ফন্ট সাইজ:
থিম:
Cry EvennBetter IfbYou Beg

৫৭তম পর্ব

লেখক: (সিজন ১)

#Cry_Even_Better_If_You_Beg

#Translator_by_গল্প

#পর্বঃ৫৭

⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌

Chapter 57

ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে দৌড়ে চলেছিল Leyla—তার চোখ উন্মত্তের মতো এক ডাল থেকে আরেক ডালে ছুটে বেড়াচ্ছিল। ঘন পাতার আড়াল ভেদ করে সূর্যের ক্ষীণ আলো মাত্র কয়েকটি রশ্মির মতো ঢুকে পড়ছিল, তবু সেই সামান্য আলোতেই সে চেষ্টা করছিল বুঝতে—তার প্রিয় পাখিটি আদৌ নিরাপদ আছে কি না।

বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডের প্রচণ্ড ধাক্কা সে স্পষ্ট অনুভব করছিল, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছিল যতক্ষণে সে তার হারিয়ে যাওয়া পাখিটিকে খুঁজে পাওয়ার আশায় আরও উন্মত্ত হয়ে উঠছিল। দৌড়ের তালে তালে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগপত্র ঝনঝন করে শব্দ তুলছিল। নিস্তব্ধ বনভূমিতে একমাত্র অশান্তির উৎস ছিল সে-ই।

এই মুহূর্তে সে প্রায় হাঁপিয়ে উঠেছিল। বাতাস ঠান্ডা হলেও পরিবেশ ছিল ভীষণ আর্দ্র—যেন শরৎকাল তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, আর শীত খুব শিগগিরই এসে পড়বে তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঠান্ডা তার হাড়ে হাড়ে ঢুকে পড়ছিল, শরীর শক্ত হয়ে আসছিল, শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল স্বাভাবিকের চেয়েও দ্রুত।

তবু সে থামতে পারছিল না—থামার উপায় ছিল না। কারণ বনভূমির ভেতর থেকে ভেসে আসা একের পর এক বন্দুকের গুলির শব্দ শুধু একটাই কথা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল—Phoebe-কে সে এখনও খুঁজে পায়নি।

প্রতিটি গুলির শব্দের সঙ্গে সঙ্গেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল Phoebe-র রক্তাক্ত কোনো না কোনো ছবি। প্রতিটা আগেরটার চেয়েও ভয়াবহ, ধীরে ধীরে তার মানসিক স্থিরতা ভেঙে দিচ্ছিল।

‘যদি ওকে আগেই গুলি করা হয়ে থাকে? যদি আমি খুব দেরি করে ফেলি?’

ভাবনাটা তার বুকে তীব্র ব্যথা হয়ে বিঁধে গেল।

ভাবা যেত, প্রতিটা পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে সে হয়তো আরও নিশ্চিত হবে যে তার পাখিটি বেঁচে আছে—কিন্তু বাস্তবে ঠিক উল্টোটা হচ্ছিল। ক্লান্তি তার জয়েন্টে জয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ছিল, পা টলমল করে উঠছিল, ফুসফুসে বাতাস ফুরিয়ে আসছিল। বারুদের হালকা গন্ধ তার নাকে এসে লাগছিল, ধোঁয়াটে সেই গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল, আর সে গভীর গভীর শ্বাস টানছিল।

Matthias তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—সে Phoebe-কে স্পর্শ করবে না, পাখিটিকে গুলি করবে না। আর সে বোকার মতো তার কথাটাই বিশ্বাস করে নিয়েছিল। এখন পিছনে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, হয়তো সেই প্রতিশ্রুতি শুধু তাকে শান্ত রাখার জন্যই দেওয়া হয়েছিল। এখন তার কল্পনায় ভেসে উঠছিল—Matthias বন্দুক তাক করে নিরীহ পাখিদের দিকে গুলি চালাচ্ছে, Phoebe-সহ, কেবলমাত্র তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।

‘আমি কীভাবে ওকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করলাম?!’

সে নিজের ওপর অবিশ্বাসে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাবছিল, দৌড় থামাচ্ছিল না—

‘ওর কাছে ওই প্রতিশ্রুতির কোনো মানেই ছিল না। এত তুচ্ছ কিছু ভেবেই হয়তো সে গুরুত্বই দেয়নি!’

নিজেকেই সে দোষ দিচ্ছিল—একজন নিষ্ঠুর মানুষ জেনেও কীভাবে সে এমন নির্বোধের মতো তার ওপর ভরসা করেছিল।

বনের গাছপালার শেষ প্রান্তে এসে, Schulter নদীর পাশের রাস্তায় পৌঁছতেই তার চোখে জল এসে পড়ার উপক্রম হলো। যদি সে তার প্রিয় পাখিটিকে খুঁজে না পায়, তবে সে সরাসরি Duke-এর কাছে যাবে—Phoebe-র ভাগ্যের উত্তর আদায় করে নেবে।

সে তাকে সাক্ষাৎ দিতে রাজি হোক বা না হোক, তাতে তার কিছু যায় আসে না। প্রয়োজনে হাঁটু গেড়ে দয়া ভিক্ষা করতেও সে প্রস্তুত ছিল।

শ্বাস নিতে থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই শরতের হালকা বাতাস তার পাশ দিয়ে বয়ে গেল। আকাশটা ছিল ফ্যাকাশে নীল আলোয় রাঙানো। Leyla চোখ বন্ধ করে সেই বাতাসটাকে নিজের ভেতর টেনে নিল, অলৌকিক কিছুর জন্য প্রার্থনা করল। তারপর আবার চোখ খুলে চারপাশে একবার শেষবারের মতো তাকাতেই—সে তাকে দেখতে পেল।

সে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল…

ঠিক সেখানেই—বনের পথের অন্য পাশে। নিজের ঘোড়ার পিঠে বসে, আত্মবিশ্বাসে ভরা, একেবারেই নির্লিপ্ত—চারপাশে তার সহচর আর সঙ্গীরা।

Leyla যখন তাকে ডাকতে চাইল, তখনই সে বুঝতে পারল—তার গলা থেকে শব্দ বেরোচ্ছে না। সে চেষ্টা করেছিল, সত্যিই ডাকতে চেয়েছিল তাকে—কিন্তু ফুসফুসে আর বাতাস ছিল না, শব্দ গলায় আটকে গিয়েছিল। এতক্ষণ ধরে দৌড়ানোর পর অবশেষে ক্লান্তি তাকে গ্রাস করছিল, আগের সেই অ্যাড্রেনালিনকে গ্রাস করে নিচ্ছিল।

একটা গভীর শ্বাস নিয়ে, পা দুটোকে শেষ সীমার বাইরে ঠেলে দিয়ে সে আবার দৌড়াতে শুরু করল—ঘোড়ায় চড়া অভিজাতদের দিকে। ঠিক তখনই সে দেখতে পেল, তাদের একজন বন্দুক তাক করেছে একটা ডালের দিকে।

এক মুহূর্তের মধ্যেই সে চিনে ফেলল—

Duke Herhardt…

বন্দুকের নল থেকে চোখ সরিয়ে সে তাকাল লক্ষ্যবস্তুর দিকে—আর ভয়ে তার নিঃশ্বাস আটকে গেল, হৃদস্পন্দন থমকে গেল।

Phoebe!

সে গতি বাড়াল, তাকে থামানোর চেষ্টা করল। পা দুটো প্রতিবাদে চিৎকার করছিল। চিৎকার করতে চেয়েছিল সে—কিন্তু গলা দিয়ে বেরোল শুধু দমবন্ধ করা একটা হাঁপানির শব্দ। আর ঠিক তখনই নিস্তব্ধ বন কাঁপিয়ে উঠল এক বিকট গুলির আওয়াজে।

BANG!

Matthias-এর বন্দুকের মুখ ধোঁয়ায় ঢেকে গেল, ট্রিগার ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই। আর Phoebe আর ডালের ওপর বসে রইল না।

সময় যেন সেই মুহূর্তে থমকে গেল—যতক্ষণ না Matthias নড়ে উঠল।

ধীরে ধীরে সে তার লম্বা রুপালি রাইফেল নামাল। সূর্যের আলো বন্দুকের গায়ে লেগে ঝিলমিল করে উঠল, সেই ঝিলিক বাতাসে প্রতিফলিত হয়ে বনের ভেতর ছড়িয়ে পড়ল। Meanwhile, Riette আর বাকি অভিজাতরা বিস্ময় আর আমোদ—দুটোরই মিশ্র অভিব্যক্তি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

“বাহ, সত্যিই অবাক করেছো, Matthias,” Riette হেসে বলল। “এই শটটার কী হলো বল তো?”—ঠাট্টার সুরে যোগ করল সে। অন্যরাও সঙ্গে সঙ্গে যোগ দিল।

“বিশ্বাসই হচ্ছে না—Duke Herhardt মিস করেছে!”

“আজ সত্যিই মজার কিছু দেখলাম।”

“সবকিছুরই তো প্রথমবার থাকে!”

হালকা হাসি আর ঠাট্টায় ভরে উঠল পরিবেশ।

যদিও Matthias গুলি চালিয়েছিল, সেটি শুধু সেই ডালের একেবারে মাথাটা ছুঁয়ে গিয়েছিল—যেখানে পায়রা বসেছিল। কাঠের একটা টুকরো ভেঙে নিচে পড়তেই পাখিটি ডানা ঝাপটে উড়ে গেল—শিকারিদের দল থেকে অনেক দূরে।

সব ঠাট্টা সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করল, ঠোঁটে একটা আত্মজ্ঞানী হাসি নিয়ে। তার তীক্ষ্ণ চোখ অনুসরণ করছিল পাখিটির গতিপথ—পূর্ব দিকের এস্টেট উইং-এর দিকে।

“ও এখানে কেন?” Riette হঠাৎ বলে উঠল, দূরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর দিকে নজর পড়তেই।

Matthias ধীরে ঘুরে তাকাল, তার কাজিনের দৃষ্টিপথ অনুসরণ করে। তাকে দেখেই ঠোঁটের কোণে অতি সামান্য হাসি ফুটে উঠল—সে জানত, এখন সে-ই তার দৃষ্টির কেন্দ্র।

“Le–Leyla!” কয়েকজন চাকর বিস্ময়ে চেঁচিয়ে উঠল।

সব গোলমালের মাঝেও Leyla স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল—মুগ্ধ দৃষ্টিতে Matthias-এর দিকে তাকিয়ে, যেন আশেপাশে আর কেউ নেই।

“Leyla!” এক চাকর তার হাত ধরে টানতেই সে যেন বাস্তবে ফিরে এল। “আজ বাইরে থাকা ভীষণ বিপজ্জনক! Mr. Remmer কি তোমাকে বলেনি? Duke আজ শিকারে বেরোবেন—আমি তাকে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলাম!”

“আমি—”

Leyla ঢোক গিলল, একবার Duke-এর চোখের দিকে তাকিয়ে আবার লোকটির দিকে ফিরল।

“উনি আমাকে বলেছিলেন… কিন্তু হয়তো তারিখটা গুলিয়ে ফেলেছি,” সে ক্ষমা চাইল। “আমি সত্যিই দুঃখিত।”

ধীরে মাথা নত করল সে, বুকের ওপর হাত রেখে। এখনও হৃদস্পন্দনের প্রচণ্ডতা অনুভব করছিল, চোখ নামিয়ে রাখল নিজের পায়ের দিকে।

আরও কিছুক্ষণ বকাঝকার পর চাকররা নিজেদের কাজে ফিরে গেল, তাকে একা রেখে। Meanwhile, Matthias যেন এই ছোটখাটো বিশৃঙ্খলার অনেক ঊর্ধ্বে। সে ঘোড়ার লাগাম টানল, পশ্চিম দিকের এস্টেট উইং-এর দিকে এগিয়ে গেল—যেদিকে সে জানত Phoebe উড়ে যায়নি।

Leyla-র চোখে আবার জল এসে জমল, কিন্তু পড়ে গেল না—শুধু চোখদুটো ঝকঝক করে উঠল। বিস্ময়ের ভার তার পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না।

Duke-এর নিশানার সঙ্গে সে অপরিচিত ছিল না।

এত বছর ধরে সে নিজ চোখে অসংখ্য নিখুঁত শট দেখেছে—তার ভঙ্গি, মনোযোগ, দক্ষতা—সবই তার চেনা।

এটা কোনো ভুল শট ছিল না।

আজ সে ইচ্ছে করেই ডালে গুলি চালিয়েছিল—পাখিটিকে ভয় দেখিয়ে দূরে পাঠানোর জন্য, যাতে আর কেউ তাকে লক্ষ্য করতে না পারে। আর এখন Phoebe নিরাপদ—রুপালি বন্দুক আর বুলেটের অনেক বাইরে।

চলে যাওয়ার সময়, Matthias নিখুঁত ভঙ্গিতে মাথা একটু উঁচু করল। দূরত্ব সত্ত্বেও তাদের চোখ মিলল। বাঁকানো সবুজ পথ ধরে এগিয়ে যেতে যেতে—Leyla অজান্তেই বুঝে গেল, Duke জানে—সে তাকিয়ে আছে।

শিকারের দলটি তার দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যেতেই Leyla তার স্কার্ট একটু তুলে ধরল, তারপর ঘুরে সেই দীর্ঘ পথ ধরে ফিরে যেতে লাগল—যেদিক দিয়ে সে এসেছিল।

ঠিক তখনই তার শেষ শক্তিটুকুও যেন তাকে ছেড়ে চলে গেল। সম্পূর্ণ ক্লান্তি শরীর জুড়ে বসে গেল, আর সে নিজেকে ঢিলে ছেড়ে দিল। তার মনে হচ্ছিল সে যেন ওজনহীন—একটা প্রেতাত্মার মতো উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে, যদিও সে খুব ভালো করেই জানত সে কোথায় যাচ্ছে। এই অনুভূতিটা তাকে আরেকটা অতীতের মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দিল—যখন সে ঠিক এমনই ওজনহীন অনুভব করেছিল।

পুরোনো দিনের কিছু বিচ্ছিন্ন স্মৃতি ঝলক দিয়ে তার মনে ভেসে উঠল, কিন্তু সে সেগুলো নিয়ে আর ভাবল না। তবু সে নিজেই অবাক হচ্ছিল—তখনকার এত কিছু সে কীভাবে এত স্পষ্ট মনে রাখতে পারছে।

কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটা শক্ত করে ধরে এবার সে ধীরে ধীরে বনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে লাগল। আর তাড়াহুড়োর কোনো দরকার ছিল না। তার সব দুশ্চিন্তা এখন শান্ত হয়ে গেছে। অবশেষে যখন সে তার কেবিনে পৌঁছাল, তখন তার মাথা হালকা ঘুরছিল, চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসছিল। বিছানা পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো শক্তিও তার আর ছিল না—শেষ শক্তিটুকু দিয়ে সে বারান্দার পাশে রাখা চেয়ারটায় প্রায় ঢলে পড়ল।

Matthias তার প্রতিশ্রুতি রেখেছিল।

বিশেষ করে—তার কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি।

আর এটাও—এই বিষয়টাতেও সে একটুও সন্দিহান ছিল না।

টাপ। টাপ। টাপ।

নিস্তব্ধ ঘরের ভেতর শব্দটা প্রতিধ্বনিত হলো। লণ্ঠনের আলোয় নিজের লেখার টেবিলের সামনে বসে থাকা Leyla পরিচিত সেই শব্দে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে সে সামনের জানালার দিকে ছুটে গেল। উচ্ছ্বাসে ভরা হাসি নিয়ে জানালাটা খুলে ফেলল—

“Phoebe!”

সে চিৎকার করে উঠল—কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তার হাসি জমে গেল।

জানালার বাইরে Duke-কে দেখে Leyla তৎক্ষণাৎ নিজের মুখ চেপে ধরল, আতঙ্কে চিৎকারটা গলা পর্যন্তই আটকে গেল। সে সাবধান ছিল Uncle Bill-এর ব্যাপারে—যিনি ঠিক বাইরে উঠোনে দাঁড়িয়ে কাঠ কাটছিলেন। যদি তিনি ভয়ের সেই চিৎকার শুনতেন, সঙ্গে সঙ্গে সব কাজ ফেলে ছুটে আসতেন। আর Leyla সেটা চাইছিল না।

তাড়াহুড়ো করে সে নিজের শোবার ঘরের দরজাটা তালা দিল, তারপর আবার খোলা জানালার দিকে ফিরে এল।

Matthias তখনও তার শিকারের পোশাকেই ছিল। সারাদিনের ধুলো-ময়লা আর ক্লান্তি তার দামী পোশাকে লেগে ছিল, আর তার গায়ে লেগে ছিল রক্তের হালকা গন্ধ। তার হাতার কাছে আর লাল শিকারি জ্যাকেটের সামনের দিকে ছোট ছোট রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

“তোমার পায়রাটা ওখানে।”

Matthias হালকা করে মাথা তুলে জানালার ফ্রেমের অন্য পাশে ইশারা করল—যেখানে Phoebe, তার প্রিয় পাখিটি, শান্তভাবে বসে ছিল।

পাখিটাকে দেখে Leyla স্বস্তির কান্নাটা কোনোরকমে আটকে রাখল। তারপর আবার সে জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা Duke-এর দিকে তাকাল।

তার পেছনে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে থাকা তার অভিজাত ঘোড়াটা তাকে আরও ভয়ংকর করে তুলছিল। তবে কমলা রঙের নরম সূর্যাস্ত আর ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসা আকাশের পটভূমিতে তাকে একই সঙ্গে আরও আকর্ষণীয়ও লাগছিল—তার চোখের রঙ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। Leyla নিজের অজান্তেই তার অবয়বে একটু মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।

“ভেবে দেখেছ?”

Matthias হঠাৎ তার চিন্তার সুতো ছিঁড়ে দিল।

“এই উপকারটার প্রতিদান কীভাবে দেবে?”

সে আবার Phoebe-এর দিকে ইশারা করল, আর তার দৃষ্টি Leyla-এর চোখে আটকে রইল—একটি নিখুঁত ভ্রু প্রশ্নের ভঙ্গিতে উঁচু হয়ে উঠল।

Leyla নার্ভাসভাবে ঢোক গিলল। এক মুহূর্তের জন্য তার চোখ পাখিটার দিকে গেল, তারপর আবার Matthias-এর দিকে ফিরল।

“আমি… আমি মনে করি না এটা কোনো উপকারের মধ্যে পড়ে,” সে আস্তে বলতে শুরু করল, তারপর একটু সাহস সঞ্চয় করে যোগ করল,

“শেষ পর্যন্ত আপনি তো শুধু আপনার কথা রেখেছেন।”

উদ্বিগ্ন কণ্ঠে কথাটা বললেও Matthias কেবল একরকম আত্মতৃপ্ত হাসি হাসল। সেই হাসিতে Leyla অনিচ্ছায় কয়েক পা পিছিয়ে গেল।

“তবু আমি কৃতজ্ঞ,”

সে নিচু স্বরে যোগ করল, দৃষ্টি নামিয়ে।

“কৃতজ্ঞ, বলছ?”

সে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল।

“আর কৃতজ্ঞতা দিয়ে আমি কী করব?”

“ও–ওয়েল,” Leyla একটু জড়িয়ে গেল,

“আমার মনে হয় এর মানে হলো—আপনি একজন সম্মানিত ভদ্রলোক, যিনি নিজের কথা রাখেন।”

“ওহ?”

সে হালকা ঠাট্টার সুরে হাসল।

“তাহলে কি তুমি আগের কথাগুলো ফিরিয়ে নিচ্ছ?”

Matthias মাথা কাত করল, ঠোঁটের সেই স্মির্ক একটুও নড়ল না।

Leyla বিভ্রান্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলল। কোন কথা?

“যতদূর মনে পড়ে, তুমি আমায় ভদ্রলোকের ঠিক বিপরীত কিছু বলেছিলে,”

Matthias জানালার ফ্রেমে হেলান দিয়ে বলল, তার বিভ্রান্তি দেখে।

স্মৃতিটা ফিরে আসতেই Leyla লজ্জায় লাল হয়ে গেল।

“আমি—আমায় ক্ষমা করুন,”

সে তাড়াতাড়ি বলে উঠল।

“আমি তখন খুবই অবিবেচক ছিলাম!”

আরও নিচু করে মাথা নত করল সে। তার মনে হচ্ছিল—সে যেন নিজের কবর নিজেই আরও গভীর করে খুঁড়ছে। কিন্তু এখন আর কিছু করার ছিল না—যা করা যায়, তা শুধু ক্ষতি সামাল দেওয়া।

“আগে আমি ভদ্রলোক, তারপর নই, এখন আবার হয়ে গেলাম,”

Matthias গুনগুন করল, ভ্রু তুলে তাকাল।

“তাহলে আসলে কোনটা?”

“আ–আপনি একজন ভদ্রলোক,”

Leyla কাঁপা কণ্ঠে বলল।

সে তখন চিন্তায় ঠোঁট চেপে ধরল, ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল—চোখ বুলিয়ে নিল তাকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত।

“তাহলে কি তুমি রানী?”

Matthias ব্যঙ্গ করে জিজ্ঞেস করল।

Leyla হতভম্ব হয়ে চোখ পিটপিট করল। ভ্রু কুঁচকে গেল—এই কথোপকথনটা কীভাবে এখানে এসে পৌঁছাল, সে বোঝার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই নদীর ধারে চিৎকার করে বলা নিজের সেই কথাটা তার মনে পড়ে গেল—

“আপনি যদি ভদ্রলোক হন, তবে আমি রানী!”

তখন সে কথাটা বলেছিল ব্যঙ্গ করে। কিন্তু এখন নিজের কথাই তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। Leyla জোরে অস্বীকার করতে চেয়েছিল—কিন্তু তার ঠোঁটে খেলা করা সেই জেনে-শুনে দেওয়া হাসিটা দেখে বুঝে গেল, স্মৃতির লজ্জায় তার মুখ ইতিমধ্যেই আগুনের মতো লাল হয়ে গেছে।

অবশ্যই, যদি সে সেদিন তার করা কয়েকটা হালকা মন্তব্য এড়িয়ে যেতে পারত, তাহলে হয়তো এসব কিছুই ঘটত না। কিন্তু কোনো এক কারণে, তখন Leyla তার রাগ সংযত করতে ব্যর্থ হয়েছিল—বিশেষ করে তার সামনে। অন্যদের ক্ষেত্রে সে অনায়াসেই ভদ্র, নম্র মেয়েটার অভিনয়টা করে নিতে পারত। কিন্তু Duke-এর বেলায় যেন তার ভেতরের কিছু একেবারে উল্টো পথে চলত। তার আশেপাশে নিজের শান্তভাব ধরে রাখাটাই ছিল এক ধরনের সংগ্রাম।

“সেদিনের জন্য আমি দুঃখিত,”

Leyla বলল।

“আর আপনি যে আপনার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সত্যিই।”

সে ক্ষমা চাইল বটে, কিন্তু তার ভঙ্গির দ্বিধা অনেক কিছুই বলে দিচ্ছিল। আবারও তাদের মাঝে নেমে এলো নীরবতা—Bill Remmer-এর কুঠারের শব্দই শুধু সেই শূন্যতা ভরাট করছিল।

Matthias শান্তভাবে তার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর কৃত্রিম এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“আহ, তোমাকে নিয়ে আমি কী করব, Leyla?”

হঠাৎ তার হাত এগিয়ে এসে Leyla-র থুতনি চেপে ধরল, তাকে জোর করে উপরের দিকে তাকাতে বাধ্য করল।

জিভে একটা শব্দ করে Matthias তাকে নিজের দিকে টেনে নিল।

“তোমার পাখিটাকে বাঁচানোর পর আমার কৃতজ্ঞতার দরকার নেই।”

মনে হলো যেন ঠান্ডা পানির বালতি ঢেলে দেওয়া হয়েছে তার ওপর। Leyla তার হাত ঝেড়ে ফেলতে চাইল, কিন্তু সে ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। Matthias দ্রুত ও শক্তিশালী ছিল—এক মুহূর্তের মধ্যেই তার চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে গেল, যখন সে Leyla-র চশমাটা টেনে খুলে নিল…

সে তাকে চুমু খেয়েছিল।

Leyla নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু খুব দেরিতে সে বুঝতে পারল—তার অন্য হাতটা ইতিমধ্যেই তার মাথার পেছনে চলে গেছে, একমুঠো চুল চেপে ধরেছে। হালকা টানে তার মাথা পেছনে যেতেই তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হলো।

Leyla ব্যথায় হাঁপিয়ে উঠল—আর ঠিক সেই সুযোগটাই Matthias নিল। তার উষ্ণ জিভ তার মুখের ভেতরে ঢুকে পড়ল।

তার জিভ ক্ষুধার্তভাবে তার মুখে ছুটে বেড়াল, তারপর ধীরে ধীরে তার জিভের সঙ্গে জড়িয়ে গেল। সেই অনুভূতিতে Leyla নিজের অজান্তেই একটা শব্দ করে ফেলল। পেছনে এখনো ক্ষীণভাবে শোনা যাচ্ছিল Bill Remmer-এর কাঠ চেরা শব্দ আর তার পরিশ্রমের হাঁপানি।

Leyla-র হাত জানালার ধারে থেকে সরে এসে Matthias-এর কাঁধে উঠল, তাকে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তাতে বরং চুমুটাই আরও গভীর হয়ে উঠল।

এই চুমুটা তার মনে থাকা গত গ্রীষ্মের শেষ দিনের চুমুটার মতো ছিল না—যেটা তার হৃদয়ে গভীর ক্ষত রেখে গিয়েছিল। তখনকার সেই হিংস্র, গ্রাসকারী চুমুর বদলে এটা ছিল দৃঢ়, কিন্তু তুলনামূলকভাবে কোমল; দাবিদার, কিন্তু তার ঠোঁটের ওপর অনেক বেশি সূক্ষ্ম।

কিছুক্ষণ পর তার চুলের ওপর থেকে Matthias-এর চাপ আলগা হলো, আর সে নিজেকে তার কবল থেকে ছাড়াতে পারল। বাতাসের জন্য হাঁপাতে হাঁপাতে Leyla তার শরীরের গন্ধ টের পেল—শিকারের রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা তার মিন্টের সুগন্ধ।

সে প্রতিবাদী ভঙ্গিতে ঠোঁট কামড়াল, কিন্তু Matthias তখনও তার থুতনি শক্ত করে ধরে রেখেছিল—এখনো ছাড়েনি।

“শুধু একটা চুমু?”

সে মৃদু, কামনাময় স্বরে ফিসফিস করে বলল।

“তোমার এত প্রিয় পাখিটার জীবনের দাম কি শুধু এটুকুই?”

তার কানে সেই প্রলুব্ধকারী, চাপ সৃষ্টিকারী স্বরটা এসে লাগল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তার তখন না ছিল সময়, না ছিল মানসিক শক্তি—নিজের আতঙ্কের বাইরে কিছু ভাবার। সে শুধু অনুভব করছিল, কীভাবে তার শরীর জমে গেছে, মুখ লাল হয়ে সে তার দিকে তাকিয়ে আছে, মুখ আধখোলা রেখে শ্বাস নিচ্ছে। হঠাৎ করেই তাকে সামনে টেনে নেওয়া হলো—তার মুখ আর Matthias-এর মুখের মাঝে দূরত্ব রইল না বললেই চলে।

“আহ!”

Leyla আর্তনাদ করে উঠল।

Matthias একটু সময় নিয়ে তার মুখটা দেখল—চোখ তার মুখের নানা অংশে ঘুরে বেড়াল। থুতনির ওপর তার চাপ আরও শক্ত হলো; Leyla ভয় পেল, সে বুঝি সেটাই ভেঙে দেবে। ব্যথায় Leyla নীরব একটা হাঁপানি ছাড়ল—আর ঠিক তখনই তার জিভ আবার তার মুখে ঢুকে পড়ল…

সে তখন শুধু এটুকুই ভাবছিল—এত কিছুর চেয়ে সে বরং ব্যথা সহ্য করত। কিন্তু Matthias থামবার পাত্র নয়। তার জিভ আবার আগের মতোই নড়াচড়া শুরু করল, দক্ষতার সঙ্গে তার জিভের চারপাশে নেচে বেড়াতে লাগল, তার মুখের প্রতিটি কোণ স্পর্শ করল।

তাদের সেই আগ্রাসী চুমু চলতেই থাকল—পাশাপাশি Bill-এর ভারী নিঃশ্বাস আর কাঠ ভাঙার শব্দ। প্রতিবার Matthias তার জিভ তার সঙ্গে জড়িয়ে ধরলে বা টেনে নিলে, Leyla শ্বাসের জন্য হাঁপিয়ে উঠছিল, তার শার্ট আঁকড়ে ধরছিল, আর নিজের অজান্তেই এমন শব্দ বেরিয়ে আসছিল—যেন গলার গভীর থেকে টেনে তোলা হয়েছে।

প্রতিটি শব্দের সঙ্গে সঙ্গে Leyla নিজের ওপর লজ্জায় ভেঙে পড়ছিল। তার মাথা ঘুরছিল, শরীর তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে তার প্রতিটি স্পর্শের প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিল।

যে হাত দুটো এতক্ষণ তাকে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করছিল, সেগুলোও এখন ক্লান্ত হয়ে তার কাঁধে ঝুলে পড়ল। চোখের কোণে জ্বালা অনুভব করল সে—কান্না আসছিল, কিন্তু সে জোর করে আটকাতে চাইছিল।

শেষমেশ Matthias তাকে ছেড়ে দিল—যখন সে অনুভব করল Leyla-র গাল ভিজে গেছে, আর তার গোঙানির সঙ্গে একটা চাপা কান্নার শব্দ মিশে গেছে।

তাদের ঠোঁট দুটো এখন একে অপরের লালায় ভেজা—অন্ধকারে তা চিকচিক করে উঠছিল। Leyla অনুভব করল তার হাঁটু দুটো দুর্বল হয়ে আসছে, কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিল—এই ভেবে যে এই মুহূর্তে তারা দু’জন দেখতে কেমন লাগছে।

“Leyla!”

Uncle Bill-এর কণ্ঠস্বর তার নির্মম চিন্তাগুলো ভেঙে দিল।

“Leyla! আমার জন্য এক গ্লাস ঠান্ডা পানি এনে দেবে?”

তিনি অনুরোধ করলেন।

উত্তর দাও, Leyla,

সে নিজেকে বলল,

দ্রুত উত্তর দিতে হবে!

সে নিজেকে তাড়া দিল, কিন্তু তার নড়াচড়া ছিল শ্লথ—ঘোরের মধ্যে সে দেখছিল, কীভাবে Matthias তার রুমাল বের করল। ধীরে ধীরে সেটাকে ঠোঁটে তুলল আর তাদের করা কাজের চিহ্ন মুছে ফেলল।

হঠাৎ তার মুখটা সামান্য সামনে টেনে নেওয়াতেই Leyla মনে পড়ল—Matthias এখনও তার থুতনি ধরে রেখেছে। এরপর সে সেই একই রুমালটা তার ঠোঁটেও নিয়ে এল, তার দিকের চিহ্নটুকুও মুছে ফেলতে।

শান্ত ভঙ্গিতে Matthias আগে ছুড়ে ফেলা Leyla-র চশমাটা তুলে নিল, যথাস্থানে পরিয়ে দিল, তারপর অবশেষে তার থুতনি থেকে হাত সরাল।

“Leyla?”

Bill-এর কাঠ কাটার শব্দ হঠাৎ থেমে গেল—উত্তর না পেয়ে তিনি বিস্মিত হলেন।

“এটা ধুয়ে এনে দাও।”

Matthias আদেশের সুরে বলল। সে Leyla-র হাত ধরল, তার আঙুলগুলোতে সেই ব্যবহৃত রুমালটা শক্ত করে ধরিয়ে দিল। তার কবজির ওপর ছোট ছোট বৃত্ত এঁকে আঙুল বুলিয়ে দিল, তারপর হঠাৎ করেই তাকে ছেড়ে দিল। ঘুরে গিয়ে নিজের ঘোড়ায় চড়ে বসল।

“Leyla, বাচ্চা! সব ঠিক আছে তো?”

Uncle Bill-এর পায়ের শব্দ তাকে ঘোর থেকে টেনে আনল—শব্দটা ক্রমেই কাছে আসছিল। তাড়াহুড়ো করে Leyla জানালাটা বন্ধ করল, পর্দা টেনে দিল। সঙ্গে সঙ্গেই দরজার দিকে ছুটে গেল, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দরজাটা খুলে দিল—যখন Uncle Bill-এর তোলা হাতটা দরজায় ঠোকা দিতে যাচ্ছিল।

“দুঃখিত, আঙ্কেল। আমি… আমি একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।”

সে দুর্বল অজুহাত দিল, চুল ঠিক করার ভান করে—যে চুলটা কিছুক্ষণ আগেই Matthias শক্ত করে ধরে রেখেছিল।

“হুঁ,”

Uncle Bill বললেন,

“আমি ভাবছিলাম, এত দেরি হচ্ছে কেন।”

“আমি—আমি এখনই রাতের খাবার শুরু করছি!”

Leyla তাড়াতাড়ি বলল।

“তাড়াহুড়োর দরকার নেই, মেয়ে,”

তিনি তাকে শান্ত করলেন।

“আগে ভালো করে জেগে নাও। ধীরে সুস্থে করো।”

স্নেহভরা হাসি দিয়ে মনে করিয়ে দিলেন তিনি।

Bill আলতো করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর সামনে উঠোনের দিকে ফিরে গেলেন—যাওয়ার পথে নিজেই এক গ্লাস পানি তুলে নিলেন, আর তাকে একা রেখে চলে গেলেন।

সামনের দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দ শোনার পরই—শুধু তখনই Leyla নিজেকে দুর্বল হতে দিল। কোনো রকম শালীনতা না রেখেই সে মেঝেতে বসে পড়ল…

তার দুর্বল মুঠো থেকে Matthias-এর রুমালটা আলগা হয়ে হালকা বাতাসে উড়ে এসে তার সামনে পড়ে গেল—নির্দোষভাবে, তার ভেঙে পড়া অবয়বের সামনে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে রইল।

চলবে........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন