ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোলমেলে গুষ্টি

পর্ব ২ ও ৩

লেখক: Jannatul Naima

গোলমেলে গুষ্টি

লেখিকা: জান্নাতুল নাঈমা

পর্ব ২: পাত্রী দেখতে গিয়ে যে কাণ্ড!🤣

সকাল থেকেই চৌধুরী বাড়িতে অস্বাভাবিক ব্যস্ততা।

কারণ আজ দাদুর পাত্রী দেখতে যাওয়ার দিন!

দাদু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছেন। একবার ডানদিকে, একবার বাঁদিকে। তারপর নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।

—হুম... এখনো বাজারে আমার চাহিদা আছে!

পেছন থেকে দাদি বলে উঠলেন,

—চাহিদা আছে ঠিকই। তবে আমার খুন্তির কাছে!

দাদু চমকে আয়না থেকে সরে গেলেন।

—তুমি এখানে কীভাবে এলে?

—তোমার বিয়ের প্রস্তুতি দেখতে এসেছি।

দাদু গম্ভীর হয়ে বললেন,

—আমি কিন্তু আজ খুব সুন্দর লাগছি।

দাদি ঠান্ডা গলায় বললেন,

—হ্যাঁ, একদম। দেখে মনে হচ্ছে পঁচিশ বছর বয়সী একটা দুষ্টু বাচ্চা ভুল করে পাঞ্জাবি পরে ফেলেছে।

দাদু মুখ কালো করে বেরিয়ে গেলেন।

ড্রয়িংরুমে তখন আদনান, রাফি, তিশা আর মেহের বসে পরিকল্পনা করছে।

তিশা ফিসফিস করে বলল,

—আজ কিন্তু মজা হবে।

মেহের বলল,

—মজা? আমরা দাদুর পাত্রী দেখতে যাচ্ছি। মজা না হয়ে উপায় আছে?

আদনান গম্ভীর মুখে বলল,

—আমাদের একটা দায়িত্ব আছে।

সবাই তার দিকে তাকাল।

—কী দায়িত্ব?

—পাত্রী পছন্দ করার আগে দাদুর পুরোনো ইতিহাস জানাতে হবে।

রাফি চোখ বড় করে বলল,

—কোন ইতিহাস?

আদনান মুচকি হাসল।

—দাদু ছোটবেলায় নাকি তিনবার স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন।

তিশা বলল,

—এটা তো কিছুই না!

মেহের বলল,

—আমার কাছে আরও ভয়ংকর তথ্য আছে।

সবাই একসঙ্গে বলল,

—কী?

মেহের ব্যাগ থেকে একটা পুরোনো ছবি বের করল।

ছবিতে দাদু তরুণ বয়সে বিশাল চুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

রাফি ছবি দেখে চিৎকার করে উঠল,

—এটা চুল নাকি পাখির বাসা?!

আদনান হাসতে হাসতে সোফা থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম।

—দাদু! আপনি এই চুল নিয়ে কীভাবে রাস্তায় হাঁটতেন?

দাদু দূর থেকে চিৎকার করলেন,

—আমার চুল নিয়ে কোনো মন্তব্য করবি না!

মেহের ছবিটা লুকিয়ে বলল,

—এই ছবিটা আমি পাত্রীকে দেখাব।

দাদু ছুটে এলেন।

—ছবিটা দে!

মেহের দৌড়।

দাদু পেছনে।

আদনান হাসতে হাসতে বলল,

—আজকের পাত্রী যদি এই ছবি দেখে পালিয়ে যায়, দায় কিন্তু তোমার!

শেষ পর্যন্ত সবাই গাড়িতে উঠল।

দাদু সামনে বসেছেন।

পেছনে আদনান, মেহের, রাফি আর তিশা।

গাড়ি চলতে শুরু করতেই দাদু বললেন,

—কেউ কিন্তু সেখানে গিয়ে আমার কোনো বদনাম করবে না।

আদনান বলল,

—অবশ্যই না।

মেহের বলল,

—আমরা শুধু সত্য কথা বলব।

দাদু সন্দেহের চোখে তাকালেন।

—সত্য কথাই সবচেয়ে বড় বিপদ।

কিছুক্ষণ পর তারা পাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছাল।

সবাই খুব ভদ্রভাবে বসে পড়ল।

দাদু বুক ফুলিয়ে বসে আছেন।

পাত্রী পক্ষের এক ভদ্রলোক এসে বললেন,

—আপনার সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছি।

দাদু গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,

—আমি খুব শান্ত মানুষ।

পেছন থেকে রাফি কাশি দেওয়ার ভান করে বলল,

—খুবই শান্ত!

আদনান পা দিয়ে রাফির পায়ে চাপ দিল।

পাত্রী এসে বসতেই দাদু একটু লজ্জা পেয়ে বললেন,

—আপনার রান্না কেমন?

পাত্রী বললেন,

—ভালোই।

দাদু খুশি হয়ে বললেন,

—আমি কিন্তু ভাত একটু বেশি খাই।

দাদি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন,

—ও শুধু ভাত না, সারাদিনই কিছু না কিছু খায়।

দাদু দাদির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন,

—তুমি এখানে কেন?

দাদি বললেন,

—তোমার নিরাপত্তার জন্য।

হঠাৎ মেহেরের হাত থেকে সেই পুরোনো ছবিটা পড়ে গেল।

ছবিটা সোজা গিয়ে পড়ল পাত্রী পক্ষের টেবিলের ওপর।

সবাই ছবির দিকে তাকাল।

নীরবতা।

পাত্রী ছবিটা হাতে নিয়ে বললেন,

—এটা কে?

মেহের মুখ চেপে হাসতে হাসতে বলল,

—আপনার সম্ভাব্য বর।

দাদু চোখ বন্ধ করে ফেললেন।

পাত্রী কিছুক্ষণ ছবির দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,

—উনি তো বেশ... আলাদা ছিলেন!

আদনান নিচু গলায় বলল,

—ছিলেন না, এখনো আছেন।

দাদু এবার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,

—আমি মনে হয় একটু বাইরে গিয়ে বাতাস খেয়ে আসি।

দাদি বললেন,

—যাও। তবে পালিয়ে যেও না।

দাদু দরজার দিকে এগোতেই তিশা চিৎকার করে বলল,

—দাদু! আপনার বিয়ের ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত কী?

দাদু পেছনে না তাকিয়েই বললেন,

—আমি আর কোনোদিন বিয়ে করব না!

দাদি মুচকি হেসে বললেন,

—এই তো আমার ভালো ছেলে।

আদনান মেহেরের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

—অপারেশন পাত্রী সফল।

মেহের হেসে বলল,

—দাদুর বিয়ে আটকানো গেল।

ঠিক তখন দাদু দরজার বাইরে থেকে চিৎকার করলেন,

—কিন্তু বাড়ি গিয়ে তোদের কাউকে ছাড়ব না!

সবাই একসঙ্গে দৌড় দিল। 😂

চলবে.....

____________________

গোলমেলে গুষ্টি

লেখিকা: জান্নাতুল নাঈমা

পর্ব ৩: দাদুর প্রতিশোধ! 🤣

চৌধুরী বাড়িতে ফিরেই সবাই ভাবল—আজকের মতো বিপদ শেষ।

কিন্তু তারা জানত না, দাদু চুপ করে আছেন মানেই ঝড় আসছে।

দাদু নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলেন।

রাফি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলল,

—দাদু, রাগ করেছেন?

ভেতর থেকে কোনো উত্তর নেই।

আদনান এসে বলল,

—চলো, এখান থেকে সরে পড়ি।

মেহের বলল,

—কেন?

—দাদু যখন চুপ থাকে, তখন ভয় লাগে।

তিশা বলল,

—আমারও!

ঠিক তখনই দরজা খুলে গেল।

দাদু হাতে একটা খাতা নিয়ে বের হলেন।

—সবাই ড্রয়িংরুমে আয়।

আদনান ফিসফিস করে বলল,

—শেষ।

সবাই গিয়ে বসতেই দাদু খাতা খুললেন।

—আজ তোমাদের একটা শিক্ষা দেব।

রাফি ভয়ে বলল,

—কী শিক্ষা?

—তোমরা সবাই আমার বিয়ের ব্যবস্থা নষ্ট করেছ। তাই এবার আমি তোমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করব!

ঘরে নীরবতা।

মেহেরের মুখ হাঁ।

আদনান বলল,

—দাদু, আপনি মজা করছেন তো?

—একদম না!

দাদু প্রথমে রাফির নাম বললেন।

—রাফি!

—জি?

—আগামী মাসে তোর বিয়ে।

রাফি চেয়ার থেকে প্রায় পড়ে গেল।

—কীইই?

—তারপর তিশা।

তিশা চিৎকার করল,

—আমি এখনো পড়াশোনা করি!

—পড়াশোনা করতে করতে বিয়ে করবি।

সবশেষে দাদু আদনানের দিকে তাকালেন।

আদনান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।

—দাদু, আমাকে বাদ দিন।

—কেন?

—আমি এখনো ছোট।

দাদি সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

—কোন দিক দিয়ে ছোট?

মেহের হেসে ফেলল।

আদনান বিরক্ত হয়ে বলল,

—তুমি হাসছ কেন?

—কারণ তোমাকে ভয় পেয়েছি মনে হচ্ছে।

—আমি ভয় পাইনি!

দাদু বললেন,

—তাহলে আগামী শুক্রবার পাত্রী দেখতে যাবি।

আদনান এবার সত্যিই চুপ।

মেহেরের হাসি আরও বেড়ে গেল।

—কী হলো সাহেব? এখন কথা বের হচ্ছে না?

আদনান চোখ ছোট করে বলল,

—তোমারও কিন্তু নাম আসতে পারে।

দাদু সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

—মেহেরের নাম আমার তালিকায় আগেই আছে।

মেহেরের হাসি বন্ধ।

—আমার?

দাদি খুশি হয়ে বললেন,

—হ্যাঁ মা। তোকে আমাদের বাড়ির বউ করলে কেমন হয়?

মেহের লজ্জায় চুপ।

আদনান মুখ ঘুরিয়ে হাসি লুকাতে লাগল।

মেহের সেটা দেখে বলল,

—তুমি হাসছ?

—না তো।

—তোমার মুখে হাসি কেন?

—দাঁত ব্যথা করছে।

রাফি ফিসফিস করে বলল,

—ভাইয়া, দাঁতের ব্যথায় মানুষ এত খুশি হয়?

আদনান রাফির দিকে তাকাল।

—তুই চুপ কর।

দাদু হাততালি দিয়ে বললেন,

—তাহলে ঠিক হলো! আগামী শুক্রবার আদনান আর মেহেরের পাত্রী-পাত্র দেখা!

দুজন একসঙ্গে চিৎকার করল,

—কীইইই?!

দাদি খুশিতে বললেন,

—আহা! আমার বাড়িতে আবার বিয়ের আনন্দ আসছে!

আদনান মেহেরের দিকে তাকাল।

মেহেরও তাকিয়ে আছে।

দুজনের চোখে একই কথা—

“এই দাদুকে আজ ছাড়ব না!” 😂

কিন্তু দাদু তখন দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে বললেন,

—আর হ্যাঁ, পালানোর চেষ্টা করলে পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পাহারা দেব!

আদনান মাথায় হাত দিল।

—এই পরিবারে শান্তি বলে কিছু নেই।

মেহের দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—গোলমেলে গুষ্টি!

সবাই একসঙ্গে হেসে উঠল। 🤣

চলবে... ❤️

পাঠক, এবার বলুন—আদনান আর মেহের কি সত্যিই বিয়ের ফাঁদে পড়বে? 😜

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব ২ ও ৩ শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন