ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার

পর্ব 1

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : তুমি আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব - ১

ঠাসসসস....তুই বের হয়ে যা আমার বাসা থেকে বেশ্যার ঝি

হিয়া তার স্বামীর হাতে থাপড় খেয়ে ছফার উপর পরলো।

থাপড় খেয়ে তার যত টা না কষ্ট কয়েছে তার স্বামীর মুখের গালি শুনে তার গা টা রি রি করে উঠলো।

অবশ্য এ নতুন কিছু না

হিয়ার স্বামী হামিদ সব সময় নেশা করে হিয়া কে মারে আর হামিদ কে উৎসাহিত করে তার মা - বোন।

হিয়া আর এক মিনিট ও সময় বেয় না করে তার এক মাত্র ছেলে হাবিব কে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসলো।

হিয়ার যাওয়ার পথে হিয়ার শুশুর বাড়ির সকলে তাকিয়ে ছিল। তারা ভাবতে পারেনি যে হিয়া চলে যাবে। তারা ভেবেছিল হয় তো হিয়া আগের মত চুপ থাকবে..!

হিয়া ছিল মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়ে ।

মধ্যবিত্ত দের বুক ফাটে তবু মুখ খুলে না, তাদের বেঁচে থাকার মূল উৎস হলো সম্মান।

এই সম্মানে কেউ আঘাত আনলে সামনে ব্যক্তি কে তা তারা দেখার প্রয়োজন বোধ করেনা।

সুদে আসলে আসলে নিজের অপমানের জবাব দিয়ে আসে।

হিয়া নিজের ৫ মাসের ছোট ছেলে কে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে তো এসেছে কিন্তু কথা যাবে ভেবে না পেয়ে বাবার বাসায় যাওয়ার কথা চিন্তা করল।

আরে হিয়া, তুই আর তোর এই অবস্থা কেন

তোর গালে ওই টা কিসের দাগ..?

আম্মু ভিতরে আসতে দিবা না..?

আরে আয় আয় ভেতরে আয়

হিয়া ভেতরে ঢুকে সোফায় গাটা এলিয়ে দিল পাশে তার ছেলে হাবিব কে বসিয়ে দিল।

আম্মা হাবিব কে কিছু খেতে দেও ও সকাল থেকে কিছু খাইনি।

তোর জন্যও খাবার আনছি খেয়ে নে না আম্মু আমি ফ্রেশ হয়ে খাবো তুমি হাবিব কে খেতে দেও।

কি হয়েছে কিছু তো বল মায়ের মন চিন্তা তো হয়।

আম্মু আমি আর ওই বাসায় যাব না।

কিন্তু কেন..?

আম্মু আমি ক্লান্ত এখন কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না।

মেয়ে কিছু বলবে না বুজতে পেরে হামিদা বেগম আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।

হিয়া নিজের কক্ষে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পরে খেতে আসল।

খাওয়া দাওয়া শেষে ছেলের সাথে খেলা দুলা গল্প করে আসরের পড়ে, ছেলে কে নিয়ে হিয়া ঘুমাতে গেলো।

পশ্চিমা আকাশে তখন সূর্য হেলে পরেছে।

হিয়া ঘুম থেকে উঠে নামাজ শেষ করে, হামিদা বেগমের কাছে গেল।

হামিদা বেগম কে রান্না করতে দেখে হিয়া ও তার আম্মা কে সাহায্য করতে শুরু করল।

টিং যা হিয়ে দেখ তো তোর আব্বু আর ভাইয়া এসেছে মনে হয়।

হিয়া গিয়ে ঘেট খুলে দিল।

হিয়ার বাবা হাসান সাহেব হিয়া কে ঘেট খুলতে দেখে অবাক হলেন এই অসময়ে তার বাসায় আসার মতো তো তার মেয়ে না..? কিছু কি হলো তার মেয়ের..?

আব্বু কি ভাবছ বেতরে আসো..!

আরে হিয়া দেখি কেমন আছিস..? আমি ভালো আছি তোমার কি খবর..?

কাজ কেমন চলছে..?

আলহামদুলিল্লাহ!

তারা ২ ভাই বোন কথা বলতে বলতে সোফায় এসে বসল।

আম্মু পানি দেও

দাড়া আমি নিয়ে আসছি বলে হিয়া পানি আনতে গেল।

পানি এনে আবারও ভাইয়ের কাছে বসল হিয়া।

হিয়া তোর গালে ওই টা কিসের দাগ..?

চিন্তিত শুরে জিজ্ঞেস করল হোসেন।

হিয়া হোসেনের ৫ বছরের ছোট

মাইরের দাগ।

মানে কি বলছিস হিয়া ! সামান্য চিললিয়ে কথা টা বলল হোসেন!

তার চিললানো শুনে ছুটে আসলেন হামিদা বেগম আর হাসান সাহেব।

কি হয়েছে হোসেন তুমি চিললান দিলে কেন..?

আব্বু হিয়াকে কে মেরেছে..?

হোসেনের কথা শুনে হাসান সাহেব হিয়ার দিকে তাকালেন! আর সাথে সাথে আশ্চর্য হয়ে গেলেন তার ফুলের মত মেয়ের গায়ে এত বছর হওয়ার পর ও কখন হাত তুলেন নি তার গালে কে এই ভাবে মেয়ে দাগ বসিয়েছে.?

হামিদা বেগম তখন ভাল করে খেয়াল না করলেও এখন হিয়া গালে ৫ আঙ্গুলের ছাপ দেখতে পারছেন।

হিয়া মা হিয়া তোকে কে মেরেছে..? বল আমাকে বল তোর আম্মাকে বল..!

হিয়া নিঃশব্দে দারিয়ে রইল

আম্মু পিছু ঘুরেই হিয়া দেখতে পারল হাবিব উঠে গিয়েছে।

হাবিব কে সাথে নিয়ে সোফায় বসল।

তার পর নীরবতার ছেদ ঘটিয়ে হিয়া বলা শুরু করল।

অতীত : হাসান সাহেব আর হামিদা বেগম পালিয়ে বিয়ে করে। যার কারণে তাঁদের পরিবার থেকে তাদের মেনে নেইনি।

বিয়ে করে তারা ঢাকা চলে আসে।

হাসান সাহেব শিক্ষিত হওয়ার জন্য যে বিভিন্ন চাকরির খুজ করেন।

হঠাৎ একদিন তার ছোট বেলার বন্ধু করিম মিয়ার সাথে দেখা হয়। কয়েক বছর আগেই করিম নিয়ার সরকারি ইস্কুলে চাকরি হওয়ার জন্য ঢাকা চলে আসে।

আরে তুই এখানে..?

হাসান সাহেব তার সমস্যার কথা খুলে বললেন।

আরে আগে বলবি না। কাল থেকে তুই আমার

ইস্কুলে ছাত্র-ছাত্রী পড়াতে আসিস।

আজ হয় তো হাসান সাহেবের খুশির দিন, বাসায় গিয়ে সে শুন্তে পেল সে বাবা হতে চলেছে এই কথা শুনে আল্লাহ নামে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করল।

দিন, সপ্তাহ, মাস ঘুরতে না ঘুরতে তাদের কোল আলো করে জন্ম নেই হোসেন ।

তারা বেশ খুশি ছিল আল্লাহ খুশি হয়ে ছেলে সন্তান দিয়েছে । হোসেন হাসান সাহেবের জন্য খুশির কারণই ছিল না বরং তার বাসার জন্য আল্লাহর দেওয়া রহমত ছিল।

হোসেনের জন্মের কয়েক মাস পরে হাসান সাহেবের ব্যাংকে ভালো মানের বেতন নিয়ে চাকরির উফার আসে। হাসান সাহেব সেই দিন অঝরে নামাজে পাটিতে নিজের চোখে পানি জরিয়েছে।

এরপর তাদের পিছু ফিরে তাকাতে হয় নি,

তার কয়েক বছর পর আবার খবর হয় যে হামিদা গৌরববতী। ৫ বছরের হোসেন তখন বাড়ির নতুন সদস্যের আগমনের কথা কিছু না বুজতে পারলেও বাবা মাকে খুশি দেখে বেশ খুশি হয়ে ছিল।

তার পর দেখতে দেখতে জন্ম নেই হিয়া।

২ ভাই বোন এর বয়সের পার্থক্য ৫ বছরের হলেও ছোট থেকে হাসান হিয়া কে সম্মান করে কথা বলে, সম্মান দেয়।

তার পর আরো বছর যেতে থাকল দেখতে দেখতে কবে যে হিয়া ১৭ ঘরে পা দিল বুঝতে পারল না। সবে মাত্র হিয়ার ssc exam শেষ হলো, ট্রিং ট্রিং কলিং বেলের শব্দ শুনে হামিদা বেগম হিয়া কে ডেকে বললেন দেখ তো হিয়া কে এসেছে।

আরে আঙ্কেল, হাসান সাহেবের সাথে বেশ কয়েক বার করিম মিয়া কে তাদের বাসায় আসতে দেখেছে হিয়া কিন্তু আজকে করিম মিয়ার সাথে এক ছেলে আর তার মার বয়সী মহিলা এসেছে হিয়া কিছু বুজতে পারল না তবে কোন দিদা ছাড়াই তাদের বেতরে আসতে দিল।

আরে ভাই দেখি কেমন আছেন..?

আলহামদুলিল্লাহ! আপনার কেমন আছেন..?

আলহামদুলিল্লাহ!

তা হাসান কি বাসায় না..?

না! ভাইজান

কিন্তু এক্ষুনি চলে আসবে।

কি হয়েছে অই তো বললাম না চলে আসবে।

হাসান সাহেব গিয়ে করিম মিয়া কে জরিয়ে দরলেন।

কেমন আছেন ভাবি কেমন আছেন..?

জি ভাই ভালোই আছি...!

তা আজ কে কি মনে করে..?

কেন তোর বাসায় আসা জন্য কি এখন কারন খুজে তার পর আসতে হবে নাকি.?

না আমি সে কথা কখন বললাম..

আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে আস তার পর না হয় ঠান্ডা মাথাই কথা বলা যাবে।

কোন গুরুত্বপূর্ণ কথা হলে এখনই বল আমার কোন সমস্যা নেয়।

আরে না তুই যা আগে, গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়

হাসান সাহেব ফ্রেশ হওয়ার জন্য নিজের কক্ষে গেলেন, প্রায় ১৫ মিনিট পর ফিরে আসলেন।

হুম এখন বল কি বলতে এসেছিস..?

আমি চাই আমার ছেলে রাকিবের জন্য তোর মেয়ে কে নিতে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন