~ প্রেম প্রার্থনা ~🌸
সূচনা পর্ব:
মাইকে গমগমিয়ে ভেসে চলেছে স্লোগান। কারণ আজ মাঠে নেমেছে স্বয়ং আরশ রাজ চৌধুরী। রাজনীতির ময়দানে এক নতুন অধ্যায় সূচনার প্রস্তুতি চলছে। সামনেই ইলেকশন, ভবিষ্যৎ (এম.পি) নির্বাচন করা হবে মাস তিনেক পর। এখন থেকেই শুরু হয়েছে দলীয় নেতাদের জনসভা।
উপস্থিত দলীয় নেতাদের সমালোচনায় যেন স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, এবারে ইলেকশনে বিজয় অর্জন করবে আরশ রাজ, আর করবে নাই বা কেন? পুরো ঢাকার শহর তার এক ধমকে চুপ হয়ে যেতে বাধ্য। যেখানে (এম.পি) পদপ্রার্থী হয়ে বিজয় অর্জন করা কোনো ব্যাপার না, এতটাই দাপট নিয়ে চলাফেরা করে আরশ। তবে এগুলো সবই সাধারণ জনগণের কথা, তারা আর কতটুকুই বা জানে রাজনীতির রং মহল সম্পর্কে!
জনসভাটি মূলত উত্তরা গার্লস School এর মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে প্রধান অতিথির। ছোট খাটো এক জনসভায় যে স্বয়ং (এম.পি) পদপ্রার্থী উপস্থিত হবে তা প্রায় সকলেরই অকল্পনীয়।
হাওয়ার গতিতে ধুলা উড়িয়ে ছুটে চলেছে একটি কালো রঙের ল্যান্ডক্রুজার। দারোয়ান তড়িঘড়ি করে গেট খুলে দিতে স্কুল মাঠে প্রবেশ করল গাড়িটি। থায় থায় মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, কেউ ফুল ছিটাচ্ছে আর কেউ ফুলের তোড়া দিয়ে সম্বর্ধনা জানাচ্ছে। একজন লোক ফুলের মালা পরাতে গেলে আরশ কিছুক্ষণ তাকায় তার পাশে অবস্থানরত রিয়ানের দিকে। রিয়ান হলো আরশের অ্যাসিস্ট্যান্ট। মধ্যবয়ষ্ক লোকটি আরশের গলায় মালা পরাতে গেলে রিয়ান গলা বাড়িয়ে মালা নিজের গলায় পরে নেয়, নেকি হেসে বলে ফুলে অ্যালার্জি আছে আংকেল🥲
লোকটিও তেমন কিছু বলেন না। সকল মানুষ এবার স্টেজের দিকে এগোলো।
ক্লাস রুমে বসে অংক করছে তূর্ফা। সামনেই তার ফাইনাল ইয়ার exam, আর মাত্র মাস দুই সময় আছে হাতে। কিন্তু কি অসহ্য ঘ্যানঘ্যানি আর নেওয়া যাচ্ছে না। সেই সকাল থেকে মাইকে বকবক চলছে। এদের মুখ ব্যথা হয় না নাকি! টিচার রিমা ধীরে বসে আছেন, প্রিন্সিপাল স্যারও নিজের রুমে বসে আছেন। কিছু যেন বলার অধিকার নেই কারো। সাধারণ একটা সরকারি girls school, এলাকার নেতা খেতাদেরই প্রভাব বেশি। টিচারদের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল তবে সেই ভাবে কোনো আলোচনা হয়নি। পুরো স্কুলের সবাই বিরক্ত।
উফ, অসহ্য আর নেওয়া যাচ্ছে না বলেই খাতা বন্ধ করে ধুপধাপ পা ফেলে ক্লাস রুম হতে প্রস্থান করে তূর্ফা। তার পিছু পিছু ছুটে লাগলো রাফা আর একা। এর দুজনই তূর্ফার friend, বেজায় চটেছে মেয়েটা, কি অঘটন ঘটিয়ে ফেলে কে জানে!
স্টেজের উপর একটি চেয়ারে বসে আছে আরশ, তার পাশে রিয়ান বসা সাথে আরও কিছু লোকজন। স্টেজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটি লোক মাইকে বক্তব্য প্রদান করছে। তূর্ফা হনহন হয়ে এগিয়ে আসছে। গার্ডরা আটকানোর আগেই একলাফে স্টেজে বক্তব্য প্রদানকারী লোকটির কাছ থেকে মাইকটা ছিনিয়ে নিয়েই সুইচ অফ।
এক মুহূর্তেই পুরো মাঠ স্তব্ধ। লোকটা বেশ হতমত খেয়ে চেয়ে রইল মেয়েটির মুখ পানে। সহসা উঠে দাঁড়ালো স্টেজে অবস্থানরত ব্যক্তিগণ, গার্ডরা এগিয়ে আসতে নিলে আরশ থামিয়ে দেয় ইশারায়। নিজে গিয়ে দাঁড়ায় তূর্ফার সামনে। একবার দৃষ্টি বুলালো মেয়েটির পানে, সাদা স্কুল ড্রেস তার উপর সাদা অ্যাপ্রোন জড়ানো গায়ে, দুপাশে দুটো লম্বা চুলের বেণী করা মুখে মাস্ক। অতঃপর জিজ্ঞেস করল, এই কি সমস্যা? এখানে এসে বায়না দিচ্ছ কেন?
তূর্ফা রেগে বলে, সমস্যাটা আমাদের আর তার কারণ আপনারা। স্কুল চলাকালীন মাঠে অনুষ্ঠান করছেন, এতে আমাদের অসুবিধা হয় না?
পাশ থেকে একটি লোক বলে উঠে, এটা সম্পূর্ণ আমাদের ব্যাপার, তুমি নাক গলাতে আসছ কেন?
তূর্ফা বলে, বুঝলাম এটা আপনাদের ব্যাপার, কিন্তু এতে আমাদের কত ক্ষতি হচ্ছে বোঝেন? এক দিনেরই তো ব্যাপার, ক্ষতির কি আছে?
লোকটি বলে, ক্ষতির কিছু নেই।
তূর্ফা বলে, পারমিশন? জেলা কমিশনারের পারমিশন নিয়েছেন?
আরশ এবার চটলো মনে হয়। এক রত্তি একটা মেয়ে কিনা তাদের প্রশ্ন করছে! তাকে প্রশ্ন করছে। লোকটা এ পর্যায়ে একটু কাচুমাচু করল। আরশ এবার মুখ খোলে, তোমার জানে ভয় নেই নাকি?
তূর্ফা তবুও বলল, পারমিশন লেটার দেখান।
আরশ ধমকের সুরে বলে, তোমার সাহস তো কম নয়! তুমি আমার কাছে কৈফিয়ত চাইছো? আমি কখনো আইন বিরোধী কাজ করি না। আমার জায়গায় একটু কম আর সাহস আছে বিধায় রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। আরশ বিদ্রুপ হেসে বলে বেশ ইন্টারেস্টিং ডার্লিং। রিয়ান পাশ থেকে সামান্য ঢোক গিলে বলে ভাই পারমিশন নেওয়া হয়নি।
আরশের রাগ এবার সাত আসমানে! পারমিশন নেওয়া হয়নি, আবার এত আয়োজন করার কি আছে? বন্ধ কর সব।
রিয়ান মাইক হাতে বলে, আজকের জনসভা এখানেই সমাপ্ত করা হলো, অতিদ্রুত মাঠ ফাঁকা করুন সবাই।
এর পর একটা ফোন কল, পাঁচ মিনিটের মাথায় বিকট আওয়াজ তুলে একটি হেলিকপ্টার স্কুলের মাঠে নামলো। মানুষজন অনেকটা থ হয়ে এসেছে। আরশ হনহনিয়ে হেঁটে চলল হেলিকপ্টারের দিকে, পিছু পিছু রিয়ান। দুজন ব্যক্তি উঠে বসতেই হেলিকপ্টারটি উড়াল দিল মাঝ আকাশে।
আরশ বিড়বিড় করে বলে বালের রাজনীতি 😡
স্কুল ক্যাম্পাসে হাঁটছে তিন বাদর এরই মাঝে একা বলে ওঠে তুই যে এই কাহিনী রটালি কি মনে হয় এটা এখানেই সমাপ্ত? রাফা বলে সমাপ্ত মানে এটা পরি কত দূর গড়াবে তাও বোঝা মুশকিল, তূর্ফা চুপ হয়ে দুজনের বক বকানি শুনছে একা তূর্ফার কাঁধে হাত রাখতে রাখতে বলে মহারানী এখন চুপ কেন, একটু আগেতো মুখ দিয়ে ধোঁয়া ফুটছিল, তূর্ফা বলে উফ" এবার থামতো একা বোকা, এত জ্ঞান দিস না ফালতু বিষয় নিয়ে এখনও পড়ে আছিস, রাফা বলে তোর এটা ফালতু বিষয় বলে মনে হচ্ছে? লোকটাকে চিনিস, না.. কোন ক্ষেতে মুলা যে চিনতে হবে, তুই চিনিস নাকি?
হুম
একটু আট্টু, একজন ধনি ব্যবসায়ি, আর ভবিষ্যৎ (এম.পি),
ও..... একা বলে এই লোকের বেশ নাম ডাক ঢাকা শহরে,
কেমন? সুধীর তূর্ফা
, নাম ভালো খারাপ দুই ভাবেই ছড়িয়েছে, অল্প বয়সেই একজন সফল ব্যবসায়ি হিসেবে বেশ কয়েক বার টিভির পর্দায় উঠেছেন টনি, আবার মারা মারিতে ওস্তাদ
, ও... আচ্ছা, রাফা বলে এবার থেমে যা তথ্যের ভান্ডার খুলে বসছিস, একা গরম দৃষ্টি ফেলে রাফার পানে😡, বলে বেদ্দপের দল আমার নামের মজা উড়াস সবগুলো জাহান্নাম যাবি তোরা
'হ' তোর মতো জাউরা বান্ধবী থাকলে তো এমনিতো যামুগা আর পাপ করা লাগতো নাহ, তূর্ফা তুইও শুরু করে দিলি, আর কথা বলবো তোদের সাথে রাফা ওদের কে থামিয়ে বলে যাক বাদদে তো, দুদিন পরয়ে ডিবেট কমপিটিশন সে খেয়াল আছে, তুই থাকবে না কেন অনেক বেলা হয়েছে এবার বাড়ি ফেরা উচিৎ, হ্যাঁ ঠিক বলেছিস চল আচ্ছা তাহলে তিন বাদর এবা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হলো দিনের আলো ফুরিয়ে রাতের আধাঁর নেমেছে অনেক আগেই সারা দিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে সকল মানুষ ফিরছে নিজ বাসস্থানে
চৌধুরি বাড়ি:
রাত ৯:৩৫ মিনিটে চৌধুরী বাড়ির গেটে প্রবেশ করছে আরশের ল্যান্ড ক্রুজারটি গাড়িটি পার্কিং এরিয়াতে রেখে আরশ বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল, আজমল চৌধুরী গার্ডেনে হাঁটছিলেন কে এমন সময় বাড়ি ফিরতে দেখে বেশ অবাক হলেন কারন এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে যে আরশ দেশে ফিরেই বাড়িতে এসেছে, মূলত তিন মাস দেশের বাইরে ছিল ব্যবসার কাজে এমনিতে এই ছেলে কখন কোথায় থাকে বলা মুশকিল গতকাল কথা হয়েছিল আরশের সাথে সে বলেছিল সিঙ্গাপুর আছে তার মানে আজই দেশে ফিরেছে, আরশ দেশে থাকলে চৌধুরী বাড়িতে খুব কম আসে, নিজের বাড়িতে একা থাকে, বছর দুই আগে নিজের একটি বাড়ি স্থাপন করেছে
চলবে,,,,,####
কিছু ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সকলে ধন্যবাদ,,🌸🌸