ফন্ট সাইজ:
থিম:
লেখক লেখিকাদের গল্পকথা

পর্ব 1

লেখক: শুকরিয়া ইসলাম শীতল

লেখক-লেখিকাদের গল্পকথা

লেখিকা: শুকরিয়া ইসলাম শীতল

বিশেষ দ্রষ্টব্য: গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তব লেখক-লেখিকাদের নাম ও তাঁদের প্রকাশিত উপন্যাসের উল্লেখ থাকলেও গল্পের ঘটনা, সংলাপ ও আচরণ কাল্পনিক।

পর্ব ০১:

সকাল ১০টা।
শুকরিয়া ইসলাম শীতল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করছে। আজ তার জীবনের একটা বিশেষ দিন। কারণ আজ সে যাচ্ছে এমন এক জায়গায়, যেখানে একসঙ্গে থাকেন দেশের পরিচিত কয়েকজন লেখক-লেখিকা।
শুকরিয়া নিজের ব্যাগে একটা খাতা, তিনটা কলম, একটা চিরুনি আর কয়েকটা চকলেট ঢুকিয়ে নিল।
মা পাশ থেকে জিজ্ঞেস করলেন,
— কোথায় যাচ্ছিস এত সাজগোজ করে?
শুকরিয়া গম্ভীর মুখে বলল,
— সাহিত্য সম্মেলনে।
— তুই আবার কবে থেকে সাহিত্যিক হলি?
— মা! প্রতিভাকে বয়স দিয়ে বিচার করতে নেই।
মা আর কোনো কথা বললেন না।
শুকরিয়া মনে মনে বলল, এই বাড়িতে তার প্রতিভার কোনো মূল্য নেই!
গাড়ি এসে থামল বিশাল একটা বাড়ির সামনে।
বাড়ির গেটের ওপর লেখা—
WELCOME TO THE WRITERS' HOUSE.
শুকরিয়া গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইল।
— আল্লাহ! এত বড় বাড়ি! এখানে কি লেখালেখি হয়, নাকি লেখিকাদের বিয়ে দেওয়া হয়?
দারোয়ান কথাটা শুনে অবাক।
— আপনি কার সঙ্গে দেখা করবেন?
— আমি শুকরিয়া। নতুন লেখিকা।
— অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?
শুকরিয়া ব্যাগ থেকে একটা খাতা বের করল।
— এই যে, আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট। নিজের হাতে লিখেছি।
দারোয়ান খাতার দিকে তাকিয়ে দেখল, প্রথম পাতায় লেখা—
'ভবিষ্যৎ বেস্টসেলার লেখিকা শুকরিয়া ইসলাম শীতল।'
দারোয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে গেট খুলে দিল।
বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই শুকরিয়া দেখল, বিশাল একটা ড্রয়িংরুম। চারপাশে বইয়ের তাক। সোফায় বসে আছেন কয়েকজন লেখিকা।
সেখানে আছেন সালমা চৌধুরী, মম সাহা, রিক্তা ইসলাম মায়া, তেজস্মিতা মুর্তজা, নাবিলা ও ইলমা বেহরোজ।
আরেক পাশে বসে আছেন ডি আর এম সোহাগ।
শুকরিয়া দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সালাম দিল।
— আসসালামু আলাইকুম, সম্মানিত সাহিত্যিক সমাজ!
সবাই একসঙ্গে তাকালেন।
মম সাহা মুচকি হেসে বললেন,
— ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি কি শুকরিয়া?
— জি। তবে শুধু শুকরিয়া বললে হবে না। শুকরিয়া ইসলাম শীতল। ভবিষ্যতে নামের আগে বিখ্যাত লেখিকা যোগ হবে ইনশাআল্লাহ।
রিক্তা ইসলাম মায়া হেসে ফেললেন।
— বাহ! আত্মবিশ্বাস তো কম নেই!
শুকরিয়া গম্ভীর হয়ে বলল,
— আত্মবিশ্বাস না থাকলে লেখিকা হওয়া যায় না আপু। আমার লেখা পড়ে পাঠক কাঁদবে।
নাবিলা জিজ্ঞেস করলেন,
— কী নিয়ে লিখো?
— সবকিছু নিয়ে লিখি।
— যেমন?
— কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো রহস্য। আর মাঝে মাঝে এমন গল্প লিখি, নিজেই বুঝি না কী লিখেছি!
এবার সবাই হেসে উঠলেন।
কিছুক্ষণ পর মম সাহা বললেন,
— আচ্ছা শুকরিয়া, তুমি আমাদের সবার লেখা পড়েছ?
শুকরিয়া সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
— জি আপু! সালমা আপুর 'অমৃত ভালোবাসি তোকে', সোহাগ ভাইয়ের 'প্রণয়ের অমল কাব্য', ইলমা আপুর 'আমি পদ্মজা', তেজস্মিতা আপুর 'অবরুদ্ধ নিশিত', রিক্তা আপুর 'হৃদ মায়ার প্রেম গাঁথা'—সবগুলোর নাম জানি।
সালমা চৌধুরী মুচকি হেসে বললেন,
— বাহ! তাহলে তো তুমি আমাদের অনেক কিছুই জানো।
শুকরিয়া গর্ব করে বলল,
— জি। তবে একটা সমস্যা আছে।
— কী সমস্যা?
— আপনাদের বইয়ের নায়কদের নিয়ে আমার একটু আপত্তি আছে।
সবাই অবাক।
ডি আর এম সোহাগ জিজ্ঞেস করলেন,
— নায়কদের আবার কী হলো?
শুকরিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— আপনারা এত সুন্দর সুন্দর নায়ক তৈরি করেন, তারপর তাঁদের বইয়ের মধ্যে আটকে রাখেন কেন? একটু বাইরে বের হতে দেন!
মম সাহা হেসে বললেন,
— তুমি তাহলে আমাদের নায়কদেরও চেনো?
শুকরিয়া চোখ বড় করে বলল,
— আপু, আমি শুধু চিনি না। তাঁদের নিয়ে আমার আলাদা পরিকল্পনা আছে!
— কী পরিকল্পনা?
— সেটা এখন বলা যাবে না। সময় হলে সবাই জানতে পারবেন।
দুপুরের খাবারের সময় সবাই ডাইনিং টেবিলে বসেছেন।
শুকরিয়া নিজের প্লেটে খাবার নিতে নিতে হঠাৎ বলল,
— একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
ইলমা বেহরোজ বললেন,
— বলো।
— আপনাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকা কে দেন?
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসতে শুরু করলেন।
মম সাহা বললেন,
— কেন?
শুকরিয়া নিরীহ মুখে উত্তর দিল,
— না, আগে থেকেই জেনে রাখি। ভবিষ্যতে ভুল করলে কার কাছ থেকে পালাতে হবে!
নাবিলা বললেন,
— তুমি এখানে এসেই পালানোর পরিকল্পনা করছ?
— আপু, বুদ্ধিমান মানুষ বিপদের আগেই প্রস্তুতি নেয়।
ডি আর এম সোহাগ পাশে বসে পানি খাচ্ছিলেন। কথাটা শুনে হেসে ফেললেন।
— তোমার জন্য মনে হচ্ছে আমাদের একটা আলাদা নিয়ম বানাতে হবে।
শুকরিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— নিয়ম বানানোর আগে আমার মতামত নিতে হবে। আমি এই বাড়ির ছোট সদস্য!
মম সাহা বললেন,
— আচ্ছা, তাহলে তোমার প্রথম দায়িত্ব কী?
শুকরিয়া এক মুহূর্তও দেরি না করে উত্তর দিল,
— সবার উপন্যাসের পরের পর্ব পড়া, ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং রান্নাঘরে চকলেটের দায়িত্ব নেওয়া।
রিক্তা ইসলাম মায়া হেসে বললেন,
— তুমি লেখিকা হতে এসেছ, নাকি চকলেট খেতে?
শুকরিয়া প্লেট থেকে একটা চকলেট তুলে মুখে দিয়ে বলল,
— দুটোই আপু। প্রতিভার পাশাপাশি পুষ্টিও প্রয়োজন!
সন্ধ্যায় সবাই যখন নিজেদের ঘরে চলে যাচ্ছিলেন, শুকরিয়া তখনও ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে খাতায় কিছু লিখছিল।
মম সাহা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করলেন,
— কী লিখছ?
শুকরিয়া খাতাটা বুকের কাছে লুকিয়ে বলল,
— গোপন।
— আমাদের বাড়িতে এসে আবার কী গোপন?
শুকরিয়া মুচকি হেসে বলল,
— আপনাদের নিয়ে আমার উপন্যাসের প্রথম পর্ব লিখছি।
মম সাহা বললেন,
— তাহলে আমাদের চরিত্রগুলো কেমন হবে?
শুকরিয়া একটু ভেবে বলল,
— আপনারা সবাই ভালো। কিন্তু আমি একটু বেশি দুষ্টু। তাই গল্পে আমাকে সামলাতে আপনাদের অনেক কষ্ট হবে।
মম সাহা হেসে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন।
শুকরিয়া আবার খাতার দিকে তাকাল।
প্রথম পাতায় বড় করে লেখা—
'যেখানে বড় বড় লেখিকারা একসঙ্গে থাকেন, সেখানে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তাঁদের মাঝখানে থাকা ছোট্ট শুকরিয়া!'
এরপর সে নিচে আরেকটা লাইন লিখল—
'এই বাড়িতে আমার অভিযান মাত্র শুরু হলো। সামনে কী অপেক্ষা করছে, আল্লাহই জানেন!'
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন