ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিচিত আপনজন

পর্ব 1

লেখক: মাহি আক্তার

চৌধুরী বাড়িতে আজ সকাল থেকেই অন্যরকম ব্যস্ততা। বাড়ির প্রতিটি মানুষ যেন কোনো বিশেষ দিনের অপেক্ষায়
আছে।
পাঁচ বছর পর বাড়ির বড় ছেলে আরহাম চৌধুরী লন্ডন থেকে দেশে ফিরছে।
মেহেরুন বেগম রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাজের মানুষকে বলছেন,
মেহেরুন: শিউলি, আরহামের পছন্দের খাবারগুলো তৈরি হয়েছে?
শিউলি: জি ম্যাডাম, সব তৈরি হচ্ছে।
মেহেরুন: ওর ঘরটাও আরেকবার পরিষ্কার করে দিও।
ঠিক তখনই আদনান সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল।
আদনান: আম্মু! ভাইয়া আসছে, নাকি বাড়িতে বিয়ে হচ্ছে?
মেহেরুন: তুই সকাল থেকে শুধু মজা করছিস!
আদনান: আচ্ছা, আর মজা করব না। তবে ভাইয়া আসার পর আমাকে ভুলে যেও না।
রাশেদ চৌধুরী খবরের কাগজ নামিয়ে বললেন,
রাশেদ: আদনান, গাড়ি বের কর। আমাদের বিমানবন্দরে যেতে হবে।
আদনান: জি বাবা। চলুন।
ফোন রেখে আরহাম সামনে এগিয়ে গেল।
দূর থেকে মাকে দেখতে পেয়ে ডাক দিল,
আরহাম: আম্মু!
মেহেরুন ছেলের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন।
মেহেরুন: বাবা, কতদিন পর তোকে দেখছি!
আরহাম: আম্মু, কেঁদো না। আমি তো ফিরে এসেছি।
আদনান: ভাইয়া! আমাকে চিনতে পারছ?
আরহাম: না তো। আপনি কে?
আদনান: বাহ! পাঁচ বছর পর নিজের ছোট ভাইকেই ভুলে গেলে!
আরহাম হেসে তাকে জড়িয়ে ধরল।
আরহাম: কেমন আছিস পাগল?
আদনান: তোমাকে ছাড়া ভালো ছিলাম না!
রাশেদ এগিয়ে এসে ছেলের কাঁধে হাত রাখলেন।
রাশেদ: চল বাবা, বাড়িতে চল।
দুপুর ১২টা — চৌধুরী বাড়িআরহাম: জি বাবা। এবার এখানেই থাকব।
রাশেদ: তাহলে তোর বিয়ের কথাও ভাবতে পারি।
আরহাম: বিয়ে?
আদনান: ভাইয়া, তোমার জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছে!
আরহাম: তুই চুপ করে খা।
মেহেরুন: বাবা, একটা মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে। আগে দেখা করবি, তারপর সিদ্ধান্ত নিস।
আরহাম: ঠিক আছে আম্মু। তবে মেয়েটির মতামতও যেন নেওয়া হয়।
মেহেরুন: অবশ্যই বাবা।
সেদিনের খাবার টেবিলে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেও আরহাম তখনো জানত না, আয়েশা নামের একটি মেয়ে খুব শিগগিরই তার জীবনের অংশ হতে যাচ্ছে।রহমান বাড়ির আদরের মেয়েআবির: তোমার বিয়ে!
আয়েশা বই বন্ধ করে ভাইয়ের দিকে তাকাল।
আয়েশা: ভাইয়া, তুমি আবার শুরু করলে?
আবির: আমি কী করব? তোমার বিয়ের কথা হচ্ছে।
আয়েশা: আমি এখন বিয়ে করব না।
আবির: আগে ছেলেটাকে দেখো। তারপর সিদ্ধান্ত নিও।
আয়েশা: ছেলেটার নাম কী?
আবির: আরহাম চৌধুরী।
আয়েশা: কোথায় থাকে?
আবির: পাঁচ বছর লন্ডনে ছিল। এখন দেশে ফিরেছে।
আয়েশা: আচ্ছা।
আবির: শুধু আচ্ছা?
আয়েশা: আর কী বলব?
আবির হেসে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর নাসরিন বেগম মেয়ের কাছে এলেন।
নাসরিন: মা, তোর বাবা তোকে ডাকছেন।
আয়েশা: কেন মা?
নাসরিন: তোর সঙ্গে একটু কথা আছে।
আয়েশা বাবার পাশে গিয়ে বসল।
কামাল: মা, তোর বিয়ের জন্য একটা পরিবার পছন্দ করেছি।
আয়েশা: জি বাবা, আম্মু বলেছে।
কামাল: ছেলেটা ভালো। পরিবারও ভালো। তবে তোর মতামত ছাড়া আমরা কিছু করব না।
আয়েশা: বাবা, আগে দেখা হোক। তারপর তোমাকে জানাব।
কামাল: ঠিক আছে মা।
আয়েশা বাবার কাঁধে মাথা রাখল।
আয়েশা: বাবা, তোমরা সব সময় আমার পাশে থেকো।
কামাল: সব সময় থাকব মা।
ঠিক তখন আবির আবার ঘরে ঢুকল।
আবির: বাবা, আমার বোনের বিয়েতে কিন্তু আমি অনেক আনন্দ করব!
আয়েশা: ভাইয়া, এখনো বিয়ে ঠিক হয়নি!
আবির: ঠিক হতে আর কতক্ষণ?
সবাই হেসে উঠল।
সেদিন রাতে আয়েশা নিজের ডায়েরিতে লিখল, জীবনে হয়তো নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। জানি না সামনে কী অপেক্ষা করছে।: দুই পরিবারের প্রথম কথারাশেদ: আমাদের ছেলে আরহাম পাঁচ বছর পর দেশে ফিরেছে। আমরা চাই আপনাদের পরিবারের সঙ্গে একদিন দেখা করতে।
কামাল: অবশ্যই। আমাদেরও আপনাদের পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হতে ভালো লাগবে।
রাশেদ: তাহলে শুক্রবার বিকেলে আমরা আপনাদের বাড়িতে আসতে পারি?
কামাল: জি, অবশ্যই আসবেন।
ফোন রেখে রাশেদ স্ত্রীকে বললেন,
রাশেদ: শুক্রবার আমরা রহমান সাহেবের বাড়িতে যাব।
মেহেরুন: আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ যেন সব ভালো করেন।
এদিকে আদনান সোফায় বসে মোবাইল দেখছিল।
আদনান: বাবা, শুক্রবার কি ভাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন?
রাশেদ: অবশ্যই। বিয়ে যার, তাকে তো যেতেই হবে।
আদনান: তাহলে আমি ভাইয়ার জন্য একটা সুন্দর পাঞ্জাবি বের করে রাখব।
আরহাম: আমার বিয়ে হচ্ছে, নাকি তোর?
আদনান: তোমার বিয়েতে আমার আনন্দ বেশি!
সবাই হেসে উঠল।
অন্যদিকে রহমান বাড়িতেও খবরটি পৌঁছে গেল।
নাসরিন: আয়েশা, শুক্রবার চৌধুরী পরিবার আমাদের বাড়িতে আসবেন।
আয়েশা: আচ্ছা মা।
আবির: তাহলে শুক্রবার বাড়িতে কোনো বন্ধু আসবে না। আমার বোনের হবু শ্বশুরবাড়ি আসছে!
আয়েশা: ভাইয়া, তুমি না একদম অসহ্য!
নাসরিন: আচ্ছা, তোমরা দুজন এবার থামো।
সেদিন দুই পরিবারই শুক্রবারের অপেক্ষায় রইল। প্রথম দেখানাসরিন বেগম কাজের মানুষকে দিয়ে বসার ঘর পরিষ্কার করাচ্ছেন। টেবিলে ফল, মিষ্টি, চা ও নানা রকম নাশতা সাজানো হয়েছে।
আয়েশা নিজের ঘরে বসে আছে।
নাসরিন: আয়েশা, মা, তৈরি হয়েছিস?
আয়েশা: হ্যাঁ মা।
নাসরিন: একটু নিচে আয়। অতিথিরা চলে এসেছেন।
আয়েশা ধীরে ধীরে মায়ের সঙ্গে নিচে নেমে এল।
বাড়ির দরজায় আবির অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছে।
আবির: আসুন আঙ্কেল, আসুন আন্টি।
রাশেদ: কেমন আছ বাবা?
আবির: ভালো আছি।
সবাই বসার ঘরে এসে বসলেন।
মেহেরুন: আপনাদের বাড়িটা খুব সুন্দর।
নাসরিন: ধন্যবাদ। আপনারাও আমাদের বাড়িতে এসেছেন, খুব ভালো লাগছে।
কিছুক্ষণ পর আয়েশা বসার ঘরে প্রবেশ করল।
মেহেরুন: মা, এটাই কি আয়েশা?
নাসরিন: জি, আমার মেয়ে।
আয়েশা সবাইকে সালাম দিল।
আরহামও সালামের উত্তর দিল।
আদনান ভাইয়ের কানে কানে বলল,
আদনান: ভাইয়া, তোমার হবু বউ তো বেশ শান্ত!
আরহাম: চুপ করে বস।
আদনান: আচ্ছা, আর বলব না।
এরপর দুই পরিবারের মধ্যে পরিচয় শুরু হলো।
রাশেদ: আপনার মেয়ে খুব সুন্দর ব্যবহার করে।
কামাল: ধন্যবাদ। আপনাদের ছেলেও বেশ ভদ্র।
মেহেরুন: আমাদের ইচ্ছা, ছেলেমেয়ে দুজন আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলুক।
নাসরিন: অবশ্যই। আমরাও চাই ওরা একে অপরকে বুঝুক।
সেদিনের প্রথম দেখা সুন্দরভাবেই শেষ হলো।
সন্ধ্যা ৭টা।
চৌধুরী পরিবার বাড়িতে ফিরে এসেছে।
মেহেরুন সোফায় বসে আরহামের দিকে তাকালেন।
মেহেরুন: বাবা, আয়েশাকে তোমার কেমন লাগল?
আরহাম: ভালোই তো।
আদনান: শুধু ভালোই তো? আর কিছু না?
আরহাম: তুই কি একটু চুপ থাকতে পারিস না?
আদনান: ভাইয়া, আমি তো তোমার বিয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী!
রাশেদ: আরহাম, তুই কি মেয়েটার সঙ্গে কথা বলতে চাস?আরহাম: হ্যাঁ বাবা। কথা বললে ভালো হয়।
মেহেরুন: তাহলে কাল নাসরিনকে বলব, দুজনের কথা বলার ব্যবস্থা করতে।
অন্যদিকে রহমান বাড়িতেও একই আলোচনা চলছে।
নাসরিন: আয়েশা, আরহামকে তোর কেমন লাগল?
আয়েশা: ভালো মা। খুব বেশি কথা বলেনি।
আবির: তার মানে তোমাদের দুজনের মধ্যে কথা কম, লজ্জা বেশি!
আয়েশা: ভাইয়া!
কামাল: আচ্ছা, মেয়েটাকে আর বিরক্ত করিস না।
নাসরিন মেয়ের পাশে বসে বললেন,
নাসরিন: মা, তুই যদি রাজি থাকিস, তাহলে আমরা বিয়ের ব্যাপারটা এগিয়ে নিতে পারি।
আয়েশা: আগে একটু কথা বলতে চাই মা।
নাসরিন: অবশ্যই।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন