__আজ আবারো সেই রাজপ্রাসাদ'এর মতো জমিদার বাড়ি'র সামনে দাঁড়িয়ে আছে, মিরা
মিরা একজন ডক্টর 'রানি'পুর গ্রামে এসেছে,
চিকিৎসা করাতে' জমিদার বাড়ি'র অনেক কথা শুনেছে আগে, তবে তা দেখার ভাগ্য হয়ে উঠে নি' তার কিন্তু আজ এই রানি'পুর জমিদার বাড়ি টা দেখার সৌভাগ্য হলো তার!
বাড়ি টি তে শ্যাওলা ছাতা' পরে গেছে, আজ ২৫ বছর পরে বাড়ি টা খালি!
'মিরা কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে পাশে থাকা বয়স্ক করিম চাচা বলে উঠলো,
,আপনি এখানেই থাকবেন উপরের তালায় একটা রুম পরিস্কার করা হয়েছে, কোন চিন্তা নেই!
মিরা বাড়ি টার দিকে দিষ্টি রেখেই বললো,
,চাচা এই বাড়ি টা খালি কেন? আর রানী মাধুবীর কি হয়েছিলো?
,,বয়স্ক লোকটি আশে পাশে তাকিয়ে বললো,
,মাধুবী রানী যাওয়ার পর থেকে এই বাড়ি ফাঁকা
লোকে বলে আজো নাকি মাধুবী কে এই বাড়ির আশে পাশে দেখা যায়!
,,মিরা ঘার ঘুরিয়ে তাকালো, হেসে বললো,
,কি যে বলেন না চাচা? আচ্ছা কি হয়েছে এই বাড়ি'তে?
,করিম চাচা তারা দিয়ে বললো,
,আযান পরেছে নামাজে যাবো আমি এখন গেলাম আপনি ভিতরে যান'
মিরা খুব ভালো করে বুঝতে পারলো লোকটি কথা ঘুড়াচ্ছে, মিরা কিছু না বলে হ্যা সম্মতি দিয়ে ভিতরে ডুকলো,
,বাহির থেকে যত টা খারাপ দেখা যাচ্ছিলো, ভিতরে তত না খারাপ না, অল্প ময়লা, মিরা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল, কত সুন্দর এই বাড়ি, টা
অন্দর মহলে, একটা দোলনা চোখে পরলো খুব ইচ্ছা হচ্ছে মিরার, একবার উঠতে কিন্তু, চাচা না করেছে, কোন জিনিসে ছুঁতে,
মিরা, হাতের বেগ টা নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলো, নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে চোখে পরলো,
একটা দরজায়, যেখানে বড় করে লেখা আছে,
(রানী মাধুবী) মিরা'র এখন অনেক কৌতুহল হচ্ছে এই ঘর টায় একবার যাওয়ার কৌতুহল না মিটাতে পেরে,
মিরা, দরজা ঢেলে ডুকলো, অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, বিশাল বড় কক্ষ' ময়লা হয়ে আছে' মিরা'র চোখ গেলো ঘাটের নিচে একটি কালো লাগেজ এর দিকে' মিরা, কৌতুহল নিয়ে খুললো,
উপরে একটি সাদা চাদুর চাদুর টা তে রক্ত * লেগে আছে, অবাক করা কান্ড হচ্ছে, রক্ত টা এখনো তাজা'
এটা কি ভাবে সম্ভব? ২৫ বছর আগের জিনিস? এটা?
,,মিরা এতো কিছু না ভেবে, সাদা চাদুর টা সরিয়ে, নিলো, লাগেজ এর ভিতরে এক পাশে একটি কালো, শাড়ি, রক্তে মাখা, একটি বড় রামদা শুকনো রক্ত! লেগে আছে' মিরা শুকনো ঢোক গিলে,
,,শাড়ী টা হাতে নিলো, নাকের কাছে, ঘ্রাণ শুকলো,, কি অদ্ভুত ঘটনা? শারী টা থেকে বেলী ফুলের ঘ্রাণ আসছে!
,মিরা, শাড়ী টা পাশে রেখে লাগেজে'র আরেক পাশে দেখলো, একটি ফটো, মিরা'র দুচোখ ভরে গেলো, মুগ্ধতায়' সে লোকের কাছে শুনেছে, রানী মাধুবী নাকি ভীষণ সুন্দরী রুপুসী ছিলেন, আজ তা প্রথম দেখলো মিরা' তাও আবার ফটো'তে
,মিরা মিনমিন করলো,
,,আসলেই, লোকে ঠিকি বলেছে তুমি অনেক সুন্দরী' যার প্রেমে জমিদার বাড়ির ৩ পুরুষ পাগল হয়ে ছিলো, জানো কি? তোমায় দেখে এখন আমার হিংসা হচ্ছে! ভীষণ '
,মিরা, দেখলো লাগেজ এর আরেক পাশে' একটি ডাইরী' রাখা
আলতো হাতে তুলে নিলো মিরা' উপরে লেখা (রানী মাধুবী) মায়াবী রহস্য)
,মিরা কপাল কুঁচকে নিল, ডাইরি টা বুকের সাথে নিয়ে উঠে গেলো, লাগেজ টা আগের মতো ঠিক
ঠাক করে ঘাটের নিচে রেখে দিলো, হাতে সেই,
মায়াবী ডাইরী টা নিয়ে নিজের রুমের দিকে, গেলো,!
_____ কিছু সময় পর শাওয়ার নিয়ে বের হলো,
মিরা' বিছানায় বসে, ডাইরী টা খুললো, পড়ার জন্য!
______রানী মাধুবী______ সাল টা ছিল ২০০১!
উঠানে' বেতের পাটি'তে বসে মুড়ি মাখা খাচ্ছে, মাধুবী' পাশে তার মা জননী( লতা বেগম) ' বসে কাঁদছে,
কাঁদছে বললে ভুল হবে অভিনয় করছে, অবশ্য মাধুবী এসবে পাত্তা না দিয়ে সে মজা করে খাচ্ছে, মুড়ি!
টিনের দরজার সামনে বসে আছে মাধুবীর নানী, পান বানিয়ে,মুখে দিয়ে, মাধুবীর দিকে তাকিয়ে রাগী কন্ঠে বললো,
,,এ লো মধু, তোর মায় জি কান্নে ' তুই দেহোস না?
,মাধুবী নানীর কথা শুনে, খিলখিল করে হেঁসে বলল,
,রোজ রোজ তোমার মেয়ের, চোখের পানি বিনিহ' কান্না শুনতে শুনতে বোড় হয়ে গেছি, নানী তোমার মেয়ে কে বলো নতুন ভাবে টা-ই করতে'
লতা বেগম ভোরকে গেলেন, মাধুবী মায়ের কানের কাছে, এসে বললো,
,,আম্মা কুয়া থেকে একটু পানি এনে চোখে দেও না হলে সবাই বুঝে যাবে তোমার অভিনয়!
,,লতা বেগম রেগে পাশ থেকে লাঠি টা তুলতেই, মাধুবী হাসতে হাসতে টিনরে' ঘর টায় চলে গেলো,
লতা বেগম, উঠে, মায়ের পাশ গিয়ে বসলেন,
মাধুবীর নানী পানের পানি ফালিয়ে দিতে দিতে বললো,
,তোরে কুমবালাই (কবে) হইচি,মাইয়া ডারে বিয়া দিয়েলা তুই তো শুনলি না! বলি এতো পরিয়ে কি হবে?
,লতা বেগম, উঠে, মাটির চুলার আগুন ধরাতে ধরাতে বললো,
,,আমাকে পড়াও নি বলে কি আমি আমার মেয়ে কে পড়াবো না? আর মাধুর বিয়ে এখন দিচ্ছি না আমি,
,,বয়স্ক মহিলা টি আর কিছু বলল,না
,লতা বেগম, মাছ ভাজতে ভাজতে বললো,
মাহি কে কোথাও দেখেছো মা?
,,মাধুবীর নানী, নাক কুঁচকে বললো,
,কেলা যানে তোর ছোট ছেরি কই গেলো গা? আমারে কি কইয়া যায়?
_____ কিছু সময় পর, মাধুবী, একটি কালো গোল জামা পরে মাথায় ওরনা দিয়ে বের হলো,
রান্না ঘরে আম্মা কে দেখে মাধুবী মুচকি হাসি দিয়ে, পিছ থেকে জরিয়ে ধরলো মাকে, লতা বেগম খুব ভালো করে বুঝলেন এটা কে!
তিনি, মুখ ভোঁতা করে বললো,
,কি হয়েছে কোথায় যাবি?
,
,মাধুবী মায়ের গালে চুমু দিয়ে বললো,
,আম্মা নৌকা দিয়ে শাপলা ফুল তুলতে যাবো, যাই প্লিজ, দেখো মাথায় ওরনা দেওয়া কেউ দেখবে না আমায়,
,লতা বেগম কিছু বলল, না মাধুবী বুঝে গেলো তার না পটে গেছে! মায়ের গালে আবারো চুমু দিয়ে দৌড়ে টিনের গেট টা খুলে চলে গেলো '
(চলবে)
কেমন হয়েচে জানাবেন পরের পাট এর জন্য অপেক্ষা করুন!