#Cry_Even_Better_If_You_Beg
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ৬১
⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌
Chapter 61
সেই রাতের পর কয়েকটা দিন কেটে গেছে, আর ধীরে ধীরে ঘটনাটা এমনভাবে মুছে যেতে লাগল, যেন সবকিছুই ছিল একটা স্বপ্ন। এক অচেনা রকমের শান্ত স্বপ্ন। এখনো Layla পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছিল না যে সবটা সত্যিই ঘটেছিল।
এই সময়ের মধ্যে Marquis Lindman অবশেষে নিজের এস্টেটে ফিরে গিয়েছিলেন, আর Duke আর তাকে দাবি করে কোনো চিঠি পাঠাননি, না দিয়েছেন কোনো অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ। শিগগিরই শরৎ বিদায় নিল, আর শীত তার মাসব্যাপী যাত্রার প্রথম ধাপ ফেলল—নিয়ে এল এক নতুন ঋতু। Layla জানালাটা খুলে দিল, ঠান্ডা বাতাসে গভীর শ্বাস নিল, শীতের সঙ্গে আসা সেই গন্ধটা তার খুব প্রিয়।
সে বেশ উপভোগ করছিল বাতাসটা—কিছুক্ষণ ঠান্ডায় তার অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে গেল, আর সে তাকিয়ে রইল সূর্যের আলো কীভাবে বরফের ওপর পড়ে ঝিলমিল করছে, যেন পুরো বনটাই হীরের তৈরি।
অনেকক্ষণ জানালাটা খোলা রেখেছিল সে, যতক্ষণ না ঠান্ডা তার আঙুলের ডগায় কামড় বসাতে শুরু করল। শেষবারের মতো গভীর শ্বাস নিয়ে সে জানালাটা বন্ধ করল এবং দিনের প্রস্তুতি নিতে ঘুরে দাঁড়াল।
আজ ছিল শহরের টাউন হলে স্কুলের বাচ্চাদের আয়োজিত দাতব্য অনুষ্ঠানের দিন, তাই কাজে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি সময় নিচ্ছিল। আমন্ত্রিত রাজপরিবারের সদস্যরা আর মঞ্চে ওঠা শিশুরা—এই দুই কারণেই সে তার প্রতিদিনকার পোশাক পরতে পারত না।
এই বছরের অনুষ্ঠানটি হচ্ছিল এক নামকরা স্থানে। সেখানে নিয়মিতভাবেই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান মানুষদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল আর তার ছাত্রদের সম্মানের জন্য আজ তাকে নিজের সেরা রূপে হাজির হতে হবে।
‘তোমাকে নিজেকে একজন মর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষিকা হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। বুঝেছ, Miss Llewellyn?’
এমনকি Principal-ও জানতেন যে তার পোশাকের দিকে একটু বেশি মন দেওয়া দরকার। গতকালের বৈঠকে তিনি এ নিয়ে আরও কিছু মন্তব্য করেছিলেন, বিশেষ করে এই আশায় যে Layla যেন টাউন হলে যাওয়ার সময় সাইকেল চালিয়ে না যায়।
এই কথা মনে পড়তেই Layla কপাল কুঁচকে ফেলল, চুল বেঁধে রাখতে রাখতে ফিসফিস করে বলল, “সাইকেল চালাতে এমন কী দোষ?”
চুলের কাজটা সে বেশ দ্রুতই শেষ করল। এই ব্যাপারে তার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার জন্য সে নিজের কাছেই কৃতজ্ঞ ছিল—সারা সেমিস্টারে তাকে বহুবার এমন করে চুল বাঁধতে হয়েছে।
‘এই চুলটা তোমার মানায় না।’
ঠিক তখনই, যখন সে ভেবেছিল তার আর কোনোভাবে তাকে বিরক্ত করা সম্ভব নয়—দেখা গেল, নিজের চিন্তার মধ্যেও সে তার হাত থেকে রেহাই পায় না। প্লাটেনাস রোডে শরতের শুরুর দিকে Duke তাকে এই কথাটাই বলেছিলেন।
সেই শরতের রোদ তার ঘরে ঢুকে আয়নায় পড়েছিল, সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে এসে পড়েছিল তার চুলে। আয়নায় হঠাৎ তার প্রতিবিম্ব দেখে Layla চমকে উঠেছিল—মনে হয়েছিল যেন সে তাকে দেখছে। দ্রুত সে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছিল, ঠিক যেমন সে তখন তার চোখ এড়িয়ে চলত।
‘তোমার চুল সুন্দর। ডানার মতো।’
হঠাৎ করেই তার মনে বাঁধ ভেঙে গেল—একটার পর একটা করে Duke তাকে দেওয়া সব প্রশংসা মনে পড়তে লাগল। আশ্চর্যজনকভাবে, তার অপমানগুলো নয়—এই প্রশংসাগুলিই তাকে বেশি অস্থির করে তুলত। বিশেষ করে যখন সে সেই ঠান্ডা, উদাসীন চোখে তার দিকে তাকাত।
Layla আবার চুল আঁচড়াতে লাগল, পাশ ফিরে নিজের প্রতিচ্ছবি পরীক্ষা করল, শেষে নিজেকে প্রস্তুত মনে করে সন্তুষ্ট হলো। সৌভাগ্যক্রমে, তাদের শেষ রাতের স্মৃতির মতো নয়—তার কাঁধের দাগগুলো প্রায় মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
শেষ পর্যন্ত, সে রাতে Duke তার কথার মান রেখেছিল।
তবুও, সে ভয়ে কাঁপছিল যখন সে তাকে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়েছিল। শুরুতে তাদের মাঝের টানটান উত্তেজনা এত ঘন ছিল যে ছুরি চালানো যেত। কিন্তু তার প্রতিটি চুমু, যা সে তার আঘাতের ওপর রাখছিল—তার সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা ধীরে ধীরে গলে যেতে লাগল।
সে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল, আর যত্ন করেছিল—আগের মুহূর্তে তার ছটফটানি আর প্রতিরোধ সত্ত্বেও। তার কোমল স্পর্শ তার আঘাতের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল, ব্যথা কমানোর মলম লাগিয়ে তারপর সযত্নে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিয়েছিল।
তার নড়াচড়া ছিল এতটাই শান্ত আর দক্ষ, যেন একজন চিকিৎসক। তার ওপর, সেই সময়েও তার নীল চোখ দুটো এক মুহূর্তের জন্যও Layla-র ওপর থেকে সরেনি, এমনকি যখন সে ধীরে ধীরে নিজের কাপড় আবার পরে নিচ্ছিল…
চোখের কোণে ঘড়িটা দেখে সে হাঁপিয়ে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে Layla চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল, আয়নায় আরেকবার নিজেকে দেখে নিল, তারপর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির জন্য ঘরের এদিক-ওদিক ছুটোছুটি শুরু করল।
আজ সে যে পোশাকটা পরেছে সেটা একেবারে নতুন—এই দিনের জন্য সে নিজের টাকায় কিনেছিল। জুতোর জন্য খুঁজতে খুঁজতে শেষমেশ একজোড়া হাই হিল তুলে নিল। দিন শেষে তার পা যে যন্ত্রণায় কাঁদবে, সেটা সে কল্পনাই করতে পারছিল—তবুও সহ্য করতে হবে। নিজের চেহারা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে সে অবশেষে ঘর থেকে বেরোল।
“আহ, Layla, তুমি কত সুন্দর!” Uncle Bill মুগ্ধ হয়ে বললেন, রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে। “আজ টাউন হলে তুমি সবচেয়ে সুন্দরী হবে!” প্রশংসায় Layla হেসে উঠল।
“ওখানে তো আরও অনেকেই থাকবে যারা আমার চেয়ে ভালোভাবে সাজবে,” সে বলল। “অনেক তরুণী আর ম্যাডাম উপস্থিত থাকবেন।”
“কিন্তু তাদের আছে কী তোমার মতো?” তার Uncle বললেন। “তাদের গায়ের সোনা-রুপাও তোমার ধারেকাছেও নয়!”
Layla চোখ ঘুরিয়ে নিল। “হয়তো শুধু আমার Uncle-র চোখেই,” সে হাসল, টেবিলের ওপারে বসে।
“ওহ, মনে পড়ল,” Bill বললেন, নিজের গলার দিকে ইশারা করে। “তোমার যে হারটা আছে, সেটা পরো না কেন?”
Layla-র কপাল কুঁচকে গেল, তারপর মনে পড়তেই চোখ বড় হয়ে উঠল।
“আহ! তুমি যে হারটা আমার জন্য কিনেছিলে?”
“হ্যাঁ। Duke-এর পার্টিতে যেটা তুমি গত বছর পরেছিলে।”
“আজকের পোশাকের সঙ্গে সেটা দারুণ মানাবে।”
Layla হারটা খুঁজে বের করে গলায় পরল। বাইরে এসে Uncle-র সামনে দাঁড়াল।
“কেমন লাগছে?” সে জিজ্ঞেস করল।
“নিখুঁত,” Bill বললেন, তারপর তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলেন।
কিন্তু বিদায়ের আগে তার চোখে একটু দুশ্চিন্তা ফুটে উঠল।
“সাবধানে থেকো, Layla,” তিনি বললেন নরম গলায়। “আজ অনেকের নজর পড়বে তোমার দিকে।”
“I will uncle, don’t worry,” Layla প্রতিশ্রুতি দিল।
--------------------------
দূর থেকে সে একটা বিন্দুর মতোই ছিল, কিন্তু Matthias এক মাইল দূর থেকেও তাকে চিনে ফেলল। তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
সে জানত, ওটাই Layla—হান্টিং গ্রাউন্ডের পথ ধরে রোজ গার্ডেনের দিকে হাঁটছে।
“আজ সে হেঁটে কাজে যাচ্ছে কেন?” সে ভাবল।
একটা নিচু শিস দিয়ে সে জানালার কাছে এগিয়ে এল। আঙুল বাড়াতেই একটা ছোট পাখি এসে বসলো।
পেছনে দুলতে থাকা পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে, সে Layla-র দিকে তাকিয়ে রইল।
সে নিজের বাহুটা সামান্য সরাল, যেন কিছু না জানা সেই নারীর সামনে নিজের ক্যানারিটাকে উপস্থাপন করবে। কিন্তু পাখিটা ইতিমধ্যেই উড়ে গেছে—সোজা ফিরে গিয়ে নিজের খাঁচায় ঢুকে পড়েছে। তার দুই পাখির পরিচয় করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, তবে সেটাকে পুরোপুরি বৃথা বলা যায় না। তাই Leyla তার দৃষ্টিসীমা থেকে মিলিয়ে যাওয়ার অনেক পরেও Matthias জানালার ধারে দাঁড়িয়েই রইল।
এটা যেন তার একধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল—প্রতিদিন সকালে জানালার কার্নিশে বসে থাকা, দিনের পর দিন, শুধুই সেই দৃশ্যটার জন্য। আর সেই পুরো সময়টায় সে শুধু তাকিয়েই থাকত, অপেক্ষা করত সেই মুহূর্তটার—যখন Layla ছোট্ট বাগানপালকের কুটির থেকে বেরিয়ে আসবে, আর বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া পথ ধরে কাজে রওনা দেবে।
মহলের এই জায়গা থেকে সে সবসময় Layla-কে দেখতে পেত—আর দেখতে পেত, বাড়ি ফেরার সময় সে কী করত।
‘ও কি এখন ভালো আছে?’
শেষবার যখন তাকে এত কাছে থেকে দেখেছিল, তখন সে কতটা দুর্বল দেখাচ্ছিল—সেই কথা মনে পড়তেই তার মনে এই প্রশ্নটা এল। সে তখন ছিল আঘাতে ভরা, যন্ত্রণায় কাতর। তার কাঁপতে থাকা শরীর, যখন সে অসহায়ভাবে তার সামনে কাঁদছিল…
লাল হয়ে যাওয়া, অশ্রুসিক্ত গাল, আর ঝকঝকে পান্না রঙের চোখ। শুধু সেই দৃশ্যেই সে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারত।
দুঃখের বিষয়, তারপর থেকে তার সঙ্গে আর দেখা হয়নি, বা তাকে আর দেখাও হয়নি। আগের মতো সে চাইলে গিয়ে তাকে দেখতে পারত, কিন্তু এবার সে তা করেনি। সেই রাতে তার ভেতরে কিছু অদ্ভুত অনুভূতির সঞ্চার হয়েছিল—যার নাম সে নিজেও ঠিক করতে পারছিল না।
Matthias জানালা থেকে সরে এসে অগ্নিকুণ্ডের পাশে রাখা উইংব্যাক চেয়ারে বসে পড়ল, গভীর চিন্তায় ডুবে। অমনোযোগীভাবে সে সকালের খবরের কাগজটা তুলে খুলল, কিন্তু সেখানে ছাপা শব্দগুলো তার চোখে ঢুকল না।
তার মন বারবার ফিরে যাচ্ছিল সেই শেষ রাতের কান্নার দিকে। সে তো আগেও Layla-কে অগণিতবার কাঁদতে দেখেছে, কিন্তু শেষবারের কান্নায় কিছু আলাদা ছিল। সেটা এখন তার মনে গেঁথে গেছে, আর সে তা থেকে পালাতে পারছিল না…
‘থামো।’
তার নিজের বলা কথাটা মনে পড়ল—যখন ব্যান্ডেজ বেঁধে ওষুধ তুলে দেওয়ার পর সে তাকে চলে যেতে বাধা দিয়েছিল।
‘এগুলো ব্যথানাশক। অল্প অল্প করে খাবে।’
Leyla সেই সময় বোতলটার দিকে তাকিয়ে ছিল গভীর চিন্তায়, এখনো তার বাড়ানো হাতে ধরা। তার দেরি দেখে বিরক্ত হয়ে Matthias নিজেই ঢাকনাটা খুলে তার দিকে এগিয়ে গেল। হঠাৎ করে তার চিবুক ধরে মুখ খুলে দেওয়ায় সে চমকে উঠেছিল, আর সে আলতো করে তরল ওষুধটা তার গলার ভেতর ঢেলে দিয়েছিল।
তেতো স্বাদ সত্ত্বেও Leyla অভিজ্ঞ কারও মতোই ওষুধটা গিলে নিল। তার চোখে Matthias-এর দিকে এক অজানা দৃষ্টি ছিল, আর যতটা পারা যায় সে গিলে ফেলছিল। তার সেই সংগ্রাম দেখে Matthias মুচকি হেসেছিল।
ওষুধ খাওয়া শেষ হলে, সে নিজের রুমাল দিয়ে তার ঠোঁটের কোণে গড়িয়ে পড়া ওষুধটা আলতো করে মুছে দিল। তারপর পকেট থেকে একটা ক্যান্ডি বের করে তার মুখে ঢুকিয়ে দিল।
Matthias-এর এই যত্নে Leyla আবার চোখের জল আটকে রাখার চেষ্টা করল, কিন্তু কোনো শব্দ বের করতে পারল না। ক্যান্ডিটা মুখে রেখেই তার চোখ দিয়ে আবার অশ্রু গড়িয়ে পড়ল—না থুথু ফেলল, না গিলবার চেষ্টা করল।
শেষ পর্যন্ত Matthias নিজেকে আর সামলাতে পারল না। সে তার গালে হাত বুলাতে শুরু করল, নিজের হাত ভিজে যাওয়াকে তোয়াক্কা না করেই। তার নড়াচড়া ছিল শক্ত, অনভ্যস্ত—তবুও সে থামেনি।
‘এখনো কি ব্যথা করছে?’
সে অজান্তেই জিজ্ঞেস করেছিল। সেই মুহূর্তে নিজেকে এত অসহায়, এত অকার্যকর মনে হয়েছিল তার—এর আগে কখনো হয়নি। Layla সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে উত্তর দিয়েছিল। আর কিছু করতে না পেরে, Matthias তাকে আবার নিজের বাহুতে টেনে নিয়েছিল, সান্ত্বনা দিতে।
প্রথমে সে একটু প্রতিরোধ করেছিল, কিন্তু শেষমেশ হার মেনেছিল। অনেকক্ষণ ধরে সে তার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে থাকল, জিভ দিয়ে মুখের ভেতর ক্যান্ডিটা ঘোরাতে ঘোরাতে। যখন সে কান্না থামাল, তখন Matthias-এর সোয়েটারের সামনের অংশ পুরোপুরি অশ্রুতে ভিজে গেছে।
এই স্মৃতিটুকুও Matthias-এর মনে এক ধরনের বিষণ্ণতা এনে দিল। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, আর যে কাগজটা সে পড়েইনি সেটাকে একপাশে সরিয়ে রাখল। মাথা পিছনে হেলিয়ে সে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
সে সত্যিই তার সেই ছবিটা মন থেকে বের করতে পারছিল না। সাধারণত Layla কাঁদলে সে শুধু আনন্দই পেত। একটা সুন্দর মুখ কাঁদতে দেখাটা তার ভালো লাগত, তাই সে নির্দয়ভাবে তাকে উত্যক্ত করত। যদিও এমন সময়ও ছিল, যখন সেই কান্না তাকে বিরক্ত করত।
তার ভীষণ রাগ হতো যদি সে ছাড়া অন্য কেউ, বা অন্য কিছু, Layla-কে কাঁদাত। তখন সে চাইত, সেটা থেমে যাক। তার কান্নার অধিকার শুধু তারই হওয়া উচিত। শুধু তার কান্নাই নয়…
তার হাসি, তার আনন্দ, তার আশা আর স্বপ্ন—সবকিছু! তার যা কিছু আছে, সবই তার হওয়া উচিত!
সে তারই হওয়া উচিত।
সেই সময় Layla যেভাবে কাঁদছিল, তাতে তার মনে হচ্ছিল যেন সে হেরে গেছে—আর সেই পরাজয়কে কীভাবে জয়ে বদলাবে, সে বুঝে উঠতে পারছিল না…
কী অদ্ভুত কান্না ছিল সেগুলো।
Layla যখনই কাঁদত, সাধারণত সে নিজের রাগকে লাগামছাড়া করে ফেলত। কখনো ভয় পেত, কখনো বা একেবারে আতঙ্কিত হয়ে উঠত। আর সে প্রতিটা অনুভূতিই উপভোগ করত—যেগুলো সে তার ভেতর থেকে বের করে আনতে পেরেছিল।
কিন্তু সেই মুহূর্তে, সে যেন নিজেও বুঝতে পারছিল না কেন সে কাঁদছে। সেই কান্নায় কোনো রাগ ছিল না, এমনকি তার প্রতি কোনো ভয়ও ছিল না। সেগুলো দেখতে একেবারেই ভিনদেশি লাগছিল…
প্রায় এমন, যেন তার চোখ দুটো ফাঁকা। আর ঠিক তখনই সে বুঝতে পেরেছিল—সে সেই কান্নাগুলোকে ভীষণ ঘৃণা করছে। সে চেয়েছিল সেগুলো থেমে যাক। সেগুলো তার ভেতরে এমন এক অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল, যা Kyle Etman-এর জন্য Layla-র কান্না দেখার সময় সে কখনো অনুভব করেনি…
এমন এক অনুভূতি, যা তাকে ইচ্ছে করিয়েছিল—সে যেন তাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে, শুধু যেন সে কান্না থামায়।
এক অদ্ভুত, অস্বস্তিকর অনুভূতি তার ভেতরে পাক খেতে লাগল। তবুও Matthias সেটাকে অগ্রাহ্য করল না। সেটা অনেকটা এমন ছিল, যেন সুগন্ধি মদের নেশা নাকে এসে লাগছে। আবার একই সঙ্গে মনে হচ্ছিল, যেন কিছু একটা তার দিকে ধেয়ে আসছে।
এটা তাকে বিভ্রান্ত করছিল, আবার তৃপ্তিও দিচ্ছিল—অত্যন্ত গভীরভাবে।
হ্যাঁ… এটা তাকে সত্যিই… আনন্দিত করছিল।
সে এক অবারিত সুখ অনুভব করছিল—Layla-কে নির্যাতন করার সময় যে আনন্দ সে পেত, তার সঙ্গে এর কোনো মিলই ছিল না। সে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয়নি, কারণ সে তার কাছ থেকে আরও কিছু অনুভব করতে চেয়েছিল। এই আনন্দটাকে জানতে, আর তার পূর্ণমাত্রায় অনুভব করতে!
Layla নিজেকে তার হাতে সঁপে দিয়েছিল। সে এটা মনে রেখেছিল—তার ক্লান্ত শরীরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে, তার মুখে যে আত্মসমর্পণের ছাপ দেখেছিল, যখন সে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিল।
আর তাই সে তার চোখের জল মুছিয়ে যাচ্ছিল, তার চুল পেছনে সরিয়ে দিচ্ছিল, যেন আবছা আলোতেও তাকে আরও পরিষ্কার করে দেখতে পারে। সে দেখছিল—তার চোখে থাকা সামান্য আশাটুকু কীভাবে অবারিত ভয়ে রূপ নিচ্ছে, আর তার পুরো শরীরটা তার স্পর্শে কেঁপে উঠছে।
সে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছিল—যতক্ষণ না সে আবার শান্ত হয়, আবার তাকে বিশ্বাস করে। কারণ তার ভেতরে যে আনন্দটা আগে জন্মেছিল, সেটা ততক্ষণে তার শরীর থেকে মুছে গিয়েছিল। সে সেটা আবার চাইছিল! কিন্তু কীভাবে সে সেটা ফিরে পাবে? উত্তরটা একই ছিল।
সবসময়ই একই।
হঠাৎ একটা দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ তার চিন্তার স্রোত ভেঙে দিল। বিরক্তিতে তার কপাল কুঁচকে গেল। সে তো গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা ধরতে চলেছিল—আর একটু সময় পেলেই হয়তো কোনো সমাধানে পৌঁছে যেত। কিন্তু জীবন এমনই—গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো হাতের তালুতে বালু ধরার মতো ফসকে যায়।
“Master, Hessen বলছি।” দরজার ওপার থেকে চাপা একটা কণ্ঠ ভেসে এল।
“ভিতরে আসো।” Matthias শান্ত গলায় উত্তর দিল। সে সোজা হয়ে বসল, আর চোখ আর ছাদের দিকে স্থির রইল না।
Hessen দরজা খুলে দ্রুত এগিয়ে এল, চেয়ারের পাশে সম্মানজনক দূরত্বে দাঁড়িয়ে থামল। সে সজাগ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে অভিবাদন জানাল।
“Madam Elysee আজ Master-এর রাতের খাবারের সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।”
এই খবরে Matthias-এর ভ্রু একটু উঁচু হয়ে উঠল।
“আমার মা?” সে জিজ্ঞেস করল।
“জি,” Hessen নিশ্চিত করল। “প্রথমে তিনি Madam Norma-র সঙ্গে আজ রাতে টাউন হলে একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বাইরে যেতে পারবেন না।”
সে ব্যাখ্যা করল, “তাই তিনি জানতে চেয়েছেন—আপনি কি তার বদলে Madam Norma-কে সঙ্গ দিতে পারবেন কিনা। অবশ্যই, যদি আপনার আগে থেকে কোনো কাজ না থাকে।”
“একটা দাতব্য অনুষ্ঠান?” Matthias গুনগুন করল, চেয়ারের হাতলে আঙুল ঠুকতে ঠুকতে।
“Carlsbar-এর বেশ কয়েকটি স্কুল এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে,” Hessen তাড়াতাড়ি জানাল।
“এই গ্রামের শিশুরাও অংশ নেবে।”
“আহ।”
Matthias নিজের মনেই একটা মুচকি হাসি হাসল।
এখন সে বুঝতে পারল, কেন আজ Layla স্বাভাবিক দিনের তুলনায় এত সাজগোজ করে হেঁটে কাজে যাচ্ছিল।
“আজ রাতে আমার দিদিমাকে সঙ্গ দিতে পারলে আমি আনন্দিতই হব।”
এই কথা বলতে বলতে Matthias আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
“তাহলে চল, দাতব্য অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের ঠিকঠাক প্রস্তুত হওয়া যাক।”
চলবে......