ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাতেই পূর্নতা....

পর্ব 3

লেখক: আইরিশা/irisha

তোমাতেই পূর্ণতা

পর্ব ৩: প্রেম নয়, প্রেশার!

লেখিকা: আরফা আইরিশা

সকাল সাতটা।

চৌধুরী বাড়ির ডাইনিং রুমে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

সোফায় বসে আছে আরহান চৌধুরী। হাতে কফির কাপ, চোখে বিরক্তি, আর সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার ছোট বোন আরিশা।

আরিশার হাতে একটা বালিশ।

আরহানের হাতে খবরের কাগজ।

দুজনের মুখের ভাব দেখে মনে হচ্ছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে।

আরিশা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, — ভাইয়া!

— হুম।

— ভাইয়া গো!

— কী?

— ভাইয়া, আমার কলিজার টুকরা, আমার সোনার ভাই, আমার—

আরহান খবরের কাগজ নামিয়ে তাকাল।

— কত টাকা লাগবে?

আরিশা সঙ্গে সঙ্গে হাসল।

— আহা! ভাইয়া, তুমি আমাকে এত ভালো চেনো!

— গত বিশ বছরে তোর মুখে মধু দেখলেই বুঝেছি, আমার পকেটের ওপর আক্রমণ আসছে। বল, কত?

— মাত্র পাঁচ হাজার!

— না।

— তিন হাজার?

— না।

— দুই হাজার?

— না।

— এক হাজার?

— না।

আরিশা বালিশটা বুকে চেপে ধরে চিৎকার করে উঠল, — মা-আ-আ! তোমার ছেলে আমাকে ভালোবাসে না!

রান্নাঘর থেকে তাদের মা নওরীন চৌধুরী বেরিয়ে এলেন।

— কী হয়েছে আবার?

আরিশা চোখ মুছার অভিনয় করে বলল, — মা, ভাইয়া আমাকে টাকা দিচ্ছে না!

নওরীন ছেলের দিকে তাকালেন।

— আরহান, বোনকে কিছু টাকা দিয়ে দে না।

আরহান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— মা, ও টাকা দিয়ে কী করবে?

আরিশা বুক ফুলিয়ে বলল, — নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করব!

আরহান ভ্রু তুলে বলল, — গতকাল যে জুতাটা কিনলি, সেটা কি অতীত অন্ধকার করার জন্য কিনেছিলি?

আরিশা থমকে গেল।

নওরীন হেসে ফেললেন।

— আরিশা, তুই গতকাল জুতা কিনেছিস?

আরিশা আমতা-আমতা করে বলল, — মা, মেয়েদের জীবনে জুতার গুরুত্ব তুমি বুঝবে না!

আরহান কফিতে চুমুক দিয়ে বলল, — আর মেয়েদের জীবনে ভাইয়ের টাকার গুরুত্ব আমি খুব ভালো বুঝি!

আরিশা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় করল।

— ভাইয়া, তোমার বিয়ে হওয়া দরকার।

আরহান খবরের কাগজে চোখ রেখে বলল, — কেন?

— তোমার বউ এলে তোমাকে সামলানোর দায়িত্ব তার হবে। আমি বেঁচে যাব!

আরহান শান্ত গলায় বলল, — তোর মতো একটা নমুনাকে সামলানোর পর আমার বউ যদি আমাকে ছেড়ে চলে যায়, তখন দায়িত্ব কে নেবে?

আরিশা দুই হাত কোমরে রেখে বলল, — আমি নেব!

— তুই আগে নিজের ঘরটা সামলা। গতকাল তোর ঘরে ঢুকে মনে হয়েছে, সেখানে ভূমিকম্প হয়েছে।

— ভাইয়া, তুমি একটা অসভ্য!

— ধন্যবাদ। এবার নাশতা কর।

আরিশা মুখ বাঁকিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল।

কিন্তু তার চোখে তখন অন্য পরিকল্পনা।

ভাইয়ের বিয়ে তাকে দিতেই হবে!

যেভাবেই হোক!

অন্যদিকে রহমান বাড়িতে মেহেরের সকাল শুরু হয়েছে এক ভয়ংকর ঘটনার মধ্য দিয়ে।

তার অ্যালার্ম বাজছে।

একবার।

দুবার।

তিনবার।

কিন্তু মেহেরের ঘুম ভাঙার নাম নেই।

শেষ পর্যন্ত তার মা দরজা খুলে ঘরে ঢুকলেন।

— মেহের!

— হুমমম...

— ওঠ!

— পাঁচ মিনিট!

— তোর পাঁচ মিনিট গত চল্লিশ মিনিট ধরে চলছে!

মেহের বালিশের নিচে মুখ লুকিয়ে বলল, — আম্মু, আমি স্বপ্নে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছি। একটু উদ্‌যাপন করতে দাও!

মা বিছানার চাদর টেনে সরিয়ে দিলেন।

— আগে বাস্তবে পাস কর, তারপর স্বপ্নে প্রথম হবি!

মেহের চোখ খুলে উঠে বসল।

— আম্মু, তুমি আমার মা হয়ে আমাকে এত মানসিক চাপ দাও কেন?

— কারণ তুই আমার মেয়ে হয়ে আমাকে প্রতিদিন শারীরিক আর মানসিক দুই ধরনের চাপই দিস!

মেহের চুপ।

এই যুক্তির উত্তর তার কাছে নেই।

সে দ্রুত তৈরি হয়ে নিচে নামল। টেবিলে বসে এক হাতে পরোটা, অন্য হাতে ফোন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখতে লাগল।

হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল একটা পোস্টে।

“সিঙ্গেল মানুষদের জন্য সুখবর! বিয়ের মৌসুম শুরু হয়েছে!”

মেহের মুখ বাঁকিয়ে বলল, — এদের বিয়ে ছাড়া আর কোনো কাজ নেই?

তার মা পাশ থেকে বললেন, — তোর বিয়ে হলে আমিও শান্তি পেতাম।

মেহেরের হাত থেকে পরোটা প্রায় পড়েই যাচ্ছিল।

— আম্মু! সকাল সকাল ভূমিকম্প দিচ্ছ কেন?

— কী বললাম?

— বিয়ে? আমার? আমি এখনো নিজের ঘুম ঠিক করতে পারি না, আর তুমি আমাকে সংসার করতে পাঠাবে?

মা হেসে বললেন, — তোর বর তোকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেবে।

মেহের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল, — তাহলে তো বিয়ের প্রথম দিনেই ডিভোর্স!

মা হেসে কুটিকুটি।

মেহের ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলল, — আমার জন্য দোয়া করো। আজ যেন বসের মুখটা দেখতে না হয়।

মা পেছন থেকে বললেন, — কেন? বস কি দেখতে খারাপ?

মেহের দরজার সামনে থেমে গেল।

তারপর ধীরে ধীরে ঘুরে বলল, — আম্মু, তুমি আমার মা তো?

— কেন?

— তাহলে আমার শত্রুপক্ষের হয়ে কথা বলছ কেন?

কথাটা বলেই সে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।

চৌধুরী গ্রুপের অফিস।

মেহের অফিসে ঢুকেই প্রথমে চারদিকে তাকাল।

তারপর রাফির ডেস্কের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, — রাফি!

রাফি কম্পিউটার থেকে চোখ না তুলেই বলল, — জি, ম্যাডাম।

— বস এসেছেন?

— জি।

মেহেরের মুখ শুকিয়ে গেল।

— কখন?

— সকাল আটটায়।

— এত সকালে মানুষ অফিসে আসে কেন? বাসায় কি খাবার দেয় না?

রাফি হেসে ফেলল।

— ম্যাডাম, উনি বস। আপনার মতো সকাল দশটায় ঘুম থেকে ওঠেন না।

মেহের চোখ রাঙাল।

— তুমি কি আমার সঙ্গে ঝগড়া করার জন্য বেতন পাও?

— না, কিন্তু আপনার সঙ্গে কথা বললে কাজের একঘেয়েমি দূর হয়।

মেহের মুখ বাঁকিয়ে নিজের ডেস্কে চলে গেল।

কিন্তু বসের কেবিনের সামনে পৌঁছাতেই ভেতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।

— মিস রহমান, ভেতরে আসুন।

মেহের থমকে দাঁড়াল।

আল্লাহ! লোকটার কি রাডার আছে?

সে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল।

আরহান ল্যাপটপে কাজ করছিলেন।

— আপনি দশ মিনিট দেরি করেছেন।

মেহের সঙ্গে সঙ্গে বলল, — স্যার, রাস্তায় জ্যাম ছিল।

আরহান ঘড়ির দিকে তাকালেন।

— আপনি অফিসে আসার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন কখন?

মেহের চুপ।

আরহান এবার চোখ তুলে তাকালেন।

— মিস রহমান?

মেহের গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, — স্যার, সত্যি কথা বললে আপনি রাগ করবেন।

— বলুন।

— আমি একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছি।

আরহান কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন, — আপনার সততার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত, নাকি দেরির জন্য বেতন কাটা উচিত, বুঝতে পারছি না।

মেহের মুখ গম্ভীর করে বলল, — স্যার, আমার সততার প্রশংসা করুন। বেতন কাটলে আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।

আরহান ঠোঁটের কোণে হাসি চেপে বললেন, — আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি যথেষ্ট চিন্তিত।

মেহের চোখ বড় করল।

— কেন, স্যার? আমার চাকরি থাকবে তো?

— সেটা আপনার কাজের ওপর নির্ভর করছে।

মেহের মনে মনে বলল, লোকটার মুখে হাসি নেই, কিন্তু কথা দিয়ে মানুষকে হার্ট অ্যাটাক দেওয়ার ক্ষমতা আছে!

আরহান একটা ফাইল এগিয়ে দিলেন।

— এই ফাইলটা আজ দুপুরের মধ্যে শেষ করবেন।

মেহের ফাইল হাতে নিয়ে বলল, — জি, স্যার। আর কিছু?

— হ্যাঁ।

মেহের মনে মনে দোয়া পড়ল।

— বলুন, স্যার।

— কফি।

মেহের অবাক।

— কী?

— আমার কফি ঠান্ডা হয়ে গেছে। নতুন এক কাপ কফি নিয়ে আসুন।

মেহেরের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

— স্যার, আমি কি আপনার ব্যক্তিগত কফি বানানোর কর্মচারী?

ঘরের বাতাস যেন থেমে গেল।

আরহান ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।

মেহের বুঝল, এবার তার চাকরি যাওয়ার সময় হয়েছে।

কিন্তু আরহান শুধু বললেন, — না। আপনি আমার কর্মচারী। আর কর্মচারীদের কাজের মধ্যে বসের নির্দেশ পালন করাও পড়ে।

মেহের দাঁত চেপে বলল, — জি, স্যার। কফি আসছে।

বেরিয়ে যাওয়ার আগে সে বিড়বিড় করল, — একদিন আপনাকে এমন কফি খাওয়াব, জীবনে ভুলবেন না!

দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাফি সব শুনে ফেলেছে।

সে মেহেরের পাশে এসে বলল, — কী খাওয়াবেন, ম্যাডাম?

মেহের গম্ভীর মুখে বলল, — বিষ!

রাফি চোখ বড় করে ফেলল।

মেহের সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল, — আরে, কফিতে চিনি বেশি দেব! এত ভয় পাওয়ার কী আছে?

রাফি হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।

দুপুর বারোটা।

আরিশা তার বান্ধবী ইশাকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় বসে আছে।

ইশা চামচ দিয়ে আইসক্রিম খেতে খেতে বলল, — তুই আমাকে এত জরুরি ডেকেছিস কেন?

আরিশা টেবিলের ওপর ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, — আমার ভাইয়ের বিয়ে দিতে হবে।

ইশা আইসক্রিম খেতে খেতেই বলল, — তো দে।

আরিশা হতাশ হয়ে বলল, — এমনভাবে বলছিস, যেন বাজার থেকে আলু কিনতে বলেছি!

ইশা এবার তাকাল।

— তা হলে কী করবি?

আরিশা মোবাইল বের করল।

— আমি ভাইয়ের জন্য একটা মেয়ে খুঁজব।

— তোর ভাই রাজি হবে?

— না।

— তাহলে?

আরিশা হাসল।

— রাজি করাব।

ইশা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, — তুই কীভাবে করবি?

আরিশা গর্বের সঙ্গে বলল, — আবেগ দিয়ে!

ইশা মাথা নাড়ল।

— তোর ভাইয়ের মতো পাথরের টুকরার ওপর আবেগ কাজ করবে না।

আরিশা মুখ বাঁকিয়ে বলল, — তা হলে?

ইশা আইসক্রিমের কাপ নামিয়ে বলল, — ওর সঙ্গে এমন একটা মেয়ের দেখা করাতে হবে, যে ওকে একদম সহ্য করতে পারে না।

আরিশার চোখ চকচক করে উঠল।

— মানে, যে আমার ভাইকে দেখলেই রেগে যায়?

— হ্যাঁ।

আরিশা কয়েক মুহূর্ত ভেবে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, — পেয়ে গেছি!

রেস্তোরাঁর সবাই তাদের দিকে তাকাল।

ইশা লজ্জায় মাথা নিচু করল।

— আস্তে কথা বল! সবাই তাকাচ্ছে!

আরিশা তার হাত ধরে বলল, — মেহের রহমান!

ইশা অবাক।

— কে মেহের রহমান?

— আমার ভাইয়ের অফিসে কাজ করে। ভাইকে একদম সহ্য করতে পারে না!

ইশা ধীরে ধীরে হাসল।

— তাহলে তো মজার হবে!

আরিশা ফোন বের করে মেহেরের নম্বর খুঁজতে লাগল।

তারপর নিজেই নিজেকে বলল, — ভাইয়া, এবার তোমার জীবনটা আমি সুন্দর করে সাজিয়ে দেব!

ইশা পাশে বসে বিড়বিড় করল, — সুন্দর না ছাই, তোর ভাইয়ের জীবনটা তুই তছনছ করে দিবি!

বিকেল চারটা।

মেহের অফিসের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। তার চোখ লাল, মাথা গরম, আর সামনে ফাইলের পাহাড়।

রাফি পাশে এসে বলল, — ম্যাডাম, কফি খাবেন?

মেহের ক্লান্ত মুখে তাকাল।

— কফি না, আমি এখন এক বালতি ঘুম খেতে পারলে বেঁচে যেতাম।

রাফি হেসে বলল, — স্যার ডাকছেন।

মেহের চোখ বন্ধ করল।

— কেন?

— জানি না।

— আমার নামে কি কোনো অভিযোগ এসেছে?

— আপনি নিজেই তো অভিযোগের একটা চলন্ত বাক্স!

মেহের একটা কাগজ তুলে রাফির দিকে তাক করল।

— আর একটা কথা বললে এই কাগজটা তোমার কপালে লাগাব!

রাফি হাসতে হাসতে সরে গেল।

মেহের কেবিনে ঢুকে দেখল, আরহান ফোনে কথা বলছেন।

তিনি ফোন রেখে বললেন, — আজ সন্ধ্যায় একটা ডিনার আছে। আপনাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে।

মেহেরের চোখ কপালে।

— কেন, স্যার?

— আমার কিছু কাজ আছে। আপনাকে কয়েকটি নথি নিয়ে যেতে হবে।

মেহের মনে মনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।

— ওহ! শুধু কাজ?

আরহান ভ্রু তুললেন।

— আপনি অন্য কিছু ভেবেছিলেন?

মেহের তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল।

— না, না! আমি কেন অন্য কিছু ভাবব? আপনি তো আমার বস!

আরহান কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে বললেন, — ভালো। তাহলে সন্ধ্যা সাতটায় প্রস্তুত থাকবেন।

মেহের বেরিয়ে এসে নিজের ডেস্কে বসে বিড়বিড় করল, — সাতটা! আমার বাসায়ও তো একটা জীবন আছে! আমার বিছানা আছে! আমার প্রিয় বালিশ আছে!

রাফি পাশ থেকে বলল, — আপনার বালিশকে আমার সালাম জানাবেন।

মেহের এবার সত্যিই কাগজ ছুড়ে মারল।

সন্ধ্যা সাতটা।

চৌধুরী বাড়ির সামনে গাড়ি এসে থামল।

আরহান গাড়ির ভেতর বসে ফোন দেখছিলেন। কিছুক্ষণ পর মেহের এসে গাড়ির দরজা খুলল।

আরহান তার দিকে তাকিয়ে থমকে গেলেন।

আজ মেহের সাধারণ পোশাকের বদলে সুন্দর একটি পোশাক পরেছে। চুলগুলো খোলা, মুখে হালকা সাজ।

মেহের ভ্রু কুঁচকে বলল, — কী হয়েছে, স্যার? এমনভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আমার মুখে কি কিছু লেগেছে?

আরহান দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলেন।

— না। উঠুন।

মেহের গাড়িতে উঠে বসল।

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সে বলল, — স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— বলুন।

— আপনি কখনো হাসেন না কেন?

আরহান এবার তার দিকে তাকালেন।

— হাসি কি বাধ্যতামূলক?

— না। তবে আপনার মুখ দেখে মনে হয়, পৃথিবীর সব মানুষ আপনার কাছে টাকা ধার নিয়ে পালিয়েছে।

আরহান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন।

তারপর হঠাৎ হেসে ফেললেন।

মেহের অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

আরহান চৌধুরী হাসছেন!

মেহের নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

আরহান হাসি থামিয়ে বললেন, — কী হলো?

মেহের দ্রুত চোখ সরিয়ে বলল, — কিছু না, স্যার। আপনাকে হাসতে দেখে একটু ভয় পেয়ে গেছি।

— কেন?

— ভাবলাম, পৃথিবী বুঝি শেষ হয়ে যাচ্ছে!

আরহান আবার হেসে উঠলেন।

গাড়ির ভেতর কিছুক্ষণের জন্য পরিবেশটা হালকা হয়ে গেল।

মেহের জানালার বাইরে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

তারপর নিজেকেই মনে মনে বলল,

না, না! এই লোককে নিয়ে কোনো রকম ভালো ধারণা করা যাবে না। হাসলেও বিপজ্জনক, না হাসলেও বিপজ্জনক!

আরহান পাশ থেকে তাকে একবার দেখলেন।

মেয়েটা অদ্ভুত।

কখনো তাকে রাগিয়ে দেয়, কখনো হাসায়।

আর সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো, তার সঙ্গে থাকলে সময়টা অন্য রকমভাবে কেটে যায়।

কিন্তু এই অনুভূতির নাম কী?

আরহান এখনো জানেন না।

অথবা জানলেও স্বীকার করতে চান না।

চলবে!!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন