🖤 নিশির রাজ্যে বন্দিনী
✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা
পাঠ ১ — জন্মের আগেই লেখা হয়েছিল অভিশাপ! 🌙
🌹 সকল চরিত্রের পরিচয়
ইরা সুলতানা (১৮): গল্পের নায়িকা। চঞ্চল, সাহসী ও দুষ্টু। ভয় পেলেও মুখে স্বীকার করে না।
জারিফ ইবনে রাইয়ান: নিশির রাজ্যের রহস্যময় জ্বীন রাজপুত্র। তার রুপালি চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অজানা অতীত।
কামরুল সুলতান (৪৬): ইরার বাবা। ঢাকার ব্যবসায়ী। মেয়েকে ভালোবাসেন, কিন্তু তার জন্মের রাতের একটি ঘটনা গোপন রেখেছেন।
নুসরাত জাহান (৪০): ইরার মা। স্নেহশীল, কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় আতঙ্কিত।
তূর্য রহমান (১৯): ইরার মামাতো ভাই। দুষ্টুমি করতে ভালোবাসে, অথচ নিজেই ভীষণ ভীতু।
ফারজানা বেগম (৪২): তূর্যের মা ও ইরার খালা। পরিবারের পুরোনো ঘটনার কিছুটা জানেন।
রাশেদ রহমান (৪৮): তূর্যের বাবা। বাস্তববাদী ব্যবসায়ী; পুরোনো বাড়িটির নাম শুনলেই অস্বস্তিতে পড়েন।
জোহরা বেগম (৬৫): ইরার নানি। জমিদারবাড়িতে থাকেন এবং নিষিদ্ধ ঘরের চাবি আগলে রাখেন।
আবদুল হাকিম (৭০): ইরার নানা। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। নিশির রাজ্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন।
মাহিরা খান (১৮): ইরার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। বুদ্ধিমতী এবং রহস্য সমাধানে দক্ষ।
রানি নায়রা: নিশির রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া রানি। জারিফের অতীতের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক।
কালো প্রহরী: রহস্যময় অতিপ্রাকৃত সত্তা, যে দূর থেকে ইরাকে অনুসরণ করে।
---
🌧️ পুরোনো বাড়িতে আগমন
বিকেল পাঁচটা।
গ্রামের রাস্তা ধরে গাড়ি এগিয়ে চলেছে। জানালার পাশে বসে ইরা বিরক্ত মুখে বলল,
— আব্বু, এই গ্রামে ওয়াই-ফাই আছে তো? নাকি আমাকে গাছের সঙ্গে বসে কথা বলতে হবে?
তূর্য হেসে বলল,
— তোর বকবক শুনে গাছও শুকিয়ে যাবে!
— তোর মাথায় বুদ্ধি থাকলে এতক্ষণে শহরে ফিরে যেতিস!
ফারজানা বেগম হেসে বললেন,
— তোরা দুজন বিয়ের আগে থেকেই বুড়ো-বুড়ির মতো ঝগড়া করিস কেন?
ইরা আর তূর্য একসঙ্গে চিৎকার করল,
— আমরা কখনো একে অপরকে বিয়ে করব না!
সবাই হেসে উঠল। শুধু কামরুল সুলতান চুপ করে রইলেন।
নুসরাত স্বামীর হাত চেপে ফিসফিস করে বললেন,
— আজ রাতেই কি ওকে সত্যিটা বলবে?
কামরুল মাথা নাড়লেন।
— এখনো সময় হয়নি। জারিফ যদি ওকে খুঁজে পায়, সব শেষ হয়ে যাবে।
পেছনে বসে থাকা রাশেদ রহমান কথাটি শুনে চমকে উঠলেন।
— আপনি আবার সেই নাম বলছেন?
ইরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— জারিফ কে? নতুন কোনো বর নাকি? আমাকে না জানিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা চলছে?
তূর্য হেসে বলল,
— বর হলে আগে আমার অনুমতি লাগবে!
— তোর অনুমতি দিয়ে আমি মশা মারব!
কেউ আর হাসল না।
কারণ গাড়ির জানালার বাইরে কালো ঘোড়ায় চড়ে এক যুবক তাদের অনুসরণ করছিল। তার চোখ দুটি রুপালি।
যুবকটি ফিসফিস করে বলল,
— অবশেষে তোমাকে খুঁজে পেলাম, ইরা।
🏚️ নিষিদ্ধ ঘরের রহস্য
সন্ধ্যায় সবাই জমিদারবাড়িতে পৌঁছাল।
জোহরা বেগম নাতনিকে জড়িয়ে ধরলেন। নানা আবদুল হাকিম ইরার মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন।
মাহিরা ফোন করে বলল,
— ইরা, বাড়িতে পৌঁছেছিস? কোনো রহস্য পেলে আমাকে জানাবি!
ইরা হেসে উত্তর দিল,
— রহস্য না পেলে নিজেই একটা বানিয়ে তোকে পাঠাব!
ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল সিঁড়ির পাশের কালো দরজায়।
— নানি, ওই ঘরে কী আছে?
জোহরা বেগমের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
— ওখানে কখনো যাবি না!
নানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— জোহরা, সত্যিটা আর কত দিন লুকিয়ে রাখবে?
নানি কাঁপা গলায় বললেন,
— যত দিন পারি!
হঠাৎ দরজার ওপর রুপালি অক্ষর ফুটে উঠল—
“পূর্ণিমার রাতে নিশির রাজপুত্র তার বন্দিনীকে নিতে আসবে।”
কামরুল সুলতান উঠে দাঁড়ালেন। নুসরাতের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
ইরা হতভম্ব হয়ে বলল,
— বন্দিনী কে? আর আমার সঙ্গে এসবের সম্পর্ক কী?
কেউ উত্তর দিল না।
👑 মধ্যরাতের অতিথি
রাত বারোটা।
ইরা জানালার বাইরে তাকাতেই দেখল, বাগানের মাঝখানে কালো পোশাক পরা এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে।
— আপনি কে?
যুবকটি বলল,
— জারিফ ইবনে রাইয়ান। নিশির রাজ্যের রাজপুত্র।
ইরা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— রাজপুত্র হলে নিজের রাজ্যে যান। এখানে রাতের বেলা দাঁড়িয়ে থাকার অনুমতি নেই!
জারিফ মৃদু হাসল।
— তোমার সাহস আছে, ইরা।
— ধন্যবাদ। এবার বিদায় হন!
জারিফের চোখ গম্ভীর হয়ে উঠল।
— তোমার জন্মের আগেই তোমার ভাগ্য আমার রাজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
ইরা কিছু বলার আগেই বাড়ির সব আলো নিভে গেল।
ঠিক তখনই তার ঘরের দরজায় তিনবার টোকা পড়ল।
টক! টক! টক!
বাইরে থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে এল,
— ইরা, দরজা খোল মা!
জারিফ চিৎকার করে উঠল,
— দরজা খুলবে না! তোমার মা তো পাশের ঘরেই ঘুমিয়ে আছেন!
ইরার বুক কেঁপে উঠল।
তাহলে দরজার ওপাশে কে?
চলব🖤🌑 দরজার ওপাশের কণ্ঠ
ইরা কাঁপা গলায় জারিফকে জিজ্ঞেস করল,
— তাহলে বাইরে যে দাঁড়িয়ে আছে, সে কে?
জারিফ জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
— এমন এক সত্তা, যে তোমার কণ্ঠ, তোমার মায়ের কণ্ঠ—যেকোনো মানুষের কণ্ঠ নকল করতে পারে। সে তোমাকে ঘরের বাইরে আনতে চায়।
ইরা শুকনো ঢোক গিলে বলল,
— বাহ! আমার জীবনে ভূতের অভাব ছিল, এখন নকলবাজও জুটল!
জারিফ অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।
— তুমি সব সময় এমন কথা বলো?
— ভয় পেলে বেশি বলি। সমস্যা আছে?
জারিফের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটল। কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখ কঠিন হয়ে উঠল। দরজার ওপাশ থেকে এবার মিষ্টি হাসির শব্দ ভেসে এল।
তারপর একটি নারীকণ্ঠ বলল,
— ইরা, তোমার জন্মের সত্য জানতে চাও না?
ইরা থমকে গেল। কথাটি তার মনের সবচেয়ে গোপন প্রশ্ন।
জারিফ ফিসফিস করে বলল,
— মনে রেখো, সব সত্য জানার মূল্য আছে।
দরজার নিচ দিয়ে কালো ধোঁয়া ঘরে ঢুকতে শুরু করল। আর ইরার হাতের কবজিতে ফুটে উঠল অদ্ভুত এক
চলবে.