ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাজপ্রাসাদ নাকি পাগলাগারদ!"।

পর্ব 1

লেখক: Rubi Appi

বিশাল এক রাজপ্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল নিজে খামচাইতেছে মেহেরিন। রাজপ্রাসাদ বললে ভুল হবে, এটা একটা আস্ত সোনার খাঁচা!
​মেহেরিনের মেজাজ এখন সপ্তমে চড়ে আছে। তার এখানে আসার বিন্দুমাত্র শখ ছিল না। কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয়—আজ ভাগ্যিস ভালো ছিল না, তাই সোজা এই আজব প্রাসাদে এসে ফেঁসেছে। মনে মনে সে বলতেছে, "আল্লাহ রে! মানুষ দুনিয়ায় আসে রাজত্ব করতে, আর আমি আইলাম এই বিপদে!"
​ঠিক তখনই পাশ থেকে খিলখিল করে হেসে উঠল জুহি। জুহি আবার সিরিয়াস কোনো কিছু নিয়ে মাথা ঘামায় না। সে এক হাতে চিপস চাবাইতেছে আর অন্য হাতে মোবাইল বের করে লাইভ শুরু করে দিছে!
​জুহি চিল্লাইয়া বলল, "আরে ভাইসব! কমেন্ট বক্সে দেখেন, আমাদের মেহেরিন আপু রাজপ্রাসাদের সামনে কান্নাকাটি শুরু করে দিছে!"
​মেহেরিন তখন তেড়ে এসে জুহির দিকে তাকিয়ে বলল, "বাজে বকবি না জুহি! এমনিতেই আমার মেজাজ গরম, তোরে যদি এক থাপ্পড় দিই, সোজা গিয়ার বদলাইয়া অন্য দুনিয়ায় গিয়া পড়বি!"ওদিকে রাজপ্রাসাদের গেট থেকে লম্পঝম্প করতে করতে বের হয়ে এলো অন্তরা আর জিয়া। দুইজনে মিলে প্রাসাদের গার্ডদের সাথে চুলোচুলি লাগাইয়া দিছে!
​রুবি তখন একপাশে দাঁড়িয়ে হাতে হাতা নিয়ে চিল্লাইয়া বলতেছে, "শোনেন গার্ড সাহেব! আমাদের জামা-কাপড়ের দাম কমান, নাইলে এই রাজপ্রাসাদ আজকেই বোম মেরে উড়িয়ে দেবো!"
​ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যপটে এন্ট্রি নিলো আমাদের সুরাইয়া, ইনায়া, পিউ আর তাসমিম। তারা সবাই মিলে এমন এক ধমক দিল যে পুরো রাজপ্রাসাদ কেঁপে উঠল!
​সব মিলিয়ে রাজপ্রাসাদ না আস্ত একটা পাগলাগারদ! কে কারে মারছে, কে কার চুল টানছে—তার কোনো ঠিকঠিকানা নাই! রাজপ্রাসাদের মূল ফটকের সামনে তখন যে কাণ্ডটা শুরু হলো, সেটা কোনো হলিউডের অ্যাকশন মুভিকেও হার মানাবে! গার্ডদের সাথে চুলোচুলি থামিয়ে অন্তরা আর জিয়া সোজা দৌড়ে এসে ঢুকে পড়ল প্রাসাদের বিশাল ড্রয়িংরুমে। এসেই তারা সোফায় এমনভাবে আছড়ে পড়ল যেন প্রিন্সেস না, আস্ত কোনো জমিদার বাড়ির বখাটে জামাই!
​ঠিক তখনই হাত দুটো কোমরে গুঁজে ড্রয়িংরুমে এন্ট্রি নিলো রুবি। তার চোখেমুখে তখন রাজ্যের বিরক্তি। সে চারদিকে একবার চোখ বুলিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, "আরে ভাই! আমাগোরে এই সোনার খাঁচায় বন্দি করে রাখছে কোন সাহসে? এখানে কি ওয়াইফাইয়ের কোনো পাসওয়ার্ড নাই? আমার টিকটক লাইভ কে দেখবে?"
​রুবির কথা শেষ হতে না হতেই জুহি এক হাতে চিপসের প্যাকেট আর অন্য হাতে ফোন নিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল। সে মোবাইলটা রুবির মুখের সামনে ধরে বলল, "এই নে রুবি আপু, তোর লাইভে অলরেডি দশ হাজার পাবলিক আইসা গেছে! বল তোর গার্হস্থ্য জীবনের কষ্টের কথা!"জুহির কথা শুনে রুবি রেগে গিয়ে একটা কুশন ছুড়ে মারল তার দিকে। কিন্তু সেটা গিয়ে সোজা লাগল তাসমিমের মাথার ওপর! ব্যাস, আর যায় কোথায়! তাসমিম তখন তেড়ে এসে জুহির কলার চেপে ধরল। দুইজনের মধ্যে শুরু হয়ে গেল মারাত্মক চুলেচুলি! তাসমিম চিল্লাইয়া বলতেছে, "আমার হেয়ার স্টাইল নষ্ট করার শখ হইছে,র রে তোর?" আর জুহি হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে পড়তে বলছে, "ছাড় বলছি, নাইলে তোর টিকটক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে দেবো!"
​ওদিকে কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা পিউ আর ইনায়া এই কান্ড দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। পিউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "আল্লাহ! আমি কোথায় এসে পড়লাম! এর চেয়ে তো আমার ঘরের ছাগলগুলো অনেক ভালো ছিল!"
​তখনই রান্নাঘরের দিক থেকে হাতা-খুন্তি হাতে বের হয়ে এলো জান্নাত আর সুরাইয়া। তাদের দুজনেরই পরনে অদ্ভুত ডিজাইনের এপ্রোন। জান্নাত চোখ পাকিয়ে পুরো ঘরের সবাইকে ধমক দিয়ে বলে উঠল, "চুপ! একদম টু শব্দ করবি না কেউ! তোদের এই ফাজলামি কি মেন্টাল হসপিটাল পাইছিস? তোদের এই চিল্লাপাল্লার চোটে আমার রান্নার ডাল পুড়ে গেছে!"
​সুরাইয়া তখন কপালে হাত দিয়ে বিড়বিড় করতেলাগল, "এই পাগলগুলার সাথে এক ছাদের নিচে থাকা মানে নিজের জীবন নিজে ধ্বংস করা! এদের বুদ্ধিশুদ্ধি কবে যে ঠিক হবে!"
​ঠিক সেই মুহূর্তে প্রাসাদের বিশাল দরজাটা বিকট শব্দে খুলে গেল। ভেতরে প্রবেশ করল এক রহস্যময় খ্যাপা রাজা—যার পরনে রাজকীয় পোশাক হলেও মাথায় গোঁজা একটা ফুলের টোপর! সে এসেই সবার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠল, "তোদের কার কার মাথার চুল বড় বেশি গজিয়েছে, এক এক করে সামনে আয়!"
​সেটা শুনে মেহেরিনসহ সবাই একসাথে আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল!​রাজপ্রাসাদের বিশাল ড্রয়িংরুমে খ্যাপা রাজার সেই অদ্ভুত এন্ট্রি দেখে সবার তো আক্কেল গুড়ুম! মাথায় ফুলের টোপর পরা খ্যাপা রাজাকে দেখে মেহেরিন তো ভয়ে সোফার পেছনে গিয়ে লুকাল।
​রাজা গম্ভীর গলায় আবার চিল্লাইয়া বলল, "বললাম তোদের মধ্যে কে কে আমার রাজপ্রাসাদে বিনা ভাড়ায় ফাজলামি করতেছিস?"
​তখনই অন্তরা আর জিয়া কোনো ভয় না পেয়ে সোজা রাজার সামনে গিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াল। অন্তরা আঙুল উঁচিয়ে বলল, "এই রাজামশাই! বেশি কথা বলবি না তো! আমরা কোনো চোর-বাটপার না, সোজা টিকটকের সেলিব্রিটি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর! আমাদের সাথে বেশি ভাব নিবি না বলে দিলাম!"
​সে কথা শুনে রাজা তো রাগে থরথর করে কেঁপে উঠল! রাজা চিল্লাইয়া হুকুম দিল, "ধর এই দুইটারে! আজকেই এদের দুইজনকে বন্দি করে রাজপ্রাসাদের অন্ধকার সেলে পাঠিয়ে দেবো!"
​ব্যাস! এই কথা শোনার সাথে সাথে রুবি আর জুহিদুইজনে মিলে শুরু করে দিল মারাত্মক চিল্লাপাল্লা ও মারামারি। জুহি তো হাসতে হাসতে মাটিতে গড়িয়ে পড়তে পড়তে লাইভে বলে উঠল, "আরে ভাইসব! আমাগো রাজপ্রাসাদে বন্দি করতে আইছে রে!"
​আর জান্নাত আর সুরাইয়া রান্নাঘর থেকে এক দৌড়ে এসে সোজা রাজার ওপর হাতা-খুন্তি নিয়ে তেড়ে গেল! জান্নাত রেগে বলে উঠল, "সাহস তো কম না তোর! আমাদের বন্দি করিস? আজ তোর রাজপ্রাসাদ সমেত তোকেও উলঙ্গ করে তাড়িয়ে দেবো!"
​সব মিলিয়ে সেই রাজপ্রাসাদে তখন আর রাজত্ব বা রাজা বলতে কিছু নাই—আস্ত একটা পাগলাগারদের যুদ্ধক্ষেত্র বসে গেছে! কে কার চুল টানছে আর কে কার ঘাড়ে উঠছে—তার কোনো হিসাব নাই!
​(চলবে...)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন