🖤 মায়াবী পাগল
✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা
🥀 পাঠ ১ — এক বাড়ি, নয়টি রহস্য!
🖤 আরমান রায়হান — রহস্যময় নায়ক
ঢাকার অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী আরমান রায়হান। বয়স ২৮ বছর। লম্বা গড়ন, কালো চুল, বরফের মতো শীতল চোখ আর গম্ভীর ব্যক্তিত্বের এই মানুষটিকে দেখে কেউ সহজে তার মনের কথা বুঝতে পারে না। সে কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না। তার কাছে ভালোবাসা মানে দুর্বলতা, আর বিশ্বাস মানে বিপদের আরেকটি নাম।
শহরের বাইরে বিশাল এক প্রাসাদে সে বসবাস করে। প্রাসাদের তৃতীয় তলায় একটি ঘর সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। আরমানের কড়া নিষেধ—কেউ যেন সেই ঘরের দরজার কাছেও না যায়।
কিন্তু তার শান্ত মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার অতীত, যা একদিন তার সাজানো জীবন তছনছ করে দেবে।
🥀 নাবিলা ইসলাম — গল্পের নায়িকা
নাবিলার বয়স ১৯ বছর। মধ্যবিত্ত পরিবারের আত্মসম্মানী মেয়ে সে। তার চোখে স্বপ্ন আছে, মনে সাহস আছে, আর আছে নিজের পরিবারকে ভালো রাখার অদম্য ইচ্ছা। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই তার কাঁধে এসে পড়েছে।
চাকরির সন্ধান করতে করতেই সে রায়হান ম্যানশনে ব্যক্তিগত সহকারীর কাজ পায়। চাকরিটি তার পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এলেও সে জানে না, এই বাড়িতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
🔥 সিয়াম চৌধুরী — হাসির আড়ালে শত্রু
সিয়ামের বয়স ৩০ বছর। সে একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং আরমানের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। তার মুখে সব সময় মিষ্টি হাসি থাকলেও চোখে লুকিয়ে থাকে অদ্ভুত হিসাব।
আরমানের দুর্বলতা খুঁজে বের করাই তার উদ্দেশ্য। নাবিলাকে সে নিজের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে। কিন্তু কেন? নাবিলার সঙ্গে তার পুরোনো কোনো সম্পর্ক আছে, নাকি সে শুধু আরমানকে হারাতে চায়?
🌹 রিয়া ইসলাম — নাবিলার ছোট বোন
রিয়ার বয়স ১৬ বছর। চঞ্চল, হাসিখুশি এবং বোনের প্রতি ভীষণ যত্নশীল। নাবিলা তার কাছে শুধু বড় বোন নয়, সবচেয়ে কাছের বন্ধুও।
কিন্তু একদিন অচেনা নম্বর থেকে আসা একটি বার্তা তার হাসি কেড়ে নেয়।
বার্তায় লেখা ছিল, “তোমার বোনকে সাবধানে রেখো। তার অতীত আবার ফিরে এসেছে!”
🕯️ তাসনিয়া রায়হান — নীরব সাক্ষী
আরমানের ছোট বোন তাসনিয়ার বয়স ২০ বছর। সে শান্ত স্বভাবের হলেও তার চোখে সব সময় একধরনের ভয় কাজ করে। পরিবারের অন্য সদস্যরা যখন নাবিলাকে নতুন কর্মচারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়, তখন তাসনিয়া তাকে দেখে অস্বাভাবিকভাবে চমকে ওঠে।
সে মনে মনে বলে, “এই মেয়েটা এখানে এলে সব সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে!”
কিন্তু কোন সত্য? আর তাসনিয়া এত ভয় পায় কেন?
👑 জোহরা বেগম — পরিবারের প্রবীণ অভিভাবক
সত্তর বছর বয়সী জোহরা বেগম রায়হান পরিবারের সবচেয়ে সম্মানিত সদস্য। তিনি পরিবারের অনেক পুরোনো ঘটনা জানেন। আরমানের শৈশবের সেই ভয়ংকর রাতের কথাও তার মনে আছে।
কিন্তু সেই রাত নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলে তিনি প্রসঙ্গ বদলে দেন। যেন সত্য প্রকাশ পেলেই আবার কোনো বিপদ নেমে আসবে।
🔑 রহিম চাচা — পুরোনো রহস্যের রক্ষক
পঞ্চান্ন বছর বয়সী রহিম চাচা বিশ বছর ধরে এই বাড়িতে কাজ করছেন। বাড়ির প্রতিটি কোণ তার চেনা। এমনকি তালাবদ্ধ ঘরটির ইতিহাসও তিনি জানেন।
নাবিলাকে প্রথম দেখার পর তার হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে যায়। কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আপনি এখানে এলেন কেন, মা? এই বাড়ি আপনার জন্য নিরাপদ নয়!”
🩺 ডা. আরিফ হাসান — বন্ধুর আড়ালে উদ্বেগ
আরিফের বয়স ২৭ বছর। সে আরমানের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও চিকিৎসক। আরমানের আচরণের পরিবর্তন সে কাছ থেকে দেখেছে। সে জানে, আরমানের অতীতের কিছু স্মৃতি তাকে ভেতর থেকে তাড়া করে বেড়ায়।
তবে আরিফের কাছে এমন কিছু তথ্য আছে, যা প্রকাশ পেলে আরমান ও নাবিলার সম্পর্ক চিরদিনের জন্য বদলে যেতে পারে।
🌑 নীলয় রহমান — নিখোঁজ মানুষ
নীলয়ের বয়স ২৩ বছর। তিন বছর আগে সে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। নাবিলার জীবনে তার গুরুত্ব ছিল অনেক। সবাই তাকে মৃত বলে ধরে নিলেও নাবিলা কখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেনি যে নীলয় আর ফিরবে না।
তার ফোনে মাঝে মাঝে অচেনা নম্বর থেকে বার্তা আসে।
“আমি তোমার কাছেই আছি, নাবিলা। শুধু তুমি আমাকে চিনতে পারছ না।”
🖤 প্রথম রহস্যের শুরু
সেদিন রাত আটটায় নাবিলা প্রথমবার রায়হান ম্যানশনে প্রবেশ করল। বিশাল ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই তার মনে হলো, বাড়িটা যেন জীবন্ত কোনো অন্ধকারের মতো তাকে গিলে ফেলতে চাইছে।
আরমান সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল।
“তোমার নাম নাবিলা ইসলাম?” সে শীতল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
“জি।”
“এই বাড়িতে কাজ করতে হলে আমার নিয়ম মেনে চলতে হবে। অযথা প্রশ্ন করবে না, অনুমতি ছাড়া কোথাও যাবে না, আর তৃতীয় তলার তালাবদ্ধ ঘরে কখনো প্রবেশ করবে না।”
নাবিলা ভ্রু কুঁচকে বলল, “আমি কাজ করতে এসেছি, বন্দি হতে নয়।”
আরমানের ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি ফুটল।
“দেখা যাক, তোমার সাহস কত দিন থাকে।”
কথাটা বলে সে চলে গেল।
রাত বারোটার দিকে নিজের ঘরে বসে নাবিলা একটি সাদা খাম দেখতে পেল। খামের ভেতরে ছিল তার শৈশবের একটি পুরোনো ছবি। ছবিতে তার পাশে দাঁড়ানো ছোট ছেলেটির মুখ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া।
ছবির পেছনে লেখা—
“আরমানকে বিশ্বাস কোরো না। তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নের নাম আরমান রায়হান!”
নাবিলার বুক কেঁপে উঠল।
ঠিক তখনই দরজার বাইরে পায়ের শব্দ শোনা গেল।
“ছবিটা কে দিয়েছে তোমাকে?” পেছন থেকে আরমানের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।
নাবিলা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
আরমানের চোখে আজ অদ্ভুত এক অস্থিরতা।
সে ছবিটির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তাহলে শেষ পর্যন্ত তুমি ফিরে এসেছ, নাবিলা!”
নাবিলা হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করল, “ফিরে এসেছি মানে? আমি তো এই বাড়িতে
পর্ব 1
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান