প্রনয়ের আড়ালে
লেখিকা: ইসরাত & সামিহা
পর্ব:১
আজ রবিবার ।
এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভাঙ্গে আনিকার। অনেক কষ্ট করে চোখ খুলে এলার্ম বন্ধ করে আনিকা। চোখ বন্ধ করতে যাবে তখনই হঠাৎ মনে পড়ে আজ তার কলেজের প্রথম দিন । এক দৌড়ে বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে রেডি হয়ে নিচে নামে আনিকা। নিচে এসে মাহমুদা ব্যানার্জির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে আনিকা । মাহমুদা ব্যানার্জি আনিকার মা। আনিকার বাবা একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় আনিকা বেশিরভাগ গাড়িতে যাতায়াত করে । নিজেদের গাড়ি থাকার কারণে বেশি একটা সমস্যা হয় না আনিকার। আনিকের বাবা আহাদ ব্যানার্জির নিজস্ব একটা কোম্পানি আছে। ব্যবসার কারণে এলাকার প্রায় সব মানুষই আনিকার বাবাকে চেনে। কলেজে পৌঁছাতে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে আনিকা। গাড়ি থেকে নামতেই
পেছন থেকে একজন জড়িয়ে ধরে আনিকাকে মানুষটি অতি পরিচিত হওয়ার চিনতে সময় লাগল না আনিকার।
আনিকা : কিরে মারিয়া তুই ।তুই কখন এলি ?
মারিয়া: এখনই এলাম। মনে হয় একদম ঠিক সময় এসেছি ।
আনিকা :চল এখন ভেতরে যাই ।
মারিয়া: চল চল আমি খুব এক্সাইটেড।
কলেজ টা অনেক বড় ।ওদের ক্লাসটা একটু দূরে আর ক্লাস শুরু হতে এখনো অনেক সময় আছে। তাই আনিকার ও মারিয়া পুরো কলেজটা ঘুরে দেখছিল। আনিকা আর মারিয়া যখন করছিল তখনই আনিকার পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে একটি বাইক চলে যায় । হঠাৎ পাশে এভাবে বাইক যাওয়ার কারণে আনিকা ও মারিয়া থ 'মেরেদাঁড়িয়ে যায়। ছেলেটি বাইক থেকে নেমে হেলমেট খুলে আনিকা ও মারিয়ার দিকে তাকায়। ছেলেটি দেখে আনিকা ও মারিয়া ভয়ে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।ছেলেটি তার চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করতে করতে এগিয়ে আসে আনিকা ও মারিয়ার দিকে ।ছেলেটি ওদের সামনে এসে আনিকাকে জিজ্ঞেস করে 'নিউ স্টুডেন্ট'?আনিকা হ্যাঁ সুযোগ মাথা নাড়লো।কোন ক্লাসে ছেলেটির প্রশ্ন করল ।
আনিকা :ফাস্ট ইয়ার ।
ছেলেটি আনিকার দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবে, এতো সুন্দর মেয়ে আমার ক্লাসে পড়ে।
ছেলেটি বলে ,আচ্ছা ঠিক আছে ক্লাসে যাও।
ছেলেটি আসলে এই কলেজের টিচার ।সে দুই মাস আগে কলেজে জয়েন করছে। তার নাম রায়হান চৌধুরী। সে চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে। রায়হানের বাবার নাম জামশেদ চৌধুরী ।তার বাবারও একটা বিজনেস আছে । রায়হানের বাবার ও এলাকায় অনেক পরিচিতি আছে । আনিকা আর মারিয়া ক্লাসে পৌঁছে গিয়েছে । আনিকা ও মারিয়া অনেক ভালো সস্টুডেন্ট। ওরা অনেক আগে এসেছে তাই সামনের প বেঞ্চে বসেছে। আনিকা ও মারিয়া বসে গল্প করছিল। হঠাৎ আনিকা মারিয়া কে জিজ্ঞেস করল আচ্ছা আমাদের ক্লাস টিচার কে?
মারিয়া: আমি কিভাবে জানব ।
আনিকা: আচ্ছা আমাদের স্যার কি স্কুলের স্যারদের মতো বুড়া হবে।
মারিয়া: আমাদের স্যার কেমন হবে সেটা আসলেই দেখা যাবে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লাসে স্টুডেন্ট আসতে শুরু করে। ক্লাস শুরু হতে আর দশ মিনিট আছে । আনিকা ও মারিয়া বসে গল্প করছিল ।হঠাৎ পিছনের বেঞ্চ থেকে দুইটা ওদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। দুজনে একসাথে বলে ওঠে ,তোমরা কি আমাদের ফ্রেন্ড হবা। তারপর দুইজন দুইজনের নাম বলতে থাকে একজন বলে আমার নাম নীলা আরেকজন বলে আমার নাম সুবর্না। হঠাৎ এমন ঘটনা আনিকা ও মারিয়া দুজনের চোখ বড় বড় করে আহাম্মক এর মত নীলা অশবরণের দিকে তাকিয়ে আছে ।তারপর দুজনেই চোখ নামিয়ে নেয় এবং ঠিকঠাক হয়ে বসে। এরপর সবাই সবার সাথে হ্যান্ডশেক করে। এরপর সবার সাথে পরিচিত হয়ে গল্প করতে থাকে। এরা চারজন প্রায় একই কোয়ালিটির সবাই অনেক ভদ্র, সরল, সহজ। কিন্তু আনিকা এদের মাঝে একটু অন্যরকমের।মানে ওর অনেক বেশি রাগ। যদি ওর রাগ ওঠে ও কখন কি করে বসে ওর মাথায় ঠিক থাকে না। এদের চারজনকে গল্প করতে দেখে একটা ছেলে বলে ওঠে, এই চারটা গুরু আমাদের কলেজের ঢুকলো কিভাবে । এটা শুনে তো রাগে আনিকার মাথা গরম হয়ে যায়। কেন ওদের কে গরু বলল।আনিকা বেঞ্চ থেকে উঠে ছেলেটার কলার ধরে বোর্ডের সাথে মিশিয়ে ফেলে। আনিকা নিজের মত চিল্লাচিল্লি করতে থাকে। তা দেখে ক্লাসের সবাই চুপ হয়ে যায় ।এ দেখে মারিয়া , নিলা ও সুবর্ণা তিনজন বলদের মতো তাকিয়ে থাকে। আনিকা ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করে তোমার নাম কি? ছেলেটা ভয়ে ভয়ে বলে আমার নানা নাম আ.. আকাশ। আনিকা আকাশকে বলে এবারের মত মাফ করে দিলাম ।আমাদের নিয়ে আর যদি কখনো কোনো বাজে কথা বলো তাহলে তোমার খবর আছে ।আনিকা আকাশকে ছেড়ে বেঞ্চে এসে বসে। আকাশ ভয়ে ওখানেই বসে পড়ে। এরমধ্যে স্যার চলে আসে। স্যার এসে আকাশ এভাবে দেখে জিজ্ঞেস করে ,এই ছেলে কি হয়েছে তোমার ?
আকাশ আনিকার দিকে একবার তাকালো ।আনিকা আকাশের দিকে তাকিয়ে না সূচক মাথা নাড়াল আকাশ বললো ,স্যার আসলে আমার মাথা ঘুরাচ্ছিল। তাই আমি এখানে বসে পড়েছিলাম ।স্যার বলল আচ্ছা ঠিক আছে এবার নিজের সিটে গিয়ে বসো। স্যারের কথা মত আকাশ নিজের সিটে গিয়ে বসলো। মারিয়া আনিকা কে জিজ্ঞেস, করল তুই এমন রিয়েক্ট করলি কেন ভাই। ছেলেটা তো মজা করে বলেছিল।
আনিকা: তুই তো জানিস আমি ছোটবেলা থেকেই রাগী ।তাই আমি আমার রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না। নীলা হঠাৎ বলে উঠলো ,আসলে ছেলেটার নাম আকাশ। ও আমাদের ফ্রেন্ড। আমি, সুবর্ণা ও আকাশ আগে একসাথে পড়তাম। ও আসলে আমাদেরকে তোর সাথে দেখে মজা করে বলেছে। আসলে আকাশ অনেক সরল সহজ একটা ছেলে। এর কারণে সহজে ভয় পেয়ে গেছি। তুমি কিছু মনে করো না আনিকা। আনিকা কিছু বলতে যাবে তখনই স্যার বলে উঠে এটেনশন।সবাই সোজা হয়ে সিটে বসো ।তোমরা সবাই এই কলেজের নতুন। আগে আমি আমার পরিচয় দেই তারপর তোমাদের সবার পরিচয় জানব। আমার নাম রায়হান চৌধুরী ।আমি তোমাদের ক্লাস টিচার। তোমাদের ইংলিশ ক্লাস এখন থেকে আমি নিব ।এবার তোমরা একেক জন দাড়িয়ে নিজেদের নাম আর বাসার ঠিকানা বলবে। একে একে সবাই নিজেদের নামও ঠিকানা বলতে থাকে। কিন্তু রায়হান আনিকার নাম ও ঠিকানা জানার জন্য উদগ্রীব হয়েছিল। আসলে আনিকারা মাঝের সাড়ির প্রথম বেঞ্চে বসেছিল ।স্যারের সামনে ।কিন্তু সবাই সবার ঠিকানা দেওয়া শুরু করেছে দরজার পাশের ব্রেঞ্চ থেকে ।তাই আনিকার পালা একটু পরে এসেছে । অবশেষে রায়হানের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। এবার আনিকার পালা এসেছে ।আনিকা দাঁড়িয়ে আস্তে করে বলল ,আমার নাম আনিকা ব্যানার্জি ।আমার বাসা কলেজের পাশে ল্যাবরেটরি রোড।