ফন্ট সাইজ:
থিম:
hell university: রক্তের খেলা

পর্ব 1

লেখক: সামিয়া সুলতানা লিজা

hell university: রক্তের খেলা

পর্ব ১

✍️ লেখিকা: সামিয়া সুলতানা লিজা

ঢাকার একদম সাধারণ একটা মেয়ে—

সামিয়া।

সবাই যেমন ভাবে—

চুপচাপ, ভদ্র, বইপোকা…

কিন্তু ওর চোখের ভেতরে সবসময় একটা অদ্ভুত রহস্য লুকিয়ে থাকে।

ওর একটা নিয়ম ছিল—

কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করবে না।

একদিন সকালে দরজার সামনে একটা কালো খাম পড়ে থাকতে দেখলো সে।

খামটা অদ্ভুত ঠান্ডা ছিল।

তার উপর লেখা—

“invitation from hell university”

সামিয়া ধীরে ধীরে খামটা খুললো।

ভেতরে একটা ছোট কাগজ—

“তুমি নির্বাচিত।

যদি সাহস থাকে, আজ রাত ১২টায় আসো।”

নিচে একটা লোকেশন।

সামিয়ার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটলো।

“interesting…”

রাত গভীর হলে,

সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর,

সে নিঃশব্দে বের হয়ে গেল।

লোকেশনটা শহরের বাইরে, এক পুরোনো পরিত্যক্ত বিল্ডিং।

চারপাশে কেউ নেই।

একটা অদ্ভুত নীরবতা।

সামিয়া ধীরে ধীরে গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

হঠাৎ—

চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে গেল।

পুরোনো ভাঙা বিল্ডিংটা মুহূর্তেই বদলে গেল।

অন্ধকারের ভেতর থেকে উঠে এলো বিশাল এক ইউনিভার্সিটি।

গেটের উপর আগুনের মতো লেখা—

“hell university”

সামিয়া একটুও ভয় পেল না।

বরং তার চোখে কৌতূহল বেড়ে গেল।

ভেতরে ঢুকতেই,

একজন ছেলেকে দেখা গেল।

কালো কোট, ঠান্ডা চোখ, মুখে অদ্ভুত শান্ত হাসি।

সে ধীরে বলল—

“welcome… সামিয়া।”

সামিয়া থেমে গেল।

তার চোখ সরু হয়ে এলো।

“আমার নাম জানো কীভাবে?”

ছেলেটা একটু কাছে এগিয়ে এলো।

“এখানে আসার আগেই আমরা তোমাদের সব জানি।”

“তুমি কে?”

সামিয়ার কণ্ঠে ঠান্ডা ভাব।

ছেলেটা হালকা হেসে বলল—

“তোমার গাইড… আপাতত।”

তারপর সে চারপাশের দিকে ইশারা করলো।

“এটা কোনো সাধারণ জায়গা না।

এখানে যারা আসে, তারা সবাই বিশেষ।”

“কিসের জন্য?”

সামিয়ার চোখ স্থির।

ছেলেটা ফিসফিস করে বলল—

“অন্ধকারের জন্য।”

ঠিক তখনই—

চারপাশে আলো জ্বলে উঠলো।

অনেক স্টুডেন্ট দেখা গেল।

কেউ হাত তুলে আগুন বানাচ্ছে,

কেউ চোখ বন্ধ করে অন্যদের চিন্তা পড়ছে,

কেউ আবার একদম মাফিয়ার মতো অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে।

একজন হঠাৎ দেয়ালের ভেতর ঢুকে আবার বের হয়ে এলো।

সামিয়া সবকিছু চুপচাপ দেখলো।

তার চোখে কোনো ভয় নেই।

বরং—

একটা অদ্ভুত আনন্দ।

ছেলেটা তার দিকে তাকিয়ে বলল—

“তুমি ভয় পাচ্ছো না?”

সামিয়া ধীরে ধীরে হাসলো।

তার চোখ লাল হয়ে উঠতে শুরু করলো।

“আমি তো অনেক আগেই ভয় পাওয়া ছেড়ে দিয়েছি…”

এক মুহূর্তের জন্য বাতাস থেমে গেল।

ছেলেটার চোখে বিস্ময়।

“impressive…”

সামিয়া সামনে এগিয়ে গেল।

“তো… এখন কী হবে?”

ছেলেটা মুচকি হাসলো।

“এখন শুরু হবে রক্তের খেলা।”

সামিয়ার ঠোঁটের কোণে শীতল হাসি ফুটলো।

“good… আমি হারতে আসিনি।”

দূরে কোথাও ঘণ্টার শব্দ বাজলো।

একটা নতুন জীবনের শুরু হলো—

যেখানে নিয়ম একটাই—

বাঁচতে হলে জিততে হবে।
ঘণ্টার শব্দ থেমে গেলেও বাতাসের ভেতরে অদ্ভুত এক কম্পন থেকে গেল।

সামিয়া দাঁড়িয়ে আছে বিশাল করিডোরের মাঝে। চারপাশে যাদের সে দেখছিল, তারা ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে—যেন কিছুই হয়নি।

কিন্তু সামিয়া বুঝতে পারছে, এখানে “স্বাভাবিক” বলে কিছু নেই।

ছেলেটা—যাকে সবাই “গাইড” বলছে—তার দিকে একবার তাকিয়ে বলল,

“তোমার রেজিস্ট্রেশন শেষ।”

“রেজিস্ট্রেশন?” সামিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল।

ছেলেটা হালকা হাসল,

“এখানে কেউ স্টুডেন্ট হিসেবে আসে না… সবাই আগে খেলোয়াড় হিসেবে আসে।”

হঠাৎ সামনে মাটির নিচ থেকে একটা ধাতব প্যানেল উঠে এলো। তার উপর লেখা—

“RULE 01: DO NOT TRUST ANYONE”

সামিয়ার চোখ স্থির হয়ে গেল।

“এটা কী?”

ছেলেটা একটু ঝুঁকে বলল,

“এটাই প্রথম নিয়ম ভাঙলে তুমি প্রথম শিকার হবে।”

ঠিক তখনই পিছন থেকে একটা মেয়ের চিৎকার শোনা গেল।

“ওইটা নড়ছে!”

সবাই ঘুরে তাকালো।

দেয়ালের পাশে ঝুলে থাকা একটা পুরোনো ছবি নিজে নিজে কাঁপছে। ছবির ভেতরে থাকা মানুষের চোখ আস্তে আস্তে খুলছে।

এক মুহূর্ত পর—

ছবির মানুষটা দেয়াল ভেঙে বাইরে বেরিয়ে এলো।

পুরো হলরুমে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গেল।

“এটা কী জিনিস?!” কেউ চিৎকার করল।

ছেলেটা শান্ত গলায় বলল,

“ফেইলড স্টুডেন্ট।”

সামিয়া ধীরে ধীরে এক পা এগিয়ে গেল।

“ফেইলড মানে?”

ছেলেটা তার দিকে তাকাল,

“যারা নিয়ম বুঝতে পারেনি… তারা এখানে আটকে যায়।”

ফেইলড স্টুডেন্টটা হঠাৎ দৌড়ে এসে একটা ছেলেকে ধরে ফেলল।

কিন্তু ঠিক তখনই—

সামিয়ার সামনে থাকা বাতাস কেঁপে উঠলো।

এক সেকেন্ডের জন্য সব শব্দ থেমে গেল।

তার চোখ আবার লালচে হয়ে উঠল।

সে হাতটা একটু উঠাল।

পরের মুহূর্তে—

ফেইলড স্টুডেন্টটা যেন অদৃশ্য কোনো শক্তিতে পেছনে ছিটকে গেল।

সবাই থমকে গেল।

ছেলেটা অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,

“…তুমি এটা কীভাবে করলে?”

সামিয়া শান্ত গলায় বলল,

“আমি নিজেও জানি না… কিন্তু এটা আমার ভিতরে ছিল।”

ছেলেটার মুখে প্রথমবারের মতো সিরিয়াস ভাব এলো।

“interesting…”

ঠিক তখনই লাউডস্পিকারে আবার সেই অচেনা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো—

“প্রথম ট্রায়াল শুরু হয়েছে।”

“নতুন ব্যাচ… তোমাদের মধ্যে থেকে আজ রাতেই কেউ একজন হারিয়ে যাবে।”

সামিয়া চারপাশে তাকালো।

সবাই একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে—ভয়, সন্দেহ, আর লুকানো শত্রুতা।

ছেলেটা খুব আস্তে বলল,

“এখন থেকে তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু বাইরের কেউ না… তোমার পাশের মানুষটাই।”

সামিয়ার ঠোঁটে আবার সেই ঠান্ডা হাসি।

“ভালো… তাহলে খেলাটা আরও মজার হবে।”

আর ঠিক তখনই—

একটা দরজা নিজে থেকে খুলে গেল।দরজাটা খুলতেই ভেতর থেকে একধরনের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে এলো।

যেন অনেক বছর ধরে সেখানে আলো ঢোকেনি।

লাউডস্পিকারের সেই অচেনা কণ্ঠ আবার ভেসে এলো—

“প্রথম ট্রায়াল শুরু। নিয়ম একটাই—বাঁচতে হলে বের হওয়ার পথ খুঁজো।”

এক মুহূর্তেই পুরো হলরুমের আলো নিভে গেল।

অন্ধকার।

শুধু জরুরি লাইটগুলো মিটমিট করে জ্বলছে।

সামিয়া চোখ সামান্য সংকুচিত করে সামনে তাকালো।

ছেলেটা—গাইড—তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

“এটাই ট্রায়াল রুম,” সে বলল।

“এখানে ২০ মিনিটের মধ্যে দরজা খুঁজে বের করতে হবে।”

“না পারলে?” সামিয়া জিজ্ঞেস করল।

ছেলেটা একটু থেমে বলল,

“তাহলে তুমি আর তুমি থাকবে না।”

হঠাৎ পেছন থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠ—

“আমি বের হবো! আমি এখানে মরতে আসিনি!”

সবাই দৌড়াতে শুরু করলো।

দেয়াল, করিডোর, দরজা—সব যেন একসাথে বদলে যেতে লাগল।

সামিয়া স্থির দাঁড়িয়ে রইল।

তার চোখ চারপাশ স্ক্যান করছে।

“সবকিছু ইলিউশন না তো?” সে ফিসফিস করে বলল।

ছেলেটা হালকা হেসে বলল,

“এখানে বেশিরভাগ জিনিসই সত্য আর মিথ্যার মাঝামাঝি।”

ঠিক তখনই—

সামিয়ার সামনে একটা দরজা দেখা গেল।

পুরনো কাঠের দরজা, কিন্তু তার উপর একটা চিহ্ন—

একটা চোখের মতো চিহ্ন।

সামিয়া এক পা এগিয়ে গেল।

ছেলেটা হঠাৎ বলল,

“ওটা ট্র্যাপ হতে পারে।”

সামিয়া থেমে গেল।

“তুমি বললে আর আমি থেমে যাব?”

তারপর সে দরজার হাতল ধরল।

একটা ঠান্ডা শক তার হাতে লাগল।

কিন্তু সে ছাড়ল না।

“তোমার ভিতরের জিনিসটা এখন জাগছে,” ছেলেটা নিচু গলায় বলল।

সামিয়া চোখ বন্ধ করে দরজাটা খুলে ফেলল।

ভেতরে কোনো ঘর নেই।

শুধু আয়নার মতো একটা জায়গা।

আর সেই আয়নায়—

সামিয়ার নিজের আরেকটা রূপ দাঁড়িয়ে আছে।

কিন্তু সেই রূপটা হাসছে না…

সে তাকিয়ে আছে শূন্য চোখে।

হঠাৎ আয়নার ভেতরের “সামিয়া” মুখ খুলল—

“তুমি এখনো বুঝোনি?”

সামিয়া এক পা পিছিয়ে গেল।

পেছনে থাকা ছেলেটা আস্তে বলল,

“প্রথম ট্রায়াল শুধু দরজা খোঁজার না… নিজের ভেতরের সত্য খুঁজে বের করার।”

আয়নার ভেতরের রূপটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।

“তুমি যে ভয় পাও না বলো…”

“…সেটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যা।”

সামিয়ার চোখ লালচে হয়ে উঠতে লাগল।

কিন্তু এবার সে শুধু শক্তি দেখাল না।

সে হাসল।

“তাহলে প্রমাণ করো আমি মিথ্যা।”

এক মুহূর্তের জন্য পুরো ঘর কেঁপে উঠল।

আয়নার আলো ফেটে গেল।

চারপাশ আবার অন্ধকারে ডুবে গেল।

লাউডস্পিকার আবার বেজে উঠল—

“ট্রায়াল পাসড… একজন নির্বাচিত হয়েছে।”

ছেলেটা সামিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

“…তুমি অন্যদের মতো না।”

সামিয়া শান্ত গলায় বলল,

“আমি কখনোই অন্যদের মতো ছিলাম না।”

দূরে দরজা খুলে গেল।

কিন্তু এইবার শুধু বের হওয়ার পথ না—

ভিতরে আরও গভীর এক রহস্যের শুরু।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন