শেষ পর্যন্ত তুমি আমার
লেখিকা ইশরাত জাহান রিশা
পর্ব — ১
“আম্মুউউউ! ছাদ মনে হয় উড়ে জয় বাংলা হয়ে গেছে! বৃষ্টি আমার গায়ে পড়ছে!”
চিৎকার করে বিছানা থেকে উঠে বসলো আরিশা। সামনে তাকাতেই দেখলো, তার ছোট ভাই আরিয়ান হাতে বালতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
দৃশ্যটা দেখেই বুঝতে আরিশার একটুও বাকি রইলো না—কাজটা কে করেছে!
রাগে আরিশার মুখ লাল হয়ে গেল।
“কুত্তা! তোকে আজ আমি খাইছি!”
কথাটা বলেই বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেই আরিয়ান দৌড় দিল। আর তার পেছন পেছন আরিশাও ছুটলো।
“দাঁড়া! তুই হারামি, তোকে আজ আমি খাইছি! বেয়াদব! এত সকালে আমার গায়ে পানি ঢালা, তাই না?”
দুজনকে দৌড়াতে দৌড়াতে নিচতলায় চলে আসতে হলো। আরিয়ান কোথায় যাবে বুঝতে না পেরে সোজা কিচেনে ঢুকে মায়ের পেছনে লুকিয়ে গেল।
তারপর কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,
“আম্মু, তোমার এই ডাইনি মেয়ের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও! আমি তো ওর ভালোর জন্যই ওর গায়ে পানি ঢেলেছি!”
আরিশা তখনই সেখানে এসে হাজির।
“কি এমন ভালো কাজ করলি যে পানি ঢেলে এই সাতসকালে আমাকে গোসল করতে হবে?”
দুজনের এমন ঝগড়া দেখে মেহেজাবিন বিরক্ত হয়ে বললেন,
“দাঁড়া! থাক তোরা দুজন!”
তারপর আরিশার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আরিশা, তোর না আজ ভার্সিটিতে প্রথম দিন? তোর আব্বু আরও ত্রিশ মিনিট আগে তোকে যেতে বলেছে। আর এখন বাজে সাড়ে সাতটা, এখনও পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস! আরিয়ান তোকে পানি ঢালবে না তো কী করবে?”
“হায় আল্লাহ! আমার ভার্সিটি!”
কথাটা মনে পড়তেই আরিশা এক ছুটে উপরে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
আরিয়ান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
“বাঁচালে আম্মু!”
কথাটা বলে সে চলে যেতে নিতেই মেহেজাবিন তার কান ধরে টেনে ধরলেন।
“তুই কই যাচ্ছিস, হ্যাঁ? তোরও তো স্কুল আছে। যা, রেডি হয়ে আয়।”
“আম্মু! লাগছে! কান ছাড়ো!”
কান ছাড়িয়ে নিয়ে আরিয়ান মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“তুমি একজন ক্লাস এইটে পড়া ছেলের কান এভাবে ধরতে পারো না, আম্মু!”
মেহেজাবিন চোখ রাঙিয়ে বললেন,
“তুই যাবি, নাকি এবার খুন্তির বাড়ি খাবি?”
এটা শুনেই আরিয়ান ভয়ে বললো,
“না আম্মা জান! খুন্তির বাড়ি খাওয়ার ইচ্ছে আমার নাই। আমি গেলাম!”
বলেই সে নিজের রুমের দিকে দৌড় দিল।
আরিশা—বাবার দুলালি, আর মায়ের আকাশের নিচে সবচেয়ে বড় আকাইম্মা মেয়ে!
বর্তমানে সে Accounting-এর 1st Year Student।
তার বাবা রাশেদ খান একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। পাশাপাশি তিনি তাদের পারিবারিক ব্যবসাও সামলান।
মা মেহেজাবিন খানও এই পরিবারের ব্যবসার দেখাশোনা করেন।
আর তার ছোট ভাই আরিয়ান খান—এবার ক্লাস এইটে পড়ে।
কিছুক্ষণ পর আরিশা গোসল করে একেবারে রেডি হয়ে নিচে চলে এলো।
ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে দেখলো, আরিয়ান আগে থেকেই সেখানে বসে আছে।
ওকে দেখেই আবার আরিশার মেজাজ চড়ে গেল। কিন্তু কিছু বললো না। চুপচাপ নিজের জায়গায় বসে বললো,
“আম্মু, খেতে দাও।”
মেহেজাবিন বললেন,
“দিচ্ছি।”
কিছুক্ষণ পর টেবিলে খাবার এনে রেখে বললেন,
“নে, খেয়ে তাড়াতাড়ি চলে যা। আর আরিয়ান, তুইও যা।”
আরিশা সঙ্গে সঙ্গে বললো,
“আমি ওকে নামিয়ে দিয়ে যাব।”
মেহেজাবিন টেবিলে বসতে বসতে বললেন,
“এই, তুই কিন্তু গাড়ি চালাবি না। নাহলে তোর মারের ব্যবস্থা আছে!”
আরিশা মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“তুমি আমাকে মারতে পারবা? পাপা তোমাকে মারবে!”
মেহেজাবিন চোখ বড় বড় করে বললেন,
“মার খাবি কিন্তু!”
আরিশা সঙ্গে সঙ্গে গলা নামিয়ে বললো,
“আচ্ছা! আমি গাড়ি চালাবো না।”
কিন্তু মনে মনে বললো,
‘আইছে! আমি গাড়ি চালাবো না! কত শখ আজ পর্যন্ত শুনছি তোমার কথা! আজ শুনবো!’
ব্রেকফাস্ট শেষ করে মেহেজাবিন অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলেন।
এদিকে আরিশা আর আরিয়ান দুজনেই বসে আছে।
আরিশা বললো,
“উঠ তো! চল, স্কুলে যাবি। লেট হয়ে যাচ্ছে।”
আরিয়ান ব্যাগ নিতে নিতে বললো,
“আচ্ছা, আমাকে টাকা দাও। আজ টাকা নিতে ভুলে গেছি।”
আরিশা অবাক হয়ে বললো,
“কিরে? তোকে না আমি কালকেই ৫০০ টাকা দিয়েছি? আবার কী করবি? একদিনেই সব টাকা হাওয়া! এত কী গিলিস, হ্যাঁ?”
আরিয়ান মুখ ফুলিয়ে বললো,
“একদম বেশি কথা বলবি না! আমি একা খাই? তোকে তো চকলেট, চিপস, আইসক্রিমও এনে দিই!”
আরিশা বুঝলো, এখন ঝগড়া করতে গেলে সত্যিই দেরি হয়ে যাবে।
তাই আর কিছু না বলে ব্যাগ থেকে টাকা বের করে আরিয়ানের হাতে দিয়ে বললো,
“এই নে। এবার চল। যা, ব্যাগ নিয়ে আয়।”
আরিশা আরিয়ানকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে নিজের ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
ভার্সিটিতে পৌঁছে গাড়ি পার্ক করে ক্লাসরুমের উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই বুঝতে পারলো, সে আসলে জানেই না তার ক্লাসরুম কোনদিকে!
আব্বু এই ভার্সিটির প্রফেসর হলেও এতদিন এখানে তার আসা হয়নি। তাই কার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে, সেটাও বুঝতে পারছে না।
আরিশা মাঝখানে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল।
ঠিক তখনই একদল মেয়ে তার সামনে দিয়ে আসতে লাগলো। তাদের মধ্যে একজনকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, সে বেশ দাপুটে। মেয়েটি ছিল আরিশার এক বছরের সিনিয়র এবং ভার্সিটির চেয়ারম্যানের মেয়ে।
মেয়েটি আরিশার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো,
“তুই নিউ?”
আরিশা সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু কুঁচকে বললো,
“আপনার মধ্যে ম্যানার্স নেই? তুই করে বলছেন কেন? আগে ম্যানার্স শিখে আসুন, তারপর আমার সঙ্গে কথা বলবেন।”
কথাটা বলে আরিশা সেখান থেকে চলে যেতে চাইলো।
মেয়েটির নাম জিনিয়া।
জিনিয়া তার এক বান্ধবী সাদাফকে চোখের ইশারা করে বললো,
“ওকে যেতে দিস না।”
সাদাফ সঙ্গে সঙ্গে আরিশার সামনে গিয়ে পথ আটকে দাঁড়ালো।
“কী? কোথায় যাও? এমন করে তো এখান থেকে যেতে পারবে না।”
আরিশা বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে বললো,
“কী রে ভাই, সমস্যা কী? আমি ভালো আছি, সহ্য হচ্ছে না কেন? আজাইরা আমার পেছনে লাগতাছিস কেন বল তো?”
তারপর একটু থেমে বললো,
“জানিস, আমি চাইলে কী করতে পারি?”
জিনিয়া হেসে বললো,
“আচ্ছা, সেটা বাদ দে। বল তো, তোর পাপা কে?”
জিনিয়া আর তার বন্ধুরা হেসে উঠলো।
“হবে কোনো ড্রাইভার!”
কথাটা শুনেই আরিশার শ্যামবর্ণ মুখ রাগে লাল হয়ে গেল।
“তোরা জানিস আমার পাপা কে? তোদের সাহস হয় কী করে এসব বলার? আমার পাপা এই ভার্সিটির প্রফেসর!”
আরিশা কথাটা শেষ করার আগেই জিনিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,
“তোর বাপ প্রফেসর হলে কী হবে? আমার আব্বু হচ্ছে এই ভার্সিটির চেয়ারম্যান।”
আরিশা হঠাৎ হেসে উঠলো।
জিনিয়া সেটা দেখে আরও রেগে গেল।
“হাসছিস কেন?”
কথাটা বলেই জিনিয়া আরিশাকে একটা থাপ্পড় মেরে দিল।
চারপাশের সবাই চুপ হয়ে গেল।
কেউ কিছু বলার সাহস পেল না।
থাপ্পড় খেয়ে আরিশা কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো। তার চোখ ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠলো।
আজ পর্যন্ত কেউ তার গায়ে ফুলের টোকাও দেয়নি। আর এই মেয়েটা তাকে সবার সামনে থাপ্পড় মেরেছে!
আরিশা ধীরে ধীরে জিনিয়ার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো।
তারপর—
একটা জোরালো থাপ্পড় মারলো জিনিয়ার গালে।
থাপ্পড়ের ধাক্কায় জিনিয়া কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে পড়ে গেল।
আরিশা তার চুল ধরে বললো,
“শালী! আমি ভালো ছিলাম, তোদের ভালো লাগলো না? ভাবছিলাম এক বছর এখানে থাকবো, কারও সঙ্গে ঝামেলা করবো না। কিন্তু না! তোরা তো আমাকে ভালো থাকতে দিবি না!”
বলেই আরেকটা থাপ্পড় মারলো।
ততক্ষণে বিষয়টা কয়েকজন স্যারের কানেও পৌঁছে গেছে।
সাদাফ আরিশাকে মারতে এগিয়ে এলো।
কিন্তু আরিশার গায়ে হাত দেওয়ার আগেই পিছন থেকে কেউ তার হাত শক্ত করে ধরে ফেললো।
এক ঝটকায় তার হাত ঘুরিয়ে দিয়ে পেটে লাথি মারলো।
সাদাফ মাটিতে পড়ে গেল।
সবাই এক মুহূর্তে চুপ হয়ে গেল।
ভয়টা শুধু সাদাফকে দেখে নয়—
পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে।
সে আরহাম।
ভার্সিটির সিনিয়র। আর তাকে সবাই বেশ ভয় পায়।
আরিশা পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখলো, তার মেঘ দাঁড়িয়ে আছে।
মেঘকে দেখেই আরিশা সঙ্গে সঙ্গে জিনিয়াকে ছেড়ে মেঘ এর পাশে গিয়ে মাথা নিচু করে দারিয়ে পড়লো
ঠিক তখনই সেখানে এসে উপস্থিত হলেন রাশেদ খান।
আরিশার আব্বু।
বাবাকে দেখেই আরিশার চেহারা মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল।
চোখে পানি এনে এমনভাবে কাঁদতে শুরু করলো, যেন দুনিয়ার সবচেয়ে নিরীহ মানুষ সে!
দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
“পাপা! দেখো, এই মেয়েটা আমাকে র্যাগ করতে আসছিল!”
রাশেদ জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললেন,
“এটা তো আমার বন্ধুর মেয়ে! ওর এই অবস্থা কী করে হলো?”
আরিশা নাক টেনে বললো,
“পাপা, ও এখন এখন অভিবয় করছে! এতক্ষণ আমাকে থাপ্পড় দিছে!”
রাশেদ কথাটা শুনে জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“মামনি, এটা কেন করছো? এটা কিন্তু ভালো না। ও তোমার ছোট বোনের মতো।”
তারপর জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“উঠো মামনি। ধুলো লেগে গেছে গায়ে। যাও, তুমি ক্লাসরুমে যাও।”
তারপর পাশে থাকা রাবেয়াকে বললেন,
“রাবেয়া, জিনিয়া মামনিকে নিয়ে যাও।”
রাবেয়া জিনিয়াকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।
আরিশা বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
“যাও পাপা, তুমি। আমি মেঘের কাছ থেকে জেনে নেব ক্লাসরুম কোনটা।”
রাশেদ বললেন,
“আচ্ছা, সবাই যার যার কাজে যাও আমারও ক্লাসের টাইম হয়ে গেছে
বলেই তিনি চলে গেলেন।
রাশেদ চলে যেতেই আরিশার মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তেই বদলে গেল।
চোখের পানি মুছে মুখে ফুটিয়ে তুললো দুষ্টু একটা হাসি।
“আসছে আমার সঙ্গে টক্কর দিতে!”
বলেই চুলগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে নিল।
তার এই পরিবর্তন দেখে আশেপাশের সবাই অবাক।
আরহাম বিরক্ত হয়ে বললো,
“এখানে তোমরা কী সার্কাস দেখছো? যাও, সবাই এখান থেকে।”
আরহামের কথা শুনে সবাই ধীরে ধীরে সেখান থেকে চলে গেল।
আরিশা এবার মেঘের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
“কেমন দিলাম?”
কথাটা বলেই হেসে দিল।
ইনায়াও হেসে বললো,
“আসলেই, তুই পারিসও বটে! তোর তো নায়িকা হওয়া উচিত ছিল!”
আরিশা চোখ বড় বড় করে বললো,
“তো কী করবো? আমি তো ভালোই ছিলাম। ও কোথা থেকে এসে আমার সঙ্গে ঝামেলা জুড়ে দিল! আমি কি ছেড়ে দেবো নাকি?”
তারপর মেঘের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আচ্ছা ব্রোকে তো চিনলাম। কিন্তু ওই ছেলেটা কে?”
মেঘ বললো,
“ওটা আমার বোনের ছেলে।তোর সাথে কয়েকবছর আগে বিয়েতে দেখা হয়েছিলো নাহ আর তোর ব্রোর চাচাতো ভাই।”
আরিশা মাথা নাড়িয়ে বললো,
“ওহ, আচ্ছা!”
মেঘ বললো,
“গল্প পরে করিস। আগে ক্লাসরুমে যা। আমার তো সময় হয়ে গেছে। ক্লাসে যেতে হবে।”
তারপর আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো,
“তুই না হয় আরহামের সঙ্গে যা। এই আরহাম, আরিশাকে ওর ক্লাসরুমটা দেখিয়ে দে তো।”
আরিশা বললো,
“আচ্ছা, বাই! আর হ্যাঁ, ওই যে কৃষ্ণচূড়া গাছটা আছে, ওটার নিচে আসবি কিন্তু।”
মেঘ হেসে বললো,
“আচ্ছা, বাই। টাটা!”
মেঘ, ইনায়া আর তার বাকি বন্ধুরা সবাই নিজেদের ডিপার্টমেন্টের দিকে চলে গেল।
আরিশা একা দাঁড়িয়ে রইলো।
আরিশা, মেঘ, ইনায়া,সামিয়া ,রাইহান সবাই ফ্রেন্ড হলেও মেঘ,ইনায়া রাইহান ডিপার্টমেন্ট আলাদা তারা সাইন্স ডিপার্টমেন্ট এর student
কিছুক্ষণ পর আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো,
“এই যে মিস্টার! আমার ক্লাসরুমটা কোথায়, দেখিয়ে দিলে ভালো হতো।”
আরহাম শান্ত গলায় বললো,
“আচ্ছা। তুমি আমার সঙ্গে চলো।”
তারপর অন্যদের উদ্দেশ্যে বললো,
“আর তোমরা গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াও।”
আরহাম সামনে হাঁটতে শুরু করলো।
আরিশাও তার পেছনে হাঁটা শুরু করলো—নিজের নতুন ভার্সিটির প্রথম দিন, আর প্রথম দিনেই এত কাণ্ড!
চলবে…