ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক অদ্ভুত ভালবাসা

পর্ব 1

লেখক: তারা মির্জা

—কি তোমার নাম নুনু....?
নূরারীর চোখ ইয়া বড় বড় হয়ে গেল কী বলে, তার নাম নুনু হতে যাবে কেন? (মনে মনে হে আল্লাহ আমার নামটা কি বানিয়ে দিলো)
সামির আবার বলে উঠল,
—মেয়েদের নাম নুনু হয়? আমি তো জানতাম ছেলেদের থাকে নু....
আর বলতে পারল না, তার আগেই মৃন্ময় বলে উঠল
—সামির জাস্ট শাট আপ, এই মেয়ে যাও এখান থেকে এত টাইম নেই তোমার বকবক শোনার।
আশ্চর্য নূরারী কি আটকিয়ে রেখেছে নাকি? চলে তো যাচ্ছিলো তারা তো নাম জিজ্ঞেস করল, আবার ধমকাচ্ছেও!
নূরারী মনে মনে দুইটা গালি দিয়ে, মৃন্ময়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
—এই যে হুনেন আমি এই মেয়ে না, আমার সুন্দর নাম আছে #নূরারী_শিকদার। আর এই নূরারীর সাথে কেউ উঁচা গলায় কথা কয় না, আর আপনে আমারে বিনা দোষে ধমক দিলেন আপনের শাস্তি তুলা রইলো সুদে-আসলে ফিরত দিয়াম।
এই বলে এক দৌড়ে চলে গেলো নূরারী,
—মৃন্ময়, মেয়েটা একদম পুতুল, তাই না বল? আর এত সুন্দর নাম তাহলে প্রথমে নু.....
—আর একটা কথা বলবি, তোকে এখানে রেখে চলে যাব।
—আরে, তুই আমাকে ধমকাচ্ছিস কেন, মৃন্ময়? একটু আগে মেয়েটাকেও ধমকেছিস, মেয়েটার কোনো দোষ ছিল না। আর তোর তো সব সময় বাজখাঁই..
আরও কিছু বলতে যাবে তার আগেই দেখে মৃন্ময় চলে যাচ্ছে, সামির পিছনে দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসে।
গাড়িতে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছিলো না। তাই বাইরে বের হয়ে কারো সাথে কথা বলছিলো মৃন্ময়। আর এর মাজে ঘটে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
সামির বসতেই মৃন্ময় আবার গাড়ি স্টার্ট দিল,
সামির সারা রাস্তা বকবক করতে থাকল, এটা তার স্বভাব মৃন্ময় কে জালানো, আর সে কখনো চুপচাপ থাকতে পারে না। কিছুক্ষণ পরে তারা এসে গেলো তালুকদার ভিলার সামনে।
তালুকদার ভিলা
______০_______
তালুকদার ভিলা
______০_______
দীর্ঘ ১৫ বছর পর নিজ গ্রামে ফেরলো তালুকদার বাড়ির নাতি।
সুলতান তালুকদার। তালুকদার বাড়ির বড় কর্তা,
তার বেগম আমেনা খাতুন।
তাদের তিন ছেলে এক মেয়ে, সবারি বিয়ে হয়ে গেছে।
বড় ছেলে আফিকুল তালুকদার, তার স্ত্রী নাম শিরীন।
তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে,
বড় ছেলে আসিফ তালুকদার, তার বিয়ে হয়ে গেছে। স্ত্রী নাম রিমঝিম।
মেজো ছেলে শায়ন তালুকদার,ছোট্ট মেয়ে শায়নী তালুকদার।
আমেনা খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে,
সায়ফুল তালুকদার, তার স্ত্রী মধুমিতা তালুকদার।
তাদের এক ছেলে মেয়ে,
#মৃন্ময়_তালুকদার
#মায়া_তালুকদার
আমেনা খাতুনের তৃতীয় ছেলে,
তৌফিক তালুকদার, তার স্ত্রী জেসমিন।
তাদের দুই মেয়ে এক ছেলে,
বড় মেয়ে সেঁজুতি, জমজ ছেলে মেয়ে জিহাদ,জুথী।
আমেনা খাতুনের ছোট্ট মেয়ে,
মোছাঃ আফিয়া সিকান্দার, স্বামী সাইমান সিকান্দার।
তাদের এক ছেলে মেয়ে,
#সামির_সিকান্দার
"আনিশা সিকান্দার
.
তালুকদার ভিলার সামনে এসে গাড়িটা থামালো মৃন্ময়,
দারোয়ান গেট খুলে দিতেই মূল গেট দিয়ে ল্যাম্বরগিনি গাড়িটা একদম পার্কিং লটে দিকে নিয়ে যায়।
.
মধুমিতা: আপা ওরা তো এখনো আসছে না। সে কখন বললো তারা গ্রামের রাস্তায় আছে,এখনো আসছে না কেন? কতবার বললাম তর বাবা বা অন্য কাউকে পাঠাই না করে দিলো,বলে দরকার নেই কারো,কষ্ট করে আসার কোনো মানে হয় না! আমরা একাই আসতে পারবো,আমরা ছোট্ট বাচ্চা না যে পথ ভুলে হারিয়ে যাব! এতো দিন পর আসছে তাকে আনতে গেলে নাকি কষ্ট হবে।
শিরীন: আহ্ মেজো এতো চিন্তা করিছিস কেনো? একটু পরে এসে পরবে তারা,তখন না হয় একটু বকে দিবি কেমন।
জেসমিন: তখন কি আর বকা দিতে পারবে আপা,কেঁদেই তো কুলপাবে না। সকাল থেকে তো দুই আপা মিলে কান্না করছে,আবার ছেলেদের জন্য পছন্দের রান্না করছে।
আফিয়া: কি করবো ভাবি বলো,মনতো আর মানছে না কখন ছেলেটাকে দেখবো চোখ দুটি খাঁ-খাঁ করছে দেখার জন্য।
জেসমিন: জানি তো,আমরাও তো অপেক্ষায় আছি! তারা এখনি মনে হয় এসে পরবে।
মধুমিতা: আমার পায়েস রান্না শেষ,তোমার চিংড়ির মালাইকারি রান্না কি শেষ হলো আফিয়া,বড় আপা তোমার মাংস রান্না কতদূর।
আফিয়া: এইতো শেষ এখন নামিয়ে নিবো।
শিরীন: আমার রান্নাও শেষ এখন সব টেবিলে গুছালে কাজ শেষ।
চার জাঁ আর ননদ মিলে মিশে টেবিলে সব রান্না করা খাবার সজাছে,সারা টেবিল ভর্তি নানা রকম রান্না,পুরো বাড়ি গন্ধে "ম-ম" করছে! মনে হচ্ছে এখনি খাবারের উপর হামলে পরবে সবাই। বাড়ির কর্তারা এক সাথে বসে চা খাচ্ছে আর খুস গল্পে মেতে আছে, ছোট্টরা সবাই টেবিলে সাজানো দেখচ্ছে আর খাবারের ঘ্রাগ নিচ্ছে।
তখনি বাইরে গাড়ির শব্দ পায়,
আফিয়া: তারা মনে হয় এসে গেছে ভাবি।
সবাই শব্দ পেয়ে বাইরে দিকে যেতে অগ্রসর হয়,এতো বছর পর তালুকদার ভিলায় যেন প্রান ফিরে এলো,
তারা বাইরে গিয়ে দেখে গাড়ির ডোর খুলে মৃন্ময় আর সামির বেরিয়ে আসছে।
তারা কাছে আসতেই মৃন্ময় তার মাকে জরিয়ে দরে,
সামির তার মা কে জরিয়ে নেই,
সবার মাঝে কান্নার রোল পরে যায়,এটা দূঃখের না খুশির কান্না,
মৃন্ময়ের মা অভিমানি গলাই বলল,
—তর এতো দিন পর মনে পরলো মায়ের কথা,কতোবার বলার পরো আসলি না।
সয়ফুল: এখনে কি বকাঝকা দিবে নাকি! আগে ভিতরে নিয়ে যাও এতোটা রাস্তা র্জানি করে এসেছে।
সামির: হে মামা ঠিক বলেছো! আর খিদে পেটে চোঁ-চোঁ করছে,আম্মু তারাতাড়ি চলো তুমার ছেলে খিদের জালায় কিছুখনের মধ্যে শুকিয়ে যাবে।
সবাই সামিরের কথা শুনে হেসে দেয় এবং সবাই একসাথে বাড়ির ভিতরে চলে যায়।
প্রথমে দাদা,দাদী কে সালাম করে মৃন্ময় আর সামির, তারপর বড়দের সবাইকে সালাম করে কুশল বিনিময় করে।
আফিকুল: যাও বাবা! আগে তোমরা ফ্রেশ হয়ে এসে খেয়ে নাও,তার পর গল্প করা যাবে।
মৃন্ময় আর সামির আচ্ছা বলে! ফ্রেশ হতে চলে যায়। তাদের জন্য আলাদা করে ঘড় গুছিয়ে রেখেছে, বাড়ির কাজের লোক গাড়ি থেকে লাগেজ এনে তাদের রুমে রেখে যায়, মৃন্ময় একটা লম্বা শাওয়ার নেওয়ার জন্য বাথরুমে চলে যায়।
সামিরও গোসল করার জন্য লাগেজ থেকে কাপড় বের করতে নেয় তখনি রুমে ঢুকে আনিশা।
আনিশা: কিরে ভইয়া তর লাগেজে কি আছে! দেখা আমার জন্য কি গিফট এনেছিস।
সামির: এএহ্! আসছে,তোর জন্য কোন দুঃখ গিফট আনবো! আর আনলেও কি আমি রুমে নিয়ে আসবো নাকি, বাড়ির সবার জন্য গিফট আনা হয়েছে যা দেখ গিয়ে।
গিফট মানেই খুশি,
এই খুশিতে আনিশা সামিরকে জরিয়ে ধরে বলে, লাভ ইউ ভাইয়া।
—যে শুনেছিস গিফট এনেছি ওমনি ভালাবাসা বেড়ে
গেলো।
—তোমায় আমি ভালোবাসি না বলছো,(কাঁদো কাঁদো করে বললো আনিশা)
সামির: হয়ছে,আর ডাং করতে হবে না! যা এখন আমি ফ্রেশ হবো।
আনিশা চলে গেলে সামিরও ফ্রেশ হতে চলে যায়।
অন্যদিকে..
নূরারী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বট গাছটার এদিকে যেতে থাকে,
আজকে ওই হারামি গুলোকে ছারবে না। তাকে একা ফেলে আশা মজা বুঝাবে।
চলবে...।
কপি করা নিষিদ্ধ ❌
( আগে বলে রাখি, আমি হুট করে গল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি না। সব সাজিয়ে গুছিয়ে ধিরে ধিরে এগিয়ে নিয়ে যাবো উপন্যাসটা, তাই সবাই ধৈর্য ধরে পড়বেন। আর সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন তাহলে পরের পর্ব তারাতাড়ি দিবো। 🥰 )

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন