সকালে ধীরে ধীরে সূর্য উঠে আকাশে সোনালি আলো ছড়িয়ে দিচ্ছিল। চারদিকে পাখির মিষ্টি ডাক শোনা যাচ্ছিল। নতুন দিনের শুরুতে প্রকৃতিও যেন নতুন করে সেজে উঠেছিল।
মায়া তখন নিজের ঘরে বসে স্কুলের বই গুছিয়ে নিচ্ছিল। মায়া দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে বেশ শান্ত স্বভাবের মেয়ে।
অন্যদিকে তার ছোট বোন মাহি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। মাহি খুব চঞ্চল এবং দুষ্টুমি করতে ভালোবাসে।
মাহি ঘরে এসে বলল,
— আপু, তুমি এখনো তৈরি হওনি?মাহি বলল,
— প্রতিদিন তোমার জন্য স্কুলে দেরি হয়!
মায়া হেসে বলল,
— বেশি কথা না বলে নিচে যা।
দুই বোন নাশতা শেষ করে স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল।
স্কুলে পৌঁছে মায়া নিজের ক্লাসে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর স্কুলের ঘণ্টা বেজে উঠল।
ঠিক তখনই একজন নতুন শিক্ষক ক্লাসে প্রবেশ করলেন।শিক্ষক বললেন,
— গুড মর্নিং, স্টুডেন্টস।
সবাই উত্তর দিল,
— গুড মর্নিং, স্যার।
শিক্ষক বললেন,
— আজ থেকে আমি তোমাদের নতুন শিক্ষক। আমার নাম রাশেদ।
ঠিক তখনই দরজায় একজন নতুন ছাত্র এসে দাঁড়াল।
শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন,ছেলেটি উত্তর দিল,
— জি স্যার, আমার নাম আরিয়ান।
এভাবেই শুরু হলো একটি নতুন দিনের গল্প।
দ্বিতীয় অধ্যায়: নতুন ছাত্র আরিয়ান
আরিয়ান ক্লাসে প্রবেশ করে পেছনের একটি বেঞ্চে বসে পড়ল। সে খুব বেশি কথা বলত না।
শিক্ষক বললেন,
— সবাই নিজের পরিচয় দাও। নতুন বন্ধু এসেছে, তার সঙ্গে পরিচিত হওয়া দরকার।
এক এক করে সবাই নিজের পরিচয় দিতে লাগল।
মায়ার পালা এলে সে বলল,
— আমার নাম মায়া। আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি।
আরিয়ান চুপচাপ শুনছিল।
ক্লাস শেষে আরিয়ান বাইরে বেরিয়ে গেল। মায়া তার বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলতে লাগল।
বান্ধবী বলল,
— নতুন ছেলেটা বেশ চুপচাপ, তাই না?
মায়া বলল,
— হ্যাঁ, মনে হয় একটু কম কথা বলে।
অন্যদিকে আরিয়ান স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে চারপাশ তৃতীয় অধ্যায়: মাহির দুষ্টুমি
টিফিনের সময় মাহি দৌড়ে মায়ার ক্লাসে এল।
— আপু!
মায়া বলল,
— কী হয়েছে?
মাহি বলল,
— আজ আমাদের ক্লাসে নতুন একজন ছাত্রী এসেছে।
মায়া বলল,
— তাই নাকি? নাম কী?
— নাম নীলা। খুব ভালো মেয়ে।
মায়া হেসে বলল,— তাহলে তো ভালোই হলো।
মাহি মায়ার ব্যাগ থেকে চকলেট বের করে নিল।
মায়া বলল,
— এই! আমার চকলেট নিচ্ছিস কেন?
মাহি দৌড়ে পালিয়ে গেল।
মায়া হাসতে হাসতে তার পেছনে গেল।
চতুর্থ অধ্যায়: প্রথম কথা
পরের দিন সকালে মায়া স্কুলে এসে লাইব্রেরিতে গেল।
একটি বই খুঁজতে গিয়ে দেখল, আরিয়ানও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।
মায়া বলল,
— আপনি কি এই বইটা খুঁজছেন?
আরিয়ান বলল,
— হ্যাঁ। তবে আপনি আগে নিতে পারেন।
মায়া বলল,
— না, আপনি নিন।
আরিয়ান মৃদু হেসে বলল,
— ধন্যবাদ।
এটাই ছিল তাদের প্রথম সরাসরি কথা।
পঞ্চম অধ্যায়: নতুন বন্ধুত্ব
কয়েক দিন পর স্কুলে একটি দলীয় কাজ দেওয়া হলো।
শিক্ষক বললেন,
— তোমরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করবে।
মায়া, আরিয়ান ও আরও কয়েকজন একই দলে পড়ল।
আরিয়ান বলল,
— আমরা কাজটা ভাগ করে নিলে সহজ হবে।
মায়া বলল,
— ঠিক আছে। আমি লেখার অংশটা করি।
এভাবেই তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়তে লাগল।
ষষ্ঠ অধ্যায়: স্কুলের অনুষ্ঠান
স্কুলে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হলো।
মাহি খুব খুশি হয়ে মায়াকে বলল,
— আপু, আমি নাচে অংশ নেব!
মায়া বলল,
— খুব ভালো। মন দিয়ে প্রস্তুতি নিস।
আরিয়ানও অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্ব পেল।
সবাই মিলে অনুষ্ঠানটি সুন্দর করার পরিকল্পনা করতে লাগল।
সপ্তম অধ্যায়: বৃষ্টিভেজা দুপুরএকদিন স্কুল ছুটির সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো।
মায়া স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
আরিয়ান এসে বলল,
— বাসায় যাবেন না?
মায়া বলল,
— বৃষ্টি একটু কমলে যাব।
আরিয়ান বলল,
— আমিও অপেক্ষা করছি।
দুজনেই চুপচাপ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইল।
অষ্টম অধ্যায়: মাহির নতুমাহি ও নীলা এখন খুব ভালো বন্ধু।
একদিন মাহি বাড়িতে এসে বলল,
— আপু, আজ নীলা আমাদের বাসায় আসবে।
মায়া বলল,
— ঠিক আছে। মাকে বলে দিস।
সেদিন বিকেলে নীলা তাদের বাসায় এল। তিনজন মিলে গল্প করতে লাগল।
নবম অধ্যায়: একটি ভুল বোঝাবুমায়া বলল,
— কিছু হয়নি।
আরিয়ান বুঝতে পারল, কোথাও একটা ভুল হয়েছে।
দশম অধ্যায়: সত্যের সন্ধান
আরিয়ান জানতে পারল, তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করেছে অন্য একজন।
সে মায়াকে সব খুলে বলল।
মায়া বলল,
— তাহলে এতদিন আমি ভুল বুঝেছিলাম?
আরিয়ান বলল,
— সব কথা না জেনে কাউকে ভুল বোঝা ঠিক নয়।
মায়া নিজের ভুল বুঝতে পারল।
একাদশ অধ্যায়: পরিবারের গল্পএক সন্ধ্যায় মায়া ও মাহি বসার ঘরে বসে গল্প করছিল।
মা এসে বললেন,
— তোমরা দুই বোন সব সময় একে অপরের পাশে থাকবে।
মাহি বলল,
— আমি তো আপুকে ছাড়া থাকতেই পারব না!
মায়া মাহিকে জড়িয়ে ধরে হাসল।
দ্বাদশ অধ্যায়: পরীক্ষার প্রস্তুতিপরীক্ষা সামনে চলে এসেছে।
মায়া পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
মাহি এসে বলল,
— আপু, আমাকে অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও।
মায়া বলল,
— বই নিয়ে বস। বুঝিয়ে দিচ্ছি।
অন্যদিকে আরিয়ানও নিজের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
ত্রয়োদশ অধ্যায়: স্কুলের শেষ দিনপরীক্ষার আগে স্কুলের শেষ ক্লাস হলো।
সবাই একসঙ্গে ছবি তুলল।
মাহি বলল,
— আপু, স্কুলের দিনগুলো খুব মিস করব।
মায়া বলল,
— আবার স্কুল খুলবে। এত মন খারাপ করিস না।
আরিয়ান দূর থেকে তাদের কথাগুলো শুনছিলচতুর্দশ অধ্যায়: একটি চিঠি
একদিন মায়ার বইয়ের মধ্যে একটি চিঠি পাওয়া গেল।
চিঠিতে লেখা ছিল,
“জীবনে অনেক মানুষ আসে। কিন্তু কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় জীবনের সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকে। নিজের স্বপ্নগুলো কখনো হারিয়ে ফেলবেন না।”
নিচে লেখা ছিল—আরিয়ান।
মায়া চিঠিটি যত্ন করে বইয়ের মধ্যে রেখে দিল।
মায়া বলল,
— না, আপনি নিন।
আরিয়ান মৃদু হেসে বলল,
— ধন্যবাদ।
এটাই ছিল তাদের প্রথম সরাসরি কথা।
পঞ্চম অধ্যায়: নতুন বন্ধুত্ব