ফন্ট সাইজ:
থিম:
পথহারা মন

পর্ব 1

লেখক: পাখি

পথহারা মন 1
পাখি

সকাল সকাল জমিদারের ডাকে ভয়ে হাত পা কাঁপছে মজিদ মিয়ার । কেন তাঁকে এত সকালে ডাকছে জমিদার সেটা তার জানা নেই । তাঁকে ডেকেছে মানে সে কিছু না কিছু করেছে । কিন্তু তার জানামতে সে কিছু করেনি । এত কিছু ভাবতে ভাবতে মজিদ মিয়া পৌঁছালো জমিদার বাড়িতে।

: কি মজিদ মিয়া এত সময় লাগে আসতে

জমিদারের কথায় জেনো হাত পা আরো বেশি জোরে কাঁপছে মজিদ মিয়ার।
: রাস্তায় আসতে একটু দেরি হয়েছে । কিন্তু আপনি এত সকালে আমাকে ডেকেছেন কেন ?
: কেন, সকালে তোমাকে ডাকা নিষেধ নাকি ?

জমিদারের কথায় মজিদ মিয়া স্বাভাবিক ভাবেই বলল

: না আমি সেটা বলতে চাইনি । আমাকে এত সকালে ডেকেছেন মানে কোনো কাজ আছে নিশ্চয়ই !

: তা তো বটেই । আমি অতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলতে পারি না । তাই আমি যা বলেছি মনোযোগ দিয়ে শোনো ।
শুনলাম তুমি আমার লোকদের কথা অমান্য করেছো ।

জমিদারের কথায় মজিদ মিয়া স্বাভাবিক ভাবেই বলল
: ‌আপনার লোক আমাকে দিয়ে মানুষ হত্যা করাতে চাই । কিন্তু আমার ধর্মে এটা হারাম তাই আমি নিষেধ করেদিয়েছি ।

: তোমার ধর্মে কি আছে সেটা আমি জানতে চাই নি । তুমি আমাদের সাথে কাজ করবে নাকি সেটা বলো ।

মজিদ মিয়া কিছুক্ষণ চুপ থাকলো । তারপর অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই বলল

: না আমি এই কাজ করতে পারবোনা ।

জমিদার অর্জুন হালকা হাসলেন । তারপর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন সুদর্শন পুরুষ কে ডাকলেন । তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন
: এর আর কোন কাজ নেই । যেহেতু আমাদের সঙ্গে কাজ করবে না তখন একে বাঁচিয়ে রেখে কি লাভ মেরে ফেলো একে ।

জমিদার অর্জুন এর কথা শুনে মজিদ মিয়ার হাত পা আরো বেশি জোরে কাঁদতে লাগল । মজিদ মিয়া কিছু বলার আগেই পাশ থেকে এক জন তাঁর পিঠ বরাবর চাকু ঢুকিয়ে দিল ।

____________

: রেখা কাজল কোথায় ?

: আপনার বোন এখনো ঘুম থেকে উঠে নি ।

জমিদার অর্জন আর কোন কথা বললেন না । সোজা দোতালা সিড়ি ধরে উপরে উঠতে শুরু করলেন ।

: কাজল ঘুম থেকে উঠবি না ।

: দাদা আর একটু ঘুমাতে দাও ।
: না, না, তোর পড়া আছে পরে ঘুমাবি। এখন ঘুম থেকে ওঠ ।

তখনই কাজল বিছানা থেকে উঠে বসে । এবং স্বাভাবিকভাবেই বলে
: দাদা আমি সাজ্জাদ স্যার এর কাছে পড়বো না ।

: কেন কি হয়েছে ?
কাজাল কিছুটা দিধা নিয়ে বলল

: ঐ স্যার অনেক খারাপ । আমার সাথে বাজে ব্যবহার করে ।

কাজলের কথায় জমিদার অর্জুনের রাগ জেনো তির তির করে বেরে যায় । একমাত্র বোন তার । ছোট বেলায় মা - বাবা মারা যায়। তারপর থেকে কাজলকে সে বড় করেছে । কাজলের মধ্যে যেন তার প্রাণ । এমনকি কাজলের জন্য তিনি আজ পর্যন্ত কোনো সন্তান নেইনি । কাজল কে আজ গোটা 12 বছর বাড়ির বাইরে বেরোতে দেয়নি , কাজলের ক্ষতি হবে বলে । আজ পর্যন্ত যারা কাজকে দেখেছে তারা কাজলের প্রেমে পড়তে বাধ্য । গায়ের রং উজ্জল ফর্সা । ঘন কালো চুল গুলো হাটু সমান । তার চোখে দেখে একবার যে তাকিয়েছে দ্বিতীয়বার চোখ সরানোর সাহস পায়নি।

__________

: তোর সাহস দেখে আমি অবাক। আমার বোনের দিকে চোখ তুলে তাকাতেও তাকে আমি মেরে ফেলি । আর তুই , হাবিব আমার বন্দুক টা দে ।

_____

: আব্বা আজ একটা বড় মাছ পাইছি ।

: উঠানে রাখ আমি আসতেছি।
মা মারা যাওয়ার পর থেকে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেনি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে লাবিব খান । তার একমাত্র ছেলে শুভ খান । এই ছেলের জন্যই তার এত চিন্তা । চিন্তাটা হলো তার ছেলে বয়স হয়েছে কিন্তু বিয়ে করতে চাই না ।

লাবিব খান কিছু একটা ভেবে বলল

: শুভ তোর বয়স হয়েছে, এবার তো বিয়েটা কর বাবা।

শুভ জেনো আগে থেকেই জানতো তার বাবা এই প্রশ্নে করবে

: আব্বা আমার কেবল ২২ বছর চলে বিয়ে করা দেরি আছে ।

কথাগুলো বলে সবার এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না। সোজা হেঁটে চলে গেল পুকুরের দিকে ।

লাবিব খান আর এই নিয়ে চিন্তা করতে পারছেনা । প্রতিদিন কোন না কোন মেয়ের বাবা তার বাড়িতে আসবেই । এসে বলবে তার মেয়ে লাবিব খানের ছেলেকে পছন্দ করে বিয়ে করতে চায়। করতে চাইবে নাই বা কেন ছেলে যে তার মুভির নায়কও ফেল । যেমন তার শরীরের গঠন তেমন তার চেহারা । সাদা ফর্সা গায়ের রং । চুলগুলো স্বাভাবিক । উচ্চতা ছয় ফিট । জিম করা ছাড়াই তার জিম করার মত শরীর আছে । চোখের মনি গারো বাদামি । যে কোন মানুষ দেখলে বলবে সেই লেন্স লাগিয়েছে ।

________

: কিরে শুভ এবার তো বিয়েটা কর ।

রাশেদের কথায় শুভ কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলল

: মনের মতো মেয়ে পেলে তবেই বিয়ে করব না হলে করবো না ।

শুভর কথায় রাশেদ বলল
: ভাই তোর মনের মতো মেয়ে খুঁজতে গেলে টাকা লাগবে।আছে তো কাছে টাকা ?

: শর শালা তোর সাথে কথা বলাই ভূল ।

____________

: বৌদি কালকে তো আমার জন্মদিন । তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো দিবে আমাকে ?

: কী লাগবে বল আমি দিবো !

কাজল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল
: আমি বাহিরে ঘুরতে যেতে চাই।
কাজলের কথায় তার বৌদি বলল ...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন