ফন্ট সাইজ:
থিম:
বদনা নসিব

পর্ব 9

লেখক: রিম ঝিম রিমা

বদনা নসিব..🤣🤣
পর্ব: ০৯

তারপর ল্যাপটপ এর উপ্রে একখান টোকা দিয়া কইলাম...... আচ্ছা এটা কিসের তৈরী?? 😁😁
.
চয়ন(কতক্ষন দেখি চাইয়াই রইছে🙄) তারপর.... 😂😂😂😅😅😆।
.
আমিঃ (হাসে,ক্যান🙄🙄) ইহিহিহি😁😁।
.
তারপরি হঠাৎ কইরা..........😩😩😩

তারপর হঠাৎ কইরা ফকির টা আমার কাছে আইসা... আমার গায়ে একখান টোকা দিয়া কয়......
.
.
চয়নঃ তুমি কিসের তৈরী??
.
আমিঃ(মনের দুক্ষে) বালের🙄।
.
.
চয়নঃ what??

আমিঃ🥵🥵আল্লাহ না কিছুনা.....( কইয়াই দোউর দিয়া দরজা খুইল্লা বাইরে বের হলাম) আল্লাহ😑।
.
এরি মধ্য ছায়া আফা থুক্কু পেটিকোট আফা আইছে আমার সামনে........
.
.
রায়াঃ হেই থাননি...
.
.
আমিঃ😡( এগো সব গুলার কি উচ্চারণ এর সমস্যা আছে নাকি!!🤔) আমি থাননি না তন্নি😎।
.
.
রায়াঃ huh what ever.....আচ্ছা রিংকুন কে দেখেছো??
.
আমিঃ কিহ... রিংটোন কি আবার দেখা যায় নাকি!!! রিংটোন তো ফোনে বাজে। আমার ফোনে নিউ রিংটোন সেইভ করছি😁। শুনবেন....... আ আ মেরি জান..... ধইরা ধইরা গোস্ত খান🍗🍗।
গোস্ত দেখতে টুকটুক.... মুখ করে চুকচুক
হেই ঘ্যাংগর, ঘ্যাংগর চ্যাংটা🎶
করমু তোরে ন্যাংটা🙈।
হেই টিরিস, টিরিস.... টুকুর টুকুর😘।
.
রায়াঃstop it(কাউয়ার মতো চিল্লাইয়া)
.
আমি কানে হাত দিয়া😣
.
রায়াঃ তোমার সাথে কথা বলতে আসলেও রুচি থাকেনা। সরো এখান থেকে😡।(চইলা গেলো)
.
আমিঃ এহহহহ কি আইছে আমার নবাব বেটি😏। আরে যা যাহ.... আমার সাথে কথা বলার জন্য কাউয়া থিকা শুরু কইরা সব মানুষ লাইন দিয়া থাকে..... because my voice as like a মোটা বাশের চিকন বাশির মত😎😎।

রুমে যাইয়া পড়াশুনা কইরা কতক্ষন পর নিচে খাইতে গেছি.......
.
মেজুঃ আরে মাইয়া মুই বরিশাইল্লা.... মোরে চেনোনা.... কল্লা (মাথা) ধইররা পাছার (আছার) মারমু মোরে চ্যাতাইস ( রাগ উঠানো) না😎😎

আমিঃ কি ব্যাপার মেজু... মোন ফুরফুরা নাকি??

মেজুঃ হিহি😁😁।

ব্যানঃ(নিচে নামতে নামতে)...... রুক্সস রুক্সস....
.
আমিঃ (কাছে যাইয়া) না না আন্টি... ওটা রুক্সস হবেনা... হবে রুক যাও😊।
.
ব্যান আন্টিঃ এই মেয়ে.... তুমি কি ভেবেছো আমি হিন্দি কথা জানিনা?? সরো সামনে থেকে😡।
.
.
আবারো রুক্স রুক্স করতাছে। এরি মধ্য মেজু আমার কানে কানে কইলো......
.
.
মেজুঃ আপু রুক্স হ্যায় খালামনিরে ডাকে।
.
.
আমিন ওহ... কি😶!!! ( আচ্ছা আমি নাকি ডিজিটাল ভাবে কতা কই..... তাইলে উনি যেসব নাম ধইরা ডাকা শুরু করছে সেগুলো কি🤔..... আমারতো সন্দেহো হয়.... উনার মাইয়ার নাম আসলেই রায়াতো... নাকি উডাও ডিজিটাল ভার্সন।😑)
.
শাবানা আন্টিঃ হ্যারে বল।
.
ব্যানঃ রুক্সবু দেখনা... এই নেইলপলিশ টা আমার হাতে কেমন মানাইছে।

শাবানা আন্টিঃ হুম ভালো। কিন্তু তোকেনা বলেছি এগুলা দেওয়া ঠিকনা।
.
.
ব্যান আর কথা না বইলা সোফায় বইসা দেওয়া নেইলপলিশের উপ্রে আরো ঠাইসা দিতাছে.... যেনো এই জন্মে আর ওইসব উঠাইবেনা। হুহ।
.
.
আমিঃ ( অন্য সোফার কাছে যাইয়া... যেখানে শাবানা আন্টি বসা....) শাবানা আন্টি....
.
ব্যানঃ what the name??? Sabana!!!! এই মেয়ে কিসব নামে ডাকো আমার বোনকে?? আর যেনো কক্ষনো এইসব শুনিনা👆👆।
.
শাবানা আন্টিঃ আরে তুই থামতো। এই নামে আমারতো বেশ ভালোই লাগে। সোনা মামুনি কি বলবি বল😊।
.
আমিঃ আন্টি তোমাদের বাড়িতে যে ইয়ায়ায়ায়া বড় বিশাল একটা মেহেন্দী গাছ দেখলাম ওখান থেকে কি আমি কয়েকটা মেহেন্দী পাতা তুলবো কালকে?? আসলে আমি হাতে দেবো😊😊।
.
ব্যানঃ একদম না.... ওইসবে তুমি একদম হাত দিবেনা। বলে দিলাম।
.
শাবানা আন্টিঃ আহ তুই থামবি?? তন্নি তোর ইচ্ছা হলে তুই নিবি। সেটা আবার জিগ্যস করতে আছে নাকি।
.
আমিঃ(এত্ত ভালো একটা মানশের ক্যামনে ওমন খ্যাছরা একটা বুইন হয়🙄।)

ব্যানঃ তুমি কি ভুলে গেছো যে রিংকুন এইসব লাইক করেনা। ওর গাছের ফুল কোনো পাতা.... ও তো কাউকেই ধরতে দেয়না। ওর ফ্রেন্ডস গুলারেও তো দেয়না। দেখেছোতো নাকি। সব এমনি ঝড়ে যাবে তাও ধরতে দেয়না। যেখানে আমার মেয়ে রায়াকেই ধরতে দেয়না!!! আর ওতো কোন ছাড়। হুহ.... বাইরের মানুশকে নাকি এলাউ করবে... জীবনেও না🙄।"ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।

শাবানা আন্টিঃ উফফ ব্যান। তোর এইভাবে না বললে চলেনা নাকি?? শোন তন্নি তুই বরং একবার চয়ন কে বলে নিস... কেমন??
.
আমিঃ( ধুর ধুর.... সবকিছুতেই ওকে লাগে) আচ্ছা😔।
.
এরি মধ্য চিল্লাইতে চিল্লাইতে আমগো গুনি রকস্টার চয়ন মিয়া নিচে নামতাছে.......
.
চয়নঃ আম্মু.... আম্মু.....
.
শাবানা আন্টিঃ কি হইছে চিল্লাচ্ছিস ক্যান??

চয়নঃ আম্মু আমি কত্ত বার বলেছি রায়া যেনো আমার রুমে না যায়। তাও কেনো যায় ও?? তার উপর আমি ড্রেস চেঞ্জ করবো সেই মুহুর্তে?? আমি যাস্ট একটা টাওয়াল পরা ছিলাম.... আর ও সেটা দেখে তাও রুম থেকে বের হচ্ছিলো না।( চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কইতাছে)

আমিঃ( ছি ছি ছি... লজ্জা শরমের বালাই নাই কেনো। মায়ের কাছে এইভাবে আইসসা কেউ বলে!!! হাই আল্লাহ😷উনার টাওয়াল পরার সময় তো রুমে আমিও আছিলাম। আর শুধু আছিলাম কই দরজাও আটকাইয়া দিছিলাম.... অখন যদি সেই কথা সবাইকে বইলা দেয়.... 😫এর মুখেতো আজকে দেখলাম no লাগাম, without ঘোড়া🐎🐴।)

শাবানা আন্টিঃ ওহহো রায়া... তুই জানিসিতো চয়নের এইসব পছন্দ না তাও যে ক্যানো করতে যাস!!!

ব্যানঃ গেছেতো কি হইছে.....

রায়াঃ এ্যা... 😭 (বুঝাই যাইতাছে ন্যাকা কান্দন কানতাছে.... without চোখের পানি😅)
আমার কি দোশ মম.... আমিতো ইকটু কথা বলতে গেছিলাম। আর এই বাড়িতে কথা বলার মানুশ বলতে তো যাস্ট ওই আছে তাইনা???

শাবানা আন্টিঃ( ওর কাছে যাইয়া হেসে..) হইছে আর কান্না করতে হবেনা... ক্যানোরে তুইতো চাইলে তন্নির সাথেও কথা বলতে পারিস।
.
আমিঃ( রায়ার দিগে তাকাইয়া)😁😁😁😁।

রায়াঃও... হুহ তাহলেতো হলোই। (কইয়া চইলা গেলো)
.
.
আমিঃ( আমার সাথে কথা কইলে কি হইবো!!!)
.
তারপর সবাই মিলা রাতের খাওয়া দাওয়া করলাম😊😊।
.
রুমে যাইয়া আজকে তারাতারি শুইয়া পড়লাম।
.
পরের দিন... ফজরের নামাজ পইরাই গেলাম বাগানে মর্নিং ওয়ার্ক করতে.... উদ্দেশ্য মেহেন্দি পাতা তুলে আনা😇।
.
খয়েরি কালারের ট্রাউজার, আর ভিত্রে কালা টি শার্ট পইরা উপ্রে খয়েরি কালারের জ্যাকেট পরছি। চুল গুলান উপ্রে উঠায়া ঝুটি কইরা একটা খয়েরি কালারের ক্যাপ পরছি। তারপর কালো কালারের কেডস পইরা নামছি জংগল রহস্য... থুক্কু বাগান রহস্য এ... with বড় ঝুড়ি😊😊।
.
বাগানে যাইয়া হুদ্দাই কতক্ষন ব্যায়াম করলাম... তারপর মেহেন্দি গাছের কাছে যাইয়া... আপন মনে পাতা তুলতাছি বাহহ কি সুন্দর ফুল, ফলও হইছে😍। সব তুলতাছি। এত্ত ফল ফুল পাতা দেইক্ষা আমার পাগল হইয়া যাওয়ার মতোন অবস্থা।
.
কি করছো এখানে??

আমিঃ(কন্ঠটা আমার কাছে ঠাটা পড়ার মতো মনে হইলো..… তাকাইয়াই দেখি..... 😭😭😭আবুইল্যার বউয়ের জামাই চয়ইন্যা.....😥)
আপ... আপনি??

চয়নঃ হুম আমি!!!

আমিঃ হেহে এত্ত কষ্ট করে উঠে আসলেন ক্যানো!! আমাকে বললেইতো পারতেন.... আমি আপনার কাছে না মানে আপনার রুমে হাজির হয়ে যেতাম😒।

চয়নঃ আচ্ছা তাই বুঝিইইই....

আমিঃ অবশ্যই অবশ্যই হিহি😁।

চয়নঃ ( আমার কাছে আইসা..... পা থিকা মাথা পরযন্ত তাকাইয়া) তা এমনভাবে এইখানে আসার কারন!!!!
.
আমিঃ এক... চুয়েলি... জগিং। জগিং করতে আইসা দেখি কিত্না কিউট মেহেন্দি গাছ... তাই ভাবলাম ইকটু তুলি😁😁।
.
চয়নঃ ওওও তাই। তা জগিং করতে আসলে বুঝি ঝুড়ি নিয়ে আসতে হয়🤔।
.
আমি একবার ঝুড়ির দিকে তাকাইয়া আবার কইলাম.....
আমিঃ না না আসলে ঝুড়ি টা আমি এইখানেই পইরা পাইছি.... তাই ভাবলাম ঝুড়িতেই রাখি😁😁।
."ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
চয়নঃ🤣😂😅😆।

আমিঃ কিচ্ছে🙄😒।

চয়নঃ ওকে... ভোরের প্রজাপতি.... আমিও কি আপনাকে হেল্প করবো??
.
আমিঃ না না লাগবোনা আমিই পারবোনে😊।
.
.
হঠাৎ উনি চোখ মুখ খিচাইয়া.......
.
.
চয়নঃ এই মেয়ে... তোমার এত্ত বড় সাহস কি করে হয়। আমাকে না জানাইয়া আমারি গাছের পাতা নিচ্ছো। এত্ত চোর সভাব কেনো তোমার?? লজ্জা করেনা ঢেংগি মেয়ে হয়ে চুরি করতে??

আমিঃ (এটা কি হলো.... এইনা হাসি খুশু ভাবে কথা বলছিলো!!!!!😥...... আবার নিশিতে [ভূতের নাম] ধরে নাইতো😰)

চয়নঃ(আমার হাতের কবজি ধরে নাড়া দিয়ে) এই মেয়ে কথা বলছোনা ক্যানো। সব সময় এই ধান্দায় থাকো নাকি??
.
আমিতো হালকা কব্জিতে ব্যাথা পাইতেছি.... তবে তার থেকেও বেশি অবাক হইছি উনার ব্যবহারে।
.
হুট করে কোথ থেকে যেনে রায়া ফায়া আসলো।
.
রায়াঃ কি হয়েছে রিংকুন??

আমিঃ( হায় হায় দেখছ নি কারবারটা!!!! একটা শার্ট পড়ছে সাদা...... তাও পেট পরযন্ত আবার যাস্ট হাটু অব্ধি একটা প্যান্ট পরছে কালো। সোনালি চুল গুলা খোলা। খুব কিউট লাগতেছে.... কিন্তু এইসব কি পইড়া উনার সামনে আইছে😲)

চয়ন উনার কথার জবাব না দিয়া সেই আগের মতোই হাতের কবজি ধইরা আছে।
.
আল্লাহরে আল্লাহ... জিম কইরা কইরা এই ময়ুরির সামীরতো হেব্বি হাতের জোর হইছে উফফফ😩।

তারপর রায়া ঃ ওউউউ তারমানে তুমি এখানে মেহেন্দি পাতা চুরি করতে এসেছিলে তাইনা?? ছি ছি ছি.... শেসমেষ চুরি!!!! লজ্জা করলোনা তোমার?? যে ঘরে খাচ্ছ সেই ঘরের জিনিস চুরি করতে?? কবেতো না জানি... ঘরের জিনিসও চুরি করে পালাও।

আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। সামান্য মেহেন্দি পাতা নেওয়াতে এত্ত কথা শুনাবে!!! তাও চয়ন কিছু বলছেনা!! এমনি সময়তো খুব দরদ দেখায়। আর ওই রায়ার বাচ্চায় কি ভাবছে যে আমি ফকিন্নি?? আমার বাপেরও কম টাকা পয়সা নাই। খালি ওর মতো মানশেরে অত্ত দেখাইয়া বেড়াইনা......আর এই বাসায় কি আমি নিজে সেধে এসেছি?? ফকিরের আম্মাইতো আমাকে এইখানে নিয়া আসছে।

চয়নঃ যত্তগুলা পাতা নিয়েছো তার দাম দিতে হবে।👿
.
আমিতো নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। চোখ থেকে খুব পানি পরছিলো। এত্ত কথা শুনতে হবে আমার!! কক্ষনো ভাবিনি😞।
রায়াঃ কি হলো এখন কথা বলছো না ক্যানো?? অবশ্য কি আর বলবে... চুরি করতে এসে বলার মুখ আছে নাকি আর কিছু..... এইতো শিক্ষা পেয়েছো।
বলেই হাসতে লাগলো
.
.
চয়নঃ কি হলো কি বলেছি বুঝতে পেরেছোতো?? দাম দিতে হবে কিন্তু এরজন্য😡।
.
.
আমিঃ আচ্ছা😞😔( বলেই দোউরে নিজের রুমে চলে আসলাম। এসেই দরজা আটকিয়ে দিলাম।
.
খুব খুব খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এইভাবে বলতে পারলো!! আমারোতো মেহেন্দি গাছ, কত্ত ফুল গাছ আছে। কই কেউ ধরলে, নিলে আমিতো কখনো কাউকে কিছু বলিনা।
সকালে না খেয়েই সবার চোখের অলক্ষে কলেজ চলে গেলাম। ক্লাস, কোচিং করে আমার আন্টির বাসায় গেলাম।
.
.
যেয়ে বললাম যে তোমাদের দেখতে এসেছি।
.
.
বিকালে রুমে শুয়ে ছিলাম... কাজিন গুলা আমার অনিচ্ছা সত্তেও বাইরে নিয়ে গেলো আমায়।
.
.
রাতে বাসায় আসার পর শুনলাম... কারা যেনো আসছে।
.
.
যেয়ে দেখলাম... একি শাবানা আন্টি আর মেজু এসেছে।
আমাকে দেখেই শাবানা আন্টি টেনে বুকে জরিয়ে নিলো আর বললো.....
.
.
শাবানা আন্টিঃ এমন কেনোরে তুই?? আমাদের বলেতো আসতে পারতি!! জানিস আমরা কত্ত টেনশানে ছিলাম!! তোর কিছু হলো কিনা সেই ভেবে। আমরা তো এটাই ভাবিনি যে তুই এখানে আসবি। চয়ন যে কত্ত জায়গায় খুজেছে তুই জানিস?? আমিতো তোর চিন্তায় অস্থির হয়ে পরছিলাম।
.
.
মেজুঃ আপু তোমার এইবিল( এইরকম) হরা ( করা) ঠিক অয়নায়। জানো মোরা ব্যাবাক্কে (সবাই) কত্ত চিন্তায় পরছিলাম।

আমার আন্টিঃ আমিতো ভাবছিলাম ও বোধ হয় জানাইয়াই আসছে.... তাই আর ফোন করে বলিনাই। ও যে এইভাবে আসবে জানতামিনা।
হ্যারে তুই এমন ধরনের পাগলামি কাজ করিস ক্যান বলতো??.

শাবানা আন্টিঃ এখন চল। ( আর আধা ঘন্টার মতো থেকে আমাকে নিয়ে গেলো.....)
.
.
বাসায় যাইয়া দেখি.....
.
.
ব্যানঃ এসেছো তাহলে.... এত ঢং করার কি আছে..... তোম.....
.
.
শাবানা আন্টিঃ( উনাকে থামিয়ে দিয়ে) তন্নি তুই উপরে যা। মেজু তোর খাবার পাঠিয়ে দেবেনে।
.
.
আমি উপরে চলে আসলাম আমার রুমে।

ধুর আসতেই চাইছিলাম না। শুধু মাত্র শাবানা আন্টির জন্যই আসতে হইলো😡

মেজুকে ডেকে বললাম.... মেজু আমার পেটু ভরা। আমি কিছু খাবোনা।
.
.
তারপর রুমে আইসা ফোন নিয়া বইছি। "ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
.
রাত ১২ টা বেজে ৩৪ মিনিট।
.
দরজায় নক... নিশ্চয়ই আবার মেজু আসছে।
.
দরজা খুইলা দেখি.....
বদমাইস চয়ইন্না আইছে.....
.
আমি কেবল কইতে যামু যে.... ঢোকা নিষেধ😏.... আমারে ধাক্কা দিয়া সরাইয়া রুমে ঢুকছে😑। আবার রুমে ঢুইকা দরজা লাগাইয়া দিছে ভিত্রে দিয়া😣।
.
এডার সমস্যা কি??
.
চয়নঃ (কিছুক্ষন চুপ কইরা খারাইয়া থাইকা.... আমারে একটা ধাক্কা দিয়া) এই মেয়ে.... মাথায় কি কিচ্ছু নেই তোমার??(চিল্লাইয়া)
.
আমিঃ থাকবেনা ক্যান। অবশ্যই আছে।
.
.
চয়নঃ হ গু আছে। গু ভরতি মাথা। গোবর গনেশ এর বউ জানি কোথাকার😡।
.
আমিঃ(কিহ ওর এত্ত বড় সাহস ও আমারে গোবর গনেশের বউ কইছে?? আর তুইদি গোবর টোকানির জামাই হুহ😡।
.
চয়নঃ কি পাইছোটা কি তুমি নিজেকে?? কি ভাবো যে... কারো কোনো কাজ কম্ম নাই.... খালি তোমার পিছে ঘুরবে।
.
.
আমিঃ(এইসব কথার কি আদোউ কোনো মানে হয়!!! চেহারাটার দিকে তাকাইলাম উনার...... 😱😱চোখ দুইটা তো ভীষন লাল হইয়া আছে..... আম্মু কইছিলো ৫ টা কারনে মানশের চোখ লাল হয়...... ১। রাগ উঠলে, ২। কান্না করলে, ৩। চোক্ষে ময়লা পরলে, ৪। এলারজি হইলে, আর ৫। ভুতে ধরলে🥶🥶)
.
আবার আমাকে আরেকটা ধাক্কা দিয়া....
.
চয়নঃ কথা বলছোনা ক্যানো??
.
আমিঃ ধাক্কা দেন ক্যান?? আর কি বলবো কি হ্যা??
.
চয়নঃ কি বলবা মানে?? তুমি বাসা থিকা কাউকে কিছু না বলে কেনো বের হয়ে গেছো??
.
আমিঃ ক্যান?? বাসা থিকা বের হইতে গেলেও আপনাদের পারমিশন নেওয়া লাগবে বুঝি?? শোনেন আমি কোনো গাছের ফূল বা পাতা না যে এই জন্য আপনাদের থিকা আমার কোনো পারমিশন নেওয়া লাগবে। আমার ইচ্ছা হইছে তাই আমি গেছি। আর বেশ করছি। আমি এইভাবেই যাবো আসবো। আমি কারো বাধ্য নই, ভালো না লাগলে আমার কিচ্ছু করার নাই।
.
চয়নঃকি বললা তুমি?? হ তুমি বাধ্য.... আমার বাধ্য তুমি। বুঝেছো??( চিল্লাইয়া)
.
আমিঃ(আহাহাহা কোথাকার কোন মহাবীর ছুপারুস্তম আইছে....😏)

চয়নঃ ফুলির মা তোমার জন্য আমার ভিষন টেনশান হচ্ছিলো। তুমি জানো আমি কত জায়গায় খুজেছি তোমাকে?? সারাটা দিন না খেয়ে ছিলাম। আর তুমি সেখানে না বলে আরামসে আন্টির বাসায় ছিলে। বলো এটা কি ঠিক হলো??
.
.
আমিঃ(ইহহহহ এখন আইছে দরদ দেখাইতে আর ভোর বেলায়তো ওই দুইজনে মিল্লা খুব আমারে শাসাইতে ছিলা... তখন!!)
আপনাকে খুজতে কে বলছিলো?? হুহ। আমিতো চোর। আর চোর বলেই আপনাদের ঘরের কিছু চুরি করার আগেই চলে গেছি। এতে তো আপনার খুশি হওয়া উচিত। আর এখন এত্ত নাটক করছেন ক্যানো?? ভোরেতো খুব আপনার রায়াকে নিয়া আমাকে হেব্বি কথা শুনাইছেন।
.
.
চয়নঃ আচ্ছা তুমি এত্ত বোকা ক্যানো বলোতো??
.
.
আমিঃ( দেখছনি... কারবারটা এখনো আমারে এইসব কয়..... ওরে কইট্রা তরে তো ইচ্ছা হইতাছে ফ্যানের সাথে ঝুলাইয়া থুইতে)

চয়ন(মাথায় ইকটু ধাক্কা দিয়া) তুমি তো জানো যে রায়া আমার পিছনে সারাক্ষন ঘুরে।
.
.
আমিঃ হ তো?? আম....
.
.
চয়নঃ আগে কথা শেস করতে দাও আমাকে.... নয়তো টিকটিকি এনে তোমার মাথায় ফেলবো।
.
আমিঃ🤐

চয়নঃ শোনো তুমি নিশ্চয়ই এই এত্ত বিভিন্ন ধরনের গাছ দেখে বুঝতে পারছো যে আমি কতটা গাছ প্রেমিক। এগুলো আমি নিজে যত্ন নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় এতোটা বড় করেছি। ছোটো বেলা থেকেই আমি এইসব খুব ভালোবাসি। আর এগুলো তখন কার থেকেই। তাই আমি এগুলো সহজে কাউকে ধরতে দেইনা। এমনকি আমার ফ্রেন্ডসগুলোকেও না।
.
.
আমিঃ (হ জানিতো তুই তো একটা কঞ্জুস)
.
চয়ন আমাকে বিছানায় বসাইয়া... নিজে একটা চেয়ার নিয়ে এসে আমার পাশে বসে বললো....
.
চয়নঃ শুধু আমার কথা শুনবে... মনে মনেও কোনো কথা বলা চলবেনা ওকে??
.
আমি(খাইছেরে সব শুনে... থাক কিচ্ছু কইতামনা🤐😷)

চয়নঃ ফুলির মা তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে যে তোমার সাথে আমার কিভাবে দেখা হয়ছে??
.
.
আমিঃ(মনে থাকবেনা আবার.... হুহ কাল রাত্রিতে দেখা হইছিলো তোর সাথে আমার🙄)

চয়নঃ আমি বাইরে একটা কাজে বের হইছিলাম। গেট দিয়ে ঢোকার সময় দেখলাম কেউ একজন আমার ফুল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ফুল পারার চেস্টা করছে। আমার দেখে খুব রাগ উঠে গেছিলো। কিন্তু তোমাকে জিজ্ঞাস করায় তুমি এমন এমন সব কথা বলতে থাকলে যে আমার রাগ কেনো জানি চলে গেলো... উলটে মজা পেতে লাগলাম। যাইহোক.... ওই প্রথমবার যে কিনা আমাকে না জানিয়ে ফুল নেওয়ার চেস্টা করেছে আর আমি তাকে কিছু বলিনি।
.
.
এইভাবে তোমার সাথে আমার পরের দিন দেখা হলো... দেখা হতেই লাগলো... বিভিন্ন কায়দায় আর বিভিন্ন নমুনায়😅।

আমিঃ হুহ🙄।

চয়নঃ তো যাইহোক.... কালকের যে বিষয়টি.... আমি তোমার সাথে কথা বলা অবস্থায়ই দেখতে পাই যে রায়া আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখছে আমি তোমাকে কি বলছি। শোনো ওই সময়ে যদি আমি তোমাকে এর জন্য না বকতাম... তাহলে ও তিলকে তাল বানিয়ে ফেলতো। আর তোমাকে খারাপ বানাতো সবার কাছে। কারন আমি রায়াকেউ আমার গাছ ধরতে দেইনা। তাই কালকে ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে তোমায় এইসব বলেছি। কিন্তু তুমি বিশশাস করো রায়া যখন তোমায় এইসব বলছিলো তখন আমার খুব রাগ উঠছিলো। তুমি ওখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমি ওকে অন্নেক কথা শুনাই। তারপর আমি আমার ক্লাসে চলে যাই। দুপুরে আম্মু ফোন করে বললো যে তুমি নাকি বাসায় আসোনি। না খেয়ে গেছো। সত্যি আমার তখন খুব ভয় করছিলো। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তুমি রাগ করেছো। জানো আমি সকালে তোমার রুমে গেছিলাম মাফ চাইতে... কিন্তু যেয়ে দেখি তুমি রুমে নেই। তো আমি বাকি ক্লাস না করে তোমার কলেজে কোচিং সব জায়গায় + আসেপাসে সব খানে খুজেছি। সন্ধ্যায় বাড়ি এসে আমি রায়াকে প্রচুর বকেছি। আম্মু তখন সব জানতে পেরে আমাদের ২ জনকেই বকেছে।
আমি তারপর তোমায় আবার খুজতে বের হই। আম্মু তারপর ১০ঃ ৪৫ এ আমাকে ফোন দিয়ে জানায় যে তুমি তোমার আন্টির বাসায় আছো।
.
.
বিশশাস করো বনুরা এইসব শুনে তো চয়নের জন্য, আমার খুব মন খারাপ করতে লাগলো। অবশ্য বেশ হইছে আমাকে বকেছো যে তাই এত্ত কষ্ট করতে হয়েছে👍।
.
.
চয়নঃ ফুলির মা প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।🥺
.
.
আমার নিজেকে তখন ক্যাট্রিনা কাইফ মনে হচ্ছিলো... ওয়হোয়.. 😋 আর চয়ন হচ্ছে আমার সালমান খান😉।হিহিহি।
.
.
আমি ভাব নিয়া অন্যদিকে তাকাইলাম😃।
.
.
চয়ন আমার হাত ধরেঃ প্লিজ আমার বানেসার মা ক্ষমা করে দাওনা আমাকে🙈।
.
অখন সত্যি আমার কাতুকুতু লাগতাছিলো। তারাতাড়ি হাত সরাইয়া কইলামঃ হয় দিছি ক্ষমা কইরা😊।

চয়নঃ হয়😆😅।
.
.
আমিঃ😁।

এরি মধ্য কে যেনো দরজা নক করলো। আমিতো ভয় পাইছি এখন কেউ যদি আটকানো রুমে চয়ন কে দেখে তাহলেতো আমাকে খারাপ ভাব্বে😥।

চয়ন শালা যাইয়াই দরজা খুলছে। আমি বসা অবস্থায় পিছন দিয়া উকি দিয়া দেখি মেজু খাবার নিয়া আইসা চয়ইন্নার হাতে দিছে।
.
.
আমিঃ (আইশ্চরযো... এমন সিম্পল ভাবে মেজু কথা কইতাছে যেনো ওর আগেই জানা যে চয়ন আমার রুমে আসবে বা আছে😕)
.

খাবার রাইখা আবার দরজা আটকাইয়া দিলো... উফফফফফ😫।

আইসা সেদিনের মতন ঢং কইরা খাওয়া দিলো🙈🙈। বেশি কথা বারাইনাই কারন ওডা যা কইবো তাই করবে। বাল।
.
তারপর ওয় চইলা গেলে ভাবলাম যে নাহ চয়ন পোলাডা আসলেই ভালো.... এখন থিকা নামাজ পড়ার সময় ওর জন্য দোয়া করা লাগবো.... ও যেনো ভালো একখান বউ পায়😊।

পরেরদিন ছায়া মানে রায়া বেগম.................

......চলবে.......

রিমঝিম রিমা

"ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন। আর গল্প ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন...👹 লাইক কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন...💖

Collected...🥰
#Kalponik_F___ 😊

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন