______ ঘোড়ার গারি টি থেমে যেতেই' মাধুবী' কেঁপে উঠলো ' পর্দা ফাঁক করে তাকালো'
সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো' অনেক গুলো কালো পোশাক পরা লোক' হাতে ছুড়ি' রামদা' কোদা'ল হয় তো ডাকাত! মাধুবী' গাঁয়ের সাল' টা দিয়ে মুখ ঢেকে নিলো' একজন লোক' বলে উঠলো : এই যা ভিতর থেকে মাইয়া ডারে' নিয়ে আয়!
মাধুবী' ভয়ে' পেটে হাত দিয়ে রইলো' লম্বা ৩০ বছর এর একটা কালো পোশাক পরা লোক টান দিয়ে পর্দা খুলে ফেললো'
লোকটা হেঁচকা টান দিয়ে মাধুবী কে ঘোড়া থেকে নামালো'
: ভাই আপনারা সব নিয়ে যান প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন আমি একজন মা! আমার পেটে বাচ্চা! দয়া করুন '
,,ডাকাত দের সর্দার এগিয়ে এলো' মাধুবী' তাকালো ' মুখে রুমাল দেওয়া' সর্দার এসে মাধুবী'র দিকে ঝুঁকে বললো: আমাদের তোর ডাকাত মনে হচ্ছে? বাহহহ,
,,সর্দার শব্দ করে হেঁসে দিলো' সাথে সব গুলো ছেলেও' মাধুবী'র শরীল শিউড়ে উঠছে'
সর্দার হাসি থামিয়ে বললো: আমরা তোর জম', এই মাইয়া ডারে নিয়া আয়
তখনি দু'জন লোক মাধুবী' কে ধরলো' মাধুবী জোরে চিৎকার করে বললো: আমাকে ধরবি' সর বলছি আমার কুমার তোদের কে জানে মেরে ফেলবে'
ডাকাত গুলো মাধুবী'র এমন চিৎকার শুনে' মুখ চেপে নোংরা ভাষায় বলে উঠলো : এই শালির তেজ* আছে ভাই' নিয়ে এরে সবাই মিলে' ওর তেজ শেষ করে দিবো!
মাধুবী' আল্লার কাছে' বার বার বলছে' তাকে জেন তার কুমার এসে বাঁচিয়ে নেয়!
মুখ চেপে ধরার কারণে মাধুবী অজ্ঞান হারিয়ে ফেললো!
______________________ পিটপিট', করে চোখ খুললো' *
চারদিকে অন্ধকার। মাধুবী দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। তার পেটে হাত। ভেতরের প্রাণটা নড়ছে।
মাধুবী তাকালো পাশে অনেক গুলো ছুড়ি রামদা' পাশে ১২ টা মদ এর বোতল!
বাইরে মুখোশ পরা লোকগুলোর হাসির আওয়াজ। দরজা বন্ধ। কেউ নেই তাকে বাঁচানোর।
মাধুবী ফিসফিস করে বললো,
"তুই ভয় পাস না মা আছি তো... তোর মা আছি..."
তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, কিন্তু চিৎকার করার শক্তিটুকুও নেই। শুধু বুকের ভেতর থেকে একটা চাপা কান্না বের হচ্ছে—
"আল্লাহ... আমার বাচ্চাটাকে দেখো... আমাকে না, আমার বাচ্চাটাকে..."
সে পেটটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে সে একা, একদম একা। তার কান্নার আওয়াজ দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে আবার তার কাছেই ফিরে আসছে। কেউ শুনছে না।
______ হঠাৎ মাধুবী'র পেটে' শিশু টা নড়ে উঠলো' হয় তে শিশু টাও ভয় পাচ্ছে ' মাধুবী পেটে হাত দিয়ে ' অসহায় কাঁপা কন্ঠে বললো
:হে খোদা, আমার নিষ্পাপ শিশুটাকে বাঁচাও… ও তো কোনো পাপ করেনি!
আল্লাহ রে… ও তো নিষ্পাপ একটা প্রাণ, ওর এত কষ্ট কেন?
হে আল্লাহ, আমার বাচ্চা টা কে বাঁচাও!
খোদা গো, আমার ছোট্ট শিশুটার প্রাণটা তোমার রহমতে আগলে রেখো…!
______ হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ হলো' মাধুবী ' পা' গুটিয়ে বসলো' শাড়ির আঁচল টা টেনে মুখে দিল ভালো করে'
এক এক করে ১২ জন পুরুষ ঢুকল' মাতাল অবস্থায়! তারা মাধুবী কে ভয় পেতে দেখে' উচ্চস্বরে হাসলো'
: সুন্দরী এতো ভয় পেলে কি হবে? আমাদের কেও একটু খে* দাও
____ এমন নোংরা কথা শুনে মাধুবী'র শরীল ঘি'ঘি' করে উঠলো'
ডাকাত দের সর্দার হাতে বিড়ি' যালিয়ে বললো: যা আগে ছাওয়াল টারে শেষ কর'
অনুমতি পেয়ে' দু'জন এগিয়ে আসলো' মাধুবী হাতের কাছে' একটা' বতল পেয়ে' ছুড়ে মারলো!
: আমার কাছে আসবি না খোদার কসম', আমার বাচ্চার কিছু হলে তোদের সব কয়টার গর্দান নিবো!
: আরে দেখ মা*গি*র সক কত', ধর ওরে আজকে হাই*রা ফেলমু!
"" দু'জন দু'পাশ থেকে মাধুবী'র হাত ধরলো' মাধুবী' কাঁদছে ' চিৎকার করে আল্লাহ কে ডাকছে' আফসোস আজ কেউ আসছে না তাকে বাঁচাতে! কই তার কুমার?
কুমার কি বুঝতে পারছে না তার চন্দ্রাবতী' ভালো নেই' তার সব শেষ করে ফেলছে' এই জানোয়ার গুলো!
_______ মাধুবী' মাটিতে বসে আছে' তার দু'হাত দু'জন জানোয়ার' ধরে রেখেছে' তখনি মাধুবী' ব্যথা উঠলো' মাধুবী' ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার দিলো!,
মাধুবী আর্তনাদ করে বলল : ভাই তোদের পায়ে পরি আমারে ছাড়' আমার বাচ্চা টা এখনি আসবে!
কিন্তু আল্লাহ জেন আজ মাধুবীর সহায় হচ্ছে না-হ! মাধুবী' চিৎকার করছে',পাষাণ লোক গুলো আরামে বসে আছে!
'' মাধুবীর পেটে' ছিন' ছিন ব্যথা হতেই মাধুবী দেখলো ' রক্ত বের হচ্ছে ' তা দেখে মাধুবী চুলে ধরে ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার করলো:জানোয়ার এর বাচ্চা তোদের ভিজ* কেটে আমি কুত্তা দিয়ে খাওবো খোদার কসম আমার সন্তান কে মেরে ফেললি তোরা
__________ তখনি ঘটে গেলো', এক অদ্ভুত ঘটনা' মাধুবী' উঠে' দাঁড়িয়ে পরল' পিছের ছেলে দের জায়গা মতো লাথি দিলো'' সঙ্গে সঙ্গে ছেলে গুলো মাটিতে পরে গেলো' মাধুবী সমানে ফিরলো' বে'তের দরজা খুলে গেলো' জানালা ধাক্কা দিয়ে বাড়ি খাচ্ছে ' বাতাশে মাধুবী'র চুল উরছে' মুখে থাকা আঁচল আর নেই' লম্বা চুল গুলো খুলে গেছে!, রাগে চোখ জোরা লাল হয়ে আছে!
_________ সামনে ছেলে গুলো দাঁড়িয়ে আছে' ডাকাত এর সর্দার হাত দিয়ে সরিয়ে' তাকিয়ে রইলো' আচমকা ঠোঁট ফাঁক করে বলে উঠলো '
::,সুবহানাল্লাহ একি মেয়ে? নাকি পূর্ণিমার চাঁদ
_____ মাধুবী' কে উঠতে দেখে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে গুলো দৌড়ে গেলো' ধরতে' কিন্তু মাধুবী ' এখন যেন আর সাধারণ মেয়ে নয়! তার ভিতর এক সন্তান হারা' মায়ের আত্মা জন্ম নিয়েছে!
_____ মাধুবী' পাশের' পরে থাকা রামদা' গুলোর কাছে গিয়ে দ্রুত এক হাতে রামদা' আরেক হাতে মদ এর বতল নিলো!,
একজন এগিয়ে আসতেই' মাধুবী' মদ এর বোতল টা দিয়ে মাথায় একটা বাড়ি দিলো', সঙ্গে সঙ্গে ছেলে টা ফুঁপিয়ে উঠলো!
আরেক টা ছেলে আসতই' মাধুবী হাতের' রামদা' টা দিয়ে একটা আঘাত করল! সাথে সাথে ছেলে টি মাটিয়ে লুটিয়ে পরলো ' মাথা আলাদা হয়ে আছে!
মাধুবী' এমন অগ্নি রুপ দেখে' বাকি ৭ টা পুরুষ হাঁটু গেরে বসে পরলো মাথা নিচু করলো!
শুধু সর্দার মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে!, কি অলৌকিক ঘটনা একটি নাড়ী' ১২ জন পুরুষ কে নিজের শিকার করল!!
সর্দার প্রেমে পরেছে' মাধুবীর মায়াবী রূপে!
মাধুবী ' কাঠের তৈরি চেহারে বসে' সবার দিকে' তাকিয়ে বলে উঠলো : শুনে রাখ' আমি মাধুবী' আজকের পর থেকে আমি এই গ্রামে কোন মায়ের কোল খালি হতে দিবো না! অত্যাচারি যদি হয় তোদের মতো' জোনোয়ার তাহলে আমি গর্দান নিতে একবার ভাববো না!
বলেই' মাধুবী' উঠে দাঁড়িয়ে সঙ্গে দু'হাতে রামদা দিয়ে! ৭ টি পুরুষ এর মাথা আলাদা করে ফেলল! র* এসে মাধুবীর মুখে পরলো!
এই মুহূর্তে মাধুবী কে দেখতে ভীষণ ভয়ংকর লাগছে! যেন এক অগ্নিকন্যা!
_________ সর্দার ঠোঁট ফাঁক করে তাকিয়ে রইলো!, কী অদ্ভুত অলৌকিক ঘটনা! একটি নারী'র সামনে ৭ জন পুরুষ মাথা নিচে করে বসে ছিলো! আবার' ১১ জন পুরুষ কে খু* করলো! এক নিমিশে!
_________ মাধুবী হাতের রামদা টা' ফেলে নিলো' টুং টুং' শব্দ ঘর কাটে আরো ভয়ংকর করে তুলছে! মাধুবী' কোন দিকে না তাকিয়ে' ঘর থেকে বের হলো' ফজরের আযান শুনা যাচ্ছে! মাধুবী' লম্বা চুল গুলো বাঁধতে বাঁধতে চলে যাচ্ছে! সর্দার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছে!
__________, গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে মাধুবী' গম্ভীর মুখে কোন দিকে না তাকিয়ে! আশে পাশের লোক'জন আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে !
রক্ত মাখা' কালো শাড়ী তার 'রক্তের জন্য মুখ ভালো করে দেখা যাচ্ছে না!
( এই মুহূর্তে একটা জেন আনমনে একটা গান বেজে উঠলো!
( মাধুবী 'লতা আমি) গান!♪
_________________________
মাধুবী' জমিদার বাড়ি'তে আসতেই! এক গমর বাতাশ বয়ে গেলো! নীল পুকুর এর সাথে দিয়ে যাওয়ার সময়' পানি গুলো গোল হয়ে ঘুরল! মাধুবী ' একবার তাকালো মায়াবী ঘরের দিকে' আবার চোখ সরিয়ে গম্ভীর মুখে' জমিদার বাড়ি'র দিকে গেলো!,
_____________________, এদিকে' কুমার' পাগল এর মতো হয়ে আছে! সারা মহল' ভরে চিৎকার চেঁচামেচি করেছে! ফুলমতী বাড়ি থেকে খুঁজে এসেছে! মাধুবী যায় নি কুমার পুরো গ্রাম খুঁজেছে মাধুবী কে পায় নি!
___________________ মাধুবী' রক্ত মাখা শরীল টা নিয়ে' অন্দর মহলে এসেই' (ঠাস) করে পরে গেলো!,
ইন্দু আওয়াজ শুনে রান্না ঘর থেকে বের হলো!, মাধুবী কে এই অবস্থা দেখে! বাড়ি কাঁপিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো:, খালা আম্মা ভাই জান কই আপনারা দেখেন বউ মনি এসেছে কি হয়েছে আল্লাহ!
___________ কুমার' মাধুবী'র কথা শুনে' মাধুবী'র শাড়ি টা রেখে' দৌড়ে আসলো' মাধুবী কে পরে থাকতে দেখে!, দ্রুত পায়ে গেলো,!
মাধুবী'র মাথা কোলে নিয়ে অস্থির কণ্ঠে বললো: বউ বউ কি হয়েছে তোমার উঠো',
কুমার মাধুবী কে কোলে করে রুমে নিয়ে গেলো!
_____________________________ মাধুবী ' পিটপিট করে চোখ খুললো' পরিচিত কক্ষ দেখে! ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো! কুমার, মাধুবী'র মাথায় হাত দিয়ে বললো: চন্দ্রাবতী কেঁদো না কি হয়েছে তোমার? কই ছিলে জানো আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম আর তোমার শরীলে ওই রক্ত কিসের?
মাধুবী' উঠে বসলো' পাশে তাকিয়ে দেখলো' কুমার' বর্ণা মালিহা' বেগম' মেহের' আহিয়া সহ দাঁড়িয়ে আছে!
_________ মাধুবী সময় নিয়ে সব বললো
'' বাড়ির সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো' মহিল বেগম' প্রশান্তির হাসি দিলেন ! যেন তিনি এমন একজন কে খোদার কাছে চেয়েছিলেন!
কুমার' এর চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো! হাত মুষ্টি বন্ধ করলো!
মাধুবী ' কুমার এর হাত ধরে বললো: আমায় ক্ষমা করে দিন কবি সাহেব আমি আপনার বাচ্চা কে রক্ষা করতে পারিনি! তার ও প্রাপ্য ছিলো একটা সুন্দর জীবন এর কিন্তু আমি দিতে পারি নি!
_____ কুমার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো : তুমি কেদো না এখানে তোমার কোন দোষ নেই! তুমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছো!
মাধুবী' চোখ মুছে বললো: নানী এখন কেমন আছে?
: তোমার নানীর কিছু হয় নি ওটা ভুল খবর ছিলো!
:কি (অবাক হয়ে)
: হুম আমি দেখছি ব্যাপারটা তুমি রেস্ট নাও!
_________ বলেই কুমার উঠে চলে গেলো!, মালিহা বেগম মাধুবী'র পাশে বসে' মেহের কে উদ্দেশ্য করে বললো : ধুদ টা নিয়ে আসো! খেলে ভালো লাগবে!
! মেহের চলে গেলো ' মালিহা বেগম মৃদু হসে বললো: আজ আমি অনেক খুশি' তুমি এতো বড় সাহস এর পরিচয় দিয়েছো! আর কোন ভয় নেই!
মাধুবী ও মৃদু হাসলো' মাধুবীর মনে অন্য কিছু চলছে' এটা যে ডাকাতি ছিলো না তা সে বুঝতে পেরেছে! এটা সড়যন্ত্র কিন্তু এমন কাজ করলে কে?৷ প্রথমে লতা বেগম এর মাথা' কা* এখন এই ঘটন আবার এই বাড়ির অদ্ভুত জিনিস এই রহস্যর মানে কি??? সব জেন এক সুতায় বাঁধা কিন্তু ' সেটা এখনো বুঝতে পারছে না সে!
________________________________________
বর্তমান ____________
মিরা'র চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরলো' কি ভয়ংকর জীবন! মিরা' ডাইরী টা নিয়ে আবারো সেই রানী মাধুবী'র ঘরে গেলো! ঘর টায় এখনো কেমন বেলী ফুলের ঘ্রাণ আসে!,
মিরা' এক হাতে মাধুবী'র বিছানায় হাত দিলো! পচে গেছে! বিছানা! মিরা'র চোখ থেকে দু’ফোটা পানি গরিয়ে পরলো! মিরা' বির'বির করল' :: আমি জদি তোমার জীবনের এর লেখিকা হতাম তাহলে তোমার জীবন টা বদলে দিতাম রানী মা!
__________ মিরা' বিছানার নিচ থেকে ' সেই কালো লাগেজ টা বের করলো! খুললো!
শাড়ী টা নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রাণ শুকে নিলো! পাশে! সেই ছবি টা!
তখনি' বাহির থেকে নুপুর এর শব্দ এলো! মিরা' সাথে সাথে লাগেজ রেখে! বারান্দায় গেলো! নীল পুকুর টায় তাকালো! মনে হচ্ছে কেউ মাএ পানি থেকে উঠেছে! মিরা' শুকনো ঢোক গিলে! চোখ সরিয়ে নিলো! এক সেকেন্ড এর মাথায় আবার তাকালো!
নিরা' বারান্দায় ঝুকে' ভালো করে দেখলো' কেউ নেই কিন্তু তার মনে হচ্ছে সে কালো শাড়ী পরা কাউকে দেখলো???,
_________ মিরা বারান্দায় থেকে চলে এলো! রুমে যেতে যেতে ভাবলো!
: রানী মাধুবী এখন কোথায় ???
চলবে)
নিজের রিভিউ জানান! রোজ রাএ ৯ টায় পাট দিবো