ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ অনুভূতি

পর্ব 1

লেখক: জান্নাত জাহান

সকাল আটটা।
‎ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে শিক্ষার্থীদের ভিড়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছে, কেউ ক্লাসের জন্য ছুটছে।
‎সবার ভিড়ের মাঝখানে কালো হিজাব পরে ধীর পায়ে হেঁটে আসছে মেহরিন। কাঁধে কালো ব্যাগ, বুকে চেপে ধরা কয়েকটি বই। মুখে শান্ত ভাব, কিন্তু চোখেমুখে কেমন যেন একটা দুশ্চিন্তা।
‎হঠাৎ পেছন থেকে সায়রা ডাকল,
‎— এই মেহরিন! দাঁড়া! আজকে নাকি আমাদের নতুন প্রফেসর আসবেন!
‎মেহরিন থামল।
‎— তো?
‎সায়রা চোখ বড় করে বলল,
‎— তো মানে? শুনেছি উনি নাকি ভীষণ রাগী! পুরো ক্লাস নাকি উনার সামনে চুপ হয়ে যায়!
‎মেহরিন মৃদু হেসে বলল,
‎— আমি তো পড়তে এসেছি, কারও রাগ দেখতে না।
‎দুজন ক্লাসে ঢুকে পড়ল।
‎কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেল।
‎কালো স্যুট, সাদা শার্ট, হাতে ফাইল আর চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা পরে একজন সুদর্শন পুরুষ ভেতরে প্রবেশ করলেন।
‎পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ।
‎তিনি টেবিলে ফাইলটি রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
‎— Good morning. আমি প্রফেসর আরহাম
‎এই সেমিস্টারে তোমাদের ক্লাস আমি নেব
‎মেহরিন মাথা নিচু করে খাতায় লিখছিল। কিন্তু পরের কথাটা শুনে তার কলম থেমে গেল।— আমার ক্লাসে দেরি, অজুহাত আর অবহেলার কোনো জায়গা নেই।
‎মেহরিন মনে মনে বলল,
‎“বাহ! প্রথম দিনেই এত নিয়ম!”
‎হঠাৎ প্রফেসরের কণ্ঠ ভেসে এল,
‎— ওই যে কালো হিজাব পরা মেয়েটি! দাঁড়াও।
‎মেহরিন চমকে উঠে দাঁড়াল।
‎— জি, স্যার?
‎আরহান কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন,
‎— তোমার নাম কী?
‎— মেহরিন ইসলাম।
‎নামটা শুনে আরহানের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তের জন্য বদলে গেল।
‎তিনি খুব ধীরে বললেন,
‎— মেহরিন ইসলাম?
‎মেহরিন অবাক হয়ে তাকাল।— জি, স্যার। কোনো সমস্যা?
‎আরহান ফাইলটা বন্ধ করে দিলেন।
‎— না। তুমি বসতে পারো।
‎কিন্তু মেহরিন বসার পরও তিনি তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
‎ইসলাম… এই নামটা কি কেবলই কাকতালীয়?
‎বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটি স্মৃতি তার মনে দরজায় কড়া নাড়ল।
‎আর ঠিক তখনই তার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল—
‎“স্যার, মেয়েটি আপনার ক্লাসেই আছে। কিন্তু ওকে সত্যিটা জানতে দেবেন না।”
‎আরহানের মুখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে গেল।
‎কারণ তিনি বুঝতে পারলেন, মেহরিনের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসাটা হয়তো নিছক কাকতালীয় নয়।
‎প্রথম পর্ব শেষ।
‎দ্বিতীয় পর্ব:মেসেজটা পাওয়ার পর থেকেই প্রফেসর আরহান চৌধুরীর মন অস্থির হয়ে আছে।
‎
‎“স্যার, মেয়েটি আপনার ক্লাসেই আছে। কিন্তু ওকে সত্যিটা জানতে দেবেন না।”
‎
‎মেসেজটা বারবার পড়েও তিনি বুঝতে পারলেন না, কে পাঠিয়েছে এটি। আর কোন সত্যের কথা বলা হচ্ছে?
‎
‎ঠিক তখনই ক্লাস শেষের ঘণ্টা বাজল।
‎
‎এক এক করে সবাই বেরিয়ে যেতে লাগল। মেহরিনও নিজের বইগুলো গুছিয়ে ব্যাগে রাখছিল। সে যখন দরজার কাছে পৌঁছাল, পেছন থেকে আরহানের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল—
‎
‎— মেহরিন, এক মিনিট।
‎
‎মেহরিন থেমে পেছনে তাকাল।
‎
‎— জি, স্যার?
‎
‎আরহান কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। যেন প্রশ্নটা করার আগে নিজের সঙ্গে লড়াই করছেন।
‎
‎তারপর ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
‎
‎— তোমার বাবার নাম কী?
‎
‎প্রশ্নটা শুনে মেহরিন অবাক হয়ে গেল।
‎
‎— আমার বাবার নাম? কেন, স্যার?
‎
‎আরহান সঙ্গে সঙ্গে নিজের অভিব্যক্তি সামলে নিলেন।
‎
‎— এমনিই জানতে চাইলাম। তোমার পরিচয় সম্পর্কে একটু জানতে চাইছিলাম।
‎
‎মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিল,
‎
‎— আমার বাবার নাম কামাল ইসলাম।
‎
‎নামটা শোনামাত্র আরহানের চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল। তাঁর মুখের গাম্ভীর্য আরও বেড়ে গেল।
‎
‎— কামাল ইসলাম...?
‎
‎তিনি যেন নিজের মনেই নামটা উচ্চারণ করলেন।
‎
‎মেহরিন অবাক হয়ে বলল,
‎
‎— জি, স্যার। আপনি কি আমার বাবাকে চেনেন?
‎
‎আরহান কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকলেন।
‎
‎— না। তুমি এখন যেতে পারো।
‎
‎— আচ্ছা, স্যার। আসি।
‎
‎মেহরিন চলে গেল। কিন্তু তার মনে নতুন একটা প্রশ্ন তৈরি হলো।
‎
‎আমার বাবার নাম শুনে স্যার এমন আচরণ করলেন কেন?
‎
‎অন্যদিকে, মেহরিন চলে যাওয়ার পর আরহান ধীরে ধীরে নিজের চেয়ারে বসে পড়লেন।
‎
‎কামাল ইসলাম!
‎
‎এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন এক অতীত, যেটা তিনি বহু বছর ধরে ভুলে থাকার চেষ্টা করেছেন।
‎
‎কিন্তু মেহরিনের এখানে আসা কি নিছকই কাকতালীয়?
‎
‎নাকি কেউ পরিকল্পনা করে তাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে?
‎
‎ঠিক তখনই তাঁর ফোনে আবার একটি মেসেজ এল।
‎
‎অচেনা নম্বর।
‎
‎“কিছু নাম কখনো পুরোনো হয় না, স্যার। আর কিছু মানুষের ফিরে আসা মোটেও কাকতালীয় নয়।”
‎
‎আরহানের চোখ সরু হয়ে এল।
‎
‎তিনি দ্রুত উত্তর লিখলেন—
‎
‎— কে আপনি? আমার কাছ থেকে কী চান?
‎
‎কিন্তু মেসেজটি পাঠানোর পরও কোনো উত্তর এল না।
‎
‎আরহান ফোনটা টেবিলে রেখে জানালার বাইরে তাকালেন। তাঁর মনে তখন একটাই প্রশ্ন—
‎
‎মেহরিন ইসলাম কি সত্যিই শুধু একজন সাধারণ ছাত্রী, নাকি তার পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে বহু বছরের পুরোনো কোনো রহস্য?
‎
‎তিনি জানতেন না, এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাঁকে এমন কিছু সত্যের মুখোমুখি হতে হবে, যেগুলো তাঁর নিজের জীবনকেও বদলে দিতে পারে।
‎
‎আর মেহরিন?
‎
‎সে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার মনে কোনো রহস্যের ধারণা নেই। সে শুধু ভাবছে, নতুন প্রফেসরটি তার বাবার নাম শুনে এত অদ্ভুত আচরণ করলেন কেন।
‎
‎সে কি সত্যিই তার বাবাকে চেনেন?
‎
‎নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
‎
‎চলবে... 🖤
‎
‎তৃতীয় পর্বে: মেহরিনের বাড়িতে এমন একটি পুরোনো ছবি সামনে আসবে, যা আরহান চৌধুরীর অতীতের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে থাকতে পারে।
‎মেহরিনের বাড়িতে এমন একটি পুরোনো ছবি সামনে আসবে, যা আরহান চৌধুরীর অতীতের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে থাকতে পারে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন