ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো কিলার মাফিয়া

পর্ব 1

লেখক: রহস্য কন্যা

🖤 সাইকো কিলার মাফিয়া

✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা

পাঠ ১ — মাফিয়া কিংয়ের গাড়িতে আলুর বস্তা! 🤣🔪

🌹 সকল চরিত্রের পরিচয়

১. আলেক্সেই ভলকভ (২৮): রাশিয়ার মস্কো শহরের ভয়ংকর মাফিয়া কিং। লালচে চুল, বরফের মতো নীল চোখ আর কালো পোশাকে তাকে দেখলে সবাই ভয়ে চুপ হয়ে যায়। গম্ভীর, বদমেজাজি ও রহস্যময় এই মানুষটির অতীতে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর এক সত্য।

২. আনাস্তাসিয়া রোমানোভা (২২): গল্পের নায়িকা। সাহসী, দুষ্টু এবং অসম্ভব রকমের বাচাল। বিপদ দেখলে পালানোর বদলে বিপদকেই প্রশ্ন করে। রাশিয়ায় নতুন এসেছে, কিন্তু জানে না তার পরিবারের সঙ্গে ভলকভ পরিবারের পুরোনো রহস্য জড়িয়ে আছে।

৩. নিকোলাই পেত্রোভ (২৭): আলেক্সেইয়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সারাক্ষণ মজা করে, কিন্তু বস রেগে গেলে তার সাহস জানালা দিয়ে পালায়। প্রেমের ব্যাপারে সে একেবারে বোকা।

৪. ভিক্টর ভলকভ (৫৫): আলেক্সেইয়ের চাচা। পরিবারের সম্মানিত সদস্য। তিনি এমন একটি গোপন সত্য জানেন, যা প্রকাশ পেলে ভলকভ পরিবারের ভিত নড়ে যাবে।

৫. ভ্যারোনিকা পেত্রোভা (২৫): নিকোলাইয়ের বোন। বুদ্ধিমতী, আত্মবিশ্বাসী ও স্পষ্টভাষী। আনাস্তাসিয়ার সঙ্গে তার বন্ধুত্বে হাসি, ঝগড়া এবং মজার ঘটনা ঘটবে।

৬. লেডি ব্ল্যাক (বয়স অজানা): রাশিয়ার অপরাধজগতের রহস্যময় নারী। কেউ তার আসল পরিচয় জানে না। ভলকভ পরিবারের অতীত সম্পর্কে তার কাছে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

---

😂 মস্কো বিমানবন্দরে নতুন বিপদ

সকাল ৯টা।

মস্কোর বিমানবন্দরে নেমেই আনাস্তাসিয়া নিজের ব্যাগ টেনে বিরক্ত হয়ে বলল,

— হায় আল্লাহ! এই দেশে এত ঠান্ডা কেন? মানুষ থাকে, নাকি ফ্রিজের ভেতরে বসবাস করে?

ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠল।

— হ্যালো, নিকোলাই! আমি এসে গেছি। তুমি কোথায়?

নিকোলাই বলল,

— বাইরে কালো গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তাড়াতাড়ি এসো!

— কালো গাড়ি? এখানে তো বিশটা কালো গাড়ি! তোমার গাড়ির গায়ে কি আমার নাম লেখা আছে?

— আহা! গাড়ির পাশে একজন সুদর্শন লোক থাকবে।

— রাশিয়ায় সুদর্শন লোক কি একটা মাত্র?

নিকোলাই দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— মেয়ে, তুমি আগে বাইরে এসো। তারপর তোমার প্রশ্নের উত্তর দেব!

ফোন কেটে গেল।

আনাস্তাসিয়া বাইরে এসে একটি কালো গাড়ির জানালায় টোকা দিল। ভেতরে বসে থাকা লালচে চুলের যুবক জানালা নামাল।

— কী চাই?

— আপনি কি নিকোলাই?

— না।

— তাহলে গাড়ির ভেতরে বসে আছেন কেন? গাড়িটা কি আপনার মামার?

যুবকটি ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামল।

— তুমি জানো আমি কে?

আনাস্তাসিয়া মাথা নাড়ল।

— না। আপনি কি চকলেট কোম্পানির মালিক?

যুবকের চোখ সরু হয়ে গেল।

সে আর কেউ নয়, আলেক্সেই ভলকভ!

এমন সময় নিকোলাই দৌড়ে এসে হাজির হলো। আনাস্তাসিয়াকে দেখে সে মাথায় হাত দিল।

— হে ঈশ্বর! তুমি বসের গাড়ির সামনে কী করছ?

আনাস্তাসিয়া অবাক হয়ে বলল,

— তোমার বস? আমি তো ভেবেছিলাম লোকটা চকলেট বিক্রি করে!

নিকোলাই হাসি চেপে বলল,

— এ হলেন আলেক্সেই ভলকভ। এই শহরে অনেকে ওনার নাম শুনেই রাস্তা বদলে ফেলে!

আনাস্তাসিয়া আলেক্সেইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— ওহ! তাহলে আপনার একটা ভালো হাসির প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। মুখটা এমন করে রেখেছেন কেন, যেন কেউ আপনার সব চকলেট খেয়ে ফেলেছে!

নিকোলাই মুখ ঘুরিয়ে হাসতে লাগল।

আলেক্সেই ঠান্ডা গলায় বলল,

— নিকোলাই, ওকে এখান থেকে সরাও!

— জি, বস!

কিন্তু আনাস্তাসিয়া নিজের ব্যাগ খুলে বলল,

— দাঁড়ান! আমার আলুর বস্তাটা কোথায়?

নিকোলাই হতভম্ব।

— আলুর বস্তা?!

— হ্যাঁ! মা বলেছে রাশিয়ায় এসে মামাকে দিতে। আমার ব্যাগের সঙ্গে ছিল!

আলেক্সেই বিরক্ত হয়ে বলল,

— আমার গাড়িতে আলুর বস্তা উঠবে না!

আনাস্তাসিয়া কোমরে হাত দিয়ে বলল,

— আপনার গাড়ি সোনা দিয়ে বানানো নাকি? আলু উঠলে সম্মান কমে যাবে?

নিকোলাই এবার আর হাসি আটকাতে পারল না।

আলেক্সেই বুঝল, এই মেয়ের সঙ্গে তর্ক করে জেতার চেয়ে বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সহজ!

🥀 ভলকভ ম্যানশনের গোপন সত্য

কিছুক্ষণ পর তারা ভলকভ ম্যানশনে পৌঁছাল। বিশাল প্রাসাদ, বরফে ঢাকা বাগান আর কালো পোশাকের নিরাপত্তারক্ষী দেখে আনাস্তাসিয়া অবাক হয়ে বলল,

— এত বড় বাড়িতে আপনারা থাকেন, নাকি পুরো রাশিয়াকে ভাড়া দেন?

ভেতরে ঢুকতেই ভিক্টর ভলকভ সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলেন। আনাস্তাসিয়াকে দেখেই তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

— তোমার মায়ের নাম কী?

— ইরিনা রোমানোভা। কেন?

ভিক্টরের হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে ভেঙে গেল।

আলেক্সেই অবাক হয়ে বলল,

— চাচা, কী হয়েছে?

ভিক্টর কাঁপা গলায় বললেন,

— ইরিনার মেয়ে এখানে কীভাবে এল?

আনাস্তাসিয়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

ঠিক তখনই ম্যানশনের সব আলো নিভে গেল।

আলেক্সেইয়ের ফোনে একটি অচেনা বার্তা এল—

“তোমার বাড়িতে যে মেয়েটি এসেছে, তাকে বিশ্বাস কোরো না। তোমার পরিবারের শেষ সত্য তার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে।”

আলো ফিরে আসতেই সিঁড়ির ওপর একটি সাদা খাম দেখা গেল। আলেক্সেই খাম খুলে একটি পুরোনো ছবি বের করল।

ছবিতে ছোট্ট আনাস্তাসিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আলেক্সেইয়ের মা, যিনি বারো বছর আগে মারা গেছেন বলে সবাই জানে।

ছবির পেছনে লেখা—

“একজন মৃত, একজন নিখোঁজ। আর তৃতীয়জন আজও তোমার বাড়িতে বাস করছে।”

আলেক্সেই ধীরে ধীরে পরিবারের সবার দিকে তাকাল।

আনাস্তাসিয়া কাঁপা গলায় বলল,

— এই ছবিতে আমার মা কোথায়?

কেউ উত্তর দিল না।

আলেক্সেইয়ের ফোনে আবার বার্তা এল—

“সাবধান! তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষটিই তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু।”

আলেক্সেইয়ের নীল চোখ কঠিন হয়ে উঠল।

কিন্তু আনাস্তাসিয়া তখনও জানে না, তার রাশিয়ায় আসার পেছনে লুকিয়ে আছে বহু বছরের পুরোনো এক ষড়যন্ত্র।
হঠাৎ দোতলার জানালায় একটি কালো ছায়া দেখা গেল। আনাস্তাসিয়া ভয়ে আলেক্সেইয়ের হাত আঁকড়ে ধরল। আলেক্সেই তার দিকে তাকাতেই ছায়াটি অদৃশ্য হয়ে গেল। টেবিলে পড়ে রইল একটি লাল গোলাপ, সঙ্গে ছোট্ট চিরকুট—“খেলা শুরু হয়েছে!”

কালো রহস্য!

চলবে.

.

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন