ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ের আড়ালে তুমি

পর্ব 1

লেখক: তৃয়া

হৃদয়ের আড়ালে তুমি
লেখিকা : তৃয়া
ক্যাটাগরি: রোমান্টিক ! পারিবারিক রহস্য

পর্ব সংখ্যা : ১
অচেনা সেই ছেলেটি
খান বাড়ি
সকাল ৮
আয়রা এই আয়রা আর কত ঘুমাবি ? কলেজে জাবি না?
মেহের বেগমের চিৎকারে পুরো খান বাড়ি কেঁপে উঠলো|আয়রা বালিশের নিচে মুখ লুকিয়ে বলল
প্লিজ মা আর পাঁচটা মিনিট ঘুমাতে দাও না,
তোর পাঁচ মিনিট আর শেষ হয় না তাড়াতাড়ি নিচে আয় আয়রা বিরক্ত হয়ে উঠে বসলো|
উফফ এই বাড়িতে আমার কোনো শান্তি নেই |
কিছুক্ষণ পর আয়রা নিচে এসে দেখলো তার বড় ভাই
আদনান নাস্তা করছে |
আদনান মুচকি হেসে বলল,
বাহ্ আমাদের রাজকন্যা আজ সূর্য উঠার আগেই ঘুম থেকে উঠেছে !
আয়রা চোখ তুলে তাকাল!
ভাইয়া সকাল সকাল আমার সাথে লাগতে এসো না
কেন ?তর বিয়ে দিয়ে দিলে আর জ্বালাতে পারবি না
_ভাইয়া 😡
আদনান হেসে বলল,
আচ্ছা আচ্ছা ! রাগ করিস না? আয় নাস্তা কর
আয়রা ভাইয়ের পাশে বসলো
এই পরিবারের সবথেকে আদরের মেয়ে সে | বাবা আফজাল খান ও মা মেহের খানের আদরের একমাত্র মেয়ে আয়রা আর বড় ভাই আদনান এর প্রাণ
কলেজে প্রথম দেখা
কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে নিশাদের সাথে গল্প করছিলো আয়রা
নিশাত বলল
এই আয়রা শুনছিস আজকে নাকি আমাদের কলেজে নতুন একটা ছেলে ভর্তি হয়েছে
আয়রা দিকে তাকিয়ে বলল
তাহলে আমি কি করবো
শুনেছি ছেলেটা নাকি অনেক হ্যান্ডসাম তুই বিয়ে করবি নাকি
নিশাত আয়রার হাতে একটা চিমটি কেটে বলল তোর সাথে কথা বলাটাই আমার ভুল
দুজন হাসতে হাসতে কলেজের ভিতর ঢুকছিল
ঠিক তখনই আয়রা একজনের সাথে ধাক্কা খেলো
তার হাতের বইগুলো সব মাটিতে পড়ে গেল
কয়রা রেগে বলল চোখে দেখতে পান না নাকি ?
সামনে যে একটা মানুষ আছে সেটা দেখেন না
ছেলেটি নিচু হয়ে ধীরে সুস্থে বইগুলো তুলে দিল
রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কি দেখতে পান না।
আয়রা অবাক
কি বললেন
কানেও সমস্যা আছে নাকি
আয়রার মুখ লাল হয়ে গেলো রাগে
এই যে মিস্টার আপনার সাহস তো কম না
ছেলেটি ঠান্ডা গলায় বললো আপনার সাথে তর্ক করার সময় আমার নেই
কথাটা বলেই ছেলেটি চলে গেলো
আয়রা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
নিশাতকে বললো আয়রা এই ছেলেটা কে
নিশাত বললো এইটাই সেই নতুন ভর্তি হওয়া
সেই ছেলেটি আরহান চৌধুরী
এই নামটা মনে রাখলাম একদিন এই ছেলের অহংকার ভাঙব
নিশাত মুচকি হেসে বললো এই ছেলের প্রেমে পরলি নাকি
আমি ওর প্রেমে পড়বো জীবনে ও না
কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিলো
🖤 চৌধুরী বাড়ি
আরহান চৌধুরী
আরহানের বয়স ২২ বছর চৌধুরী পরিবারের বড় ছেলে ব্যবসায়ী ও কঠোর পরিশ্রমে বড় হওয়া এই সেই যুবক
তার চোখে সব সময় যেন এক গম্ভীরতার ছায়া
সহজে কাউকে বিশ্বাস করে না
সন্ধ্যায় নিজের ঘরে বসে ছিল আরহান তখন তার ছোটো বোন রাইজা এসে বললো
ভাইয়া একটা কথা বলবো
বল
তুমি কি কখনো কাওকে ভালোবেসে ছিলে
আরহান বই থেকে মাথা তুলে তাকালো এই প্রশ্ন হঠাৎ
এমনি কখনো তোমাকে হাসতে দেখিনি তাই বললাম
আরহান মৃদু হেসে বললো সব হাসির পিছনে সুখ থাকেনা রাইজা
রাইজা চুপ হয়ে গেলো
কিছুক্ষণ পর সে আবার বলল
ভাইয়া তুমি এখনো সেই ছোটো বেলার মেয়ে টাকে খোঁজছ
আরহানের মুখ মুহূর্তে বদলে গেলো
রাইজাএ বিষয় নিয়ে আর কথা বলবে না
রাইজা চলে গেলো
আরহান জানালার পাশে ধারালো
তার মনে পড়লো ছোটো বেলার সেই ছোটো একটা মেয়ের কথা
মেয়েটা তাকে বলেছিলো
আরহান ভাইয়া তুমি আমাকে কখনো ভুলে যেওনা
সেই মেয়েটি হঠাৎ হাড়িয়ে গিয়েছিলো
আজ ও জানেনা সেই মেয়েটি কোথায়
ঠিক তখনই তার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে একটা মেসেজ আসলো
যাকে তুমি এতো বছর ধরে খুজছ সে তোমার খুব কাছেই আছেই আছে । কিন্তু তার পরিচয় শোনলে তুমি ভেঙে পরবে
আরহান মেসেজটি পড়ে স্থির হয়ে গেল
কে তুমি কি চাও আমার কাছে
কিন্তু কোনো উত্তর এলো না
খান বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব
রাতের খাবারের পর আফজাল খান সবাইকে বসার ঘরে ডাকলেন
আদনান বলল বাবা কোন জরুরী কথা
আফজাল খান গম্ভীর ভাবে বলল হ্যাঁ
চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে আমাদের পুরোনো পরিচয়
তারা আবার আমাদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চান
আয়রা সোফায় বসে চিপ খাচ্ছিলো
তো তাতে আমার কী
আদনান হেসে বললো যে তর বিয়ের জন্য প্রস্তাব এসেছে
আয়রার হাত থেকে চিপসের প্যাকেট টা পরে গেলো
কীইইই আমার বিয়ে আমি এখন এই বিয়ে করবো না
মেহের বেগম মেয়ের পাশে বসে বললেন
আগে পুরো কথাটা শোন
আমি কিছু শুনতে চাই না
আফজাল খান বলল ছেলেটার নাম আরহান চৌধুরী
নাম শুনেই আয়রার মাথায় কলেজের সেই অহংকারী ছেলেটার মুখ ভেসে উঠলো
আব্বু এই অসভ্য লোকটাকে আমি বিয়ে করবো না
আদনান অবাক হয়ে বলল তুই ওকে চিনিস নাকি
আয়রা রেগে বলল
আজকেই দেখা হয়েছে এই লোকটার সাথে লোকটা আস্ত অহংকারী
আদনান হেসে বলল
বাহ্ বিয়ের আগেই এতো পরিচয়
ভাইয়া 😡
সবাই হেসে উঠলে ও আয়রার মুখে হাসি ছিলো না
সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো এই বিয়ে সে কিছুতেই করবে না
কিন্তু সে জানতো না আরহান ও এই বিয়ের কথা শোনে অবাক হয়ে ছিলো
পর্বের শেষ দৃশ্য
চৌধুরী বাড়িতে আরহানকে বাবা কামাল চৌধুরী ডেকে বললো এই বিয়ের কথা
আরহান তোমার বিয়ে দিক করেছি খান বাড়ির একমাত্র কন্যা আয়রার সাথে এই কথা শুনে সে অবাক
আরহান হঠাৎ এই কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো আরহান বললো বাবা আমি এই বিয়ে করবো না বাবা বললো কেন আমি একটা মেয়েকে ভালো বাসি আচ্ছা এটা পরে দেখা যাবে
আজকে এই খানেই প্রথম পর্ব শেষ করছি 🌸💗

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন