### তোমারই অপেক্ষায়
লেখক: আরফা আইরিশা
### পর্ব ১
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট।
“নীরা! আর কত ঘুমাবি? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেছিস?”
মায়ের চিৎকারে নীরা রহমান চোখ খুলল। ঘুমজড়ানো চোখে বিছানার পাশে রাখা ঘড়িটার দিকে তাকাতেই তার ঘুম একেবারে উধাও হয়ে গেল।
“আল্লাহ! আজকে আমার ইউনিভার্সিটির প্রথম দিন!”
এক লাফে বিছানা থেকে নেমে সে বাথরুমের দিকে ছুটল।
নীরার মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “কাল রাতে তো অনেক বড় বড় কথা বলছিলি! আজ প্রথম দিনেই দেরি?”
বাথরুমের ভেতর থেকে নীরা বলল, “মা, তুমি কি জানো না, প্রতিভাবান মানুষের ঘুম একটু বেশি হয়?”
“তোর প্রতিভা নিয়ে পরে আলোচনা করব। আগে তৈরি হয়ে আয়!”
“আচ্ছা, যাচ্ছি!”
কিছুক্ষণ পর নীরা তৈরি হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। এক হাতে ব্যাগ, অন্য হাতে ফোন। চুলগুলো তাড়াহুড়ো করে বেঁধেছে, আর মুখে দুনিয়ার সবচেয়ে নিরীহ হাসি।
মা তাকে দেখে মাথা নাড়লেন।
“তোর এই হাসি দেখলেই বুঝি, নিশ্চয়ই আবার কোনো কাণ্ড করেছিস।”
নীরা মায়ের গালে চুমু দিয়ে বলল, “আমার মতো লক্ষ্মী মেয়ে পৃথিবীতে আর আছে?”
“আছে কি না জানি না, তবে তোর মতো পাগলি একটাই!”
হাসতে হাসতে নীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।
আজ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন। নতুন ক্যাম্পাস, নতুন বন্ধু, নতুন অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে তার মনে আনন্দের শেষ নেই।
সে জানত না, এই দিনেই এমন একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হবে, যাকে একসময় সে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ বলে ভাববে।
### আহমেদ বাড়ি
শহরের অভিজাত এলাকায় বিশাল একটি বাড়ি। বাড়ির নামফলকে লেখা— আহমেদ ভিলা।
সকালের নাশতার টেবিলে সবাই বসে আছে। শুধু পরিবারের বড় ছেলে আদিব আহমেদের মুখে কোনো হাসি নেই।
সে ফোনে অফিসের জরুরি মেইল দেখছিল।
রায়ান পাশ থেকে বলে উঠল, “ভাই, তুই কি ফোনের সঙ্গে বিয়ে করবি? নাকি আমাদেরও কখনো সময় দিবি?”
আদিব চোখ না তুলেই বলল, “তোর মতো কাজহীন মানুষের সময়ের অভাব নেই। আমার আছে।”
রায়ান বুকের ওপর হাত রেখে বলল, “দাদি! দেখো, তোমার নাতি আমাকে অপমান করছে!”
দাদি সালমা বেগম হেসে বললেন, “তুই একটু চুপ করে খেতে পারিস না?”
“দাদি, এই বাড়িতে আমার সম্মান বলতে কিছু নেই!”
আয়েশা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, “সম্মান অর্জন করতে হয়, ভাইয়া। শুধু চিৎকার করলেই হয় না।”
টেবিলে হাসির রোল পড়ে গেল।
আদিব মুখে বিরক্তির ভাব ধরে রাখলেও ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটে উঠল।
নওরীন আহমেদ ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আদিব, আজ সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে।”
“কেন, মা?”
“তোমার সঙ্গে কথা আছে।”
আদিব এবার মায়ের দিকে তাকাল। “কী কথা?”
আরমান আহমেদ গম্ভীর গলায় বললেন, “তোমার বিয়ে নিয়ে কথা বলতে চাই।”
আদিবের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
রায়ান চুপচাপ নিজের খাবার খেতে লাগল। আয়েশা অবশ্য ভাইয়ের মুখ দেখে হাসি আটকাতে পারল না।
আদিব বলল, “বাবা, এই বিষয়টা নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না।”
নওরীন মৃদু স্বরে বললেন, “আমরা তোমার ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাই না। শুধু চাই, তুমি নিজের জীবনটা নিয়ে ভাবো।”
“আমি ভাবছি, মা। কিন্তু বিয়ে করার জন্য শুধু বয়স যথেষ্ট নয়। এমন কাউকে দরকার, যার সঙ্গে সারাজীবন কাটানোর ইচ্ছা হবে।”
দাদি মুচকি হেসে বললেন, “তাহলে সেই মানুষটার দেখা পেলেই আমাদের জানাস।”
আদিব কোনো উত্তর দিল না।
সে জানত না, তার এই কথার উত্তর খুব শিগগিরই তার জীবনে এসে হাজির হবে।
### বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে
“মামা, একটু তাড়াতাড়ি চালান! আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে!”
নীরা রিকশায় বসে বারবার ঘড়ি দেখছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছেই সে ভাড়া দিয়ে নেমে পড়ল। তারপর ফোনে বন্ধুর পাঠানো লোকেশন দেখতে দেখতে হাঁটতে শুরু করল।
সামনে কে আছে, সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
আর ঠিক তখনই—
ধাক্কা!
“আহ!”
নীরার হাত থেকে ফোনটা পড়ে যেতে গিয়েও একজনের হাতে আটকে গেল।
কিন্তু ধাক্কার কারণে নীরা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল। সে সামনের মানুষটার দিকে হেলে পড়তেই লোকটি দ্রুত তাকে সামলে নিল।
কয়েক সেকেন্ড পর নীরা নিজেকে সোজা করে দাঁড় করাল।
সামনে দাঁড়ানো যুবকটির পরনে কালো শার্ট, হাতে দামি ঘড়ি, আর চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ।
লোকটি ফোনটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “সামনে তাকিয়ে হাঁটতে পারেন না?”
নীরা ফোনটা নিয়ে বলল, “সরি! আমি আসলে একটু তাড়াহুড়োয় ছিলাম।”
“তাড়াহুড়োয় থাকলে কি অন্য মানুষকে ধাক্কা দিতে হয়?”
নীরার ভ্রু কুঁচকে গেল।
“দেখুন, আমি তো সরি বলেছি। ভুল কি মানুষের হয় না?”
“হয়। তবে একটু সাবধানে চললে ভুলটা এড়ানো যায়।”
নীরা মনে মনে বলল, বাহ! লোকটা তো দেখি উপদেশ দেওয়ার কারখানা!
সে কোমরে হাত রেখে বলল, “আপনি কি সব সময় এমন গম্ভীর থাকেন, নাকি আজ বিশেষ কোনো উপলক্ষ?”
যুবকটি ভ্রু তুলল।
“কী রকম?”
“এই যে, মুখটা এমন করে রেখেছেন যেন পুরো পৃথিবীর সব সমস্যার দায় আপনার!”
লোকটি কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল, “আপনার কথা বলা শেষ হলে আমি যেতে পারি?”
নীরার চোখ বড় হয়ে গেল।
“যান! কে আপনাকে আটকে রেখেছে?”
“ধন্যবাদ।”
কথাটা বলেই যুবকটি সামনে এগিয়ে গেল।
নীরা তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল, “অসভ্য! একটা সরি বললাম, তাতেও এত কথা! নিজেকে কী মনে করে?”
কয়েক পা এগিয়ে আবার থামল সে।
“তবে ফোনটা পড়ে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলেছে…”
পরক্ষণেই মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, “না! ভালো মানুষ হলে কেউ এমন ব্যবহার করে?”
তারপর দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়ল।
### অডিটোরিয়াম
কোনোমতে নিজের বিভাগ খুঁজে পেয়ে নীরা অডিটোরিয়ামে ঢুকল। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে।
পেছনের একটি আসনে বসতেই পাশের মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে হাসল।
“তুমি কি নতুন?”
“হ্যাঁ। আজ আমার প্রথম দিন। আমি নীরা।”
“আমি মেহজাবিন। সবাই মেহু বলে ডাকে।”
নীরা হাত বাড়িয়ে বলল, “তাহলে আজ থেকে আমরা বন্ধু!”
মেহু হেসে হাত মেলাল।
“তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, তুমি বেশ চঞ্চল!”
“চঞ্চল না, আমি ভীষণ শান্ত।”
মেহু তার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল।
“হ্যাঁ, সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি!”
ঠিক তখনই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হলো, আজকের অনুষ্ঠানে একজন বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেবেন।
মেহু ফিসফিস করে বলল, “শুনেছি উনি খুবই সফল একজন ব্যবসায়ী। বয়সও বেশি না।”
নীরা অন্যমনস্কভাবে বলল, “ভালো কথা। কিন্তু উনি কি পরীক্ষার প্রশ্ন দেবেন?”
“ধুর! তুই সিরিয়াস হতে পারিস না?”
“আমি খুব সিরিয়াস। শুধু পড়াশোনার ব্যাপারে আমার সিরিয়াসনেস একটু ছুটিতে আছে।”
মেহু মুখ চেপে হাসল।
কিছুক্ষণ পর মঞ্চে একজন যুবক উঠে এলেন।
নীরা প্রথমে খেয়াল করেনি। কিন্তু মেহু যখন তার হাত চেপে ধরে বলল, “এই যে, উনিই সেই অতিথি!” তখন নীরা সামনে তাকাল।
আর তাকিয়েই তার মুখের হাসি উধাও হয়ে গেল।
এ যে সেই বদমেজাজি লোকটা!
যুবকটি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল, “সবাইকে শুভ সকাল। আমি আদিব আহমেদ।”
নীরা মনে মনে চিৎকার করে উঠল, আদিব আহমেদ! নামটা সুন্দর হলেই কী, ব্যবহার তো একেবারে যাচ্ছেতাই!
আদিব নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সাফল্য, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে শুরু করল।
প্রথমে নীরা মনোযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে বুঝতে পারল, লোকটা শুধু গম্ভীরই নয়, কথাও বেশ ভালো বলে।
তার প্রতিটি কথায় আত্মবিশ্বাস ছিল। সে বোঝাচ্ছিল, জীবনে নিজের পরিচয় তৈরি করতে হলে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যেতে হয়।
বক্তব্য শেষে সবাই হাততালি দিল।
মেহু বলল, “কী সুন্দর কথা বললেন, তাই না?”
নীরা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “কথা ভালো। মানুষটা একটু কম গম্ভীর হলে আরও ভালো হতো।”
“তুই উনাকে আগে থেকে চিনিস নাকি?”
নীরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“দুর্ভাগ্যবশত, হ্যাঁ!”
### প্রথম পরিচয়
অনুষ্ঠান শেষে নীরা আর মেহু অডিটোরিয়াম থেকে বেরিয়ে আসছিল।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেল।
“এই যে, মিস তাড়াহুড়ো!”
নীরা থেমে গেল।
ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাতেই দেখল, আদিব তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
নীরা বিরক্ত মুখে বলল, “আপনি আবার!”
আদিব শান্তভাবে বলল, “আমাকে দেখে এত অবাক হচ্ছেন কেন? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার আসার কথা ছিল।”
“তা বুঝলাম। কিন্তু আমাকে আবার ডাকতে হলো কেন?”
“আপনার নামটা জানা হয়নি।”
“জানার দরকারও নেই।”
আদিবের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটল।
“বেশ। তাহলে আপনাকে মিস তাড়াহুড়ো বলেই ডাকব।”
নীরা সঙ্গে সঙ্গে বলল, “আর আমি আপনাকে মিস্টার বদমেজাজি ডাকব!”
পাশে দাঁড়িয়ে মেহু হাসি চেপে রাখার চেষ্টা করছিল।
আদিব বলল, “আপনার নাম না জেনেও আমার একটা নাম দিয়ে দিলেন?”
“আপনার ব্যবহার দেখেই দিয়েছি।”
“তা হলে আপনার নামটাও আপনার ব্যবহার দেখেই ঠিক করতে হবে।”
নীরা চোখ ছোট করে তাকাল।
“মানে?”
“এখনো বুঝিনি আপনি কতটা তাড়াহুড়ো করেন।”
নীরা রাগে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
আদিব এবার হেসে ফেলল।
“আচ্ছা, ভালো থাকবেন, মিস তাড়াহুড়ো। আবার দেখা হবে।”
নীরা দ্রুত বলে উঠল, “দেখা না হলেই ভালো!”
আদিব চলে গেল।
মেহু এবার আর হাসি আটকাতে পারল না।
“নীরা, তোর সঙ্গে তো উনার বেশ ভালোই ঝগড়া হচ্ছে!”
“ভালো কোথায়? লোকটা আমার মাথা গরম করে দিয়েছে!”
“কিন্তু উনি তো হাসছিলেন।”
“সেটাই তো সমস্যা! মানুষকে বিরক্ত করে আবার হাসে!”
মেহু হাসতে হাসতে বলল, “আমার মনে হয়, তোদের আবার দেখা হবে।”
নীরা গম্ভীর মুখে উত্তর দিল, “আমি দোয়া করি, যেন না হয়।”
কিন্তু ভাগ্য তখন নীরার কথা শুনে মুচকি হাসছিল।
কারণ এই পরিচয়টা ছিল কেবল শুরু।
### রাতের ডায়েরি
রাতে নিজের ঘরে বসে ডায়েরি খুলল নীরা।
আজকের দিনটা নিয়ে লেখার অনেক কিছু ছিল। নতুন বন্ধু, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন অভিজ্ঞতা।
কিন্তু কলমটা বারবার একজন মানুষের কাছেই ফিরে যাচ্ছিল।
নীরা লিখল—
প্রিয় ডায়েরি,
আজ আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন ছিল। দিনটা মোটামুটি ভালোই কাটছিল, যতক্ষণ না একজন অদ্ভুত মানুষের সঙ্গে দেখা হলো। নাম আদিব আহমেদ। নিজেকে কী মনে করে কে জানে! প্রথমে রাস্তায় আমাকে কথা শোনাল, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার হাজির!
লোকটা ভীষণ গম্ভীর। কথা বলার সময় মনে হয়, আমাকে এখনই পরীক্ষায় বসিয়ে দেবে।
তবে একটা কথা স্বীকার করতেই হবে—ওর হাসিটা সুন্দর।
কিন্তু তাতে কী? আমি তাকে পছন্দ করি না। একদম না!
শেষ কথাটার নিচে দুবার দাগ টেনে নীরা ডায়েরি বন্ধ করে দিল।
তারপর বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করল।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আদিবের হাসিটা মনে পড়ে গেল।
নীরা বিরক্ত হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে বলল, “উফ! লোকটা আমার মাথা থেকে বের হয় না কেন?”
অন্যদিকে, আহমেদ ভিলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আদিবও দিনের কথা ভাবছিল।
সাধারণত অপরিচিত কারও সঙ্গে এমন খুনসুটি করার অভ্যাস তার নেই। কিন্তু মেয়েটার কথাগুলো মনে পড়তেই তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
“মিস তাড়াহুড়ো…”
পেছন থেকে রায়ানের কণ্ঠ ভেসে এল।
“কী ব্যাপার, ভাই? একা একা হাসছিস কেন?”
আদিব সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে বলল, “কিছু না।”
রায়ান সন্দেহের চোখে তাকাল।
“কিছু না হলে হাসছিস কেন?”
“রায়ান, নিজের ঘরে যা।”
“ওহ! বুঝেছি! ব্যাপারটা গুরুতর!”
“রায়ান!”
“আচ্ছা, যাচ্ছি! তবে ভাবি এলে আমাকে আগে জানাস!”
রায়ান দৌড়ে পালিয়ে গেল।
আদিব মাথা নেড়ে আবার বারান্দার দিকে তাকাল।
সে জানত না, এই মেয়েটি একদিন তার জীবনের প্রতিটি অপেক্ষার কারণ হয়ে উঠবে।
আর নীরাও জানত না, আজ যে মানুষটিকে সে অসহ্য বলে মনে করছে, একদিন সেই মানুষটির একটি ফোনের অপেক্ষায়ও তার মন ব্যাকুল হয়ে উঠবে।
কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় হঠাৎ, কিন্তু তারা মনের মধ্যে জায়গা করে নেয় ধীরে ধীরে। আর কিছু অপেক্ষা শুরু হয়, অপেক্ষা করার কথা বুঝে ওঠারও আগে।
চলবে…!!