প্রেম প্রিয়সী*
লেখনিতে:তাসফিয়া আফরিন
ভালোবাসা শব্দটা বড় অদ্ভূত। যে ভালোবেশে কেরে নিতে জানে সে জিতে আর যে পারে না সে হারিয়ে ফেলে।তার থেকেও বড় অদ্ভূত একতরফা ভালোবাসা।কারন,যে মানুষটা তার কিন্তু তার কখনোই হবে না।
দোতলা ভবনের উপরের ডানদিকের রুমের একটা রুম এখনো অন্ধকার হয়ে পরে রয়েছে।এখন সময় দুপুর দুটো।রুমের জানালার পর্দা টানা।দরজা হালকা খোলা।রুমটা সাদা আর কালো মার্বেল পাথর নিয়ে বানানো।তার মাঝে খাটের ওপর উল্টো হয়ে ঘুমাচ্ছে এক যুবক।গায়ের রংটা হালকা শ্যামলা।হাইট ৬ ফুট।দেখতে ভালোই হালকা চাপ দাড়ি।সারা রাত বাইক রাইড করে ফজরের আযানের পর পর বাসায় আসছে।বাসায় কেউ যেন না জানে তাই চুপি চুপি ঢুকছে।
দোতলা একটি ভবন।ভবনের বাইরের মেন গেটের উপরে বড় বড় অক্ষরে লেখা (খাদিজা মন্জিল)।
শিকদার শেখ খাদিজা মন্জিলের বড় কর্তা।তার খুব আদরের প্রিয়তমা খাদিজা বেগম। সে বয়স কালে বেশ রুপবতি ছিলেন।
তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে।বড় ছেলে শাহিন শেখ। তার দুই ছেলে মেয়ে। বড় ছেলে আনাফ আহসান ও মেয়ে আতিকা নূর।আনাফ পড়ালেখা শেষ করে বাপ-চাচাদের ব্যবসায় যোগ দিয়েছে।আর আতিকা এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে।
ছোট ছেলে শান্ত শেখ। তার এক মেয়ে।নাম তাসফিয়া আফরিন।এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে।
আর মেয়ে সুমি রহমান। তার স্বামী ইসমাইন রহমান।তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।ছেলের নাম আরিয়ান আয়মান।আর মেয়ে আনিকা ইসরাত।আরিয়ান এবার অনার্স ত্বিতীয় বর্ষে।আর আনিকা SSC দিবে।
খাদিজা মন্জিলের দুই বউ।বড় বউ মায়া বেগম আর ছোট বউ তানজিলা বেগম।
দুই ভাই শাহিন, শান্ত ও ইসমাইল রহমান মিলে একসাথে এই খাদিজা মন্জিল বানিয়েছেন।
সেই সূত্রে সবাই এক সাথেই থাকে।
শিকদার শেখ তিন বছর আগে মারা গেছেন।তাই এখন বাড়ির সব কাজ খাদিজা বেগমের কথায়ই হয়।
কলেজের মাঠে রোদের ফিতরে হাটছে তিন রমনী ও এক যুবক।তাদের মধ্যে হঠাৎ করে
আতিকা বলে উঠলো.......
আজ ইয়াছিন সারের ক্লাস টা না করে কি আমরা ঠিক করলাম?
আতিকার এই কথা শুনে সবাই দারিয়ে পরলো।
তাসফিয়া বলে উঠলো......
আরে প্যারা নাই।কাল বাদে পরশু কলেজে আসবো। স্যারের কিছু মনেই থাকবে না। আর আমাদের কিছু বলতেও পারবে না।ভয় পাইস না।
সাকিব বললো.....
হুম এর পরের কথা পরে দেখা যাবে।
এখন চল....। অনেক গরম পরছে। সাবাই মিলে আইসক্রিম খাই চল।
কুলসএম বললো.....
গরমে অবস্থা খারাপ। চল যাই। আজ ট্রিট কে দিবে।
তাসফিয়া বললো....
সাকিব দিবে। কাল ও আমাদের কাছ থেকে ট্রিট নিছে। এখন ও আমাদের খাওয়াবে।
তাসফিয়ার কথায় সাকিব বাদে সবাই সম্মতি জানালো।
সাকিব বললো......
আচ্ছা চল আর কি করার।
কুলসুম বললো....
আজ কেন যে আফিফা আসলো না। ও কেন আসে নাই কেউ কি জানিস।
তাসফিয়া বললো.....
ও তো মরছে তাই আসে নাই।বিকালে ওকে একটা ফোন দিবো দেখি আসে নাই কেন।
আর কাল আসবে কি না।
সাকিব....
চল আমরা যাই।
আইসক্রিম কিনে যে যার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
কুলসুম আর সাকিবের বাসা কলেজের উলটো দিকে। আর তাসফিয়া আর আতিকা তো একই বাসায় যাবে।তাই কুলসুম আর সাকিব একটু ওদের সাথে হেটে এসে বললো।
...আমরা যাই তাহলে তোরা যা....
সাকিব আয়। রিস্কা ডাক।
সাকিব একটা রিস্কা কে দার করালো।
রিস্কায় উঠলো সাকিব আর কুলসুম।
অন্য দিকে তাসফিয়া আর আতিকার আরও একটু হেটে তার পরে রিস্কায় উঠা লাগবে।
এখান থেকে রিস্কা ওদের বাসার ও খানে যায় না।
তাই আার কি ওরা এই গরমের মধ্যে হাটতিছে।
একটু সামনে গিয়ে ওরা রিস্কায় উঠলো।
বাড়ির ভিতর ঠুকলো ওরা দুই যন।
ঠুকেই প্রথমে দেখা হলো আনাফের সাথে।
আনাফ...
কিরে তোদের পড়াশোনার খবর কি।
তাসফিয়া এই তো ভালো ভাইয়া।
আনাফ....
আর তোর আতিকা।
আতিকা একটু আমতা আমতা করে উত্তর দিল। জ্বি ভালো ভাইয়া।
আতিকা কেন যানি আনাফ কে বাঘের মতো ভয় পায়।
ও যদি একটু চোখ গরম দিয়েও তাকায় আতিকার দিকে তাহলেও ও কান্না করে দেয়। এমন একটা অবস্থা।
আনাফ....
যা তোরা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়।আমি অপেক্ষা করছি।তোরা আসলে একসাথে খাবো।
তাসফিয়া....
আচ্ছা ভাইয়া।
আতিকা....
ভা...ভাইয়া আম্মু কোথায়?
আনাফ...
আম্মু, ছোট আম্মু আর ফুপি দাদির রুমে। একসাথে দাদির সাথে কি যেন নিয়ে কথা বলছে।
তাসফিয়া...
ওও আচ্ছা তাহলে আমরা যাই। কেমন।
আনাফ...
যা, তারাতারি আসিস কিন্তু। আমি অপেক্ষা করছি।
রুমে এসেই তাসফিয়া ঠাস করে বিছানার ওপরে শুয়ে পরলো।
আতিকা...
শুয়ে পরলি কেনো। তারাতারি ফ্রেশ হ..ভাইয়া নিচে অপেক্ষা করবে বললো না।
তাসফিয়া...
যা তো তুই গিয়ে ফ্রেশ হ আগে।আমি তারপরে ফ্রেশ হব। আমার এখন ভালো লাগতিছে না।
আর কী করার আতিকাই আগে গেলো ফ্রশ হতে। আতিকা ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে তাসফিয়া প্রায় ঘুমিয়ে গিয়েছে।ও এসেই ওর গালে ঠাস করে একটা চর দিল।চর খেয়ে তাসফিয়া হুরমুরিয়ে উঠে বসেছে।
তাসফিয়া...
মারলি কেন?
আতিকা....
তুই ঘুমাচ্ছিলি কেন?
..আমার ঘুম আসছে আমি ঘুমাইছি।তোর কী,আর তোর বাপের কী,হ্যাঁ।
আতিকা....
তুই আগে ফ্রশ হ ভাইয়া এখনো বসে আছে।
তাসফিয়া....
তাতে আমার কি।তুই ভয় পাইস তুই যা আমি যাব না।
আতিকা এবার কাদো কাদো মুখ বানিয়ে বললো.... প্লিজ যা আমার মা...না হলে ভাইয়া বকবে।
এবার তাসফিয়া একটু শান্ত হলো। আতিকার হাত থেকে তাওয়ালটা নিয়ে নিল এক ঝটকায়।নিয়ে দারালো দারিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যাওয়া ধরে আবার পিছনে এসে আতিকার পিঠে ঠাস করে একটা চর দিয়ে দৌরে ওয়াশরুমে ভেতর চলে গেল।
এদিকে আতিকা তো রাগে ফুসছে।এবার আতিকা চিল্লিয়ে বললো....
তুই একবার খালি বাইরে আয়। তোকে আজ আমি ভাইয়া কে দিয়ে যদি মার না খাইয়েছি আমার নাম আতিকা নূর না। বলে দিলাম।
আতিকা রাগে ফুসতে ফুসতে বিছানার ওপরে বসলো। প্রায় আধঘন্টা পরে তাসফিয়া আসলো..........
আতিকা....চল এবার যাই বইন প্লিজ।
চলবে..............