সকাল আটটা।
ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে শিক্ষার্থীদের ভিড়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছে, কেউ ক্লাসের জন্য ছুটছে।
সবার ভিড়ের মাঝখানে কালো হিজাব পরে ধীর পায়ে হেঁটে আসছে মেহরিন। কাঁধে কালো ব্যাগ, বুকে চেপে ধরা কয়েকটি বই। মুখে শান্ত ভাব, কিন্তু চোখেমুখে কেমন যেন একটা দুশ্চিন্তা।
হঠাৎ পেছন থেকে সায়রা ডাকল,
— এই মেহরিন! দাঁড়া! আজকে নাকি আমাদের নতুন প্রফেসর আসবেন!
মেহরিন থামল।
— তো?
সায়রা চোখ বড় করে বলল,
— তো মানে? শুনেছি উনি নাকি ভীষণ রাগী! পুরো ক্লাস নাকি উনার সামনে চুপ হয়ে যায়!
মেহরিন মৃদু হেসে বলল,
— আমি তো পড়তে এসেছি, কারও রাগ দেখতে না।
দুজন ক্লাসে ঢুকে পড়ল।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেল।
কালো স্যুট, সাদা শার্ট, হাতে ফাইল আর চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা পরে একজন সুদর্শন পুরুষ ভেতরে প্রবেশ করলেন।
পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ।
তিনি টেবিলে ফাইলটি রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
— Good morning. আমি প্রফেসর আরহাম
এই সেমিস্টারে তোমাদের ক্লাস আমি নেব
মেহরিন মাথা নিচু করে খাতায় লিখছিল। কিন্তু পরের কথাটা শুনে তার কলম থেমে গেল।— আমার ক্লাসে দেরি, অজুহাত আর অবহেলার কোনো জায়গা নেই।
মেহরিন মনে মনে বলল,
“বাহ! প্রথম দিনেই এত নিয়ম!”
হঠাৎ প্রফেসরের কণ্ঠ ভেসে এল,
— ওই যে কালো হিজাব পরা মেয়েটি! দাঁড়াও।
মেহরিন চমকে উঠে দাঁড়াল।
— জি, স্যার?
আরহান কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন,
— তোমার নাম কী?
— মেহরিন ইসলাম।
নামটা শুনে আরহানের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তের জন্য বদলে গেল।
তিনি খুব ধীরে বললেন,
— মেহরিন ইসলাম?
মেহরিন অবাক হয়ে তাকাল।— জি, স্যার। কোনো সমস্যা?
আরহান ফাইলটা বন্ধ করে দিলেন।
— না। তুমি বসতে পারো।
কিন্তু মেহরিন বসার পরও তিনি তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ইসলাম… এই নামটা কি কেবলই কাকতালীয়?
বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটি স্মৃতি তার মনে দরজায় কড়া নাড়ল।
আর ঠিক তখনই তার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল—
“স্যার, মেয়েটি আপনার ক্লাসেই আছে। কিন্তু ওকে সত্যিটা জানতে দেবেন না।”
আরহানের মুখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে গেল।
কারণ তিনি বুঝতে পারলেন, মেহরিনের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসাটা হয়তো নিছক কাকতালীয় নয়।
প্রথম পর্ব শেষ।
দ্বিতীয় পর্ব:মেসেজটা পাওয়ার পর থেকেই প্রফেসর আরহান চৌধুরীর মন অস্থির হয়ে আছে।
“স্যার, মেয়েটি আপনার ক্লাসেই আছে। কিন্তু ওকে সত্যিটা জানতে দেবেন না।”
মেসেজটা বারবার পড়েও তিনি বুঝতে পারলেন না, কে পাঠিয়েছে এটি। আর কোন সত্যের কথা বলা হচ্ছে?
ঠিক তখনই ক্লাস শেষের ঘণ্টা বাজল।
এক এক করে সবাই বেরিয়ে যেতে লাগল। মেহরিনও নিজের বইগুলো গুছিয়ে ব্যাগে রাখছিল। সে যখন দরজার কাছে পৌঁছাল, পেছন থেকে আরহানের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল—
— মেহরিন, এক মিনিট।
মেহরিন থেমে পেছনে তাকাল।
— জি, স্যার?
আরহান কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। যেন প্রশ্নটা করার আগে নিজের সঙ্গে লড়াই করছেন।
তারপর ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
— তোমার বাবার নাম কী?
প্রশ্নটা শুনে মেহরিন অবাক হয়ে গেল।
— আমার বাবার নাম? কেন, স্যার?
আরহান সঙ্গে সঙ্গে নিজের অভিব্যক্তি সামলে নিলেন।
— এমনিই জানতে চাইলাম। তোমার পরিচয় সম্পর্কে একটু জানতে চাইছিলাম।
মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিল,
— আমার বাবার নাম কামাল ইসলাম।
নামটা শোনামাত্র আরহানের চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল। তাঁর মুখের গাম্ভীর্য আরও বেড়ে গেল।
— কামাল ইসলাম...?
তিনি যেন নিজের মনেই নামটা উচ্চারণ করলেন।
মেহরিন অবাক হয়ে বলল,
— জি, স্যার। আপনি কি আমার বাবাকে চেনেন?
আরহান কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকলেন।
— না। তুমি এখন যেতে পারো।
— আচ্ছা, স্যার। আসি।
মেহরিন চলে গেল। কিন্তু তার মনে নতুন একটা প্রশ্ন তৈরি হলো।
আমার বাবার নাম শুনে স্যার এমন আচরণ করলেন কেন?
অন্যদিকে, মেহরিন চলে যাওয়ার পর আরহান ধীরে ধীরে নিজের চেয়ারে বসে পড়লেন।
কামাল ইসলাম!
এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন এক অতীত, যেটা তিনি বহু বছর ধরে ভুলে থাকার চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু মেহরিনের এখানে আসা কি নিছকই কাকতালীয়?
নাকি কেউ পরিকল্পনা করে তাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে?
ঠিক তখনই তাঁর ফোনে আবার একটি মেসেজ এল।
অচেনা নম্বর।
“কিছু নাম কখনো পুরোনো হয় না, স্যার। আর কিছু মানুষের ফিরে আসা মোটেও কাকতালীয় নয়।”
আরহানের চোখ সরু হয়ে এল।
তিনি দ্রুত উত্তর লিখলেন—
— কে আপনি? আমার কাছ থেকে কী চান?
কিন্তু মেসেজটি পাঠানোর পরও কোনো উত্তর এল না।
আরহান ফোনটা টেবিলে রেখে জানালার বাইরে তাকালেন। তাঁর মনে তখন একটাই প্রশ্ন—
মেহরিন ইসলাম কি সত্যিই শুধু একজন সাধারণ ছাত্রী, নাকি তার পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে বহু বছরের পুরোনো কোনো রহস্য?
তিনি জানতেন না, এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাঁকে এমন কিছু সত্যের মুখোমুখি হতে হবে, যেগুলো তাঁর নিজের জীবনকেও বদলে দিতে পারে।
আর মেহরিন?
সে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার মনে কোনো রহস্যের ধারণা নেই। সে শুধু ভাবছে, নতুন প্রফেসরটি তার বাবার নাম শুনে এত অদ্ভুত আচরণ করলেন কেন।
সে কি সত্যিই তার বাবাকে চেনেন?
নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
চলবে... 🖤
তৃতীয় পর্বে: মেহরিনের বাড়িতে এমন একটি পুরোনো ছবি সামনে আসবে, যা আরহান চৌধুরীর অতীতের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে থাকতে পারে।
মেহরিনের বাড়িতে এমন একটি পুরোনো ছবি সামনে আসবে, যা আরহান চৌধুরীর অতীতের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে থাকতে পারে।
পর্ব 1
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান