ফন্ট সাইজ:
থিম:
অচেনা শহরে পরিচয় তুমি

পর্ব 1

লেখক: রহস্য কন্যা

অচেনা শহরে পরিচিত তুমি
✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা
পাঠ ১ — দুই বংশের পরিচয়
😂 মেহুর সকালবেলার কাণ্ড!
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট।
ঢাকার অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বিশাল চৌধুরী ভিলার ডাইনিং রুমে সবাই নাশতা করতে বসেছে।
কিন্তু বাড়ির আদরের মেয়ে মাহির কোনো খবর নেই।
হঠাৎ সিঁড়ি দিয়ে চিৎকার করতে করতে নামল মিরাজ।
মিরাজ: আম্মু! তোমার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দাও! আমি আর পারছি না!
মাহুদা বেগম: কী হয়েছে আবার?
মিরাজ: তোমার মেয়ে আমার নতুন সাদা শার্টে লিপস্টিকের দাগ লাগিয়েছে!
ঠিক তখনই মাহি ওরফে মেহু ঘুমঘুম চোখে নিচে এল।
মেহু: ভাইয়া, এত চিৎকার করছ কেন? সকালবেলা মানুষকে শান্তিতে ঘুমাতেও দেবে না?
মিরাজ: আমার শার্টে লিপস্টিক লাগিয়েছিস কেন?
মেহু: ওটা তো নতুন ডিজাইন!
মিরাজ: শার্টের ডিজাইন লিপস্টিক দিয়ে হয়?
মেহু: তুমি পুরোনো যুগের মানুষ, ফ্যাশন বুঝবে না!
পাশে বসে থাকা আরিয়ান হেসে বলল,
আরিয়ান: ভাইয়া, আপুর সঙ্গে তর্ক করে লাভ নেই। আপু পৃথিবীর সেরা অভিনেত্রী!
মেহু: এই চুপ! তোর নাশতা বন্ধ করে দেব!
মিরাজ: আর তুই আমার ঘরে আর ঢুকবি না!
মেহু: ঠিক আছে। তোমার ঘরে ঢুকব না, তোমার খাবারও খাব না!
মিরাজ: আমার খাবার কে তোকে দেয়?
মেহু: তুমি না দিলে কে দেবে? তুমি তো আমার বড় ভাই!
সবাই হেসে উঠল।
মিরাজ রাগ দেখিয়ে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
মিরাজ: যতই দুষ্টুমি করিস, নিজের খেয়াল রাখবি। বুঝেছিস?
মেহু মুচকি হেসে ভাইকে জড়িয়ে ধরল।
এটাই চৌধুরী বাড়ির প্রতিদিনের সকাল!
---
🌸 চৌধুরী পরিচয়
চৌধুরী পরিবার দেশের অন্যতম ধনী ও সম্মানিত যৌথ পরিবার। পরিবারের প্রধান আজহারুল ইসলাম চৌধুরী।
দাদু: আজহারুল ইসলাম চৌধুরী (৭২), অবসরপ্রাপ্ত বিচারক।
দাদি: নূরজাহান বেগম (৬৭), পরিবারের সবার প্রিয় মানুষ।
পাঁচ ভাই।
১. বড় ছেলে — সাইফুল ইসলাম চৌধুরী (৪৮)
পেশা: ব্যবসায়ী।
স্ত্রী: মাহমুদা আক্তার (৪৪), শিক্ষিকা।
সন্তান:
- মিরাজ (২৭), ব্যবসায়ী।
- মাহি (১৯), বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ডাকনাম মেহু।
- আরিয়ান (১৭), কলেজের ছাত্র।
২. দ্বিতীয় ছেলে — শাফায়েত চৌধুরী (৪৫)
পেশা: ব্যবসায়ী।
স্ত্রী: রুবিনা বেগম (৪০), গৃহিণী।
সন্তান:
- সাদমান (২৬), চিকিৎসক।
- আফরিন (২০), বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
৩. তৃতীয় ছেলে — নাসির উদ্দিন চৌধুরী (৪২)
পেশা: ব্যাংকার।
স্ত্রী: ফারজানা হক (৩৮), গৃহিণী।
সন্তান:
- রাফসান (২৪), ইঞ্জিনিয়ার।
- নুসাইবা (১৮), কলেজের শিক্ষার্থী।
৪. চতুর্থ ছেলে — ইমরান চৌধুরী (৩৯)
পেশা: ব্যবসায়ী।
স্ত্রী: সুমাইয়া বেগম (৩৫), গৃহিণী।
সন্তান:
- রিদওয়ান (২১), বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
- ইশা (১৬), স্কুলের শিক্ষার্থী।
৫. ছোট ছেলে — ফাহিম চৌধুরী (৩৫)
পেশা: স্থপতি।
স্ত্রী: তানিয়া ইসলাম (৩২), গৃহিণী।
সন্তান:
- আদনান (১২), স্কুলের ছাত্র।
- আনায়া (৮), স্কুলের ছাত্রী।
মেহু পরিবারের সবার আদরের মেয়ে। তবে তার সবচেয়ে কাছের মানুষ বড় ভাই মিরাজ। মিরাজ বোনকে প্রচণ্ড ভালোবাসে, আবার ভুল করলে কঠোরভাবে শাসনও করে। আফরিন তার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী।
---
🖤 মির্জা বংশের পরিচয়
মির্জা পরিবার দেশের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবার। ঢাকায় তাদের রয়েছে বিশাল রাজকীয় বাড়ি।
দাদু: মির্জা শামসুল হক (৭২), শিল্পপতি।
দাদি: দিলরুবা বেগম (৬৬), গৃহিণী।
বাবা: মির্জা ফারহান হক (৫০), মির্জা গ্রুপের চেয়ারম্যান।
মা: সায়রা মির্জা (৪৫), গৃহিণী।
পরিবারের সন্তান
১. মির্জা আরহান ফারহান (২৮)
ডাকনাম: আদি।
পেশা: মির্জা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গম্ভীর, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং আত্মবিশ্বাসী।
২. মির্জা আরিশ (২৩)
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দুষ্টুমি করতে ভালোবাসে।
৩. মির্জা আরিশা (১৯)
কলেজের শিক্ষার্থী। পরিবারের সবার আদরের মেয়ে।
পরিবারের অন্য সদস্য
চাচা: মির্জা রাশেদ (৪৬), ব্যবসায়ী।
চাচি: নওরীন বেগম (৪০), গৃহিণী।
চাচাতো ভাই: মির্জা রায়ান (২৫), সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আদি তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
---
🌙 গল্পের শুরু এখান থেকেই...
একদিকে চৌধুরী বাড়ির দুষ্টু মেয়ে মেহু, যার জীবন কাটে হাসি, আনন্দ আর পরিবারের ভালোবাসায়।
অন্যদিকে মির্জা বাড়ির গম্ভীর ছেলে আদি, যার জীবনে নিয়মের বাইরে কোনো কিছুর জায়গা নেই।
দুটি পরিবার বহু বছর ধরে পরিচিত হলেও তাদের তরুণ প্রজন্মের জীবন এখনো আলাদা।
কিন্তু নিয়তি কি তাদের আলাদা থাকতে দেবে?
একটি অপ্রত্যাশিত দেখা কি বদলে দেবে দুটি পরিবারের গল্প?
উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী অধ্যায়ে...

অতীতের এক অজানা সম্পর্ক
ঢাকার অন্য প্রান্তে মির্জা ভিলার বিশাল বসার ঘরে বসে ছিলেন মির্জা শামসুল হক।
হাতে চায়ের কাপ নিয়ে তিনি ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
শামসুল হক: ফারহান, অনেক দিন হলো চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে দেখা হয় না। আগামীকাল তাদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা করো।
ফারহান হক: ঠিক আছে বাবা। আমি সাইফুল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলব।
পাশ থেকে দিলরুবা বেগম বললেন,
দিলরুবা: তাদের ছোট মেয়েটাকে তো অনেক দিন দেখিনি। নাম কী যেন?
সায়রা মুচকি হেসে বললেন,
সায়রা: মাহি। সবাই নাকি মেহু বলে ডাকে।
আদি এতক্ষণ চুপচাপ বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল।
হঠাৎ বলল,
আদি: কাল আবার কোথাও যেতে হবে?
ফারহান: হ্যাঁ। আমাদের পুরোনো পরিচিত মানুষের বাড়িতে দাওয়াত।
আদি: আচ্ছা, সময়টা জানিয়ে দিয়ো।
রায়ান পাশ থেকে মুচকি হেসে বলল,
রায়ান: ভাই, একটু সামাজিক হওয়া দরকার। সারাক্ষণ অফিস আর ল্যাপটপ নিয়ে থাকলে হবে?
আদি: নিজের কাজ কর।
রায়ান: বুঝেছি, বস!
অন্যদিকে চৌধুরী বাড়িতে মেহু নিজের ঘরে বসে আফরিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল।
মেহু: কাল নাকি বাড়িতে অনেক অতিথি আসবে।
আফরিন: তাহলে তো তোর সাজগোজ শুরু!
মেহু: ধুর! অতিথি আসবে, আমার কী?
কিন্তু মেহু জানত না, আগামীকাল আসা সেই অতিথিদের একজনই তার জীবনের গল্পে নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে।
রাতে মেহু ঘুমিয়ে পড়লেও চৌধুরী বাড়ির বড়রা আগামীকালের অতিথিদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অন্যদিকে আদি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে জানত না, আগামীকাল তার জীবনে এক দুষ্টু ঝড়ের আগমন ঘটবে!
চলবে... 🥀❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন