ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় শ্যাম কন্যা

পর্ব 1

লেখক: তাসনু&ফারজু

প্রিয় শ্যাম কন্যা
#লেখিকা তাসনু&ফারজু
পর্ব ১

সবে মাএ ডেনমার্ক থেকে ফিরলো খান বাড়ির ছোট ছেলে আফনান খান । খান বাড়ির ছোট ছেলে ফেরার খবর শুনে খান বাড়ির সকলের ভিতর এক অদ্ভুত আনন্দের সৃষ্টি হয়,

বাড়ির বড় কর্তা মেহেরাব খান তার ছোট ছেলে আসার খুশিতে ১ ঘন্টা আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসে আছেন।

এ দিকে বাড়ির কর্তী ইরা ইসলাম ছেলে আসবে বলে নানা রকম খাবার রান্না করছে, বিশেষ করে ছোট ছেলের পছন্দের খাবার বিরিয়ানি, অন্য দিকে বাড়ির বড় ছেলে ফারিস খান ( রোহান ) বাড়িতে ঢুকে মায়ের এমন রান্না বান্না দেখে মাকে গুরু গম্ভীর ভাবে রোহান বললো

রোহান: কে আসবে কার জন্য আজ এত আয়জন, ছেলের এমন কথা শুনে ইরা ইসলাম বললেন

ইরা ইসলাম: বাবা তুমি তো বাসায় থাকো না তাই জানো না আজ তোমার ছোট ভাই দেশে ফিরবে,

অবাক হয়ে রোহান মাকে জিজ্ঞাসা করে,

রোহান : কিন্তু তোমরা কেউ আমাকে বলো নি কেনো আফনান আসবে আজকে,

ইরা ইসলাম কাজের ব্যস্ততায় বললেন

ইরা ইসলাম : তুমি ব্যস্ত থাকো তাই আর বলা হয় নি বাবা রাগ করো না, ইরা ইসলাম টেবিলে খাবারের প্লেট গুলো রাখতে রাখতে বললেন, যাও তুমি বরং ফ্রেস হয়ে আসো আফনান আর তোমার আব্বু এখনি চলে আসবে, মায়ের কথা শুনে রোহান তার রুমে ফ্রেস হতে চলে গেলো |

আফনান আসবে বলে বাড়ির ছোট কর্তা বাজার থেকে আফনানের পছন্দের সব জিনিস কিনে এনেছে, আফনান এর ছোট চাচ্চু কামরান খান তার স্ত্রী রুহানা বেগম

তাদের দুই মেয়ে এবং এক ছেলে।

বড় মেয়ে আয়রা এ বার ইন্টার ২য় বর্ষের ছাএী, ছোট মেয়ে সবে মাএ SSC শেষ করেছে এবং তাদের ছেলে রুদ্র খান নবম শ্রেণিতে পরছে।

আফনান আসবে বলে তার এক মাএ ফুপি মেহের খান সকাল সকাল সপরিবারে খান বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে, তার একমাএ মেয়ে সিদরাত এবং তার স্বামী সাইফ ইসলাম সহ তারা সকলে নিহাল এর অপেক্ষায় খান বাড়িরর ড্রইং রুমে বসে আছেন।

মেহেরাব খান কে কিছুক্ষণ আগেই আফনান খান ফোন করে বলে দিয়েছে তার জন্য যেনো অপেক্ষা না করে, তার কাজ শেষ করে সে নিজেই বাড়ি চলে যাবে, ছেলের এমন কথায় মেহেরাব খানের মন খারাপ হলেও কিছু বলে না।

এ দিকে আফনান আসবে বলে কোনো এক রমণীর মনে এক অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে, সকাল থেকে সাজুগুজু করে বসে আছে সেই রমণী, তার এমন সাজুগুজু দেখে তার বোন ইরফা প্রশ্ন করলো,

ইরফা: কিরে নাবিহা এত সাজুগুজু কার জন্য করছিস?

চলবে....

প্রিয় শ্যাম কন্যা
#লেখিকা তাসনু&ফারজু
পর্ব ২

চট্টগ্রামের ধরনী আজ অন্যরকম সুন্দর, সারারাত বৃষ্টি শেষে চট্টগ্রাম যেন নতুন করে সেজেছে, বড় বড় গাছ থেকে এখনো ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝড়ছে, শিমুল ফুল, কৃষ্ণচূড়া ফুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝড়ছে, গাছের নিচে ফুলের ছড়া ছড়ি। চট্টগ্রামের আকাশ আর সবুজ ধরনী—প্রকৃতির নিখুঁত মিলন।আকাশে আজ প্রকৃতির রঙের ছোঁয়া, রাস্তা দিয়ে বড় বড় যানবাহন যাচ্ছে, যে যে নিজ নিজ কর্মস্থানে!

সকাল থেকে সাজুগুজু করে বসে আছে সেই রমণী, তার এমন সাজুগুজু দেখে তার বোন ইরফা প্রশ্ন করলো,

ইরফা: কিরে নাবিহা এত সাজুগুজু কার জন্য করছিস?

ইরফার প্রশ্নে নাবিহা বললো,

নাবিহা: আজ আমার আফনান আসবে বহু দিন অপেক্ষার প্রহর আজ শেষ হবে, ইরফা নাবিহার কথা শুনে বুঝতে পারলো আজ বোনের প্রিয় মানুষ আসবে তাই আর নাবিহা কে বিরক্ত করলো না।

নাবিহা নিজেকে আয়নায় দেখতে দেখতে আফনানের কথা ভাবতে লাগলো ভাবতে ভাবতে নাবিহার মনে পরলো আফনান তাকে কল করেছিলো খান বাড়ি যাওয়ার জন্য তরিহরি করে বের হয়ে পরলো খান বাড়ি যাওয়ার জন্য।

আফানান খান বাড়ি পৌছিয়ে গেছে, খান বাড়ির সবাই গাড়ির শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে এলো, আফনান গাড়ি থেকে থামলো সুঠাম দেহের অধিকারী, কালো শার্ট কালো ব্লেজার হাতে দাম ঘড়ি, মুখে চাপ দাড়ি। চোখে কালো চশমা, শ্যামবর্ণের একটা সুদর্শন পুরুষ, মেয়েদের পাগল করার মতো। আফনান তার ছোট চাচ্চু, আব্বু, আম্মু, ছোট চাচি, সবাইকে সালাম দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো।

আফনানের বাদামী রঙ এর চোখ দুটো কোনো একজন কে খুঁজে চলেছে, কামরান খান ভাতিজার মনের কথা বুঝতে পেরে মজা করে বলে উঠলো,

কামরান খান: নাবিহা এখনো আসেনি আফনান তুমি বরং ফ্রেস হয়ে নাও পরে দেখা করো। আফনান কামরন সাহেবের দিকে একটু তাকিয়ে মুচকি হাসলো,আর নিজের বরাদ্দকৃত রুমে চলে গেলো, রুমে যাওয়ার পরে দেখলো তার রেখে যাওয়া সেই রুম আজও একই রকম আছে, তার প্রিয় পড়ার টেবিল টা আগের মতো গুছানো যেমন সে রাখতো, সবই নাবিহা এবং তার মা গুছিয়ে রেখেছে। আফনান ফ্রেস হয়ে বের হয়ে দেখলো তার রুমে এক "শ্যাম কন্যা" তার জন্য অপেক্ষা করছে আফনান এর বুঝতে বেশি দেরি হলো না এটা তারই প্রিয় সুহাসিনী.!

চলবে,,,,

প্রিয় শ্যাম কন্যা
#লেখিকা তাসনু&ফারজু
পর্ব ৩

আফনান চুল গুলো মুছতে মুছতে ফ্রেস হয়ে বের হলো, দেখলো তার রুমে এক "শ্যাম কন্যা" তার জন্য অপেক্ষা করছে, সে খাটে বসে খাটের পাশে ছোট্ট টুল টাই কি যেনো করছে, চুল গুলো আগে থেকে লম্বা হয়েছে, খাটে চুল গুলে ছড়িছিটিয়ে রয়েছে, তার প্রিয় শ্যাম কন্যা তার পছন্দের রঙের জামা পড়েছে, কালো চুড়িদার,কালো নেটের ওড়না, হাত বড়া সিলভারের চুড়ি-কানে সিলভারের কানের দুল, সব চেয়ে বেশী আকর্ষণ করার মতো হলো তার চোখ জোড়া নীল চোখ, হালকা কাজল চোখে তার প্রিয় শ্যাম কন্যা তার কাছে অপুর্ব সুন্দর লাগছে,

আফনান নেশালো কন্ঠে বলে ওটলো:

আফনান: প্রিয় শ্যাম কন্যা আগে থেকে তো আমি তোমার জন্য পাগল, এ পাগল কে আরো পাগল করার চিন্তা ভাবনা করে আসলে নাকি,

আফনান কথায় শ্যাম কন্যা ফিরে তার দিকে চাইলো, আফনান আবার বলে ওটলো

আফনান: তুমি কি জানো না শ্যাম কন্যাদের কাজল পড়লে সুন্দর লাগে, পুরুষ পাগল হয়ে যায়, এখন আমি যদি পাগল হোই তার দায় বাড় কে নিবে।

শ্যাম কন্যা মাথা নুয়ে দাড়িয়ে হোইলো, লজ্জায় দাড়াতে পারছে না ইচ্ছে করছে ছুটে পালাতে, এমনিতে সকাল থেক হৃদয়ের বাম পাশে ধুপধুপানি হয়ে যাচ্ছে, এখন তো আরো বেড়ে গেলো, তার উপর মুখের ভাষা সব হারিয়ে পেলেছে, নিজেকে ঠিক করে, নিচে এলো মেলো দৃষ্টি রেখে আমতা আমতা করে বললো,

নাবিহা : আমাকে লজ্জায় না পেললে তোমার চলে না তাই না!

আফনান নাবিহার সামনে এগোতে এগোতে বললো

আফনান: তোমায় লজ্জায় না ফেললে কাকে ফেলবো প্রিয় সুহাসিনী!

নাবিহা এইবার মাথা তুলে বললো,

নাবিহা: কেনো তোমার যে না হাওয়া কতো গুলো বউ কাছে তাদের।

নাবিহার কথায় আফনান নাবিহার হাত ধরে টেনে পিছ গুড়িয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,

আফনান : তুমি ছাড়া কে আছে আমার পাখি বলো,তুমি তো আমার শেষ প্রেম, শেষ ভালোবাসা!

নাবিহা মাথা নুয়ে লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে বললো,

আফনান : হ্যাঁ সব জানি জনাব! আচ্ছা চলুন নিচে খাবার জন্য মামনি ডাকছে,

আফনান : চলো!

আফনান আর নাবিহা পাশা পাশি হেঁটে নিচে যাচ্ছে,

নাবিহা ইসলাম, নাবিহা আফনান চেয়ে কাটো ৬ ফিট লম্বা আফনানের বুকের সমান নাবিহা, চুল গুলো কালো প্রায় কোমরের নিচ পযর্ন্ত, চোখ দুটো নীল এটা তাকে আরও বেশি আকর্ষণ করে তুলে, সুন্দরী নয় শ্যাম বর্নের কাজল পড়লে চোখ ফিরানো দায়, মুখ ভরা মায়া!

মা-বাবা ছোট বোন নিয়ে তার ছোট্ট পরিবার, নাবিহা এবার অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষে উটেছে, ছোট বোন ইরফা সবে মাএ Ssc পাস করলো,

আফনান নাবিহা নিচে মেনে আসলো, আয়রা, আয়াত, রুদ্র এসে আফনান কে জড়িয়ে ধরলো, তিন জন এক সাথে বলে ওটলো,

কেমন আছো ভাইয়া?

আফনান হাসি মুখে উওর করলো,

আফনান: আলহামদুলিল্লাহ, তোরা কেমন আছিস,

আয়রা: ভালো ভাই

রুদ্র :ভাইয়া আমাদের জন্য কি কি আনলে?

আফনান হাসি মুখে বললো, অনেক কিছু.

আয়াত: ভাইয়া তুমি খেতে চলো তো!

#চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন