ফন্ট সাইজ:
থিম:
বৃষ্টিতে এক কিশোরী 💝

পর্ব 1

লেখক: মনিরা মাইশা

সাইমের সাথে প্রথম দেখা কলেজের লাইব্রেরীতে। আমি বই খুজছিলাম,, ও হঠাৎ বলে উঠলো --এই বইটা আমি গতকালই ফেরত দিয়েছি,,আপনি চাইলে আমার নোটটা নিতে পারেন।,, ওর নোটের শেষ পাতায় ছোট করে লেখা ছিল -বইটা পড়া শেষ হলে ক্যান্টিনে এক কাপ চা খাবেন? আমি হেসে ফেলেছিলাম। সেই থেকে আমাদের চা খাওয়া শুরু। প্রতিদিন বিকেলে ক্যান্টিন, এক কাপ চা দুজনে ভাগ করে খাওয়া। কখন যে ভালো লেগে গেলো বুঝতেই পারেনি। একদিন প্রচন্ড বৃষ্টি। কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। আমি লাইব্রেরীতে আটক। দেখি সাইমন ভিজতে ভিজতে আসছে হাতে একটা পলিথিনে মোড়ানো চিঠি। ভেবেছিলাম আজ আসবা না, তাই চিঠি লিখে নিয়ে আসলাম।চিঠিতে মাত্র দুটি লাইন লেখা ছিল - আমি জানি না প্রেম কাকে বলে,,কিন্তু তোমাকে না দেখলে আমার দিন টা অসম্পূর্ণ লাগে। তুমি কি আমার অসম্পূর্ণ দিন গুলো পূর্ণ করে দিবে?সেদিন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমি হ্যাঁ বলছিলাম। আজ দুই বছর পর, এখনো বৃষ্টি হলেই ও আমাকে একটা করে চিঠি লেখে। বৃষ্টি ভেজা চিঠি পর্ব 2 ---সেদিন হা বলার পর আমাদের প্রেমটা অন্যরকম হয়ে গেল। সাইমন আর ক্যান্টিনের চা খেতে ডাকে না। এখন ও সরাসরি লাইব্রেরীর কোনার টেবিলটা বুক করে রাখে,,সেখানে প্রথম দেখা হয়েছিল। কিন্তু গত এক মাস ধরে সাইমন কেমন জানি বদলে গেছে। ঠিকমতো ফোন ধরে না মেসেজের রিপ্লাই দেয় না। আমি ভাবলাম হয়তো পরীক্ষা চাপে ব্যস্ত। গতকাল বিকেলে আমি ওর ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি, ও একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। বুকের ভিতরটা কেমন জানি করে উঠলো। আমি কিছু না বলে চলে আসলাম। সারারাত ঘুম হয়নি। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দরজার নিচে পলিথিন মোড়ানো চিঠি। আবার সেই একই স্টাইলে। খুলে দেখি লেখা - কাল যে মেয়েটাকে দেখছো, ও আমার বোন। আমেরিকা থেকে এসেছে। ওর জন্যই তোমার জন্য একটি আংটি কিনতে গিয়েছিলাম তাই ব্যস্ত ছিলাম। আজ বিকেল বৃষ্টি হবে বলেছে তুমি কি আবার একবার আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজবে? লাইব্রেরীর সামনে অপেক্ষা করব। ইতি তোমার সাইমন,, আমি চিঠিটা হাতে নিয়ে কাঁদছি। ও আমাকে ভুল বুঝিনি বরং সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল। আজ বিকেলে আবার বৃষ্টি হবে। আমি যাচ্ছি আমি দোড়ে লাইব্রেরীর সামনে গেলাম। আকাশ কালো হয়ে আছে,, যেকোনো সময় বৃষ্টি নামবে। সাইমন একটা নীল পাঞ্জাবি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে একটা ছোট বক্স। আমাকে দেখে ও এগিয়ে এলো। এত দেরি করলে কেন। ভাবলাম আবার আসবা না। আমি কিছু বলার আগেই জুম বৃষ্টি নামলো। সবাই দৌড়ে বারান্দায় উঠছে,, আর আমরা দুজন মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভিজছি। সাইমন হাঁটু গেড়ে বসে বক্সটা খুললো। ভিতরে একটা রুপা আংটি। প্রথম চিঠিতে তোমাকে আমার দিনগুলো পূর্ণ করতে বলেছিলাম, আজ বলছি - তুমি কি আমার পুরো জীবনটা পূর্ণ করে দিবে?,,লাইব্রেরীর সবাই তাকিয়ে আছে, কেউ কেউ হাততালি দিচ্ছে আমার চোখে বৃষ্টির পানি আর চোখের পানি মিলে একাকার। আমি হা বলতে ও আংটি পরিয়ে দিল। আংটি পরানোর পর ৬ মাস কেটে গেছে। আমাদের বিয়ে ঠিক হয়ছে। কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়, সাইমন চাকরিটা হয়ে গেছে ডাকার বাহিরে, চট্টগ্রামে। আমার ফাইনাল পরীক্ষা সামনে, আমি যেতে পারবো না। গতকাল সাইমন চলে গেল। যাওয়ার আগে আমাকে একটা বড় খাম দিয়ে গেছে আর বলছে। প্রতিদিন একটা করে খুলবা, আমি যত দিন না ফিরি। আজ প্রথম খামটা খুললাম। ভিতরে একটা চিঠি আর একটা ট্রেনের টিকেট। চিঠিতে লেখা, প্রিয়, জানি দূরত্বটা কষ্টের। কিন্তু তুমি কি আজ বিকেলে আমার সাথে ট্রেনে দেখা করতে আসবে? স্টেশনে অপেক্ষা করবো। তোমার সাইমন আমি কি যাব পরীক্ষা ফেলে?? আমি গিয়েছিলাম। পরীক্ষার কথা,পরিবারের বকা, সব ভুলে আমি ট্রেনেউঠে পড়েছিলাম। ৫ ঘন্টা জার্নি করে যখন চট্টগ্রামে স্টেশনে পৌছালাম, রাত ১১ টা,,স্টেশন ফাঁকা, বৃষ্টি পড়ছে।দূরে দেখি সাইমন দাঁড়িয়ে আছে ছাতা নিয়ে, পুরো ভিজে গেছে। আমাকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো।জানতাম তুমি আসবে। তোমার ওই বৃষ্টি ভেজা চিঠির মতো, তুমিও আমাকে কখনো নিরাশ করো না।সেদিন স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে বসে আমরা দুজন অনেকক্ষণ ভিজে ছিলাম। আমাদের ভালবাসাটা বৃষ্টির মত। যত দূরেই যাই মেঘ তো একটাই, তাই না । আমি হাসলাম, হ্যাঁ, মেঘ তো একটাই,, আজ আমাদের বিয়ে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। সবাই বলছে বৃষ্টি হলে বিয়ে বাড়ির আয়োজন নষ্ট হয়ে যাবে, কিন্তু আমি মনে মনে বৃষ্টি চেয়েছিলাম। কারণ আমাদের ভালোবাসার শুরুটা বৃষ্টি দিয়ে হয়েছিল, দুপুর তিন টাই পালার থেকে ফিরছি, তখন ও জুম বৃষ্টি নামলো। গাড়ি আটকে গেল জেমে। বরযাত্রী আসতে দেরি হবে। আমি শাড়ি পড়ে গাড়ির ভিতরে বসে আছি , ভীষণ টেনশন হচ্ছে , হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ,, সাইমন গাড়ি থেকে নামো বাইরে তাকাও। আমি গাড়ি থেকে নেমে দেখি, সামনের রাস্তায় সাইমন বরের শেরওয়ানি পড়ে, হাতে একটা ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুরো রাস্তায় মানুষ তাকিয়ে আছে, এগিয়ে এসে বললো, সেই লাইব্রেরীতে তোমাকে বেজা চিঠি দিয়েছিলাম। আজ তোমাকে এই বৃষ্টিতে ভিজে বিয়ে করে নিয়ে যাবো। রাজি,আমি কিছু বলতে পারিনি, শুধু ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেদিন আমরা কাজী অফিসে ভিজে ভিজে সাইন করেছিলাম। কোন লাইট কোন ডেকোরেশন লাগেনি বৃষ্টিটা ছিল আমাদের ডেকোরেশন,আজ রাতে, ছাদে বসে আছি সাইমন আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে বৃষ্টি পড়ছে। আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম। আচ্ছা। বৃষ্টি হলেই কেন তুমি আমাকে চিঠি লেখো? ও হেসে বললো,, কারণ বৃষ্টি হলেই তোমার কথা বেশি মনে পড়ে। আর যেদিন বৃষ্টি থাকবে না,, সেদিন তো তুমি আমার পাশে থাকবে সেদিন চিঠি দরকার লাগবে না কারণ তুমি তো আমার কাছে সারা জীবনের জন্য রেখে দিব তোমায় ভালোবাসি আপনাকে কখনো ছেড়ে জাইয়েন না আমাকে আই লাভ ইউ মাই লাভ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন