
মা নিশির বিস্কুট গুলা আমি খাইছি আমি জানতাম না ওগুলো নিশির আমি ভাবছিলাম তুমি হয়তো আনছো ওগুলো নিশির জানলে কখনো খাইতাম না।
শ্যামার কথা শুনে তাঁরা বেগম রেগে বলেন,
খাইছিস ভালো করছি তুই তর বাপেরটা খাইছিস অন্যেরটা না, তর বাপে তো কখনো কিছু আনলে তো ও ঘর থেকে এ ঘরে কখনো কিছু আসেই না।
চাঁদ বেগম হলো তাঁরা বেগমের ছোট বোন। তাঁরা বেগম দুই বোন এক ভাই। পারিবারিক ভাবেই শ্যামার বাবার নুরুল ইসলামের সাথে শেতাঁরা বেগমের বিয়ে হয়। বাবা-মা ভালোবেসে তাঁরা বেগমের নাম শেতাঁরা রেখেছিলেন কিন্তু শেতাঁরা নামের পরিবর্তে সকলে ছোট করে তাঁরা বলেই ডাকেন।
তাঁরা বেগমের বিবাহিত জীবন ভালোই কাটছিলো বছর না ঘুরতেই নুর পেটে আসে যে শ্যামার বড় বোন, দেখতে হয়েছিল পরির মতো সুন্দর তাই শ্যামার দাদা নাম রেখেছিলো নুর। নুরের জন্মের সাতবছর পার হওয়ার পরেও তাঁরা বেগম অনেক চেষ্টা করেও বাচ্চা নিতে পাচ্ছিলেন না। অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখানোর পারেও কোনো আশারুপ ফল পাওয়া যায় নি এ নিয়ে তাঁরা বেগমকে শশুড় বাড়িতে বেশ কথা শুনতে হয়। নুরুল ইসলাম ও কেমন যানি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছিলেন। নুরের যখন নয় বছর হয় তখনি যেন খোদা মুখ তুলে চায়। তাঁরা বেগম গর্ভবতী হন এখবর শুনে বাড়ির সকলেই খুশি হয় সকলের খুব আশায় ছিলো একটা ছেলের। তাঁরা বেগমেও খুব করে চেয়েছিলেন একটা ছেলে তবে সৃষ্টিকর্তা তার আশা পূরণ করেন নি। বাড়িতে যেনো আবার অশান্তি শুরু হয় একে তো ছেলে হয় নি হয়েছে মেয়ে তাও আবার কালো তার মধ্যে ডাক্তার বলেছেন তাঁরা বেগম আর বাচ্চার মা হতে পারবেন না এ নিয়ে তাঁরা বেগমের শাশুড়ী সারাদিন বিলাপ করতে থাকে। জন্মের পর থেকে শ্যামার অবস্থা ছিলো করুন শ্বাস নিতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল যার কারনে কয়েকদিন তাকে আাইসিউতে রাখা হয়। শ্যামার জন্মের পর তার বাবা একবার দেখেই আর দেখতে যান নি। শ্যামার উন্নত চিকিৎসা করার জন্য প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছিল যা সব করেছেন শ্যামার দাদা।পরে শ্যামা সুস্থ হলে বাসায় আনার তিন দিন হলেও নুরুল ইসলাম শ্যামাকে কোলেও নেই নি আর না তাঁরা বেগমকে দেখতে এসেছিলেন। মেয়ে হওয়ায় কিংবা শাশুড়ী ননদের কথা শুনেও যতোনা কষ্ট পেয়েছিল তাঁরা বেগম তার থেকেও বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন নুরুল ইসলামের ব্যাবহারে।
রাতের আধারে শ্যামাকে বুকে জড়িয়ে হু হু করে কেঁদেছিলে তাঁরা বেগম। যা শুনতে পেয়েছিলেন শ্যামার দাদা পরের দিনেই তিনি নুরুল ইসলামকে বকাবকি করে শ্যামাকে কোলে নিতে একপ্রকার বাধ্য করেন।আস্তে আস্তে বাড়ির সকলের ব্যবহার স্বাভাবিক হয়ে যায় কিন্তু নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁরা বেগমের দুরত্ব বেড়ে যায়।
তাঁরা বেগমের শাশুড়ী নিজেই শ্যামাকে গোসল করিয়ে দিতেন এমন কী নিজের কাছেই শ্যামাকে বেশি রাখতেন।বাড়ির সবার থেকে শ্যামার দাদি শ্যামাকে বেশি ভালোবাসতো প্রথম প্রথম শাশুড়ীর এমন ব্যাবহার দেখে অবাক হতেন তাঁরা বেগম পরে বুঝতে পারেন তার শাশুড়ী বাচ্চা পাগল বাচ্চাদের খুব পছন্দ করেন।শ্যামার জন্মের দুইমাস পর হঠাৎ শ্যামার দাদা পরলোক গমন করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বাড়ির সকলে ভেঙ্গে পড়েছিলো পরে আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। মানুষের স্বভাবেই এমন প্রিয়জন মারা গেলেও এক কী দুই দিন কান্নাকাটি করে আস্তে আস্তে সকলে তাকে ভুলে যায়।
এর পরে তাঁরা বেগমের জিবনটা কোনো মতো চললেও তিনমাস পর সুখটা একেবারে কপাল থেকে উঠে যায় হঠাৎ করেই নুরুল ইসলাম চাঁদ বেগমকে বিয়ে করে বাড়িতে তুলে।তাঁরা বেগম স্তব্ধ হয়ে যায় এমন ঘটনায় আবাক হয়ে নুরুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এসব কি কেন বিয়ে করছেন? বিয়ের আগে একবারো আমাদের মেয়েদের কথা মনে পরে নি আপনার?
সেদিন নুরুল ইসলাম তারা বেগমের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন,
শুনো তাঁরা তোমার সাথে বিয়ের আগ থেকেই আমি চাঁদকে পছন্দ করতাম। বাবাকেও বলেছিলেন সে কথা কিন্তু তিনি আমার কথার গুরুত্ব দেন নি। আমার মত ছাড়াই তোমার সাথে বিয়ে দিয়ে দেন এবং আমি সব মেনে নেওয়া চেষ্টাও করেছিলাম কিন্তু এখন আমার বংশের বাতি দরকার যা তুমি দিতে পারবে না তাই চাঁদকে বিয়ে করেছি। আর চাঁদ আমায় পছন্দ করে আমিও তাকে পছন্দ করি তাই আমরা বিয়ে করেছি যদি তুমি চাও এখানে আমার স্ত্রী হয়ে থাকতে পারো আর না চাইলে চলে যেতেও পারো আমার কোনো সমস্যা নেই তবে আমার মেয়েরা এখানেই থাকবে।
সেদিন আর কোনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন করে নি তাঁরা বেগম নিরবে দেখে গেছে ভালোবাসার মানুষটি অন্যকারো হতে।
এ বিয়ে নিয়ে শাশুড়ী টু শব্দ ও করে নি তার হাসি হাসি মুখ দেখেই বোঝা গিয়েছিলো সে বেশ খুশি বেশ বোঝা যাচ্ছে মা ছেলে মিলেই কাজটা করেছে তাই তো খুশি উপচে পড়ছে শুধু খুশি হতে পারে নি তাঁরা বেগম সেদিন গলা ফাটিয়ে কেঁদেছিলেন জীবনেও বুঝি এমন করুন আর্তনাদ করেন নি তিনি। সেদিন কেউ ছিলো না তাঁরা বেগমের পাশে ছিলো না তার বাবার মতো শশুরের পরম স্নেহ মাখা হাতটি তার মাথায়। ছোট নুর মায়ের এমন কান্না দেখে শ্যামাকে কোলে নিয়ে ভয়ে ঘাপটি মেরে ছিলো দাদির ঘরে।
ছোটবেলা থেকেই তাঁরা বেগমের পছন্দের জিনিসের নজর থাকতো চাঁদ বেগমের। চাঁদ বেগমের এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল কিন্তু শশুড় বাড়ির কারো সাথে বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিলো তারপর থেকেই বাবা মায়ের কাছেই থাকতো।নুরুল ইসলামের সাথে চাঁদ বেগমের বিয়ের ব্যাপারটা গ্রামে ছড়িয়ে পরলে তাঁরা বেগমের মা-বাবা ছুটে আসেন, তারা চাঁদের এমন কাজে মোটেও সমর্থন করেন নি। তারা চাঁদকে অনেক কথা শুনিয়েছে বড় বোনের সংসার ভাঙ্গায়।তাঁরা বেগমের ভাই তাকে নিয়ে যেতে চাইলে যায় নি তিনি।তাঁরা বেগমের জমজ ভাই ছিলো তারা দু মিনিটের ছোট বড় ছিলো।সেই ভাই তার হাত ধরে বলছিলো,
আপা চল তুই আমার সাথে এখানে থাকতে হবে না এমন নিম্ন মানসিকতার মানুষদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখার দরকার নাই তোর সব দায়িত্ব আমি নিবো চল তুই।
কিন্তু তাঁরা বেগমের মা বাবা নারাজ ছিলো তারা কিছুতেই তাঁরাকে নিয়ে যাবে না।
এটা তাঁরারও সংসার সবচেয়ে বড় কথা তাঁরার দুটো মেয়ে আছে আর তাছাড়া তাদের সম্মান হারানোর ভয়ে তাঁরাকে নিতে নারাজ হন ।এমনি এক মেয়ে ডিভোর্স হয়ে বাড়িতে পরে থাকায় বেশ কথা শুনতে হয়েছে আসপাশ থেকে আবার সেই পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করতে চান নি তাঁরা বেগমের মা বাবা।তাই সেদিন তাঁরা বেগম শুনে নি ভাইয়ের কথা।থেকে গেছে এ সংসারে অবহেলিত হয়ে।অভিমানে কষ্টে বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ আর রাখেন নি তারাও প্রথম প্রথম কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও পরে হাল ছেরে দেন। একে একে তিনবার বোনকে ফিরিয়ে নিতে এসেছিলো তাঁরার ভাই কিন্তু তাঁরা বেগম রাজি হয় নি তাই তার ভাই তার সাথে একেবারে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ,এমনকি তার মা বাবা ভাই চাঁদকে একেবারে ত্যাগ করেন কখনো চাঁদের সাথে যোগাযোগ করেন নি।
এ ঘটনার কয়েকবছর পর তাঁরা বেগমের ভাই বাহিরে ভালো চাকরি পাওয়ায় মা বাবাকে নিয়ে এই গ্রামের বাড়ি বিক্রি করে কোথায় যেনো চলে যায়।এতোগুলো বছর হয়ে গেছে তাঁরা বেগম তার মা বাবা কারো মুখ পযর্ন্ত দেখেন নি।
#চলবে