ওগো মেঘলা আকাশ একলা
লেখিকা : পুতুল
(কপি করা নিষিদ্ধ) ❌❌❌
সূচনা পর্ব,
“কে তুমি, বাবা?” বৃদ্ধ লোকটার প্রশ্নে সামনে দাঁড়ানো সুট বুট পরিহিতা যুবকটি আড়চোখে তাকিয়ে বলে,
“ আকাশ চৌধুরী! আমি আকাশ চৌধুরী।”
তারপর আর কিছু না বলে যুবকটি চলে গেল তার নিজ গন্তব্যে।
__________________….
জানালার কাচ বেয়ে এক ফোঁটা, দু ফোটা করে জল গড়িয়ে পড়ছে। বিকেলের আকাশটা আজ বড্ড ভারী। যেন এক বুক অভিমান পুষে রেখেছে।
মেঘলা সকাল থেকে বায়না ধরেছে, সে শরতের কাশবন ঘুরতে যাবে। আজকের দিন টা খুব স্পেশাল তার কাছে। আজ চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছেলে আকাশ চৌধুরীর ২৭ তম জন্মদিন সেলিব্রেশন করা হবে।
সেই উপলক্ষে পাঁচ বছর পর দেশে ফিরছে আয়েশা চৌধুরীর ভাইঝি ইরা মজুমদার। আকাশ চৌধুরীর মামাতো বোন ইরা মজুমদার।
চৌধুরী বাড়ির চারদিকে এখন উৎসবের আলো। গান বাজছে, আত্নীয়- স্বজনে গোটা চৌধুরী ম্যানশন গমগম করে মেতে উঠেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে ইরার অন্য রকম অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে। যা তার চেহারা দেখলেই বুঝা যাচ্ছে। ইরা মজুমদার আসার পর বাড়ির সবার নজর যেন শুধু তার উপর। আধুনিক পোশাক সাথে আদো আদো বাংলায় কথাগুলো খুব মিষ্টি লাগছে। ইরাকে এয়ারপোর্ট থেকে ড্রপ করতে এসেছিল তার বাবা আহমেদ মজুমদার।।
ফিনফিনে একটা সদেফ রঙা পাতলা শর্ট এবং কালো জিন্স ট্রাউজার পরনে আছে ইরার। দুইতলা সিঁড়ির এককোণ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সেসব দেখছে মেঘলা। ইরাকে চেনে সে।
হলরুমের মৃদু নীলচে আলো আর পারফিউমের হালকা সুবাসের মাঝে আকাশ চৌধুরী,
যখন এসে দাঁড়াল, মুহূর্তেই যেন চারপাশের কোলাহল থমকে গেল। নিজের জন্মদিনের এই বিশেষ রাতে ও বেছে নিয়েছে এক অদ্ভুত আভিজাত্য। পরনে তার উজ্জ্বল নীল রঙের একটি প্রিমিয়াম ক্রু-নেক টি-শার্ট, যা তার চওড়া বুক আর সুগঠিত শরীরকে নিখুঁতভাবে জড়িয়ে রেখেছে। তার ওপর চাপানো চারকোল গ্রে রঙের একটি আনস্ট্রাকচার্ড ব্লেজার। ব্লেজারের হাতা দুটো সামান্য কনুইয়ের নিচে গোটানো, যা তার গম্ভীর ব্যক্তিত্বের মাঝেও এক ধরণের সাবলীল ও আধুনিক ভাব ফুটিয়ে তুলেছে। ব্লেজারের রঙের সাথে মিলিয়ে পরা স্লিম-ফিট ট্রাউজারটি যেন তার দীর্ঘ অবয়বকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পায়ে থাকা কালো চামড়ার চকচকে লোফার্স জুতোজোড়া প্রতি পদক্ষেপে তার আত্মবিশ্বাসকে জানান দিচ্ছিল। কোনো জমকালো সাজগোজ ছাড়াই, শুধু এই মিনিমালিস্টিক পোশাকেই সে হয়ে উঠেছিল পুরো উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
ইরা মজুমদার আকাশকে দেখা মাত্রই ছুট লাগিয়ে জড়িয়ে ধরলো। এতে ভিষণ অস্বস্তিবোধ করলো
আকাশ। এটা দেখে খানিকটা রাগ হলো মেঘলার।
আকাশ, ইরার পিঠে হাত রাখতে গিয়েও কি যেন মনে করে তার হাত জোড়া থেমে যায়।
ইরাকে দ্রুত ছাড়িয়ে নেয় আকাশ নিজের কাছ থেকে।
হ্যান্ডশেক করে কুশলাদি বিনিময় করল আকাশ।
"কেমন আছো আকাশ?" প্রশ্ন করে ইরা।
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আমি।" তা তুমি কেমন আছো সেটা বললে না?"জবাব ও দিল সাথে প্রশ্ন করল আকাশ।
"আমি ভালো আছি এবং খুব খুশি! কতগুলো বছর পর দেখছি তোমাকে।" হাসি মুখে বলল ইরা।
"ওই... মেয়ে টা কই? " ম.. মেঘা নাকি মেঘলা নাম?" দেখছি না কেনো?"
মনে করার ভঙ্গিতে বলেছে ইরা।
"হ্যা," ওর নাম মেঘা না মেঘলা । "ও আছে রুমে হয়তোবা।" রেডি হচ্ছে হবে আরকি।
এবার আকাশের কন্ঠে ঝাঁঝালো ছিল মনে হলো। তাতে বিশেষ হেলদোল দেখা গেল না ইরার মাঝে।
আকাশ আরও খানিকক্ষণ সময় আলাপ করলো ইরার বিদেশে কাটানো জীবনযাত্রা নিয়ে।
হঠাৎ করে আকাশের চোখ জোড়া থমকে গেল দুইতলার সিঁড়ির এককোণ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা মেঘলার পানে।
মেঘলার পরনে নীল কালারের সিল্ক শাড়ি সাথে মেচিং করে ব্লাউজ বেশ মানিয়েছে। চোখে হালকা কাজল, হাতে নীল রঙের কাচের চুড়িগুলো ঝিলমিল করে ঝিলিক ছড়াচ্ছে আশেপাশে। ঠোঁটে লাল কালারের সিম্পল লিপস্টিক, সামান্য মেকআপে অপরূপ সৌন্দর্য্য ফোঁটিয়ে তুলেছে শতগুণ। ভীষণ স্নিগ্ধ লাগলো মেয়েটাকে। কিছুতেই দৃষ্টি সরাতে পারছে না বেচারা আকাশ।
আকাশ নিজেই শাড়ি, চুড়ি পছন্দ করে মেঘলার জন্য এনেছিল গতকাল রাতে। আকাশের মনে হচ্ছে তার কল্পনার চেয়েও বেশি সুন্দর দেখাচ্ছে তার মেঘলা পরীকে।
আকাশ আর মেঘলার ড্রেসের কালার নীল রঙের ম্যাচিং।
আকাশের দৃষ্টি অনুসরণ করে তার বন্ধু নিলয় তাকে চাপড় মেরে ধাক্কা দিল।
চোখ, মুখ কুঁচকে নিল আকাশ। বিরক্তিতে সে "চ" সূচক শব্দ উচ্চারণ করল।
শুরুর দিকে ইরাকে আকর্ষণীয় লাগলেও এখন মেঘলাকে বেশি নজরকাঢ়া লাগছে।
“কি হলো মেঘলা মামুনি?” এসো নিচে এসো ।”
আকাশ চৌধুরীর বাবা আয়ুশ চৌধুরীর কথায় সকলে দাঁড়িয়ে থাকা মেঘলার দিকে একদৃষ্টে চাইল।
মেঘলা পলক আকাশের পানে চাইলে । তারপর ধীর পায়ে নেমে এলো নিচে।
আকাশের বন্ধু মহলের সকলে এবং কলিগরা চোখ টিপে টিপে হাসছে আকাশের অবস্থা দেখে। সে হাবড়ার মতন ড্যাবড্যাব দেখছে রমনীকে।
“আকাশ ভাইয়া দেখো, আমি সেজেছি আমাকে কেমন লাগছে!”প্রুফুল্ল মুখে শুধালো মেঘলা। আনন্দ যেন তার হাসি খুশি দিয়ে ঝরে পড়ছে।সে এসে আকাশের সামনে দাঁড়িয়েছে।
মেঘলার কথা শুনে অদূরে সোফাই হেলান দিয়ে বসে থাকা ইরার নানু রোশানি মজুমদার মুখ বাঁকালেন।সেটা নজরে এড়ালো না আকাশের ।
“মেঘলা তোমাকে পরী পরী লাগছে একদম মেঘলা পরী আমাদের।”
আকাশ কিছু বলার আগে আগ বাড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বলে বসলো আকাশের বন্ধু নিলয়। হেতে রেগে চটে গেল আকাশ। রেগে তেড়ে আসছে বন্ধুর নিকট আকাশ। এই পাজি ছেলে সবসময় তার পিছনে পড়ে থাকে। কিন্তু তা হলো না। আকাশ নীলয়ের কাছাকাছি আসার সাথে সাথে এক লাফে নীলয় মেঘলার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো।
"কি হচ্ছে টা কী?"
শাসনের স্বরে গর্জে উঠলেন আকাশের বাবা আয়ুশ চৌধুরী।
দুই বন্ধু চুপসে গেল।আসলেই বাড়িতে অনেক মেহমান আছে। আকাশে কলিগরাও আছে।
আকাশের মা আয়েশা চৌধুরী এগিয়ে এসে মেঘলার চোখের পাপড়িতে নিজের তর্জনী আঙুল ছুয়ে বললেন, "মাশাল্লাহ। এক্কেবারে নিখাদ নীল পরী লাগছে আমার মেয়েটাকে। "
সকালের হাতে ড্রিংক গ্লাস বা লেবার শরবতের গ্লাস।
রাত দশটার দিকে কেক কাটা হলো। তবে সবার প্রথম মেঘলার মুখে কেকের পিস খাইয়ে দিয়েছিল আকাশ । সকলে যখন আকাশকে বার্থডে গিফট দিচ্ছিল, তখন আকাশের এক বন্ধু বলে,
"মেঘলা তুমি কী গিফট দিবে আকাশকে?"
তখন আকাশ হাসি মুখে বলল;"ও আমাকে কী গিফট দিবে! সে নিজেই তো আস্ত একটা আমার প্রিয় গিফট। "
মেঘলা আকাশকে একটা গিফট বক্স দিল হাতে। আকাশ অবাক হলো গিফট বক্সটা আকারে দেখতে ছোট হলেও বেশ ভারী। এতে কি থাকতে পারে?
"আকাশ ভাইয়া আমি বাইকে চড়ে ঘুরতে যাবো।নিয়ে যাবে আমাকে? আমি কখনো বাইকে চড়িনি। "
আকাশ তার বন্ধু নিলয়ের সাথে কথা বলছিল ড্রয়িংরুমে। পাশের সোফায় ইরাও আছে। আকাশের বেস্ট ফ্রেন্ড নিলয় আর আকাশ দুজনেই পাশাপাশি একি সোফায় বসেছে। মেঘলার আবদারে আকাশ ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
মেঘলাকে দেখে নিলয় মিষ্টি করে হেসে বসতে বলল,"এসো মেঘলা পরী বসো দেখি এখানে। "
বলেই সে উঠে অন্য পাশের সোফাতে বসল।আকাশের পাশের জায়গা খালি করে দিয়েছে নিলয়। তবুও মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে। ইরা নামুক মেয়েটাকে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখছে সে।
আকাশ মেঘলাকে ইশারা করে তার পাশে বসতে। মেঘলা গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে এসে বসলো আকাশের পাশে।
আকাশ ফোন স্ক্রল করতে করতে মেঘমাকে বলল, "আগামীকাল সকালে নিয়ে যাবো। সাথে নিলয় আর আয়ান ও রেড়ি থাকিস। তোরাও যাবি।"
মেঘলার মুখে তৎক্ষণাৎ হাসির রেখা ফুটে উঠলো। আকাশে সেই হাসি অপলক দৃষ্টিতে দেখল । মেঘলার এই হাসিটা আকাশের খুব ভালো লাগে। মেয়েটা হাসলে সামনে দাঁতগুলো মুক্ত দানার মত চিক চিক করে। আকাশ, মেঘলা দুজনকে একসাথে বসতে দেখে কিছুটা বিরক্ত হলো ইরা।
"আকাশ আমিও যাবো তোমাদের সাথে।" বললো ইরা।
ইরার এই বাক্যটা পছন্দ হলো না আকাশের। চোখ তুলে একবার মেঘলার দেখল আকাশ। তারপর বিরক্ত মাখা মুখে ইরাকে সোজাসপটা জবাব দিল, "sorry ! ইরা আমি তোমাকে সাথে নিতে পারবো না তুমি বরং নিলয়ের সাথে যেও অন্য কোনদিন।"
কথাটা শুনে ইরার মুখ কালো হয়ে গেল।
ইরার বাবা-মা এসেছে কিছুক্ষন হলো চৌধুরী বাড়িতে। নিলয় ড্যাব,ড্যাব করে রাগী দৃষ্টিতে দেখছে আকাশকে। সকলে নিজেদের মতো আনন্দ করলেও আকাশ, মেঘলা চুপচাপ বসে আছে।
এর মধ্যে আয়েশা চৌধুরী কিচেন থেকে পায়েসের বাটি হাতে আসলেন। উনার পেছন পেছন স্টাফরাও বড় ট্রে করে মেহমানদের জন্য আনলেন। প্রথমে এক চামচ পায়েস আকাশের মুখে পুরে দিলেন আয়েশা চৌধুরী। তারপর বাটিটা মেঘলার হাতে ধরিয়ে দিয়ে আরাম করে চেয়ারে বসলেন আয়েশা চৌধুরী।
অধীর আগ্রহে আছে আকাশ। এখন তাকে মেঘলা পায়েস খাইয়ে দেবে নিজ হাতে। এই কাজটা প্রতিবছরই করতে হয় আকাশের জন্মদিনে। পায়েস পছন্দ করে না আকাশ। তবে মেঘলা খাইয়ে দেবে বলে একটু আধটু খাই।অন্যদিকে মেঘলার খুব প্রিয় পায়েস।
মেঘলা কয়েক চামচ পায়েস আকাশ ভাইকে খাইয়ে দিল। ঝলমলে আলোয় চৌধুরী বাড়ির ঝাঁকজমক পরিবেশ। ইরার দুই চোখ আকাশের পানে নিবদ্ধ। যা নজরে এড়িয়ে যায়নি নীলায়ের।এই মেয়ের সাথে তার প্রথম দেখাতেই ঝগড়া বেঁধে ছিল । তাই একে সহ্য হচ্ছে না ছেলেটার। মেঘলা আকাশ আর নিলয় গল্প করছে হেসে হেসে। ইরা তেমন একটা পাত্তা পাচ্ছে না। আকাশের কলিগরা চলে গেছে অনেকক্ষণ আগে নিজ বাড়ি। জনসংখ্যা কমে এসেছে বাড়িময়। আকাশের মামার বাড়ির লোকেরা আজ রাতে থাকবে চৌধুরী বাড়িতে। আকাশের কাজিনরা জোড়াজুড়ি করছে গান করার জন্য। আকাশ আবার খুব ভালো গান গাইতে পারে।।
কিন্তু এখানে সবার সামনে আকাশ রাজি হচ্ছে না গান গাইতে।
মেঘলা বলল,
"আকাশ ভাইয়া আমি বলছি তুমি গান গাইবে এবং এক্ষুনি। "
মোমের মতন গলে গেল আকাশের মন সে রাজি হয়েছে গান করবে।
আয়ুশ চৌধুরী এবং আয়েশা চৌধুরী সকলে চলে গেলেন উনাদের রুমে। আকাশের রুম থেকে গিটার নিয়ে আসল নিলয়।ড্রয়িং রুমে বিরাজ করছে তরুণ তরুণীদের উল্লেসিত মুখ । সাধারণ বা ঝিলিক বাতি নিবিয়ে তিনটা ড্রিম লাইট আর কিছু মোমবাতি জ্বালিয়েছে আয়ান।
গিটারের সুর তুলেছে আকাশ…………..
ডেকেছি তোকে কতবার মন পাড়াতে……..
গড়েছি ঠিকানা আকাশেরই নিচে………
প্রতিদিন বৃষ্টি হবে শহরে………..
ভিজব একসাথে হাত ধরে উঠানে………
দুজনে ভাসব শুধু ভালোবাসায়………
________________________________…..
বার্থডে সেলিব্রেশন সেই রাতেই সমাপ্ত হলো। শুরু হয়েছে নতুন একটি দিনের সূচনা। সূর্যলোকের সোনালী নরম রোদ জানালার কাচের ফাঁক গলে এসে মেঘলার মুখশ্রী ছুয়ে দিল।
বেশি রাত করে ঘুমানোর ফলে যার নিদারুন দেরিতে ঘুম ভাঙল মেঘলার।
পাখিদের কিচিরমিচির সুরে ঘুম ছুটে গেছে রমণীর। ঘুমো-ঘুমো চোখে এক পলক চাইল, তারপর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেখলো দেওয়ালে টানিয়ে রাখা কাটা ঘড়ির পানে।বেলা এখন বাজে ৮:২১ মিনিট। তড়িঘড়ি করে মেঘলা ফ্রেশ হতে চলে গেল ওয়াশরুমে। পুরো বাড়ি পরিষ্কার করছে স্টাফরা। আয়েশা চৌধুরী কফি বানালেন দুই মগ আর এক কাপ গ্রিন টি।
আপাতত কেউ জাগ্রত হয়নি। ভদ্র মহিলা প্রথমে নিজেদের রুমে গেলেন চায়ের কাপ হাতে।আয়ুশ চৌধুরী মানে উনার স্বামীকে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিয়ে আকাশ এবং মেঘলার ও কফি দিয়ে এসেছেন। আকাশ আর মেঘলার কক্ষ পাশাপাশি দোতলায়। আয়েশা চৌধুরী মেয়ের এলোমেলো অগোছালো চুল দেখে বেজায় বিরক্ত হলেন। জোর করে ধরে সুন্দর করে সময় নিয়ে মাথা আঁচড়ে দিলেন।
চলবে…….৷