ফন্ট সাইজ:
থিম:
রানী মাধুবী

পর্ব 6

লেখক: কেয়া চৌধুরী

______মাধুবী' ঘরে রেডি হচ্ছে ইস্কুল এ যাওয়া লাগবে'মাধুবী সামনে Ssc দিবে'আর মাহি এবার ক্লাস 9 এ পরে! বোন কে রেডি হতে দেখেও মাহি' পাত্তা দিলো না-হ, (ঠাস) করে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো' মাধুবী শান্ত শুরে বললো'
'কি সমস্যা যাবি না-হ?
মাহি আড়মোড়া ভেঙে অলস"ভঙ্গীতে বলল:ভালো লাগছে না আপা আমার মাথা বাথ্যা করছে'! তখনি' হাতে খুচনি' নিয়ে আসলো লতা বেগম' রেগে বললো : কার মাথা বাথ্যা করছে রে মাধুবী? দেখি ঔষধ লাগিয়ে দিচ্ছি'
মায়ের হাতে খুচনি' দেখে দ্রুত বিছানা থেকে নেমে' হাতে বই নিলো! লতা বেগম কড়া গলায় বললো: রাস্তা দিয়ে যাবি মাথা নিচু করে আসবিও মাথা নিচু করে মনে থাকে জেন'
মাধুবী মাহি হ্যা সম্মতি দিলো!
__________ বাঁকা রাস্তায় হাঁটছে মাধুবী মাহি বর্ণা ' মাধুবী চুপ চাপ হাঁটছে ' মাহি বর্ণা বক'বক করছে' মাধুবী সবার সামনে হাঁটতে হাঁটতে আচমকা শক্ত কিছু থাকে ধাক্কা খেলো' মাধুবী নক কুঁচকে কোপাল ঢো'লে তাকালো উপরে, শ্যামলা বর্ণের পুরুষ টি কে দেখে' মাথা নিচু করে ফেললো!
কুমার,বর্ণার দিকে তাকিয়ে বললো:রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এতো কথা বলা লাগে কেন?
বর্ণা ভাই এর গম্ভীর কন্ঠ শুনে মুখ ভোঁতা করে নিলো!
'এই যে মেডাম? আপনি কি জন্মের পর থেকে মাথা তুলে কারো দিকে তাকান না?
,
মাধুবী বেচ্যালা কথা শুনে মাথা তুলে তাকালো' কুমার' চোখ ছোট করে তাকিয়ে আছে,মাধুবীর দিকে! :আপনার নানী জে বলেছিলো ওনাকে নাকি যৌবন কালে মোশা কারম দিতে আসতো তো..আমি কবে দিতে পারবো? মেডাম?
রাএের কথা মনে পরতেই' মাধুবী চোখ বড় বড় তাকালো কুমার এর দিকে' কুমার ঠোঁটে কামর নিয়ে হাসছে' মাধুবী' মুখ ফুলিয়ে বললো: দু'দিন বাড়ি'তে গিয়েই নানীর মতো লাগাম ছাড়া কথা বলা শুরু করে দিছেন?
কুমার হাসলো' শব্দ করে তখনি চোখ গেলো' পিছে, আলভী হেঁটে আসছে, সাথে দু'জন আছে! আলভী কে দেখেই' কুমার তাকালো আবার মাধুবীর দিকে' বর্ণা কে ইশারা দিতেই' সে এগিয়ে এসে তারা'দিয়ে মাধুবী কে সহ তারা তিন জন চলে গেলো!
:কি রে ভাবী চলে গেলো? দেখতেই তো পারলাম না
কুমার বাঁকা হেঁসে হাঁটা শুরু করলো'
রেডিও'ভাঙা দের চাঁদ দেখতে য্যোগতা লাগে'
আলভী'র মুখ টা চুপসে গেলো'
___________ আজ কুমার মাধুবীর বিয়ে'____
গ্রামে বিবাহ যেভাবে হয় __ অনুষ্ঠান ছাড়া' ঠিক সেভাবেই হবে! গ্রামের কয়েক জন বয়স্ক মহিলা উঠানে'বেতের পাটি 'মেলে' বসেছে মাধুবী কে নিয়ে আসলো ' লতা বেগম' মাধুবীর গায়ে'কলা'পাতা রং এর শাড়ী' লম্বা চুল গুলো খোলা' মাটিতে লুটু পুটি' খাচ্ছে! আজ মুখ বেশি উজ্জ্বল হয়ে আছে! নানী দাদী'রা বলে! বিয়ের বাতাশ লাগলে নাকি মেয়ে দের মুখ এমনি'তেই উজ্জ্বল দেখায়!
মাধুবী কে বসিয়ে দিতেই' গ্রামের কয়েক দাদী, হলুদ লাগিয়ে দিলো' মাধুবির গালে হাতে' পায়ে!
তখনি গেট দিয়ে ঢুকলো কুমার 'আর বর্ণা!
হলুদে' বর কে দেখে! শব্দ করে হেঁসে দিলো বয়স্ক দাদী'রা লতা বেগম এগিয়ে গেলো'
কুমার সালাম করে বললো:আম্মা এই শাড়ী, গয়না গুলো পাঠিয়েছে! লতা বেগম হাসি দিয়ে নিয়ে' বললো: যাও গিয়ে বসো
মাধুবীর নানাী কুমার এর হাত ধরে' পান খাওয়া ঠোঁট দিয়ে নিজের হাতে চুমু' দিয়ে কুমার এস গালে লাগিয়ে দিলো' :কি গো জামাই? আর তর' সইছে না নাকি?
কুমার মুচকি হেসে বললো: হুম তোমাকে দেখার ইচ্ছা হচ্ছিলো তাই চলে এলাম'
:এএএ বলি আমি বুড়া মানুষ আরে কি ঘাটে, শুয়াইবা? আদর শোহাক'দিবা?
,কুমার হ্যা সম্মতি দিয়ে মাথা নাড়লো' কুমার এর দিষ্টি মাধুবীর দিকে কি স্নিগ্ধ লাগছে আজ'
মাধুবীর নানী কুমার কে বসিয়ে দিলো' মাধুবী পাশে' এরপর সব' দাদী নানী'রা সহ গেয়ে উঠলো!
_______বন্ধু টিপা টিপা খাইও রে...!
আমার গাছের আম..!
বন্ধু টিপা টিপা খাইও রে...!,
আমার গাছে আম..!,
সুযোগ পাইয়া,দিন দুপুরে দিলাম মলা পাম রে..!, আমার গাছের আম___
মাধুবী লজ্জায় শেষ হায় একি যালা লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে আছে' যেন টিপ দিলেই' রক্ত বেয়ে পরবে!কুমার' মাধুবীর লজ্জা মাখা চেহারার দিকে' তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে' মাধুবী' মাথা তুলে তাকাতে পারচে না-হ!
কুমার' একটু ঝুঁকে ' বললো: আমার দিকে তাকাও!
মাধুবী মাথা তুলে তাকালো' লজ্জাবতী এমন লজ্জা মাখা টমাটুর মতো লাল হয়ে যাওয়া মুখ টা দেখে কুমার আবারো' নতুন করে প্রেমে পরলো"
____________ রাএ প্রায় ১০ টা হলুদ' কিছু সময় আগে শেষ হয়েছে ' মাধুবী'দের আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই' তাই মাধুবীর মা আশে পাশের প্রতিবেশী দের কে দাওয়াত দিয়েছে' বিয়ে পর্যন্ত তারা এই বাড়ি'তে থাকবে' বাচ্চা দের হেই চৈই দিয়ে' ঘর টা মেতে' আছে! আর মাহি এমন ভাবে সেজেগুজে বসে আছে, জেন তারি বিয়ে!
------- তবে এতো সব হেই চৈই এর ভিতরে মাধুবীর মন টা ভালো নেই' সে তার মাকে ছাড়া কেমনে থাকবে? মাধুবী বাহিরে চেয়ারে, বসে আছে' লতা বেগম, এসে মাধুবীর কাছে, বসলো!
মাধুবী মাকে দেখে মায়ের হাঁটুতে মাথা রাখল' লতা বেগম অতি যত্নে মাধুবীর চুলে হাত দিয়ে! দিচ্ছে!
'আম্মা আমি যাবো না কোথাও তোমায় ছাড়া '
লতা বেগম মেয়ের, এমন, অবুঝ কথা শুনে মৃদু হেঁসে বললো: এটা নিয়তি' মেয়েদের' আসল বাড়ি হচ্ছে স্বামীর বাড়ি '
,মাধুবীর চোখ বেয়ে পানি পরে গেলো' অভিমানি সুরে বললো: আমায় ছাড়া থাকতে তোমার কষ্ট হবে না আম্মা?
,,লতা বেগম ' আকাশের দিকে' তাকালো, সে'তো একজন মা! বুক টা ফেটে যাচ্ছে ' বড্ড আদরের তার দুই মেয়ে'
__________________________________________
পরদিন সকাল' মাধুবী, শুয়ে ঘুমাচ্ছে লতা বেগম' সহ আরো কয়েক জন রান্না ঘরে নানা ধরণ' রান্না করছে! লতা বেগম ' মাধুবী কে ডাকতে নিষেধ করছে' মেয়ে টা কাল রাএে দেরি করে ঘুমিয়েছে!
____জামাই আসছে জামাই আসছে, কথা কানে আসতেই, লতা বেগম' মাহি কে বললো, মাধুবী কে ডেকে উঠাতে,, মাহি গেল মাধুবীর রুমে' আজ তার বোন টা চলে যাবে' ভেবেই কান্না পাচ্ছে মাহি" বড্ড বেশি ভালোবাসে বড় আপা কে!
,,মাহি একটা ডাক দিতেই মাধুবী হুড়োহুড়ি করে উঠে বসলো' ওরনা গায়ে দিতে দিতে বললো'
:বেশি দেরি হয়ে গেছে? মাহি,
:না আপা ভাইয়া চলে এসেচে, আম্মা বলেচে গোসল করে আসতা!
মাধুবী একটা নরমাল জামা নিয়ে গোসলে গেলো' কিছু সময় পর চলে আসলো' জমিদার বাড়ির বউ'রা এসেছে, মাঝি রহমান আসে নি!

আলভী ও আসেনি' কুমার এর কাজিন'রা এসেছে, কুমার, এর ফুপি' মাধুবী কে সাজিয়ে দিলো!!
______এতো,সময় হৈই চৈই করা বাড়ি টা মূহুর্তেই কান্নায়, ভোরে গেলো' মাধুবী মাহি কে আর লতা বেগম কে ধরে কাঁদছে সে যাবে কিছু,তেই! কুমার এক পাশে দাঁড়িয়ে নির্বিকার চোখে তাকিয়ে আছে' মাধুবীর সাথে তার নানাী আর মাহি হাউ মাউ করে কাঁদছে! লতা বেগম, এর কলিজা ছিরে যাচ্ছে!
:আম্মা আম্মা আমি যাবো না তোমায় ছাড়া থাকতে পারবো না!
,,লতা বেগম, মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে, শান্তনা দিচ্ছে ;আপা তুমি যেও, আমি আমার আপ কে কোথাও যেতে দিবো না!
লতা বেগম, কুমার কে চোখ দিয়ে ইশারা দিতেই' কুমার এসে মাধুবী কে কোলে তুলে নিলো! মাধুবী মায়ের দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে কাঁদছে '
কুমার মাধুবী কে' পালকিতে' উঠিয়ে দিলো' মাধুবী, পর্দার ফাঁক দিয়ে, লতা বেগম এর দিকে, তাকিয়ে চোখের পানি ফেলছে'
,,পালকিটা' দূরে চলে যেতেই, লতা বেগম, মাটিতে বসে পরল! বড় আদরের মেয়ে তার!
_____________ মাধুবী মাথা নুচে করে কেঁদেই যাচ্ছে ' কুমার এর বুকে গিয়ে লাগছে, প্রয়সির কান্না! : কেঁদো না প্লিজ, আমরা কালকেই যাবো' ও বাড়িতে !
,মাধুবী তাকালো কুমার দিকে, কান্নার ফলে, চোখ দুটো ফুলে, আছে, মাধুবীর: আমাকে দিয়ে আসুন আম্মার কাছে, আমি আমার আম্মা কে ছাড়া থাকতে পারবো না!
বলেই আবারো শব্দ করে কেঁদে দিলো,, কুমার এর সয্য হচ্ছে না কান্না! তার ভীষণ খারাপ লাগছে'
চলব)
পরের পাট এর জন্য অপেক্ষা করুন! নিজের রিভিউ জানান!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 6 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন