ভালোবাসি তোকে
পর্ব ১ —
আজ শুক্রবার। আমার মরার দিন। না, সত্যি সত্যি মরছি না! তবে আমার জীবনে যে বিপর্যয়টা ঘটতে চলেছে, তাতে বেঁচে থাকাটাও কঠিন মনে হচ্ছে।
আজ আমার মিলিটারি ভাই, তিসান শেখ, দীর্ঘ নয় বছর পর দেশে ফিরছে। ব্যাপারটা আনন্দের হওয়ার কথা, তাই না? আমিও খুশি। ভীষণ খুশি। কিন্তু সমস্যা হলো, ভাইয়া একা ফিরছে না। সঙ্গে করে নিয়ে আসছে একটা উটকো ঝামেলা।
যাকে আমি আমার দুই চোখের বিষ মনে করি।
তাহিদ রহমান।
নামটা শুনলেই আমার মাথা গরম হয়ে যায়। লোকটার সমস্যা কী, কে জানে! এমন ভাব নিয়ে চলে, যেন পৃথিবীর সব মেয়েই তার প্রেমে হাবুডুবু খায়। আরে ভাই, আপনার মতো গম্ভীর মুখের মানুষকে দেখে আমার প্রেম তো দূরের কথা, হাসিই পায়!
কিন্তু কে জানত, এই লোকটাই একদিন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম হয়ে দাঁড়াবে?
আমি তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিয়ে ভাইয়াকে কল দিলাম।
“হ্যালো, ভাইয়া! তুই কই? আর কতক্ষণ লাগবে?”
ওপাশ থেকে পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল, “এই তো, রাস্তায়। আর আধা ঘণ্টা।”
“ভাইয়া, আমি তোকে ভীষণ মিস করি রে! তুই জানিস না, তোকে ছাড়া আমার কী অবস্থা!”
“ওহ! আমার বোন আমাকে মিস করে? নাকি আমার আনা চকলেটগুলোকে?”
আমি দাঁত কটমট করে বললাম, “ধুর! তুই শুধু চকলেট নিয়ে আসবি। আর কিছু লাগবে না আমার!”
ভাইয়া হেসে বলল, “আচ্ছা, আচ্ছা। কিন্তু শোন, তাহিদও আমার সঙ্গে আছে।”
আমার হাসিমুখ মুহূর্তেই উধাও।
“কীইই? ওই লোকটাও আসছে?”
“হ্যাঁ। সমস্যা কী?”
“সমস্যা নেই। একদমই নেই। তুই শুধু বাসায় আয়, তারপর দেখাচ্ছি মজা!”
ভাইয়া হাসতে হাসতে ফোন রেখে দিল।
সালা! আমার জীবনটা শেষ।
আচ্ছা, নিজের পরিচয়টাই তো এখনো দেওয়া হয়নি।
আমি তিহামনি শেখ। সবাই আমাকে তিহা বলেই ডাকে। ইন্টার ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট। আমি একটু বেশিই চঞ্চল, কথায় কথায় ঝগড়া করি, আর রাগ উঠলে সামনে কে আছে, সেটা দেখার সময় পাই না।
আমার পরিবারে আছেন আমার মা তানিসা আক্তার, বাবা মিনহাজ শেখ, আমার বড় ভাই তিসান শেখ আর এই অধম আমি।
আর তাহিদ রহমান হলো আমার ভাইয়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তার বাবা দোয়েন রহমান, মা সিভলি খাতুন।
ভদ্রলোক দেখতে সুদর্শন, কথাবার্তায় গম্ভীর, আর রাগ করলে মনে হয় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে চোখ দিয়েই শাস্তি দিয়ে দেবেন। তার ওপর তিনি একজন আর্মি অফিসার।
কিন্তু এখন নাকি দেশে ফিরে আমার কলেজের লেকচারার হওয়ারও পরিকল্পনা আছে!
মানে, আল্লাহ! আমার কপালে কি আর শান্তি নেই?
বিকেল পাঁচটা।
আমি তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছি। মা নিচ থেকে চিৎকার করে বললেন, “তিহা! তোর ভাই চলে এসেছে! তাড়াতাড়ি নিচে আয়!”
আমি দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে চিৎকার করলাম, “ভাইয়াআআআ!”
তিসান ভাইয়া আমাকে দেখে হাত বাড়িয়ে দিল। আমি দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম।
“ভাইয়া! তুই এতদিন কোথায় ছিলি? জানিস, তোকে ছাড়া আমার কত কষ্ট হয়েছে?”
ভাইয়া আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “জানি তো, পাগলি।”
আমি মুখ তুলে বললাম, “আচ্ছা, তোর ওই বন্ধুটি কই?”
“কোন বন্ধু?”
“যে নিজেকে পৃথিবীর শেষ সুদর্শন পুরুষ মনে করে!”
পেছন থেকে একটা গম্ভীর কণ্ঠ শোনা গেল।
“আমাকে নিয়ে এত গবেষণা করিস কেন, তিহামনি?”
আমার হাসি মিলিয়ে গেল।
ধীরে ধীরে ঘুরে তাকালাম।
কালো শার্ট, কালো ঘড়ি, পরিপাটি চুল, চোখেমুখে অদ্ভুত এক গাম্ভীর্য। লোকটা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
তাহিদ রহমান।
সে আমার দিকে কয়েক পা এগিয়ে এসে বলল, “অনেক বড় হয়ে গেছিস দেখছি। কিন্তু বুদ্ধি এখনো হাঁটুর নিচে।”
আমি কোমরে হাত দিয়ে বললাম, “আর আপনি তো সেই আগের মতোই। মুখে হাসি নেই, কথায় মধু নেই। আপনাকে দেখে তো মনে হয় জন্মের সময় ডাক্তার হাসতে বারণ করে দিয়েছিল!”
তিসান ভাইয়া হেসে উঠল।
কিন্তু তাহিদ হাসল না। শুধু আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমার সঙ্গে ঝগড়া করার আগে একটা কথা মনে রাখিস।”
“কী কথা?”
সে একটু ঝুঁকে আমার চোখের দিকে তাকাল।
“আমি তোর ভাইয়ের বন্ধু। তাই অনেক কিছু সহ্য করি। কিন্তু সবকিছুর একটা সীমা আছে।”
আমি চোখ পাকিয়ে বললাম, “সীমা থাকলে সেটা নিজের কাছে রাখবেন। আমার ওপর নিয়ম চালাতে আসবেন না!”
কথাটা বলে আমি হনহন করে চলে গেলাম।
কিন্তু যাওয়ার আগে একবার পেছনে তাকিয়ে দেখলাম, লোকটা তখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
তার চোখে কী ছিল, বুঝতে পারিনি।
রাগ? বিরক্তি? নাকি অন্য কিছু?
আমি অবশ্য এসব নিয়ে ভাবার মানুষ নই।
কিন্তু সেদিন রাতে আমি জানতাম না, পরদিন সকালে আমার জন্য আরও বড় একটা চমক অপেক্ষা করছে।
কারণ পরদিন আমার কলেজের প্রথম ক্লাস নিতে আসবেন নতুন লেকচারার।
আর তাঁর নাম—
মি. তাহিদ রহমান
আমি তো সুনে পুরোই আবাক কিকরবো তাও আবার আমার ডিপার্টমেন্টের।
পাসদিয়ে সোনাগেলো একটা কন্ঠস্বর আমার বান্ধবী রাইসা এতোক্ষন আমরা ফোনে কথা বলছিলাম।
রাইসা বললো কি হলো তুই স্যারের নাম সুনে পুরোই আবাক! কিরে কিছু বল আমি বললাম কিছু না বাই।
ওর বাই বলতে দেরি বাট আমার ফোন কাটতে দেরি নেই! মানে আমি সাথেসাথে ফোন কেটে দিয়েছি হিহিহি।
রাত ৯ টা মা ডাকছে তিহাআআ...
কই তুই খাবি না।
আমি–
হুম আসছি তারপর নওচে গিয়ে কিছু খেয়ে নিলাম।
রুমে বসে ফোন ঘাটাঘাটি করছিলাম এমন সময় দরজায় ঠকঠক।
ভাইয়া বললো আসবো?
আমি . আয় ভাইয়া এলো এন্ড বললো এইনে আমি বললাম কি ভাইয়া কিছন থেকে হাত বেরকরে আমার হাতে একটা বড় ব্যাগ ধরিয়েদিলো এবং বললো নে ইদুরের বিশ মেসানো চকলেট বলেই হিহিহি করে হেসে উঠলো।
রাত ১১ টা সবাই গভির ঘুমে তাহান এতো রাত যাগে না কিন্তু আজ ঘুম আসছে না।
চলবে...
পর্ব 1
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান