ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

পর্ব 1

লেখক: সালমা চৌধুরী

#আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে
#ফারজানা_মনি
#সিজন_৩
#সূচনা_পর্ব_০১
#গল্পপ্যাক্ট_মাহবুবা
✰টিম.. টিমা.. টিম.. টিম.. মরিচ গাছে হাঁসের ডিম.. টিম..টিমা..টিম..টিম..✰

বাজারে বেচবো সেই ডিম......

এই অদ্ভুত গানটি মনের সুখে গাইতে গাইতে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে টিউশনে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল তৃধা। ঠিক তখনই আ.... বলে চিৎকার দিয়ে মেয়েটা মেঝেতে বসে পড়ল। সামনে তাকিয়ে দেখলো এক জোড়া পা। সেই পায়ে পড়া চকচকে কালো জুতো। এবার তৃধা খানিকটা ভ্রু কুচকে মাথা তুলে আস্তে আস্তে উপরে তাকালো। আর মনে মনে ভাবলো: পাপা তো এই সময় বাড়িতে আসার কথা না। তারপর ভাবনা ভেঙে ভালো মতো করে তাকিয়ে দেখল, ইয়া....... লম্বা এক যুবক। কালো শার্ট আর চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে কটমট করে এদিকেই তাকিয়ে আছে। তৃধা বুঝলো না তার দিকে এভাবে তাকানোর কারণ।

সে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে মেঝে থেকে উঠে দাড়ালো। তারপর যুবকের সামনে হাত দিয়ে তুরি বাজিয়ে বলল: এই যে হ্যালো... মিস্টার রক্তচোষা বাদর.. এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে আমার শরীরের রক্ত চুষে খাচ্ছেন? যুবক টি মনে হয় এইবার আরেক টু বেশি রেগে গেল। কিছু বলার আগেই তৃধা আঙ্গুল নাড়িয়ে নাড়িয়ে আবারো বলল: এভাবে কট মট করে তাকানোর কিছুই নেই, আপনি নিশ্চয়ই ডেলিভারি ম্যান। যা দিতে এসেছেন তা দিয়ে বের হন আমাদের বাড়ি থেকে। যুবক টি খপ করে তৃধার আঙ্গুল টি ধরে ফেলল।

তারপর চোয়াল শক্ত করে বলল: just shut up....এত বছরে একটুও পাল্টাস নি। আর একটাও বাজে কথা বললে, থাপরে তোর সাদা মোলার মত চেহারা লাল বানিয়ে দেব।

তৃধা এমন কর্কস কথা শুনে ভ্রু কুচকে তাকালো। তারপর কিছু বলবে এমন সময় তার পেছন থেকে শব্দ ভেসে এলো মালিহা খানের। আরে.. আহিয়ান দাদু ভাই!! আহিয়ানের নাম কানে আসতেই তৃধা চোখ বড় বড় করে সামনে তাকালো।
মনে মনে বলল: তাইতো বলি.. এই তল্লাতে আর কে আছে যে আমাকে সাদা মুলা বলে ডাকবে। তৃধা আহিয়ানকে কিছু বলবে তার আগে ই আহিয়ান তৃধাকে কোনরকম পাত্তা না দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে তার দাদু (মালিহা খান) কে জড়িয়ে ধরল। মালিহা খান তো এত বছর পর আহিয়ানকে সামনাসামনি দেখে খুশিতে কেদেই দিলেন। তারপর চোখ মুছতে মুছতে বললেন: কেমন আছিস দাদুভাই? আর তোর পাপা-মাম্মাকে কেন নিয়ে আসলি না?

ঠিক তখনই দরজার সামনে থেকে একসাথে কয়েকটি কন্ঠ বেশে আসলো।

____★সারপ্রাইজ★______

মালিহা খান সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন: আবির, মেঘ, আহিয়া, আদি, আদির বউ রাই এবং তাদের ৩ বছরের ছোট্ট মেয়ে আদিবা দাড়িয়ে আছে।

মালিহা খান একসাথে ছেলে, ছেলের বউ, নাতি নাতনি সবাইকে দেখে খুশিতে চিৎকার করে বাকি সবাইকে ডাকা শুরু করল।

খুশি তো হওয়ারই কথা। দীর্ঘ ১২ বছর আগে খান বাড়ির এই অর্ধেক সদস্য লন্ডনে পাড়ি
জমিয়েছিল। তার পর আর স্বপরিবারে এক সাথে হয়ে উঠা হয়নি। আদি কে মিমের বিয়ের এক মাসের মাথায় লন্ডনে পাঠানো হয়। গত কয়েক বছর আগে অবশ্য আদি একবার দেশে ফিরে ছিলো। শুধু আদি একা নয়, আহিয়ান ও আহিয়া বাদে সবাই এসেছিল আদির বিয়ে উপলক্ষে। মেঘাবিরের ছেলে মেয়ে না আসায় খান বাড়ির সকলে অনেক আফসোস করলেও সে দিন খুব বেশি খুশি হয়েছিল তৃধা খান। তৃধা হলো তানভীর বন্যার একমাত্র আদুরে মেয়ে।

তৃধার সাথে আহিয়ার খুব মিষ্টি সম্পর্ক। কিন্তু আহিয়ানের সাথে তৃধার সব সময় ঝগড়া ও মারামারি বেশি হয়। তৃধা একটু বেশি কথা বলে, যেটা আহিয়ান এর কখনোই পছন্দ ছিল না। তাছাড়া জন্মের পর থেকে যেই দশ বছর খান বাড়িতে কাটিয়েছে সে তৃধাকে সুযোগ পেলেই থাপ্পড় মারতো। তাও তৃধা আহিয়ানের সামনে গিয়েই বকবক করতো।

মালিহা খানের ডাক শুনে নিচ তলা ও দুইতলার সবাই বেরিয়ে এলো। বন্যা তো মেঘকে দেখে খুশিতে জাপটে ধরল। মালিহা খান, হালিমা খান ও আকলিমা
খান আজকে প্রচুর খুশি। কারন অনেক বছর পর আবারো খান বাড়ি পরি পূর্ণ হল। আবির তার আম্মু, মামুনি ও কাকিয়া কে সালাম করলো। মালিহা খান তো ছেলেকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। আবির মাকে শান্ত করতে বলল: আম্মু, এভাবে কান্না করো না প্লিজ.. এভাবে কান্না করলে কিন্তু আমি আবারো লন্ডনে ফেরত যাবো। মালিহা খান কাঁদতে কাঁদতে বলল: আর যদি কান্না বন্ধ করি?

আবির হাসতে হাসতে বলল: তাহলে ভাবছি শুধু আহিয়ান ও আহিয়া কে ফেরত পাঠাবো। আর আমরা সবাই থেকে যাব তোমাদের কাছে। বাড়ির তিন কর্তির খুশি দেখে কে.. সবার চোখে পানি, কিন্তু এই কান্না কোন কষ্টের নয় এটা আনন্দের কান্না।

আমি ভাবতে পারছি না, আমাকে সবাই এত সহজে ভুলে গেল?

কথাটি কানে আসা মাত্রই সকলে সেদিকে তাকালো।

দেখলো আহিয়া অভিমানী দৃষ্টি নিয়ে সকলের দিকে তাকিয়ে আছে। হালিমা খান এগিয়ে গিয়ে বলল: আমার নানু ভাইকে কি আমরা ভুলতে পারি?
বলেই আহিয়াকে বুকে জড়িয়ে নিল।

চলবে..
Next পর্ব জন্য ফলো করুন
#আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে
#ফারজানা_মনি
#সিজন_৩
#পর্ব_২
#গল্পপ্যাক্ট_মাহবুবা

আহিয়ান একপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। আর তৃধা একটু পর পর কটমট করে তার দিকে তাকাচ্ছে। মনে মনে ভাবছে.... এই বাঁদরটা এত লম্বা কিভাবে হলো?🤔

এই রক্তচোষা বাঁদরের সাথে ছোটবেলায় ই আমি ঝগড়া করে পারিনি। ঠাস ঠাস থাপ্পর দিত আমায়। আর এখন তো এত লম্বা হয়ে গেছে, এখন তো এর সাথে ঝগড়া করে আরো পারবো না।😏

ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার কথা ভেবে ওদের নিয়ে ১২ বছর আগে বিদেশে গিয়েছিলি। তখন ওরা ছোট ছিল একা থাকতে পারতো না তাই তোদের যেতে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ওরা বড় হয়েছে, এবার ওরা দুজন একাই ফিরে যাবে। তুই, মেঘ, আদি ও রাই কে এবার আর যেতে দিচ্ছি না।

মালিহা খানের কথা শুনে আবির মেঘ মৃদু হাসলো। আবির বলল: বলেছি তো আম্মু, এবার আর আমরা যাচ্ছি না।
একেবারেই চলে এসেছি খান বাড়িতে। বন্যা ফোন হাতে কাকে যেন কল দিচ্ছিল। মেঘ ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলল: দেখ বেবি, ভুলেও এই কাজ করবি না। আমি চাই ভাইয়া বিকেলে বাড়ি এসেই আমাদেরকে দেখে অবাক হোক। তারপর মেঘ আবারও সকলের দিকে তাকিয়ে বলল: বড় আব্বু, আব্বু ও কাকা মনিকে কেউ বলবেনা আমরা যে এসেছি।

মেঘের এখনো বাচ্চামি কথা শুনে সবাই এক দফা হাসলো।

মেঘ হঠাৎ লক্ষ করল, এখনো দরজার সামনে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তৃধা। মেঘ ইশারা দিয়ে ডাকতেই তৃধা গিয়ে মেঘকে জাপটে ধরল। মেঘ তৃধাকে আদর করে কপালে চুমু দিয়ে কুশলাদি বিনিময় করল। আহিয়ান বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। তৃধা সেটা দেখে মুখ ভেংচি দিল।😏

বড়.. আম্মু.. কোলে... কোলে...

তিন বছরের আদিবার ভাঙ্গা ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর শুনে মেঘ সে দিকে তাকালো। দেখলো আদিবা কোলে উঠতে চাইছে।

এটা আজ প্রথম দিন নয়। বাহিরের দেশে যখন ছিল তখনও যদি দেখত
অন্য কাউকে মেঘ আদর করছে। ঠিক তখনই আদিবা মেঘের কোলে চড়ে বসতো।

আদি মৃদু হেসে এসে আদিবাকে কোলে নিতে চাইলো। কিন্তু আদিবা হাত সরিয়ে দিয়ে বলল: যাবো না ...

পাপার কাছে আমি যাব না..

ওর অভিমান দেখে উপস্থিত সকলেই হেসে দিল। রাই এসে বলল: মাম্মার কোলে এসো প্রিন্সেস...

কিন্তু আদিবা ওর মায়ের হাতটাও সরিয়ে দিল।

মেঘ এসে আদিবা কে কোলে নিয়ে আদর করলো। আদিবা খিল খিলিয়ে হেসে বলল: আমার বড় আম্মু।

সবাই আবারও হেসে দিল।

মলিহা খান সকলের উদ্দেশ্যে বলল: সবাই রুমে যা.. ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় আমি নাস্তার ব্যবস্থা করছি।

আবির মেঘ দ্বিতীয় তলায় তাদের রুমের দিকে গেল। আদি ও রাই আদিবাকে নিয়ে গেল তাদের রুমে। আদির রুম এখন দ্বিতীয় তলায় শিফট করা হয়েছে। দ্বিতীয় তলার একটা রুম ঠিক করা হয়েছে আদির জন্য।

আহিয়ান বলল: আমি কোন রুমে যাবো দাদু? মালিহা খান, হালিমা খান ও আকলিমা খান
স্বজোরে হেসে উঠলেন। হালিমা খান মজা

করে বলল: কেন নানু ভাই তুমি আমার সাথে থাকবে..😁

আহিয়ান ঠোঁটে মৃদু হাসির রেখা টেনে বলল: তাহলে তো ভালোই হবে এবারের ছুটিতে নানু ভাইয়ের বিয়ে খাওয়া যাবে।🙂

হালিমা খান চোখ বড় বড় করে বললেন: মানে?
আহিয়ান ঠোটে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল: তুমি যদি আমার সাথে ঘুমাও.. তাহলে আমার নানু ভাই তো একা হয়ে যাবে। নানু ভাইয়ের জন্য তো একটা সঙ্গী দরকার তাই না...😁

এবার হালিমা খান আহিয়ানের কান টেনে ধরে বলল: অনেক বড় হয়ে গেছিস তাই না?🤨
আহিয়ান: আ.... মেজ গিন্নি.. ব্যথা পাচ্ছি.. এই ঘটনা দেখে তৃধা মিটিমিটি হাসলো।🙃

আর মনে মনে বলল: ঠিক করেছ দাদু..
আরেকটু দাও বদমাশটাকে।

মালিহা খান হেসে বলল: মেজো গিন্নি কে পেয়ে তো বড় গিন্নিকে ভুলেই গেছিস..

আহিয়ান হালিমা খানের হাত থেকে নিজের কান ছাড়িয়ে বলল: আমি আমার কোন গিন্নিকেই ভুলিনি। বিদেশের মাটিতে তিন গিন্নিকে অনেক মিস করেছি।

এবার আকলিমা খান কাছে এসে বলল: কদিন পর বিয়ে করলে তো আমাদের তিন গিন্নিকে ভুলেই যাবে.. তখন সারাক্ষণ ছোট গিন্নির কথায় উঠবে আর বসবে।

এবার সকলেই হেসে দিল। তৃধা মুখ ভেংঙ্গিয়ে আস্তে আস্তে বললো: এই রক্তচোষা বাঁদরকে কে বিয়ে করবে? আর যদিও কেউ বিয়ে করে, সে নিশ্চয়ই কোন বাদরি হবে.....😏

পাশ থেকে আহিয়া বলল: এই তৃধা, তুই কি আর মানুষ হবি না? অবশ্য একটা কথা ঠিকই বলেছিস....

আহিয়ার পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই তৃধা ভাব নিয়ে বলল: আমি সব সময় ঠিকই বলি, বলো আপু.....

আহিয়া তৃধার কপালে একটা টোকা দিয়ে বলল: হ্যা ঠিকই বলেছিস, ভাইয়ার কপালে তোর মত একটা বাদরি ই জুটবে....😁

তৃধা আহিয়ার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলল: আপু.. তুমি কি আমায় indirectly বাদরি বললে..🙁

ওদের কথার মাঝেই মালিহা খান আহিয়ান ও আহিয়ার উদ্দেশ্যে বলল: তোমরা তৃতীয় তলার রুমে থাকবে। তোমাদের দাদু তোমাদের জন্য তৃতীয় তলার কাজ কমপ্লিট করেছে। যাতে তার নাতি নাতনীরা দেশে আসার পর কোন অসুবিধা না হয়।

চলবে...
নেক্সট পর্বের জন্য ফলো করুন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন