আসসালামু আলাইকুম! 🌸
📖 উপন্যাস: আমার ডাক্তার বাবু
✍️ পর্ব: ০১
🖤 লেখিকা: মাহিয়া ইসলাম হিমি 🖤
🌷 সকাল ৯টা 🌷
— হিমু! এই হিমু, ঘুম থেকে ওঠ মা। আজ বাড়িতে অনেক লোক আসবে। আমি একা হাতে সবকিছু সামলাতে পারব না। তুই একটু সাহায্য কর আমায়!
হিমুর মা হালিমা বেগম মেয়ের ঘর গোছাতে গোছাতে ডাকছেন। কিন্তু মেয়ের ঘুম ভাঙার কোনো লক্ষণ নেই।
কিছুক্ষণ পর হিমু টিপটিপ করে চোখ খুলে তাকাল। মাকে ঘর গোছাতে দেখে বিছানা থেকে উঠে মাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল।
হিমু: — আম্মু, বাসায় কে আসবে?
হালিমা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মুচকি হাসলেন। তারপর মেয়েকে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন—
হালিমা বেগম: — লন্ডন থেকে তোর খালামণি আর তার পরিবার একেবারে চলে আসছে!
কথাটা শুনেই হিমু লাফ দিয়ে উঠল।
হিমু: — সত্যি, আম্মু? উফফ! কী যে মজা হবে না! তুমি যাও, আমি এক্ষুনি ফ্রেশ হয়ে আসছি!
মেয়ের এমন খুশি দেখে হালিমা বেগম মৃদু হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
হিমুর আনন্দ যেন আর ধরছে না! তার খালামণিকে শেষবার দেখেছিল যখন তার বয়স মাত্র নয় বছর। দেখতে দেখতে আট বছর পেরিয়ে গেছে। এখন তার বয়স সতেরো। এত বছর পর আবার খালামণিকে দেখতে পাবে—ভাবতেই তার নাচতে ইচ্ছে করছে!
হিমু তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এল। তারপর মায়ের সঙ্গে বাড়ির কাজে হাত লাগাল।
কিছুক্ষণ পর তার এগারো বছর বয়সী ছোট বোন রিমুও এসে কাজে সাহায্য করতে লাগল। দুই বোন কাজের ফাঁকে গল্প আর হাসাহাসিতে মেতে উঠল।
এমন সময়—
টিং টং! টিং টং!
বাড়ির কলিংবেল বেজে উঠল।
হালিমা বেগম তাড়াতাড়ি দরজা খুলতে গেলেন। দরজা খুলতেই সামনে পরিচিত মুখগুলো দেখে তিনি যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারলেন না!
সামনে দাঁড়িয়ে আছেন চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী একজন মহিলা, তাঁর পাশে পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন বছর বয়সী একজন ভদ্রলোক এবং উনিশ বছর বয়সী এক যুবক।
মহিলাকে দেখেই হালিমা বেগম তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। এত বছর পর বোনকে কাছে পেয়ে তাঁর চোখ দিয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
হালিমা বেগম: — আপা! কেমন আছিস তুই? কত দিন পর তোকে আবার দেখলাম! তোকে যে কতটা মিস করেছি, তা বলে বোঝাতে পারব না!
হালিমা বেগমের বড় বোন হাদিয়া বেগমও বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।
দুই বোনের আবেগঘন মুহূর্ত দেখে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটি বিরক্তির সুরে বলে উঠল—
যুবক: — উফফ! তোমরা কি আমাদের ভেতরে যেতে দেবে, নাকি সারাদিন বাইরেই দাঁড় করিয়ে রাখবে?
যুবকটির কথা শুনে হালিমা বেগম তার দিকে তাকালেন। তারপর হেসে সবাইকে ভেতরে নিয়ে এলেন।
যুবকটি সোফায় বসে চারপাশে চোখ বুলাতে লাগল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল রান্নাঘরের দিকে। সেখানে একটি মেয়ে কাজ করছে।
মেয়েটিকে দেখেই তার ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
সে উঠে ধীর পায়ে রান্নাঘরে গিয়ে মেয়েটির পাশে দাঁড়াল।
যুবক: — উফফ! কী গরম! আমাকে কি একটু পানি খাওয়াতে পারবেন, সুন্দরী?
কথাটা শুনে হিমু পেছনে ঘুরে তাকাল।
ছেলেটিকে দেখেই সে কয়েক মুহূর্ত অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর তার মনে পড়ে গেল—এ তো তার খালামণির ছোট ছেলে, নিলয়! তার দুই বছরের বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই তারা ছিল একে অপরের সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
এত বছর পর বন্ধুকে সামনে দেখে হিমুর মুখে হাসি ফুটে উঠল।
হিমুর এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে নিলয় ভ্রু কুঁচকে বলল—
নিলয়: — এমনিতেই গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে, তার ওপর এভাবে তাকিয়ে থাকলে তো মরে যাব!
নিলয়ের কথা শুনে হিমু মুচকি হেসে ফেলল।
হিমু: — একদম আগের মতোই আছিস! তোর কোনো পরিবর্তনই হলো না!
কথাটা বলেই সে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতল বের করে এক গ্লাস পানি ঢেলে নিলয়ের হাতে দিল।
নিলয় গ্লাসটা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পুরো পানি শেষ করে ফেলল। তারপর খালি গ্লাসটা হিমুর হাতে দিয়ে চলে যেতে যেতে বলল—
নিলয়: — পানি তো অনেক মিষ্টি ছিল!
কথাটা বলেই সে দুষ্টু হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।
হিমু তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল—
হিমু: — পানিও আবার মিষ্টি হয়! বাহ্, সাহেবের তো দেখছি কথার অভাব নেই!
বলেই আবার নিজের কাজে মন দিল।
অন্যদিকে, নিলয়কে একটি ঘর দেখিয়ে দেওয়া হলো। সে ফ্রেশ হতে ঘরে চলে গেল।
এদিকে বসার ঘরে হাদিয়া বেগম বোনকে জিজ্ঞেস করলেন—
হাদিয়া বেগম: — আচ্ছা, আমার মেয়েটা কোথায় রে? তাকে তো এখনো দেখলাম না!
হালিমা বেগম হেসে বললেন—
হালিমা বেগম: — তোর মেয়েকে তো রান্নাঘরে রেখে এসেছি। সে রান্নার কাজে সাহায্য করছে।
কথাটা শুনেই হাদিয়া বেগম চোখ বড় বড় করে বললেন—
হাদিয়া বেগম: — কী বললি! আমার মেয়েকে দিয়ে তুই রান্না করাস? এটা কিন্তু একদম কথা ছিল না!
হালিমা বেগম হেসে বললেন—
হালিমা বেগম: — আরে, আমি কি ওকে একা সব করতে বলেছি নাকি? হিমু তো শুধু আমাকে সাহায্য করছে!
দুই বোনের কথার মাঝেই রিমু এসে মায়ের পাশে দাঁড়াল।
হালিমা বেগম মেয়েকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন—
হালিমা বেগম: — আপা, এই যে আমার ছোট মেয়ে রিমু।
হাদিয়া বেগম রিমুকে কোলে বসিয়ে আদর করতে করতে অবাক হয়ে বললেন—
হাদিয়া বেগম: — এত্ত বড় হয়ে গেছে আমার ছোট্ট রিমুটা! শেষবার যখন দেখেছিলাম, তখন তো একেবারে পুঁচকে ছিল! আর এখন দেখ, কত বড় হয়ে গেছে!
রিমু লাজুক হেসে খালামণির গলা জড়িয়ে ধরল।
বাড়িটা যেন মুহূর্তেই আনন্দ আর ভালোবাসায় ভরে উঠল। এত বছরের দূরত্ব ঘুচিয়ে দুই পরিবারের আবার একসঙ্গে পথচলা শুরু হলো।
দুপুর ১টা
সবাই ফ্রেশ হয়ে নেওয়ার পর হালিমা বেগম সবাইকে খাবার টেবিলে আসতে বললেন। টেবিলে একে একে সবাই এসে বসলেও হিমুর কোনো দেখা নেই।
হালিমা বেগম চারদিকে তাকিয়ে বললেন—
— আচ্ছা, হিমু কোথায়? ওকে তো দেখছি না!
রিমু পাশ থেকে বলে উঠল—
— আম্মু, আপু তো নিজের রুমে আছে!
হালিমা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন—
— যা তো মা, তোর আপুকে ডেকে নিয়ে আয়। সবাই ওর জন্য অপেক্ষা করছে।
রিমু মাথা নেড়ে দৌড়ে হিমুর রুমে চলে গেল।
হিমু বিছানায় শুয়ে ফোনে কিছু একটা দেখছিল। এমন সময় রিমু ঘরে ঢুকে বলল—
— আপু! তুই এখানে কী করিস? সবাই তো তোর জন্য খাবার টেবিলে বসে আছে!
হিমু অবাক হয়ে উঠে বসল।
— কী! সবাই বসে আছে? আমাকে ডাকিসনি কেন?
রিমু কোমরে হাত দিয়ে বলল—
— এখন কি তোকে ডেকে আনতে আমি নিজে এসেছি নাকি? চল, তাড়াতাড়ি!
হিমু হেসে উঠে দাঁড়াল। তারপর রিমুর সঙ্গে খাবার টেবিলের দিকে চলে গেল।
হিমু খাবার টেবিলের কাছে এসে থমকে দাঁড়াল।
সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছে!
আর হাদিয়া বেগম মেয়ের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তাঁর চোখেমুখে বিস্ময় আর ভালোবাসা।
হিমু একটু লজ্জা পেয়ে বলল—
— কী হয়েছে খালামণি? এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
হাদিয়া বেগম মুচকি হেসে হাত বাড়িয়ে বললেন—
— আয় তো আমার কাছে!
হিমু এগিয়ে যেতেই তিনি মেয়েকে পাশে বসিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
— আল্লাহ! আমার ছোট্ট মেয়েটা এত বড় হয়ে গেছে! শেষবার যখন তোকে দেখেছিলাম, তখন তুই কতটুকুই না ছিলি! আর এখন দেখ, একেবারে বড় হয়ে গেছিস!
হিমু হেসে খালামণির কাঁধে মাথা রাখল।
— তোমাকে অনেক মিস করেছি, খালামণি!
হাদিয়া বেগম মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে বললেন—
— আমিও তোকে অনেক মিস করেছি, মা!
পাশ থেকে নিলয় মুখ বাঁকিয়ে বলল—
— হ্যাঁ, হ্যাঁ! আবেগ শেষ হলে একটু খাওয়া শুরু করা যাবে? আমার কিন্তু ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে!
নিলয়ের কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।
হিমু চোখ ছোট করে তার দিকে তাকাল।
— তোর সবকিছুতেই এত তাড়া কেন?
নিলয় ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল—
— কারণ, আমি তোর মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করি না!
হিমু সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল—
— ওহ্! তাই বুঝি? তাহলে সকালে তোকে ঘুম থেকে উঠতে দেখলে মনে হয় অন্য কেউ!
— এই মেয়ে!
— কী হয়েছে? সত্যি কথা বললেই গায়ে লাগে কেন?
নিলয় কিছু বলতে যাবে, তার আগেই হালিমা বেগম বলে উঠলেন—
— তোরা দুজন আবার শুরু করলি? আগে খেয়ে নে, তারপর যত ইচ্ছা ঝগড়া করিস!
সবাই হেসে উঠল।
এরপর সবাই খাওয়া শুরু করল। নিলয় মাঝেমধ্যেই হিমুকে রাগানোর চেষ্টা করছিল, আর হিমুও তাকে পাল্টা জবাব দিচ্ছিল।
কিন্তু সবার আগে হিমুর খাওয়া শেষ হয়ে গেল।
হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়াতেই নিলয় বাঁকা হেসে বলল—
— কী ব্যাপার, সুন্দরী? এত তাড়া কিসের? কেউ কি তোকে দেখতে আসছে নাকি?
হিমু ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— তোর সমস্যা কী? আমি আগে খেয়েছি, তাতে তোর কী?
নিলয় মুখ খুলতেই হঠাৎ হিমুর ফোন বেজে উঠল।
ফোনের স্ক্রিনে বান্ধবী মায়ার নাম দেখে হিমু কল রিসিভ করল।
— হ্যালো, মায়া!
ওপাশ থেকে মায়া বলে উঠল—
— এই হিমু! কোথায় তুই? তাড়াতাড়ি বাইরে আয় তো! তোকে একটা জিনিস দেখাব!
হিমু অবাক হয়ে বলল—
— কী দেখাবি?
— আহা! আগে আয়, তারপর দেখবি। আমি মাঠের কাছে আছি। তাড়াতাড়ি আসিস!
— আচ্ছা, আসছি!
কথা শেষ করে হিমু ফোন রেখে দিল।
নিলয় কিছু বলার আগেই হিমু সেখান থেকে চলে গেল।
নিলয় তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল—
— বাঁচা গেল! মেয়েটার সঙ্গে ঝগড়া করতে গেলেই কোথা থেকে কে এসে হাজির হয়!
তারপর আবার ফোনে মনোযোগ দিল
হিমু দ্রুত তৈরি হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। মায়া তাদের বাড়ির কাছের একটা মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
হিমুকে দেখেই মায়া হাত নেড়ে ডাকল—
— এই যে, মহারানি! এত দেরি করলি কেন?
হিমু কাছে এসে বলল—
— আরে, বাসায় মেহমান এসেছে। তাদের সঙ্গে ছিলাম। এখন বল, কী দেখাবি আমাকে?
মায়া দুষ্টু হেসে বলল—
— আগে এদিকে আয়!
এই বলে মায়া হিমুকে নিয়ে মাঠের একপাশে দাঁড়াল।
সামনে বেশ কয়েকজন ছেলে ফুটবল খেলছিল। কারও পায়ে বল, কেউ দৌড়ে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মাঠজুড়ে ছেলেদের চিৎকার আর হাসাহাসি।
হিমু অবাক হয়ে বলল—
— এখানে কী দেখাবি আমাকে? ফুটবল খেলা?
মায়া তার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল—
— আরে, ওই ছেলেটাকে দেখ!
মায়া আঙুল দিয়ে মাঠের একপাশে দৌড়াতে থাকা একটি ছেলেকে দেখাল।
ছেলেটার চুলগুলো সিল্কি, এলোমেলো হয়ে কপাল পেরিয়ে চোখের ওপর এসে পড়েছে। পরনে সাধারণ একটা টি-শার্ট আর ট্রাউজার। দৌড়ানোর সময় তার শরীরের গঠন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।
বলটা পায়ে নিয়ে কী দুর্দান্ত গতিতে দৌড়াচ্ছিল ছেলেটা!
মায়া মুগ্ধ হয়ে বলল—
— ছেলেটাকে দেখেছিস? কী সুন্দর! আর ওর দৌড়ানোর স্টাইলটা দেখ! একদম সিনেমার নায়কের মতো!
হিমু হেসে বলল—
— তুই না একটা পাগল! একটা ছেলেকে দেখে এত প্রশংসা করার কী আছে?
মায়া চোখ বড় বড় করে বলল—
— তুই আগে ভালো করে তাকিয়ে দেখ, তারপর কথা বলিস!
হিমু এবার ছেলেটার দিকে তাকাতে যাবে, ঠিক তখনই ছেলেটা বল নিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
হিমু শুধু তার পাশের চেহারাটুকু দেখার সুযোগ পেল।
ছেলেটা আবার দৌড়াতে শুরু করল।
এলোমেলো চুল বাতাসে উড়ছে, পায়ে বল নিয়ে ছুটে যাচ্ছে সে। কয়েক মুহূর্তের জন্য হিমুর চোখ আটকে গেল তার দৌড়ানোর ভঙ্গিতে।
কেন জানি না, ছেলেটার প্রতি অদ্ভুত একটা ভালো লাগা কাজ করল তার মনে।
কিন্তু হিমু নিজেও বুঝতে পারল না, কেন এমন হচ্ছে।
মায়া হঠাৎ তার কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলল—
— কিরে? কী ভাবছিস?
হিমু চমকে উঠে বলল—
— ক-কই! কিছু না তো!
মায়া সন্দেহের চোখে তাকাল।
— সত্যি বলছিস?
হিমু মুখ ঘুরিয়ে বলল—
— হ্যাঁ রে বাবা! এখন চল, আমার বাসায় যেতে হবে।
মায়া হেসে বলল—
— আচ্ছা, চল। তবে ছেলেটাকে কিন্তু আমার বেশ পছন্দ হয়েছে!
হিমু আর কোনো উত্তর দিল না।
শুধু একবার পেছন ফিরে মাঠের দিকে তাকাল।
ছেলেটা তখনও খেলায় ব্যস্ত।
হিমু মনে মনে ভাবল—
'ছেলেটা কে? আগে তো কখনো দেখিনি!'
পরক্ষণেই নিজের ভাবনাকে পাত্তা না দিয়ে মায়ার সঙ্গে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করল।
কিন্তু সে নিজেও জানে না, মাঠে দেখা সেই অচেনা ছেলেটা কেন তার মনে এতটুকু জায়গা করে নিল!
বাড়িতে ফিরে হিমু দেখল, বসার ঘরে সবাই মিলে গল্প করছে। হালিমা বেগম আর হাদিয়া বেগম পাশাপাশি বসে পুরোনো দিনের কথা বলছেন। পাশে হিমুর বাবা ও খালু গল্পে মেতে আছেন।
রিমুও তাদের পাশেই বসে হাসাহাসি করছে।
আর নিলয়?
সে বসার ঘরের এক কোণে বসে ফোন দেখছিল।
হিমু ঘরে ঢুকতেই নিলয় হঠাৎ ফোন থেকে চোখ তুলে তার দিকে তাকাল।
কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ তাকিয়ে থেকে ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল—
— ওহ্! আমাদের সুন্দরী মহারানি অবশেষে ফিরেছেন!
হিমু চোখ পাকিয়ে তার দিকে তাকাল।
— নিলয়, তুই আবার শুরু করিস না!
নিলয় ফোনটা পাশে রেখে সোজা হয়ে বসল।
— আমি আবার কী করলাম? আমি তো শুধু আমার প্রিয় বান্ধবীকে স্বাগত জানাচ্ছি!
হিমু বিরক্ত মুখে বলল—
— তোর এই প্রিয় বান্ধবী এখন একদম চুপচাপ থাকতে চায়!
নিলয় হেসে বলল—
— আচ্ছা, আচ্ছা! দেখি কতক্ষণ চুপচাপ থাকতে পারিস!
হিমু আর কোনো উত্তর না দিয়ে অন্যদের কাছে গিয়ে বসল।
কিন্তু তার অজান্তেই বিকেলের সেই অচেনা ছেলেটার এলোমেলো চুল আর মাঠে দৌড়ানোর দৃশ্য বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল।
হিমু মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের মনকে বোঝাল—
'ধুর! আমি আবার কী সব ভাবছি!'
চলবে.....!! 💗