#শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে
#আয়েশা_রিন
স্পয়লার...
“কেমন টিচার আপনি, হ্যাঁ? প্রথম দিন এসেই স্টুডেন্টের গায়ে স্পর্শ করছেন! আবার আমার পেছন পেছন ওয়াশরুমেও চলে এসেছেন! এটা লেডিস ওয়াশরুম, কেউ দেখলে কী ভাববে জানেন?”
চ''ড়ের শব্দে ওয়াশরুমের টাইলসের দেয়ালগুলোও কেঁপে উঠল বোধহয়। চ"ড় খেয়েও টিচার এরিক ওয়াটসনের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। ক্ষোভ, যন্ত্রণা বা বিস্ময়ের বিন্দুমাত্র রেখাপাত দেখা গেল না তাঁর পাথরের মতো শান্ত চেহারায়। থা”প্পড়ের ধা”ক্কায় কপালে নেমে আসা এলোমেলো চুলগুলো সামান্য সরে গিয়ে কপালের সেই দঘদগে লাল কাটা দাগটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আর মুখের কালো মাস্কটাও হালকা ঢিলে হয়ে ঝুলে পড়েছে।
খুব ধীরস্থিরভাবে তিনি হাত বাড়িয়ে কপালের চুলগুলো ঠিক করে মাস্কটা একটু টেনে ঠিক করে নিয়ে সোজা তাকালেন ঝিলমিলের দিকে। সাহস করে চ''ড়টা মেরে দিলেও, টিচারের শীতল চাহনি দেখে ভেতরে ভেতরে ভীষণ ঘাবড়ে গেল ঝিলমিল। বুকের ভেতর ভয়ের স্পন্দন টের পেয়ে সে দ্রুত দু-পা পিছিয়ে এল। তোতলাল,
— দে... দেখুন, চলে যান এখান থেকে!
এরিক স্যার সে কথায় একদম কান দিলেন না। তিনি নিজের দুই রঙের চোখ দুটো দিয়ে এক নজর নিজের বমি মাখানো কোটটার দিকে তাকালেন। তারপর ঠাণ্ডা গলায় বাক্য ছুড়লেন,
— ক্লিন দিস।
ঝিলমিল স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল,
— হোয়াট?
— ‘আই সেইড, ক্লিন দিস!’
এরিক স্যারের কণ্ঠ আরও নিচু আর কঠোর শোনালো, ‘তোমার এই নোংরা কাজ তুমি নিজে পরিষ্কার করবে। এখনই।’
ঝিলমিল কিছুক্ষণের জন্য পুরোপুরি থমকে গেল। টিচারের বরফশীতল কণ্ঠ আর নির্ভাবনা চাহনিতে এমন প্রচ্ছন্ন হুমকি ছিল, যা উপেক্ষা করার সাহস তার এই মুহূর্তে হলো না।
দাঁতে দাঁত চেপে ওয়াশরুমের কাউন্টার থেকে কয়েকটা শুকনো টিস্যু পেপার টেনে ছিঁড়ে নিল সে। এরপর থরথর করে কাঁপা হাতে, মুখ ফিরিয়ে নাকে হাত চাপা দিয়ে স্যারের ব্ল্যাক কোটে লেগে থাকা ব”মিটুকু সাবধানে মুছতে শুরু করল। প্রতিটি ছোঁয়ায় তার নিজেরই ঘেন্নায় গা গুলিয়ে উঠছিল, কিন্তু এরিক স্যার সম্পূর্ণ স্থির। কালো মাস্কের নিচে তাঁর শক্ত চোয়াল দুটো যেন আরও বিশ্রীভাবে চেপে বসল। মেয়েটা তাকে পরিষ্কার করে দেওয়াতে তিনি যে বিন্দুমাত্র খুশি হননি, তা তাঁর চোখের শানিত দৃষ্টিতেই স্পষ্ট।
কোটের ওপরটা টিস্যু দিয়ে কিছুটা পরিষ্কার করে ঝিলমিল দুমড়ানো টিস্যুগুলো একপাশে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলল। তারপর স্যারের চোখের দিকে তাকিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
— হ্যাপি নাও? এবার দয়া করে আমার সামনে থেকে দূর হন!
বমির বিশ্রী, ঝাঁজালো গন্ধে আবারও ভীষণভাবে পেট গুলিয়ে উঠল ঝিলমিলের। মাথার ভেতরের শিরাগুলো যেন ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম। নিজের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বুঝতে পেরে ঝিলমিল তড়িঘড়ি করে ঘুরে বেসিনের ওপর ঝুঁকে পড়ল। পাকস্থলী ফাঁকা করে অনবরত ব”মি হতে লাগল তার। ব”মি করতে করতে শরীরের শক্তি সব নিংড়ে বের আসছে। সারা শরীর নিস্তেজ হয়ে এলো এক মুহূর্তে। ক্লান্তিতে দুটো চোখ দিয়ে আপনাআপনি নোনা পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। শরীর ভেঙে আসছে বুঝতে পেরে দু-হাত দিয়ে বেসিনের ধারটা আঁকড়ে ধরে। টিচারটা এবার দ্রুত
নিজের শক্ত দুটো হাত দিয়ে চেপে ধরলেন ঝিলমিলের দু-বাহু। পড়ে যাওয়া থেকে মেয়েটাকে শক্ত হাতে আটকে রেখে বলল,
— স্টপ স্ট্রাগলিং অ্যান্ড হোল্ড অন টু মি!
ঝিলমিল অবশ শরীরে কোনোমতে মাথাটা কিছুটা উঁচু করল। শরীরের সমস্ত শক্তি হারিয়ে গেলেও পরপুরুষের স্পর্শটুকু মেনে নেওয়ার মতো মন তার সায় দিল না। দুর্বল শরীরটাকে সামান্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হলো। বুকের ভেতর থেকে ছুটে আসা হাঁপানো শ্বাসের ফাঁকে, প্রবল কষ্টে সে অস্ফুট স্বরে ফিসফিস করে উঠল,
— আ... আমাকে ধরবেন না! প্লিজ, স্পর্শ করবেন না... আমি বিবাহিত!
টিচারটির মুখের অভিব্যক্তি দেখে বোঝার উপায় রইল না ঝিলমিলের কথায় তিনি আদৌ সন্তুষ্ট হলেন কি না। হয়েছে বোধহয়। তিনি হাত দুটো আলগা না করেই, একইভাবে শক্ত হাতে মেয়েটার দু-বাহু ধরে রেখে বললেন,
— আর ইউ সিক?
অসুস্থতার ছাপে ঝিলমিলের মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে, তা সত্ত্বেও গলার স্বর শক্ত রেখে বলল,
— হ্যাঁ, আমার জন্ডিস হয়েছে! ওসব আপনি বুঝবেন না... হাত ছাড়ুন আমার!
আসন্ন পর্বের স্পয়লার। সম্পূর্ণ পর্ব আগামীকাল আসবে।
#শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে
#আয়েশা_রিন