তোকে বড্ড ভালোবাসি
লেখিকা: আমেনা আক্তার আরমিন
পর্ব – ০১
রাত তখন ১১টা ৪৫ মিনিট।
শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে আসছে। আকাশজুড়ে কালো মেঘ। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানি পুরো শহরটাকে আলোকিত করে আবার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে।
শহরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল চৌধুরী ভিলায় অবশ্য ঘুমের কোনো চিহ্ন নেই।
তিনতলার বিশাল অফিসকক্ষে বসে আছেন জায়েদ চৌধুরী। সামনে রাখা কয়েকটি ফাইল মনোযোগ দিয়ে দেখছেন তিনি।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
— আসব?
গম্ভীর পুরুষকণ্ঠ।
জায়েদ সাহেব ফাইল থেকে চোখ না তুলেই বললেন,
— ভেতরে আয়।
দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল রুদ্বান চৌধুরী।
কালো শার্ট, কালো প্যান্ট, হাতে দামি ঘড়ি। মুখে বিরক্তির ছাপ। এক হাতে ফোন ঘোরাতে ঘোরাতে বাবার সামনে এসে দাঁড়াল সে।
— ডেকেছ কেন?
জায়েদ চৌধুরী ছেলের দিকে তাকালেন।
— বসো।
— দাঁড়িয়েই বলো। আমার সময় নেই।
ছেলের এমন কথায় জায়েদ সাহেবের মুখ শক্ত হয়ে গেল। তবে কিছু বললেন না। টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি ছবি বের করে ছেলের সামনে রাখলেন।
— মেয়েটাকে চিনিস?
রুদ্বান ছবিটার দিকে তাকাল।
সাদা পোশাক পরা একটি মেয়ে। কাঁধ ছাড়িয়ে নেমে আসা চুল, চোখে এক অদ্ভুত মায়া। মুখে সুন্দর একটা হাসি।
রুদ্বান ছবিটা হাতে নিয়ে বলল,
— কে?
— নুহা রহমান।
— তারপর?
— মেয়েটার বাবার কাছে এমন কিছু আছে, যেটা আমাদের পরিবারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
রুদ্বান ছবিটা টেবিলে রেখে দিল।
— তাহলে তার বাবার সঙ্গে কথা বলো। একটা মেয়ের ছবি আমাকে দেখানোর কী আছে?
জায়েদ সাহেব এবার গম্ভীর হয়ে বললেন,
— বিষয়টা এত সহজ নয়। লোকটা গত পনেরো বছর ধরে একটা সত্য লুকিয়ে রেখেছে।
রুদ্বানের চোখ সরু হয়ে এল।
— কী সত্য?
— সেটা খুঁজে বের করতে হবে।
রুদ্বান কয়েক সেকেন্ড বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ঠান্ডা গলায় বলল,
— ঠিক আছে। তবে একটা কথা মনে রেখো, আমার কাজে কেউ বাধা দিলে সেটা আমি পছন্দ করি না।
কথাটা বলেই সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিরা চৌধুরী ছেলের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
তিনি ধীরে ধীরে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করলেন।
— তুমি কি সত্যিই ওকে সবকিছু জানাবে?
জায়েদ সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— একদিন না একদিন তো জানতেই হবে।
মাহিরা চৌধুরীর মুখের রং বদলে গেল।
— কিন্তু নুহা যদি সব জেনে যায়?
জায়েদ সাহেব এবার স্ত্রীর দিকে তাকালেন।
— তাহলে আমাদের এত বছরের সাম্রাজ্য এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যাবে।
---
অন্যদিকে রহমান বাড়ি।
ছোট্ট একটি দোতলা বাড়ি। বাড়ির বারান্দায় কয়েকটি টবের গাছ। খুব সাধারণ একটি সংসার। অথচ এই বাড়ির মানুষগুলোর কাছে সুখের অভাব নেই।
নিজের ঘরে বসে বই পড়ছিল নুহা।
হঠাৎ রান্নাঘর থেকে মায়ের ডাক এল।
— নুহা! ও নুহা!
— কী হয়েছে মা?
— একটু এদিকে আয় তো।
বইটা বন্ধ করে নুহা রান্নাঘরে গেল।
— কী হয়েছে?
মা চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললেন,
— সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকিস। একটু নিজের দিকেও খেয়াল রাখবি।
নুহা মুচকি হেসে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরল।
— আমার মা আছে না? আমার আবার চিন্তা কী?
মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
— সবসময় এমন হাসিখুশি থাকিস।
ঠিক তখনই ঘরে প্রবেশ করলেন নুহার বাবা, আবদুল্লাহ রহমান।
— কী মা-মেয়ের এত গল্প হচ্ছে?
নুহা বাবার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
— বাবা, আমার জন্য কিছু এনেছ?
আবদুল্লাহ সাহেব হেসে পকেট থেকে একটি ছোট্ট প্যাকেট বের করলেন।
— দেখ তো, পছন্দ হয় কি না।
প্যাকেট খুলতেই নুহার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
— ইয়া! আমার পছন্দের চকলেট!
বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
— লাভ ইউ বাবা!
আবদুল্লাহ সাহেব মেয়ের মাথায় হাত রেখে হাসলেন।
কিন্তু মেয়ের অগোচরে তাঁর মুখের হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
আজ বিকেলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এসেছিল।
ওপাশের মানুষটি শুধু একটি কথাই বলেছিল—
"আপনার অতীত আবার ফিরে এসেছে, রহমান সাহেব। এবার কিন্তু পালানোর পথ পাবেন না।"
---
রাত ১২টা ২০ মিনিট।
নিজের ঘরে বসে ফোন দেখছিল নুহা। হঠাৎ অপরিচিত নম্বর থেকে কল এল।
প্রথমে ধরল না। কিন্তু দ্বিতীয়বার আবার কল আসায় বিরক্ত হয়ে রিসিভ করল।
— হ্যালো?
ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এল না।
— হ্যালো! কে বলছেন?
কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর ভারী পুরুষকণ্ঠ শোনা গেল।
— নুহা রহমান?
— জি। আপনি কে?
— কাল সকাল দশটায় তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই।
নুহা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কেন? আর আপনি আমার নম্বর পেলেন কোথায়?
লোকটি মৃদু হেসে বলল,
— সব প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে দেওয়া যায় না, মিস রহমান।
— দেখুন, আমি অপরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা করি না।
ওপাশ থেকে এবার কণ্ঠটা আরও গম্ভীর হলো।
— তাহলে পরিচিত হয়ে নাও। আমার নাম রুদ্বান চৌধুরী।
নুহা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বিরক্ত হয়ে বলল,
— নাম জানলাম। এবার ফোন রাখছি।
কথাটা বলেই নুহা ফোন কেটে দিল।
অন্যদিকে চৌধুরী ভিলার অফিসকক্ষে বসে রুদ্বান কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত এক হাসি ফুটে উঠল।
— Interesting!
ঠিক তখনই তার ফোনে আরেকটি মেসেজ এল।
অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো মেসেজ।
"নুহা রহমানকে নিয়ে খোঁজাখুঁজি বন্ধ করো, রুদ্বান। মেয়েটার অতীত সম্পর্কে তুমি কিছুই জানো না।"
মেসেজটি পড়ে রুদ্বানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে ফোনটা টেবিলে রাখল।
তারপর জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
— তাহলে খেলাটা শুরু হয়েছে!
কিন্তু রুদ্বান জানত না, এই খেলায় এমন একজন মানুষও আছে, যে তার নিজের পরিবারের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।
আর সেই মানুষটির পরিচয় লুকিয়ে আছে পনেরো বছর আগের একটি রক্তাক্ত ইতিহাসে।
---
পর্ব – ০২
প্রথম মুখোমুখি
সকাল ৯টা ৩০ মিনিট।
রহমান বাড়ির রান্নাঘরে তখন বেশ ব্যস্ততা।
নুহা তাড়াহুড়ো করে নাশতা শেষ করছে। এক হাতে রুটির টুকরো, অন্য হাতে ফোন।
মা পাশ থেকে বললেন,
— এত তাড়াহুড়ো করছিস কেন?
— মা, আজকে বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে যাব।
— কখন ফিরবি?
— বিকেলের আগেই।
মা আর কিছু বললেন না।
নুহা ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। ঠিক তখনই বাবা ডাকলেন,
— নুহা, একটু দাঁড়া।
— কী হয়েছে বাবা?
আবদুল্লাহ সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— আজ বাইরে একটু সাবধানে থাকিস।
নুহা হেসে বলল,
— বাবা, আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি?
— না মা, তবুও বললাম।
নুহা বাবার কপালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে গেল।
কিন্তু আবদুল্লাহ সাহেবের বুকের ভেতরটা কেমন যেন অস্থির হয়ে রইল।
---
সকাল ১০টা ১৫ মিনিট।
শহরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁর সামনে এসে দাঁড়াল নুহা।
সে চারদিকে তাকিয়ে কাউকে খুঁজতে লাগল।
হঠাৎ পেছন থেকে একটি ভারী কণ্ঠ ভেসে এল,
— মিস নুহা রহমান?
নুহা ঘুরে তাকাল।
তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে লম্বা, সুদর্শন এক যুবক। পরনে কালো শার্ট। চোখে কালো সানগ্লাস। মুখে এমন এক গম্ভীর ভাব, যা দেখে সহজে কারও কথা বলতে ইচ্ছা করবে না।
নুহা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— আপনি রুদ্বান চৌধুরী?
যুবকটি সানগ্লাস খুলে বলল,
— ঠিক ধরেছ।
— আমাকে এখানে কেন ডেকেছেন?
রুদ্বান পাশের টেবিলের দিকে ইশারা করল।
— বসো। কথা আছে।
নুহা দাঁড়িয়েই রইল।
— আমি দাঁড়িয়েই শুনতে পারি।
রুদ্বান কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে রইল।
— তোমার মধ্যে সাহস একটু বেশিই।
নুহা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— আর আপনার মধ্যে অহংকার একটু বেশিই।
রুদ্বানের ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেল।
তার সঙ্গে কেউ এভাবে কথা বলার সাহস খুব কমই দেখায়।
— তুমি জানো আমি কে?
— জানার খুব একটা ইচ্ছা নেই।
— রুদ্বান চৌধুরী নামটা নিশ্চয়ই শুনেছ?
— শুনেছি। তাই বলে আপনাকে দেখে ভয় পেতে হবে, এমন কোনো নিয়ম আছে?
রুদ্বান এবার চুপ করে গেল।
মেয়েটা সত্যিই অন্যরকম।
সে ধীর কণ্ঠে বলল,
— তোমার বাবার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।
নুহার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— আমার বাবার সঙ্গে আপনার কী কথা?
— সেটা তোমার জানার বিষয় নয়।
— তাহলে আমাকে ডেকেছেন কেন?
রুদ্বান এবার টেবিলের ওপর একটি ফাইল রাখল।
— এই ফাইলটা তোমার বাবাকে দেবে।
নুহা ফাইলটির দিকে তাকাল।
— এখানে কী আছে?
— বাড়িতে গিয়ে খুলে দেখো।
নুহা ফাইলটি হাতে নিল না।
— আপনারা কি ভাবেন, টাকা আর ক্ষমতা থাকলেই সবাইকে নিজের ইচ্ছেমতো চালানো যায়?
রুদ্বান ঠান্ডা গলায় বলল,
— সবাইকে না। তবে বেশিরভাগ মানুষকেই যায়।
— দুঃখিত, আমি সেই বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে পড়ি না।
কথাটা বলে নুহা সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হলো।
ঠিক তখনই রুদ্বান পেছন থেকে বলল,
— তোমার বাবাকে বলবে, পনেরো বছর আগের হিসাব এবার মেটানোর সময় হয়েছে।
নুহা থেমে গেল।
ধীরে ধীরে পেছনে ফিরে তাকাল।
— পনেরো বছর আগে কী হয়েছিল?
রুদ্বান উত্তর দিল না।
শুধু ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে রইল।
নুহা আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেল।
---
চৌধুরী ভিলা।
রুদ্বান বাড়িতে ফিরতেই ছোট ভাই রায়ান সোফায় বসে ফোন দেখছিল।
— ভাইয়া!
রুদ্বান কোনো উত্তর দিল না।
রায়ান আবার বলল,
— কী ব্যাপার? সকাল সকাল এত রাগ কেন?
— নিজের কাজ কর।
রায়ান হেসে বলল,
— বুঝেছি। নতুন কোনো ঝামেলা হয়েছে।
রুদ্বান এবার ভাইয়ের দিকে তাকাল।
— রায়ান!
— আচ্ছা আচ্ছা, চুপ করলাম।
ঠিক তখনই মাহিরা চৌধুরী নিচে নেমে এলেন।
— রুদ্বান, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।
— বলো।
— তুমি কি নুহার সঙ্গে দেখা করেছ?
রুদ্বান মায়ের দিকে তাকাল।
— তুমি জানলে কীভাবে?
মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
— মেয়েটার কাছ থেকে দূরে থাকো।
রুদ্বানের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
— কেন?
— কারণ ওর পরিবার আমাদের জন্য ভালো নয়।
রুদ্বান মৃদু হেসে বলল,
— মা, আমি কার সঙ্গে মিশব, সেটা তুমি ঠিক করে দেবে?
মাহিরা ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর খুব নিচু স্বরে বললেন,
— তুমি বুঝতে পারছ না, রুদ্বান। এই মেয়েটার সঙ্গে জড়িয়ে গেলে তোমার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।
রুদ্বান আর কোনো উত্তর দিল না।
শুধু মায়ের পাশ কাটিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
কিন্তু মাহিরা জানতেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে।
---
অন্যদিকে রহমান বাড়ি।
নুহা বাড়িতে ফিরেই ফাইলটি বাবার সামনে রাখল।
— বাবা, একজন লোক তোমাকে এটা দিতে বলেছে।
আবদুল্লাহ সাহেব ফাইলটির দিকে তাকালেন।
পরমুহূর্তেই তাঁর মুখের রং বদলে গেল।
হাত কাঁপতে শুরু করল।
— কে দিয়েছে এটা?
নুহা অবাক হয়ে বলল,
— রুদ্বান চৌধুরী।
নামটা শুনেই আবদুল্লাহ সাহেব চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
— কী বললি?
— রুদ্বান চৌধুরী। কেন বাবা? কী হয়েছে?
আবদুল্লাহ সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না।
তিনি কাঁপা হাতে ফাইলটি খুললেন।
ভেতরে একটি পুরোনো ছবি।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পনেরো বছর আগের একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আবদুল্লাহ রহমান এবং জায়েদ চৌধুরী।
ছবির পেছনে কালো কালিতে লেখা—
"সত্য কখনো মরে না।"
আবদুল্লাহ সাহেব ছবিটি হাতে নিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
তারপর নিজের মনেই বিড়বিড় করে বললেন,
— না... এটা কীভাবে সম্ভব? ওরা আবার ফিরে এসেছে?
নুহা বাবার কাছে এগিয়ে গেল।
— বাবা, কী হয়েছে তোমার?
আবদুল্লাহ সাহেব মেয়ের দিকে তাকালেন।
চোখে স্পষ্ট আতঙ্ক।
— নুহা, তুই আজ থেকে চৌধুরী পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখবি না। বুঝেছিস?
নুহা অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।
— কিন্তু বাবা...
— কোনো কিন্তু নয়!
বাবার এমন রূপ নুহা আগে কখনো দেখেনি।
সে চুপ করে গেল।
আর ঠিক তখনই বাড়ির বাইরের গেটের সামনে একটি কালো গাড়ি এসে থামল।
গাড়ির ভেতর থেকে একজন লোক রহমান বাড়ির দিকে তাকিয়ে ফোন বের করল।
— স্যার, মেয়েটা বাড়িতে ফিরে এসেছে।
ওপাশ থেকে উত্তর এল,
— তাহলে নজর রাখো। এবার আর কোনো ভুল করা যাবে না।
লোকটি ফোন কেটে দিল।
আর দূরে কোথাও বসে একজন অচেনা মানুষ মুচকি হেসে বলল,
— চৌধুরী পরিবারের পতন এবার শুরু হবে।
চলবে...