ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্যামকন্যা

পর্ব-৫

লেখক: ছুরাইয়া আক্তার

#শ্যামকন্যা
#পর্ব_৫
#ছুরাইয়া_আক্তার

সিয়াম রান্নাঘর থেকে পানির জগ আনতো,

সিয়াম মাথা নেড়ে চলে যতেই শ্যামা বলে ওঠে,
মা তুমি সিয়ামকে পাঠিয়ে দিলে কেন। ওকে ডাক দাও,, আমি তো এখানে তাহলে সিফাত কাকে বিয়ে করেছে ও মা বলো না,,

তাঁরা বেগম শ্যামার এমন অস্থিরতা দেখে শান্ত স্বরে বলে,
শ্যামা সিয়াম এমনে ফাজলামো করছে আর এই সিফাত তোর সিফাত এক না দুনিয়ায় কী শুধু একজনরেই নাম সিফাত, আর সিফাতের বাপের কে হই আমরা যে বউভাতের দাওয়াত দিবে। এমনে অস্থির হস না শ্যামা,
মায়ের কথায় শ্যামা নিজেকে বুঝালেও, মনে কেমন একটা খচখচ রয়েই যায়।

ওসব ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে গোসলটা সেরে আয় শরীরটা ভালো লাগবে।

শ্যামা মাথা নারিয়ে বলে,
আচ্ছা, মা আমি বিকেলে একটু বাহিরে যাই?

"না অসুস্থ শরীর নিয়া এক পাও ঘর থেকে বেড়োবি না।

শ্যামা আর কিছু না বলে কাপড় নিয়ে গোসলখানায় চলে যায়।

আর এদিকে শ্যামার মা বেশ চিন্তায় আছেন, শ্যামা গোসলে যাওয়ার পর তিনি চাঁদ বেগমের কাছে যান সিয়াম আসলে সত্যি বলছে না মিথ্যে তা যাচাই করতে পরবর্তীতে দাওয়াতে কার্ড দেখে তিনি হতাশ হন, আসলেই কথাগুলো সত্যি সিফাতের বিয়ে হয়েছে তাও আবার শ্যামার বান্ধবী শেফার সাথে, এ বিষয়টা তার মেয়ে জানতে পারলে কী হবে এসব ভাবতে ভাবতে তাঁরা বেগম এক বাল্টি কাপড় নিয়ে রওনা দেন পুকুর ঘাটের উদ্দেশ্যে।

তাঁরা বেগম পুকুর ঘাটে এসে দেখেন সিফাত পুকুরের সান বাধা সিরিতে বসে আনমনে পানির দিকে চেয়ে আছে,
তাঁরা বেগম বাল্টি নিচে রেখে সিফাতের মুখোমুখি দাড়িয়ে রাগমিশ্রিত কন্ঠে বলেন,

তুমি আমার মেয়েকে কেন এভাবে ঠকালে সিফাত, আমার মেয়েটাকে ভালো না বাসলে কেন মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলে,

সিফাত কোনো জবাব দিলো না, মাথা নিচু করে পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।

কী হলো সিফাত কথা বলো, আমি এখন মেয়েটাকে কীভাবে সমলাবো ও তোমাকে সত্যি ভালোবাসে সিফাত ওকে নিয়ে এভাবে না খেললেও পারতে,

"আমি ওকে নিয়ে খেলি নি চাচি না আমি ওকে ঠকিয়েছি, ভীষণ ভালোবাসি ওকে। এই বিয়েতে আমার মত ছিলো না আমি বাদ্ধ হয়ে বিয়ে করেছি।

সিফাত কথাগুলে মাথা নিচু করে বললেও শেষের কথাটা মাথা উচু করে বলে যার ফলে তাঁরা বেগমের সাথে চোখাচোখি হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বেগম চমকে ওঠে, কারন সিফাতের চোখ লাল হয়ে ফুলে আছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে ছেলেটা প্রচুর কেঁদেছে।

তুমি কী বলতে চাচ্ছো সিফাত আমাকে সব খুলে বলো,

শেফা হচ্ছে আমার মামাতো বোন, ওর সাথে ছোট থেকে আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছিলো যা আমি জানতাম না।
কী ভাবে যানি বাবার কানে যায় যে শ্যামার সাথে আমার প্রনয়ের সম্পর্ক আছে।বাবা আমার কথা ভেবে শ্যামার পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নেন কিন্তু,,,,,,

সিফাত আর কথা না বলে চুপ করে থাকে কী ভাবে বলবে পরের কথাটা বেশ অসস্থি হচ্ছে তার আর এদিকে শ্যামার মা সিফাতকে চুপ করে থাকতে দেখে নিজেই বলেন,
আমি বুঝতে পেরেছি, এটা ঠিক তোমাদের পরিবারের সাথে আমাদের ঠিক যায় না। আর তোমার বাবাকে এ গ্রামের সবাই চেনে তিন একজন অহংকারী ব্যাক্তি, সে কিছুতেই একজন সামান্য মুদির দোকানদারের মেয়ের সাথে তার ছেলের বিয়ে দিবেন না তবে আমার বিশ্বাস ছিলো তোমার উপর, তুমি আমার মেয়ের হাত ছেড়ে দিবে না কিন্তু আজ আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে গেল আ,,,

সিফাত আর কিছু বলতে না দিয়েই বলে ওঠেন,
আমায় মাফ করবেন চাচি এসবে আমার হাত ছিলো না আমি শ্যামাকেই ভালোবাসি বিশ্বাস করুন আমি নিরুপায়,

কেন তুমি নিরুপায় সিফাত। তুমি তো মেয়ে নও যে সব মুখবুজে সর্য করবে তাহলে কেন তুমি বিয়ে করছো?

মা বলেছিলেন আমি শেফাকে বিয়ে না করলে তিনি ফাঁস দিবেন, তাই,,

তাই তুমি বিয়েতে রাজি হয়ে আমার মেয়ের ফাঁস দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছো।

সিফাত বলার মতো আর কিছুই খুঁজে পেলো না লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে,

তাঁরা বেগম বেশ কিছু সময় নিরব থেকে বলেন,
যা হওয়ার হয়ে গেছে, আমার মেয়ের আশেপাশে আর কখনো আসবে না। তুমি শেফাকে নিয়ে সুখে থাকো এটা তো যানো কাউকে কাঁদিয়ে সুখে থাকা যায় না তবে আমি দোয়া করবো তোমরা সবসময় সুখে থাকো।

সিফাত আর এক দন্দ না দাঁড়িয়ে চলে যায় তাঁরা বেগমের সামন থেকে। তাঁরা বেগম সিফাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন বুকটা তার ভার হয়ে এসেছে মেয়েটাকে কি বলবেন, কিভাবে সামলাবেন তার মেয়েটার মন যে নাজুক ।বড্ড কষ্ট পাবে মেয়েটা তার।

__

পরেরদিন সকালে শ্যামা জোর করে স্কুলে গিয়েছে। তাঁরা বেগম তো যেতেই দিবেন না, এমনকি কাল গোসল দেওয়ার পর থেকেই আর তাকে ঘর থেকে বেড়োতেও দেয় নি।
শ্যামা স্কুলে এসে এদিক সেদিক তাকিয়ে শেফাকে খুঁজতে থাকে কিন্তু শেফাকে না পেয়ে মনটা তার খারাপ হয়ে যায়। শ্যামা, লাস্টের সিটে এসে ব্যাগ রেখে ভাবতে থাকে,
সিফাতকে তো আজ আসার পথেও দেখলাম না আর না এই কয়দিন একবারো আমার খোজ নিয়েছে সে কী আমায় ভুলে গেছে,,,

শ্যামার ভাবনার মাঝেই নিশি এসে তার পাশে বসে ঠাট্টা করে বলে,
কীরে শ্যামা কানাইয়ের বিরহে কী মনমরা হয়েছিস।

"কী সব বলসছিস?

বুঝতে পারিস নি ওহো তোর মা তোকে যেভাবে ঘর বন্দি করে রেখেছিলো তাতে তোর তো না জানারি কথা,
শ্যামা কিছু না বুঝতে পেরে বলে ওঠে,

কী জানার কথা বলছিস?

নিশি এবার হাসতে হাসতে বলে,
শেফা তোর এতো ভালো বন্ধু ও কি তোকে ওর বিয়ের দাওয়াত দেয় নি,

কথাটা শুনেই শ্যামার খারাব লাগে তবে নিশিদের বুঝতে না দিয়ে পরক্ষণেই বলে,
আমি তো জানি না, কার সাথে বিয়ে হলো ওর, আর আমাকে একবারো জানালোও না।

নিশি তাচ্ছিল্যের সুরে বলে,
এই নিপা দেতো বিয়ের কার্ডটা ও নিজেই দেখুক কার সাথে বিয়ে হয়েছে ওর প্রাণপ্রিয় বান্ধবীর,

নিশির পাশে দাড়ানো মেয়েটি একটি কার্ড এগিয়ে দেয় শ্যামার কাছে শ্যামা নির্দ্বিধায় কার্ডটি নিয়ে তা দেখতে থাকে একসময় তার চোখ পরে বরের নামের জায়গায় সিফাত শেখ লেখা যা দেখেই শ্যামার বুক কেঁপে ওঠে, তখনি মনে পরে মায়ের সেই কথা পৃথিবীতে একজনেরি নাম সিফাত না এই কথা ভেবেই বরের পিতার নাম পড়তেই শ্যামার হাত কাঁপতে থাকে এবং কার্ডটা হাত থেকে পড়ে যায় মুহুর্তের মধ্যেই চোখ ভিজে আসে শ্যামার, সে কাঁপা কন্ঠে বলে,
এসব মিথ্যা তোরা আমাকে জ্বালাইতে এই কার্ড বানাই আনছিস।

শ্যামার কথা শুনে নিশির সহ ওর সাথে থাকে তিন জনেই হা হা করে হাসতে থাকে। নিশি নিজের হাঁসি থামিয়ে বল,
আমাদের খেয়ে দেয়ে কাজ নাই তোকে জ্বালাবো আর আমরা কার্ড কীভাবে বানাবো আজব। শোন এসব সত্যি শেফার সাথে তোর প্রেমিক সিফাতের বিয়ে হয়েছে বুঝতে পেরেছিস।

না তোরা সব মিথ্যা বলছিস আমার সিফাত এমন করতেই পারে না

হাহ্ তোর সিফাত, ও এখন শেফার সিফাত তোর না।

নিশির কথাটা যেনো তীরের মতো আঘাত করে শ্যামার ছোট মনে সঙ্গে সঙ্গে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে। শ্যামা উঠে দাঁড়িয়ে ব্যাগ নিয়ে সোজা ক্লাস রুম থেকে বেড়িয়ে যায়,

প্রায় দুঘন্টা যাবত শ্যামা নদীর ঘাটে বসে আছে। বরাবর এ দিকটায় মানুষ কম থাকলেও বিকেলের দিকে মানুষ একটু বেশি দেখা যায় তবে আজ যেনো কেউ নেই ।কাঁদতে কাঁদতে শ্যামার চোখ মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে,তার গায়ের রং ফর্সা হলে হয়তো পুরো মুখে লাল আভা ভেষে উঠতো কিন্তু সেই যাই হক।
শ্যামা চোখ বন্ধ করে ছিলো কিন্তু হঠাৎ পাশে কেউ বসেছে এমন অনুভব হলে চোখ খুলে পাশে তাকিয়ে দেখে সে আর কেউ না সিফাত। শ্যামা সিফাতের দিকে তাকাতেই দুজনার চোখাচোখি হয়ে যায়। হঠাৎ শ্যামা পাশ থেকে ব্যাগ নিয়ে সিফাতকে মারতে থাকে আর কাঁদতে কাঁদতে বলে ,
এভাবে কেন ঠকালি আমায়,আমায় ভালো না বাসলে কেন এসেছিলি আমার কাছে, কেন কষ্ট দিলি আমায়,তুই শেফাকে ভালোবাসলে কেন আমায় টেনেছিলি তোদের মাঝে একবার বলতি তুই শেফাকে ভালোবাসিস তাহলে কখনো তোর দিকে ফিরে তাকাতাম না।

শ্যামা সিয়াসকে মারতে মারতে হাঁপিয়ে ওঠে,ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে শ্যামা কাঁদতে কাঁদতে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে।
সিফাত এবার শ্যামাকে টেনে নিজের বুকের সাথে জরিয়ে নেয়।
এই প্রথম সিফাতের এতো কাছে এসে শ্যামা স্তব্ধ হয়ে যায়, নিজেকে ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা ও করে না চুপচাপ প্রিয় মানুষের বুকে অশ্রু বিসর্জন দিতে থাকে।

সিফাত শান্ত স্বরে বলে,
আমি শেফাকে ভালোবাসি না শ্যামা আমি শুধু তোমায় ভালোবাসি,আমি এই বিয়ে করতে চাই নি শ্যামা। এই বিয়ে করতে বাদ্ধ হয়েছিলাম।তোমার মাকে কাল সব বলেছি তবে একটা কথা বলতে মনে দ্বিধা কাজ করছিলো তাই বলি নি কিন্তু তোমায় বলতে চাই এটা সত্যি শ্যামা মা বলেছিলেন আমি বিয়ে না করলে তিনি ফাঁস দিবেন তবে আমি আমার মাকে চিনি সে এমন কখোনো করবেন না। তুমি তো চেনো শেফার লম্পট ভাইকে ওই শাকিলের সাথে আমার ছোট বোনটার সম্পর্ক ছিলো,যখন শেফার পরিবার জানতে পারে আমি বিয়ে করতে চাই না তখন শাকিল আমার বোনটার কিছু অশ্লীল ভিডিও ও পিক সেন্ড করে আমায় এবং হুমকি দেয় তার বোনকে বিয়ে না করলে আমার বোনের সব নোংরা ছবি ভিডিও নেটে ছেড়ে দিবে।জানো শ্যামা তখন আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না একদিকে বোন আরেকদিকে তুমি, সেদিন রাতে রুমি আমার বোনটা কাঁদতে কাঁদতে আমার পা জড়িয়ে ধরে বলেছিলো বিয়েতে রাজি হতে নয়তো শাকিল ওর সব নোংরা ছবি ভিডিও নেটে ছেড়ে দিবে। আর আমি রাজি না হলে তার আত্নহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না যানো শ্যামা একমাত্র আদরের বোনের এমন করুন অবস্থা দেখে আরো ভেঙ্গে পড়েছিলাম পড়ে বোনের সম্মান রক্ষার জন্য বিয়েতে রাজি হয়ে যাই। আমাকে মাফ করো শ্যামা, তোমাকে এভাবে কষ্ট দিতে চাই নি।

শ্যামার কান্না সেই কখন থেমে গেছে কিন্তু সিফাতের বুক থেকে একটুও সরে চুপচাপ সিফাতকে জরিয়ে ধরে শুনছিলো সিফাতের অভিযোগ।শ্যামা ও অবস্থায় থেকেই বললো,
আচ্ছা শেফা কেন বিয়েতে রাজি হলো ও তো জানতো আমরা একে ওপরকে ভালোবাসি তাহলে কেন আমার স্বপ্নটাকে এভাবে ভেঙ্গে দিলো।

সিফাত শ্যামার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মনে মনে বলে,
সব কাহিনির মূল খলনায়ক তো শেফা, ও তোমাকে জীবনে কখনো বন্ধু হয়ে আসে নি এসেছিলো তোমার সুখ কেড়ে নেওয়ার জন্য, ওর হিংসাই আজ আমাদের এই পরিনতি করেছে।তোমাকে এসব বলবো না শ্যামা তুমি বড্ড বেশি কষ্ট পাবে আমি চাই না তুমি আর কষ্ট পাও।

ওর হাতেও কিছু করার ছিলো না শ্যামা।চলোনা শ্যামা আমরা পালিয়ে যাই এমন যায়গায় যাবো যেখানে কেউ খুঁজে পাবে না আমাদের।
সিফাতের কথা শুনে শ্যামা সিফাকে চট করে ছেড়ে দুরে সরে যায়, এবং অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,
তা কখনো সম্ভব না আমি কারো জীবনে দ্বিতীয় কেউ হয়ে থাকতে চাই না। কারো সংসার ভেঙ্গে আমি সুখী হবো না আর যেভাবেই শেফার সাথে আপনার বিয়ে হক না কেনো ওকে এখন মেনে নেন নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দিন, আজ থেকে ভুলে যান আমায়, আমি আপনার জীবনে ফিরে যেতে চাই না, ভালো থাকবেন,,,,,

সিফাত করুন স্বরে বলে,
"শ্যামা ।

প্লিজ আমার ইচ্ছা গুলো পূরণ করুন সিফাত ভাই,

সিফাত শ্যামাকে টেনে নিজের সামনে দাড় কড়িয়ে দু হাত দিয়ে শ্যামার দুগাল আঁকড়ে ধরে শ্যামার কপালে দীর্ঘ চুমু দিয়ে আবার জড়িয়ে ধরে বলে,

এটা আমাদের প্রথম ও শেষ চুমু এবং শেষ আলিঙ্গন আর কখনো এই সুযোগ আসবে না, আমি শেফাকে আমার সংসারে রাজ করতে দিলেও মনে রাজ করতে কখনো দিবো না। এই মনের রানি সবসময় তুমিই থাকবে আমি বলবো না তুমি আমায় ভুলে যাও শুধু বলবো তোমার মনে এক কোণে আমায় একটু ঠাই দিয়ো।

শ্যামা হু হু করে কেঁদে দেয় সিফাতও এবার কেঁদে ওঠে,,

বেশ কিছুক্ষন পর দু'জন দু'জনার কাছ থেকে সরে যায়।

সিফাত পকেট থেকে রুমাল বের করে শ্যামার চোখ মুছিয়ে দিয়ে শ্যামার হাতে রুমালটি দিয়ে বলে,

এই রুমালটি হবে তোমার কাছে আমার শেষ সৃতি।

শ্যামা রুমালটি হাতের মুঠোয় নিয়ে মাথা নারায়। শ্যামাও কী ভেবে হাতে থাকা সিফাতের রুমালটি নিয়ে সিফাতের চোখের পানিগুলো ভালোকরে মুছিয়ে দিয়ে জলদি নিজের ব্যাগটি নিচ থেকে তুলে চেন খুলে একটি সুন্দর পিংক ও সাদা রংয়ের কাজ করা রুমাল বের করে রুমালটিতে গভীর একটা চুমু দিয়ে সিফাতের সামনে গিয়ে নিজ হাতে রুমালটি সিফাতের হাতে দিয়ে বলে,

এই রুমালটি হবে আপনার কাছে আমার শেষ সৃতি।

সিফাত রুমালটি হাতে নিয়ে নিজেও একটা চুমু দিয়ে পকেটে পুরে মলিন হেসে বলে,,

ভালো থেকো প্রিয়,

না চাইতেও চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। শ্যামা চোখে পানি ও মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে বলে,,

আপনিও ভালো থাকবেন।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব-৫ শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন