ফন্ট সাইজ:
থিম:
খোলা আকাশে তুমি

লেখক: সানজানা ইসলাম

‌। পাঠ 1
এইখানে একা একা বসে কি করছিস জ্বর আসবে তো বৃষ্টির ফোঁটা মাথায় পড়লে
আইরা এই আইরা কথা বললে শুনিস না কেন একটা থাপ্পড় দিব গালে এতগুলো কথা বললাম শুনতে পাস না
সামিনা খানের একাধিক প্রশ্ন বেশ বিরক্ত বোধ করছে আইরা
সামিনা খান এবার আইরার কাছে গিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলেন কি হয়েছে আম্মু এমন করছিস কেন মন খারাপ হয়েছে থাপ্পর দিব শুনে তার মন খারাপ করিস না এমনি রাগ উঠে গেছে তোর ভাইয়ের উপরে পড়াশোনা তো করবেই না তার উপরে রাজনীতির কথা মাথায় এসেছে বল তো কেমন লাগে
আইরা মাথা উঠিয়ে এবার হালকা কন্ঠে বলে কিছু হয়নি আম্মু এমনি কাল এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে এটা নিয়ে মনটা একটু খারাপ কি রেজাল্ট হয় তা জানিনা
সামিনা খান হালকা কন্ঠে বলল মিষ্টি সুরে আইরা কে
বলল যা হবে ভালোই হবে এত চিন্তা করার কিছু নেই
সবাই খেতে বসেছে তুমিও খেতে আসো না হলে আবার তোমার চাচ্চুরা বকাবকি করবে তাকি তুমি চাও
আইরা মাথা নিচু করে বসে আছে আয়রা এবার মিষ্টি কন্ঠে বলল যাও মা আসছিছ
আইরারা দুই ভাই বোন আইরার বাবা চাচা তিনজন তার বাবা মেজো তার বাবার নাম আনোয়ার খান তার বড় চাচা আলী আকবর খান ছোট চাচা মোহাম্মদ
বড় চাচার একমাত্র ছেলে আহনাফ খান আহান ছোট চাচা দুই মেয়ে এক ছেলে দুই মেয়ের নাম আদিয়া আর আদিবা ছেলে আরিফ খান
আইরা আর তার ভাইয়ের নাম আরিত খান
তাদের মা সামিনা খান
ছোট চাচী মাহমুদা খান আর বড় চাচির নাম রিক্তা খান তিন জায়ের মধ্যে অনেক মিল
তিন তলা বাড়ি, একবারের নিচে বড় ড্রয়িং রুম তার উপরে ছেলে মেয়েদের রুম নিচে বড়রা থাকে
কাল এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে আয়নার মাত্র ১৫ বছর আরিতের ২০ বছর
এসএসসি পরীক্ষার পর দিয়েই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে আরিত
আদিবা আর আদিয়া জমজ মাত্র ১৩ বছর আরিফের দশ বছর
সবার বড় আহান সকলের আদ।রের এই বাড়ির একমাত্র বড় ছেলে আহনাফ খান আহান যার ২৩ বছর বয়স এইবারের বড় ছেলে হওয়ার সৌভাগ্যে সকলের আদরের নিজের একটা কোম্পানি আছে
কাল রেজাল্ট
সকাল গিয়ে সন্ধ্যা রাত মেয়েটা ঘুমাতে পারছে না এই রেজাল্টের চিন্তা খেতেও পারেনি এমনিও প্রত্যেক সন্ধ্যায় আদিয়া আদিবা আরিফ আর আইরা যে কোন কিছু করে পুরো খান বাড়ির তারাই মাটিয়ে রাখে
আইরা বের হয়নি দেখে তারা তিনজনও আজ বের হয়নি রুমে বসে যা কিছু করছে
আইরা কে খুব শাসন করে আরিত আরিফ বাসায় থাকলে বেচারা আইরা
কিছুই করতে পারে না
রাত গিয়ে সকাল আটটা বাজে সারারাত ঘুমাতে পারেনি আইরা তাই সকালে ঘুমিয়ে আছে ফজরের মেয়েটা নামাজ পড়ে সেই যে ঘুমিয়েছে এখনো
ওঠেনি
৮:২০ বাজে তখন এই কলিংবেলে আওয়াজ করে ইরা এরা হচ্ছে আইরার বেস্ট ফ্রেন্ড ওর রেজাল্ট নিয়ে আসছে
ইরাকে দেখেই সাদিয়া আর আদিবা ধরে এরা সামনে যায়
আসসালামু আলাইকুম কেমন আছো
ইরা মিস্টি করে হালকা সুরে বলে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আইরা কোথায়
দুইজন একসাথে বলে ঘুমাইতাছে
ইরা বলে আজ রেজাল্ট দিবে ও এখনো ঘুমাইতেছে কেন
এরা বলেন চলো রুমে গিয়ে ওকে ডেকে আসি যেতে তো হবে রেজাল্ট
ইরা আইরা রুমে গিয়ে দেখে একটা কোলবালিশ দিয়ে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে
এটা দেখে একটু হাসলো ইরা এরা দরজাটা খুলে ভিতরে প্রবেশ করল হালকা করে ইরান শরীরে ধাক্কা দিয়ে বলে আইরা এখনো ঘুমিয়ে আছিস কেন ওঠ রেজাল্ট আনতে যাবি না
কিছুক্ষণ ধাক্কা দেওয়ার পরে আই রাম থতমতো খেয়ে উঠে চোখ মুছতে মুছতে বলে ইরা তুই এখানে
ইরা বলেন আমি এখানে মানে আজ না রেজাল্ট রেজাল্টের কথা শুনেন আইরা চটজলদি উঠে বসে আইরা এরা আবার বলে রেজাল্ট দিবে তাই তো আসছি তোকে নিয়ে যাব
যা তাড়াতাড়ি রেডি হও ৯ টা বাজে রেজাল্ট দিবে।
এখন ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আইরাও ওয়াশরুমে চলে যায়
এরা আদিয়া আদিবা ওর রুমে বসে গল্প করছে
৫-৬ মিনিট পর আইরা ফ্রেশ হয়ে আসে নিজের আলমারি থেকে একটা গোল জামা বের করে নেয় হালকার ভিতর গা
গোল জামাটা হালকা মিষ্টি কালারের ভিতরে সাথে একটা ওড়না পাঁচ মিনিটের ভিতরে ড্রেসটা পড়ে আসে আইরা সাথে মিষ্টি কালার হিজাব রিক্তা খান আইরার রুমে এসে বলেন চলো আম্মু হালকা খেয়ে তারপর রেজাল্ট আনতে যাবে না হলে অসুস্থ হয়ে পড়বে
কাল ঠিক ভালো করে খাওনি
আইরা বলেন না বড় আম্মু আমি খাব না যদি ভালো রেজাল্ট করি একবার এসেই খাব
চাচুরা বাবা ও বলছে যে a+ পেতেই হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পেতেই হবে রিক্তা খান এবার মিষ্টি হয়েছে বলে তুমি এত চিন্তা কইরো না তুমি তো চেষ্টা করেছ এবার আল্লাহর উপরে ছেড়ে দাও
আয়রা বলল আমি বাইরের থেকে কিছু খেয়ে নিব বড় আম্মা তুমি টেনশন করিও না রিক্তা খানের অনেক জোরাজোরির পরেও আইরা কিছুই খেলো না
পিকটা খান এরা কেউ অনেক খেতে বলেছে কিন্তু এরাও কিছু খায়নি এরা শুধু এক গ্লাস চা খেয়েছে বাড়িতে কেউ আসলেন না খেয়ে যাবে বিষয়টা কেমন যেন দেখা যায় তাই কিছু না কিছু তো খেয়ে যেতেই হয় খান-বাড়িতে আসলে
ইরা মাঝে মধ্যেই আসে ইরাকে ওনারা মেয়ের মতন করেই দেখে
আইরাও মাঝে মধ্যে ইরাদের বাসায় যায় আইরা ঋ
কেউ ইরার আব্বু রোহান মাকসুদ অনেক আদর করে ও তার মা রাবেয়া খাতুন ও অনেক আদর করে
ইরা তার মা-বাবার একমাত্র মেয়ে
দুই বান্ধবী মিলে রেজাল্ট আনতে যায় যেতে যেতে নয়টা প্লাস হয়ে যায় একটা রিকশা নিয়ে গিয়েছিল দুজন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন