অদৃশ্য আলোড়ন
পর্ব ১: ছায়াবৃত্তের সূচনা
লেখিকা জান্নাতুল নাঈমা
__
বাইরে দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার মুখে আকাশটা হঠাৎ থমথমে সীসা রঙের রূপ ধারণ করেছে। দিগন্তজুড়ে নেমে এসেছে ঘন কালো মেঘের স্তর।
বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে ভারী হয়ে আছে চারিদিক—বৃষ্টি নামবে নামবে করেও যেন এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তায় আটকে রয়েছে পুরো শহর।
গুলশানের এক অভিজাত রেস্তোরাঁর সাউন্ডপ্রুফ গ্লাস প্যানেলের পাশে বসে ছিল ইনশিরাহ। ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চামচ নাড়তে নাড়তে ওর দৃষ্টি ছিল বাইরের কাচের ওপর আছড়ে পড়া কয়েক ফোঁটা প্রথম বৃষ্টির দিকে। কিন্তু মনটা পড়ে ছিল তিন বছর আগের সেই অভিশপ্ত রাতের পাতায়।
এক মুহূর্তে কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল একটি সাজানো-গোছানো সুখী পরিবার! নাবিল চৌধুরী—যাকে সবাই একজন অত্যন্ত সৎ ও নীতিবান চিফ একাউন্টেন্ট হিসেবে চিনত, এক রাতেই তাঁকে পরিণত করা হলো বিলিয়ন টাকার ফিন্যান্সিয়াল স্ক্যামের প্রধান মাস্টারমাইন্ডে।
পুলিশ রিপোর্ট, পত্রিকার প্রথম পাতার হেডলাইন, আদালতের কাঠগড়া—সব জায়গায় বাবাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। লোকলজ্জা আর অন্যায়ের ভার সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না-ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
মৃত্যুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বাবার কাঁপতে থাকা হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরেছিল ইনশিরাহ। বাবার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল, আর অক্সিজেন মাস্কের নিচ থেকে অস্পষ্ট কণ্ঠে ভেসে এসেছিল সেই আকুতি—"আমি কোনো অন্যায় করিনি,,মা... আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। শাহরিয়ার গ্রুপের ভেতরের কেউ আসল অপরাধী... আমাকে বিশ্বাস কর,,।"
সেই একটি বাক্যই গত তিন বছর ধরে ইনশিরাহের ভেতরে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। পড়াশোনা শেষ করে নিজের প্রকৃত পরিচয়, অতীত আর আসল পাসপোর্ট লুকিয়ে ফেলার কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় সে। ভূয়া কাগজপত্র, নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ আর একেবারে অন্য এক জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে নিজের একটা নতুন পরিচয় দাঁড় করিয়েছে সে—'তুবা আমীন'।
ইনশিরাহকে আজ থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলে তুবাকে জন্ম নিতে হয়েছে শুধুমাত্র শাহরিয়ার গ্রুপের ভেতরে প্রবেশ করার জন্য।
"ম্যাডাম, আপনার ইন্টারভিউয়ের নির্ধারিত সময় হয়ে এসেছে। মিস্টার ফারহান শাহরিয়ারের প্রাইভেট অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনাকে ওপরে নিয়ে যেতে নিচে লোক পাঠিয়েছেন," রেস্তোরাঁর ওয়েটার এসে নিচু গলায় মনে করিয়ে দিল।
কফির কাপটা ডেস্কে রেখে ইনশিরাহ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হ্যান্ডব্যাগের চেইন খুলে শেষবারের মতো নামি ইউনিভার্সিটির জালি সনদের ফাইল আর 'তুবা আমীন' নামের বায়োডেটাটি দেখে নিল। চোখে-মুখে এনে জমা করল এক নিখুঁত, পেশাদার স্থিরতা। ব্যাগের গভীর থেকে ছদ্মবেশের পুরো আত্মবিশ্বাসটা কুড়িয়ে নিয়ে সে উঠে দাঁড়াল।
শাহরিয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চল্লিশ তলা কাঁচঘেরা গগনচুম্বী টাওয়ারটি যেন পুরো শহরের কর্পোরেট সাম্রাজ্যের প্রতীক। লিফট যখন নিরবচ্ছিন্ন গতিতে চব্বিশ তলায় গিয়ে থামল, তখন ইনশিরাহের হাতের তালু কিছুটা ঘেমে উঠেছে। তবে মুখের একটি পেশিও ওর ভেতরের ঝড়কে বাইরে প্রকাশ হতে দিল না।
করিডোর পেরিয়ে পার্সোনাল অ্যাটেনডেন্টের রুম পার হয়ে লিড ডেকোরেটেড ডাবল ডোরের সামনে এসে দাঁড়াল ইনশিরাহ। দরজায় দুবার মৃদু টোকা দিতেই ভেতর থেকে ভেসে এলো ভারী,গম্ভীর এক পুরুষালি কণ্ঠ—"কাম ইন।"
ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখের সামনে ফুটে উঠল এক সম্পূর্ণ আধুনিক ও রুচিশীল কর্পোরেট সেটআপ। ঘরটিতে কোনো অপ্রয়োজনীয় আসবাব নেই। ঘরের একপাশের পুরো দেয়াল জুড়ে ফ্লোর-টু-সিলিং ফ্রেমলেস গ্লাস, যার ওপাশে ধূসর মেঘে ঢাকা শহরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ঘরের কেন্দ্রে বসানো একটি মিনিমালিস্টিক ডেনিশ ফ্রস্টেড গ্লাস এবং ইতালিয়ান হোয়াইট মার্বেলের সংমিশ্রণে তৈরি প্রিমিয়াম এক্সিকিউটিভ ডেস্ক।
ডেস্কে স্লিক অ্যালুমিনিয়াম বডির অল-ইন-ওয়ান ল্যাপটপের স্ক্রিনের ওপাশে বসে ছিলেন ফারহান শাহরিয়ার। বয়স ত্রিশের মাঝামাঝি। ধারালো চোয়াল, নিখুঁত ছাঁটের চুল আর গায়ে গাঢ় নীল রঙের ডাবল-ব্রেস্টেড কাস্টম স্যুট। চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এমন এক ধরনের রাশভারী ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিমত্তা ফুটে উঠছে যা যে কাউকেই প্রথম দর্শনে সচেতন করে তোলে।
"প্লিজ সিট ডাউন, মিস তুবা," ল্যাপটপ থেকে নজর না সরিয়েই ফারহান ইশারা করল।
ইনশিরাহ ডেস্কে থাকা ডেনিশ লেদার চেয়ারে মার্জিতভাবে বসল।
ফারহান সামনে রাখা ডিজিটাল প্যাডটি হাতে নিয়ে স্ক্রিন সোয়াইপ করতে শুরু করল। কিছু সময় নিঃশব্দে কেটে গেল। ঘরের ভেতরে শান্ত এসি-র মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ ছিল না। ইনশিরাহ নিজেকে শান্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, কিন্তু ফারহানের এই নীরবতা এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করছিল।
"তুবা আমীন... নর্থ সাউথ থেকে ফিন্যান্সে ফার্স্ট ক্লাস, আগের দুটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দারুণ ট্র্যাক রেকর্ড," ফারহান প্যাড থেকে চোখ তুলে সরাসরি ইনশিরাহের চোখের দিকে তাকাল।
ওর চোখের দৃষ্টি এতই গভীর ও বিশ্লেষণাত্মক ছিল যে ইনশিরাহের মনে হলো, ও যেন চামড়ার আড়ালে থাকা আসল ইনশিরাহকেই পড়ে ফেলার চেষ্টা করছে।
"আপনার বায়োডেটা আর রেফারেন্সগুলো নিখুঁত। তবে মিস তুবা, আমার পার্সোনাল এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কাজ করার জন্য ফার্স্ট ক্লাস ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা একমাত্র শর্ত নয়। আমি যা সবচেয়ে বেশি খুঁজি, তা হলো পরম আনুগত্য আর অখণ্ড সততা," ফারহানের গলায় বরফশীতল গাম্ভীর্য।
"আমার এই ডেস্কে এমন সব ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা ও সিক্রেট প্রজেক্টের ফাইল থাকে, যার একটু গোপনীয়তা ভঙ্গ হলে এই পুরো কোম্পানির শত কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। আপনি কি এই দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝেন?"
'সততা' শব্দটা ফারহানের মুখে শুনে ইনশিরাহের বুকের ভেতর এক তীব্র তিক্ততা ছড়িয়ে পড়ল। মনে মনে বলল—*যে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে আমার বাবার জীবন আর সততাকে বলি দিয়ে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান আজ আমাকে সততার পাঠ পড়াচ্ছে!*
তবে মুখের ওপর সেই তিক্ততা বিন্দুমাত্র ফুটতে দিল না সে। অত্যন্ত বিনীত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিল, "আমি বুঝতে পারছি, মিস্টার ফারহান। আমার ওপর আপনি যেসব গোপন নথি বা ডেটার দায়িত্ব দেবেন, তার গোপনীয়তা রক্ষা করা আমার নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব হবে। আমি আপনাকে হতাশ করব না।"
ফারহান ইনশিরাহের উত্তরের পর কয়েক মুহূর্ত একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। মনে হলো সে যেন মেপে নিচ্ছে এই মেয়েটির কথাগুলোর সত্যতা।
তারপর প্যাডটি টেবিলের ওপর রেখে পেছনের ব্যাকরেস্টে হেলান দিয়ে বসল। "গুড। আগামীকাল সকাল ঠিক নয়টায় আপনাকে এই ডেস্কে দেখতে চাই। আপনার এইচআর কন্ট্রাক্ট পেপারস টেবিল ওয়ান থেকে সাইন করে নিয়ে যাবেন। ওয়েলকাম টু শাহরিয়ার গ্রুপ, মিস তুবা।"
ইনশিরাহ মৃদু হেসে সৌজন্যমূলক ধন্যবাদ জানিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠল।
আস্তে আস্তে ঘরের ভারি গ্লাসের দরজা পার হয়ে বাইরে আসার পর তবেই যেন বুক ভরে শ্বাস নিতে পারল সে। করিডোর দিয়ে হেঁটে লিফটের দিকে যাওয়ার সময় ইনশিরাহের হৃদস্পন্দন তখনও দ্রুত চলছিল।
মিশনের প্রথম ধাপ সফল হয়েছে। সে শত্রুর দুর্গের একদম কেন্দ্রীয় পয়েন্টে প্রবেশ করতে পেরেছে। কিন্তু ফারহান শাহরিয়ারের সেই তীক্ষ্ণ চোখ আর দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে—এ খেলা মোটেও সহজ হবে না। সামান্যতম ভুল বা সামান্য একটি মিথ্যা পদক্ষেপ ওর আসল পরিচয় প্রকাশ করে দিতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়ানক।
ইনশিরাহ হাতের মুঠো শক্ত করল। বাবাকে দেওয়া কথা তাকে রাখতেই হবে—ফারহানের মুখোশের আড়ালে যে সত্য লুকিয়ে আছে, তা সে বের করেই ছাড়বে!
অফিসের বিশালাকার কাঁচের দরজা পেরিয়ে করিডোরে পা রাখতেই এক পশলা ঠান্ডা বাতাস ইনশিরাহের গায়ে এসে লাগল। চব্বিশ তলার লিফট লবির মেঝের চকচকে মার্বেলে ওর হাই হিলের শব্দ একটা একাকী প্রতিধ্বনি তৈরি করছিল। ব্যাগ থেকে নিজের ফোনটা বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকাল সে—রাত সাতটা বেজে গেছে। বাইরে বৃষ্টি এখন অনেকটাই কমে এসেছে, তবে শহরের বুকে জমে থাকা কুয়াশা আর মেঘের আস্তরণ যেন এক গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।
লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় ইনশিরাহের মনে হলো, এই ইমারতের প্রতিটি কোণেই যেন এক অদৃশ্য রহস্যের ছায়া লুকিয়ে রয়েছে। ফারহান শাহরিয়ারের সেই গভীর অথচ নির্লিপ্ত চোখ দুটি ওর চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠতে লাগল। সে কোনো সাধারণ সিইও নয়—তার মেধা, দৃষ্টিভঙ্গি আর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অসাধারণ। ইনশিরাহ নিজেকে সতর্ক করল, সামান্য একটি অসাবধান ভুল পদক্ষেপও ওকে চিরতরে এই লড়াই থেকে ছিটকে ফেলতে পারে।
নিচে নেমে এসে সে রাস্তার এক পাশে দাঁড়াল। ভেজা রাস্তায় রাতের শহরের রঙিন আলো প্রতিফলিত হয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী রূপ ধারণ করেছে। ক্যাব ডেকে বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত সাড়ে আটটা বেজে গেল।
ছোট্ট শান্ত ফ্ল্যাটটিতে পা রাখতেই ঘরের নীরবতা তাকে গ্রাস করল। দেয়ালে টাঙানো বাবার সেই হাসিমুখে তোলা বাঁধাই করা ছবিটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল সে। ইনশিরাহ আঙুল দিয়ে ছবির ওপর জমে থাকা অদৃশ্য ধূলিকণাটুকু আলতো করে মুছে দিল।
"আমি প্রথম ধাপ পার করেছি, বাবা," নিচু গলায় স্বগতোক্তি করল ইনশিরাহ, "শাহরিয়ার গ্রুপের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে আমি পৌঁছাতে পেরেছি।
যে ফারহান শাহরিয়ারের স্বাক্ষর তোমার ক্যারিয়ার ও জীবন শেষ করে দিয়েছিল, আমি আজ তারই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এসেছি। আমি জানি পথটা সহজ নয়, কিন্তু তোমার ওপর লেগে থাকা চোরের অপবাদ আমি মুছে ফেলবই।"
রাতে আর কিছুই খেতে ইচ্ছে করল না ওর। নিজের ছোট্ট পড়ার টেবিলে বসে একটি নোটবুক খুলল সে। ফারহানের হাবভাব, কথা বলার ধরন আর তার অফিসের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি মানসিক মানচিত্র তৈরি করতে শুরু করল।
ল্যাপটপ অন করে শাহরিয়ার গ্রুপের গত পাঁচ বছরের ডিজিটাল নিউজ আর্কাইভ আর অ্যানুয়াল রিপোর্টগুলো আবার গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে লাগল।
পড়তে পড়তে একটা জায়গায় এসে ইনশিরাহের চোখ আটকে গেল। তিন বছর আগে বাবার ঘটনার ঠিক কিছুদিন পরেই শাহরিয়ার গ্রুপের বোর্ড অফ ডিরেক্টরসে এক বড় ধরনের রেশাফলিং হয়েছিল।
ফারহানের আপন কাকা, চৌধুরী রশীদ শাহরিয়ার হঠাৎ করেই কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। খবরটিতে লেখা ছিল 'ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতা', কিন্তু অডিট রিপোর্টের তারিখ আর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল অদ্ভুতভাবে একই সুতোয় গাঁথা!
ইনশিরাহের ভেতরে থাকা অনুসন্ধিৎসু মনটা এক মুহূর্তে তীব্র হয়ে উঠল। তবে কি শাহরিয়ার পরিবারের ভেতরের কোনো ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল ওর বাবাকে? আর ফারহান কি সত্যি এই পুরো চক্রান্তের মূল হোতা, নাকি সে-ও কেবল কোনো আড়ালে থাকা সত্যি গোপন করার চেষ্টা করছে?
দেয়ালের ঘড়িতে তখন রাত একটা বেজে উঠেছে। ল্যাপটপের আলোয় ইনশিরাহের চোখে প্রতিফলিত হচ্ছিল এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। ঘরের জানালাই দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস ওর চুলগুলোকে কিছুটা উসকোখুসকো করে দিল।
সে জানে,আগামীকাল সকালে যখন সে আবার শাহরিয়ার টাওয়ারের চব্বিশ তলায় পা রাখবে, তখন থেকে শুরু হবে আসল দাবার চাল। সেখানে ভালোবাসা, সহানুভূতি বা আবেগের কোনো স্থান নেই—আছে শুধু মুখোশের আড়ালে সত্য খুঁজে বের করার এক বিপজ্জনক খেলা।
চলবে..