ফন্ট সাইজ:
থিম:
বুঝে না এই মন

পর্ব 1

লেখক: নুসরাত জাহান

#বুঝে_না_এই_মন!
#নুসরাত_জাহান
(০১)
(০১)

সময় তখন রাত ১২ টা।

ইরা আলিয়ার কথা মনে করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। আজ আলিয়ার জন্মদিন প্রায় একটা বছর হয়ে গেলো, আলিয়ার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। SSC পরিক্ষার পর আলিয়ার আব্বুর চাকরি ট্রান্সফার হওয়ায় আলিয়াদের অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়। এর পর থেকে আলিয়ার ফোনও বন্ধ।

আলিয়া মেয়েটা ইরার বেস্ট ফ্রেন্ড। পুরো ১০ বছর একসাথে থেকেছে। একদিন কথা না বলে ইরা থাকতে পারে না। কিন্তু ভাগ্যের যোড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে।

আজ আকাশটা মেঘলা হয়ে আছে। মনে হয় বৃষ্টি হবে। ইরা ব্যালকনিতে বসে আছে। ঠিক সেই সময় চৌধুরী বাড়ির গেটের সামনে একটা গাড়ি এসে থামলো। ইরা গাড়িটার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে। তখন গাড়ি থেকে নামলো খান বাড়ির ছোট ছেলে আদ্রিয়ান খান। আদ্রিয়ান গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। তখন আদ্রিয়ান বাড়ির ভেতর ডুকতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়। তা দেখে ইরা হেসে দেয়।

ইরা ব্যালকনি থেকে বেরিয়ে রাইয়ানকে ডাকছে,

– ভাইয়া! এই ভাইয়া! কোথায় তুমি? বাইরে গিয়ে দেখো, আদ্রিয়ানই ভাইয়া পড়ে গেছে ।

রাইয়ান দৌড়ে গিয়ে আদ্রিয়ানকে নিয়ে আসে। আদ্রিয়ানের এই অবস্থা দেখে সালমা চৌধুরী আর আইরিন চৌধুরী এগিয়ে এসে বলে, কিরে আদ্রিয়ানের এই অবস্থা হলো কীভাবে?

তখননাত ইরা বলে উঠে, বাড়ির গেটের সামনে পা পিছলে পড়ে গেছে।

সালমা চৌধুরী রাইয়ানকে বলে, রাইয়ান, তুই আদ্য়ানকে তোর ঘরে নিয়ে গিয়ে তোর একটা জামা পড়তে দে।

সঙ্গে সঙ্গে রাইয়ান আদ্রিয়ানকে তার ঘরে নিয়ে পরিস্কার করিয়ে আনে।
আদ্রিয়ান ডইংরুমে এসে রাইয়ানকে বলে,

– অভিনন্দন দোস্ত।

রাইয়ান আদ্রিয়ানের কথায় কিছুই বুঝেতে পারছে না। পাশ থেকে কাসেম চৌধুরী বলে,

– আদ্রিয়ান, কিছু কী হয়েছে?

– না আংকেল, আসলে আজকে আমাদের HSC পরিক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। রাইয়ান GPA 5 পেয়েছে, তাই বললাম।

আদ্রিয়ানের কথায় রাইয়ান এগিয়ে এসে বললো।

– এই, দেখ! আমার সাথে মজা করবি না।

আদ্রিয়ান রাইয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,

– দেখ, আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড। আর যাই হুক আমি তোকে কখনো মিথ্যা বলবো না। এইটা বিশ্বাস রাকতে পারিস।

পাশ থেকে কাসেম চৌধুরী ইরাকে উদ্দেশ্য বলে,

– ইরা, সামনের বার কিন্তু তোমাকেও ভালো করতে হবে।

কাসেম চৌধুরী সালমা চৌধুরীর এক ছেলে, এক মেয়ে। ইরা চৌধুরী আর রাইয়ান চৌধুরী।

ইরাদের জয়েন ফেমেলি। ইরার আব্বুরা দুই ভাই। ইরার আব্বু বড় আর চাচা করিম চৌধুরী ছোট।

করিম চৌধুরী আইরিন চৌধুরীর দুই মেয়ে, এক ছেলে। আয়রা চৌধুরী, হুমায়রা চৌধুরী আর তামিম চৌধুরী।

সবাই রাইয়ানের রেজাল্ট নিয়ে মজা করছে। তখন আইরিন চৌধুরী বলে,
–আজ যেহেতু একটা খুশির দিন, তাই আজকে আমি নিজের হাতে সবাইকে বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়াবো।

ইরা রুমে গিয়ে নিজে নিজে বিড়বিড় করছে, – ইস, ভাইয়া তো অনেক ভালো রেজাল্ট করছে। পরের বার তো আমার পালা। আমি যদি ভালো না করি, তবে আমার যে কী হবে?

দূপরের খাওয়া দাওয়ার পর আদ্রিয়ান নিজের বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দেয় বাড়িতে গিয়ে পৌঁছাতেই আলেম খান হুংকার দিয়ে বলে,

– কোথায় গেছিলে দুইবছর দেশের বাহিরে থেকে তোমার এখন ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে না।

– আব্বু আমি আসলে একটু রাইয়ানদের বাসায় গিয়েছিলাম।

পাশ থেকে ফাতেমা খান আদ্রিয়ানকে জিজ্ঞেস করে,

– বাবা, দুপুরে কিছু খেয়েছিস!

– হ্যা আম্মু খেয়েছি।

ইরা আদ্রিয়ানকে সেই দুই বছর আগে দেখেছিল। মানুষটা অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে আগে। আগে আদ্রিয়ান ইরার সাথে কতো মজা করতো। দেশে ফেরার পর থেকে আদ্রিয়ান ইরার সাথে একটা কথাও বলে নাই। তাই জেদি ইরাও আগবাড়িয়ে কথা বলতে যায়নি।

বিকেলে ইরা তার ছাদবাগানে গিয়েছে। প্রতিদিনের মতই ফুল ফুটেছে। ইরার পেছন পেছন আয়রা হুমায়রা আর তামিমও এসেছে। এতোক্ষণ নিচে তিন ভাই বোন খেল ছিলো। ইরাকে ছাদে আসতে দেখে ওরাও এসেছে।

ইরা ছোট ভাই-বোনদের সাথে মজা করছে। সেই সময় রাইয়ান এসেছে। রাইয়ান ইরাকে বকে ঘরে পাঠিয়ে দেয়। ইরা রুমে গিয়ে পড়তে বসে। কাল আবার কলেজ আছে।

পরের দিন ইরা কলেজ থেকে বাড়িতে এসে দেখে পুরো বাড়ি লোকজনকে ভরা। ইরা আয়রাকে জিজ্ঞেস করে,

– ওই বাড়িতে এতো লোকজন কেন? সবাই তো তোর মামাবাড়ির লোকজন।

– আপু, রাফা আপুর বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাই আমাদের সবাইকে নিতে এসেছে। আগামী সপ্তাহে বিয়ে হবে তাই আমাদের আগেই যেতে হবে, অনেক পগরাম আছে। আপু, তুমি গিয়ে রেডি হয়ে নাও। চাচি আম্মু রেডি হতে বলেছে।

ইরার মনে খুশির বন্যা বয়ে গেছে। এখন আর কয়েকদিন কলেজে যেতে হবে না।

নিচে আদ্রিয়ান খান নেওয়াজ খান সবাই এসেছে। শুধু ফাতেমা খান, রাফা আর রোকায়া খান আসে নাই। আদ্রিয়ান এক দিক দিয়ে রাইয়ানের ফেন্ড হলেও অন্য দিক দিয়ে আয়রা,হুমায়রা আর তামিমের মামাতো ভাই।

ইরা রেডি হয়ে ডইংরুমে আসে। ইরার পরনে নিল রংয়ের একটা গাউন, মাথায় হিজাব ঠটে হালকা লিপস্টিক। এতেই ইরাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।

ডইংরুমে আদ্রিয়ান বসে আছে। আদ্রিয়ানকে দেখে ইরার মনে আলাদা এক অনুভূতি কাজ করছে কিন্তু কেন? ইরা কী ছেলেটার উপর ক্রাশ খেয়েছে। এই ভাবছে ইরা। হঠাৎ মায়ের ডাকে হুঁশ ফিরে ইরার। ইরা গাড়িতে গিয়ে বসে পাশে বসেছে ইর। আদ্রিয়ান।

আদ্রিয়ানদের বাড়িতে অনেক সুন্দর একটা বাগান আছে। ওই বাড়িতে গিয়ে পৌঁছাতেই ইরা এতো সুন্দর বাগান দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। ইরা গিয়ে রাফাকে জরিয়ে ধরে। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায় ইরা। কিন্তু ইরার ঘুম পাচ্ছে না। তাই ঘরের মধ্যে পায়চারি করছে।পায়চারি করতে করতে ইরা নেওয়াজের ঘরের সামনে যায়।নেওয়াজ তখন তার প্রেয়সীর সাথে কথা বলছে।
ভেতর থেকে চেনা একটা আওয়াজ। একটা মেয়ের আওয়াজ। আওয়াজটা শুনে ইরার আলিয়ার কথা মনে পড়ে। গলার কন্ঠটা একবারে আলিয়ার কন্ঠের মতো। ইরা কী শুনতে ভুল করলো! হঠাৎ একটা ফুল দানিতে হাত লাগে। ফুল লানিটা ফ্লোরে পড়তেই মদ্র আওয়াজ। হয় ইরা ভয়ে দূর দেয়।

নেওয়াজ কে বলে বেড়িয়ে এসে দেখে কেউ নাই। শুধু একটা ফুল দানি পড়ে আছে। নেওয়াজ ভাবে মনে হয় এটা টমির কাজ। টমি আদ্রিয়ানের পোষা কুকুর খুব শখ করে কিনেছিল।

ইরা রুমে গিয়ে ভাবছে, এই মেয়েটা কী আলিয়া? কেন এতো আলিয়ার কথা মনে পড়ছে আমার?

পরের দিন ইরা সকাল আটটা বাজে ঘুম থেকে উঠছে। আজকে রাফার এঙ্গেজমেন্ট। রাফাকে পার্লারে নিয়ে গিয়ে সাজিয়ে আনা হয়। তার সাথে বাড়ির সবাই ঠিক করে তারাও পার্লারে সাজবে। ইরা খুব সাজতে পছন্দ করে, কিন্তু রাইয়ানের জন্য তেমন সাজতে পারে না।

রাফার এঙ্গেজমেন্টটা কমিউনিটি সেন্টারে অনেক বড় করে হবে। বাড়ির মেয়েরা সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত আর ছেলেরা তাদের তারা দিতেই আছে। ওই দিকে ছেলে পক্ষ চলে আসবে। ইরা শাড়ি পড়ছে। এই প্রথমবার ইরা শারি পড়েছে। তাই শাড়ি সামলাতে গিয়ে হিমশিমম খাচ্ছে।

সিঁরি দিয়ে নামতে গিয়ে ইরা হঠাৎ ব্যালেন্স হাড়িয়ে পড়ে যায়। পাশে আদ্রিয়ান ছিল। আদ্রিয়ানের সামনে পড়ে গিয়ে বেচারি কী লজ্জাটাই না পেলো। পাশ থেকে ইরফান এগিয়ে এসে ইরাকে হাত বাড়িয়ে দেয়, ইরার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।

ছেলে পক্ষও চলে এসেছে। এইদিকে স্টেজে সবাই নাচ গান করছে। রাফা ইরার হাত ধরে স্টেজে নিয়ে যায়। ওদের সাথে নাচ করতে বলে। ইরাও ওদের সাথে অংশ নেয়।

রাইয়ান ইরাকে নাচতে দেখে স্টেজে গিয়ে ইরাকে সবার সামনে একটা থাপ্পড় মারে। থাপ্পড়টা বেশ জোরে মারায় ইরার ফর্সা গাল লাল টুকটুক করছিল।

ইরার হাত ধরে টানতে টানতে ঘরে নিয়ে যায় রাইয়ান। ইরাকে ঘরের বাহিরে যেতে নিশেধ করে যায়।

ইরা রুমে গিয়ে কাঁদছে। ভাইয়ের উপর খুব অভিমান করেছে সে।

ইরা যে রুমে বসে কান্না করছিল, তখন সেই রুমের পাশ দিয়ে আদ্রিয়ান যাচ্ছিল। আদ্রিয়ান ইরাকে কাঁদতে দেখে বলে,

– ইরা, কান্না করছিস কেন?

– ভাইয়া বকেছে।

– আচ্ছা, এই ব্যাপার! চল, আমি রাইয়ানকে বলে দিবো আর বকবে না। এখন পেন্ডেলে চল।

– না, ভাইয়া রুমের বাহিরে যেতে মানা করছে।

– কেন মানা করছে? আমি রাইয়ানকে বলছি, একটা দিন মেয়েটাকে একটু আনন্দ করতে দিবে না।

আদ্রিয়ান রাইয়ানকে হচ্ছে মতো ঝেড়েছে। ইরা এখন সবার সাথে মজা করছে। সবাই যখন খেতে বসেছে, তখন বাহিরে একটা আওয়াজ। সবাই বলাবলি করছে, কেউ একজন এসেছে।

ইরার চাচি আম্মু কাকে যেন বলছে, নেওয়াজের হবু বউ এসেছে। ইরার মনে একটা কথা আসে,

– কে এই মেয়ে, যার জন্য সবাই এতো ব্যস্ত হয়ে গেছে?

ইরা খাওয়া শেষ করার আগেই মেয়েটা চলে গেছে, তাই ইরার মন খারাপ।

রাতে সব কাজিনরা এক সাথে ঘুমিয়েছে। সকালে মায়ের ডাকে ইরার ঘুম ভাঙে। সবাই ফ্রেশ হয়ে আসতেই নিচে খাবার জন্য ডাক পড়ে।

খাওয়ার পর সবাই এক সাথে গল্প করছে। রাফাকে মেহেদী পরানোর জন্য পার্লার থেকে লোক এসেছে। শুধু রাফা নয়, সবাই মেহেদী পড়বে। ইরা টুকটাক মেহেদী পড়াতে পারে, তাই ছোট বোনদের সেই পড়িয়ে দিচ্ছে।

ছোটদের শেষে বড়রা মেহেদী পড়ছে। রাতে সবাই গানের আড্ডা বসিয়েছে। দুপুরে সবাই বিরিয়ানি খেয়েছে।

সবাই যখন মজা করছে, তখন নেওয়াজের হবু বউ ফোন দেয়। তাই নেওয়াজ চলে যায়। এখন সব মেয়েরাই বসে আছে। পরের দিন আবার গায়ে হলুদ, তাই কালকে কী করবে, না করবে সব বলছে। রাত ১২টায় সবাই ঘুমিয়ে পড়ে।

পরের দিন সকাল ৮টা বাজে। রাফা সবাইকে খাবার জন্য ডাকতে আসে। খাওয়া-দাওয়ার পর আবার সবাই পার্লারে যাবে। ফ্রেশ হয়ে সবাই খেতে যায়। খান বাড়ির খাবার টেবিল মানেই আনন্দ।

সবাই খাবার খাচ্ছে আর মজা করছে, কিন্তু ইরা চুপচাপ খাচ্ছে, কোনো কথা নেই। সবার খাওয়া শেষ হলে সবাই পার্লারে যায়। রাফাকে লাল-হলুদ শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগছে। আর সবাই নীল-হলুদ শাড়ি পড়েছে। হালকা সাজ, উফ! সবাই শাড়ি পড়লেও ইরা পড়তে পারে না, লাল রঙের একটা গাউন পড়েছে।

আয়রা, হুমায়রা দুই বোনও শাড়ি পড়েছে। শুধু ইরা পড়লো না, বিষয়টা আর কারও চোখে না পড়লেও আদ্রিয়ানের চোখে পড়ে। আদ্রিয়ান তার খালাতো বোন জান্নাতকে ডেকে বলে,

– কিরে, তোরা সবাই শাড়ি পড়লি, কিন্তু ইরাকে বললি না? ওর জন্য কী শাড়ি আছে?

– হুম ভাইয়া, আছে।

– ওরে পড়তে বল।

আদ্রিয়ানের কথায় জান্নাত ইরাকে জোর করে শাড়ি পড়ায়। জান্নাত ইরফানকে সেই ছোট থেকে পছন্দ করে, কিন্তু আজ পর্যন্ত বলতে পারেনি।

দুপুরে খাওয়ার পর গায়ে হলুদের প্রস্তুতি শুরু হয়। ইরা রুমে বসে আছে। তখন আদ্রিয়ান ইরাকে ডাক দেয়,

– ইরা, একটু পর নেওয়াজের হবু বউ আসবে। তুই ওর সাথে থাকিস।

– তা তো বুঝলাম, কিন্তু আমি তার নামটাই জানি না।

– আলিয়া, ওর নাম আলিয়া। সম্পর্কে তোর ভাবি হয়।

– ভাইয়া, আরেকটা বার নামটা বলবে?

– আলিয়া। ছবি আছে, দেখবি?

– হুম, দেখাও।

আদ্রিয়ান ফোন থেকে ছবিটা বের করে ইরাকে দেখায়। ছবি দেখেই ইরা চিনতে পারে, এটা তার বান্ধবী আলিয়া।

ইরা রুমে বসে অপেক্ষা করছে, কখন আলিয়া আসবে আর তার জমানো সব রাগ ঝাড়বে।

কিছুক্ষণ পর আদ্রিয়ান ইরাকে এসে বলে, আলিয়া এসেছে, সোফায় বসে আছে। ইরা তাড়াতাড়ি করে নিচে যায়। গিয়ে সবার আগে আলিয়ার চোখে পড়ে। আলিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগে ইরা বলে উঠে,

– বলো, কে আমি?

আলিয়া ইরাকে চিনে ফেলে ইরাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

– ইরা, তাই না?

– হুম, আমাকে ভুলে গেছিস পাখি?

– না, আমি তোকে ভুলে যাবো ভাবলি কীভাবে? তুই আমার অন্তরের সেই মানুষ, যাকে ভোলা অসম্ভব।

– তাহলে এতোদিন আমাকে একটা ফোনও দিলি না?

– আমার ফোন চুরি হয়ে গেছিল, তাই যোগাযোগ করতে পারি নাই। আচ্ছা, এই সব এখন বাদ দে। তোর নাম্বার দে, সব দে।

তারপর ইরা আলিয়াকে তার নাম্বার দেয়। এতোক্ষণ দূর থেকে রাফা সব দেখছিল। অনেক সময় চুপ করে থেকে আর থাকতে পারে না, শেষ পর্যন্ত গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

– ইরা, আলিয়াকে কী তুমি আগে থেকে চিনতে?

– আপু, শুধু চিনতাম বললে ভুল হবে। আলিয়া আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওর আব্বুর চাকরির জন্য আমরা আলাদা হয়ে যাই। দীর্ঘ ১ বছর পর আমরা আবার এক হলাম।

ইরার কথা শেষ করতে না দিয়ে আলিয়া বলে,

– আপু, ইরাকে আমি অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। কিন্তু আজ আমি ওরে পাইছি আর হারাতে দিবো না।

আচ্ছা, তোমরা থাকো। আমি এখন যাই।
আলিয়াকে পেয়ে আগের সব জমানো কথা বলতে থাকে আর আলিয়া তা মন দিয়ে শুনছে। ইরা আলিয়াকে হঠাৎ বলে,

– কিরে, তুই না সব সময় বলতি, তুই আমার পরে বিয়ে করবি? এখন তো দেখি আমার আগে বিয়ে করে বসে আছিস!

– এখনো বিয়ে হয় নাই, হবে।

– জানি জানি। তা আমার ভুলা-ভালা ভাইটাকে কীভাবে পটালি?

– এই দেখ, তোর ভাইয়াই আমাকে পটিয়েছে। বুঝলি? আর বিয়ে এখন হবে না, তোর বিয়ের পরই করবো।

– আচ্ছা, সেটা দেখা যাবে। কে আগে বিয়ে করে।

দুই বান্ধবীর কথার মাঝে নেওয়াজ এসে হাজির। নেওয়াজকে দেখা মাত্রই ইরা বলে,

– কী গো দুলাভাই, এখানে যে তোমার শালি আর বউ আছে, চোখে পড়ে না?

– দেখ ইরা, মজা করবি না।

– আরে আরে, শুনো! আমার বান্ধবীকে বিয়ে করলে তুমি তো আমার দুলাভাই হবে, নাকি?

ইরার কথায় নেওয়াজ কিছুই বুঝতে পারছে না। সহসা ইরাকে প্রশ্ন করে,

– আলিয়া তোর বান্ধবী হয় কীভাবে? আমার বউটাকে পটিয়ে ফেললি?

– আমি কেন তোমার বউকে পটাতে যাবো? আগে তুমি বল, আমার বান্ধবীকে পটালে কীভাবে?

এর বউ, এর বান্ধবী করতে করতে দুইজন প্রায় ঝগড়া করে শুরু করে দেয়। ওদের ঝগড়া দেখে আলিয়া বলে,

– এইবার থামো। আমি বলছি, নেওয়াজ, তোমার সাথে আমার পরিচয় ১ বছরের আর ইরার সাথে ১১ বছরের। এখন তোমরাই বলো, কে কাকে পটিয়েছে?

আলিয়ার কথা শুনে নেওয়াজ অবাক হয়ে দুইজনের দিকে তাকিয়ে আছে। এতোক্ষণের সব তর্কাতর্কি থেমে যায়।

নেওয়াজ আলিয়ার সাথে কথা বলছে। আলিয়া আর নেওয়াজের কথার মাঝে ইরা থাকতে চায় না, তাই উঠে চলে যেতে ধরে। তখন আলিয়া ইরাকে আটকে দিয়ে বলে,

– এই, কোথায় যাস? আমাকেও নিয়ে যা।

– আলিয়া, তুই ভাইয়ার সাথে কথা বল। আমি না হয় পরে আসবো।

– ঠিক আছে, তুই রুমে গিয়ে বস। আমি আসছি।

আলিয়ার কথা মতো ইরা রুমে গিয়ে বসে। আলিয়া রুমে এসে বসার পর জান্নাত আসে আলিয়াকে শাড়ি দিতে। আলিয়াকে শাড়ি দিয়ে জান্নাত চলে যায়। কিন্তু আলিয়া শাড়ি পড়তে পারে না। তাই বসে আছে।
আলিয়া শাড়ি পড়ছে না দেখে ইরা বলে,

– আলিয়া, তাড়াতাড়ি শাড়ি পড়ে নে। এখন তো পেন্ডেলে যেতে হবে।

– দোস্ত, আমি তো শাড়ি পড়তে পারি না। কী করবো?

আলিয়ার কথা শুনে ইরা খিক করে হেসে উঠে বলে,

– আগে বলবি তো! আমি পারি। আয়, তোকে পড়িয়ে দেই।

তারপর ইরা আলিয়াকে শাড়ি পড়িয়ে দেয়। দুই বান্ধবী সেজেগুজে পেন্ডেলে গিয়ে হাজির হয়। দুইজনকে মাশাআল্লাহ অনেক বেশি সুন্দর লাগছিলো।

আয়রা, হুমায়রা আর তামিম ইরার কাছে গিয়ে বলে,

– আপু, এটা আলিয়া আপু না?

তিন ভাই-বোনের কথায় ইরা একটু হেসে বলে,

– হুম, এটা তোদের আলিয়া আপু।

আয়রা ইরাকে বলে,

– আপু, তোমাদের বন্ধুত্ব যেন সারা জীবন টিকে থাকে।

এই বলে তিনজন চলে যায়।

~চলমান ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন