গল্প : এই পথ যদি না শেষ হয়
লেখিকা : নিপা চৌধুরী
পর্ব : ১
দৌতলা বিশিষ্ট সিকদার বাড়িতে আজ ভীশণ তোরজোড় সবাই এদিক সেদিক ছুটচে সবার হাতে'ই কোনো না কোনো কাজ সেগুলো নিয়ে তারা ব্যাস্ত চার'দিক থেকে ঠাস'ঠুস শব্দ আসছে | এতে যে তুই রমনীর ঘুমের ডিস্টার্ব হচ্ছে তা কি তারা জানে?
বাহিরের এত জাঝালো শব্দে আর ঘুম টিঘলো না মেহেরিনের—সে বিরক্ত হয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখলো দশ টা বেজেঁ গিয়েছে
পাশে থাকা রমনী টি এখনো ঘুম থেকে উঠেনি—তা দেখে মেহেরিন রমনী টা'কে খোঁচা দিলো আর বললো |
মেহেরিন : এই উঠ-উঠ বলছি দশটা বেজে গিয়েছে আর কতো ঘুমাবি? তুই যদি এখন না উঠিস তাহলে তোর নাক পাটাবো–|
এই বাল ডিস্টার্ব করছিস কেন দেখছিস না ঘুমাচ্ছি?
মেহেরিন : দশটা বেজে গেছে আর কত ঘুমাবি হ্যাঁ?
বাল যা তো এখান থেকে ডিস্টার্ব করবি না
অরিনের কথায় মেহেরিন পাত্তা দিলো না সে বললো
মেহেরিন : এই শালি তোর কানে কি বোমা পরছে?বাহিরের এত শব্দ তোর কানে যায় না?অরিন আজকে আমাদের বাড়িতে বিয়ে
এত কথা বলার পরেও মেয়েটা উঠলো না সেই আগের বঙ্গীতে ঘুমাচ্ছে| যেনো তার মুখ'ই বলে দিচ্চে যত'যাই করো আজকে আমার ঘুম ভাঙাতে পারবে না
-মেহেরিন বুঝে গিয়েছে তাকে কি করতে হবে – সে একটু সরে বসে অরিনের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে শ'জোরে একটা লাথি দেয়
এক লাথি'তে অরিন বিচানা থেকে পড়ে যায় সাথে সাথে তার চোখ খুলে যায় / তা দেখে মেহেরিন বিজয়ের হাসি দেয়
অরিন : এই শালি তুই আমাকে লাথি দিলি কেন?
মেহেরিন কিছু বলবে তার আগেই তাদের দরজায় টোকা পড়ে
মেহেরিন বুঝেছে কে এসেছে
সে বিচানা থেকে নিচে নেমে দরজা খুলে দেয়
দরজা খোলার সাথে সাথে "রেহানা বেগমের" রাগ মিশ্রিত কন্ঠ শোনা যায়
রেহানা বেগম : কিরে তোরা এখনো ফ্রেশ হোস নি?
মেহেরিন : না মানে আসলে আম্মু
আমতা আমতা করছিস কেন? আর এখনো ফ্রেশ হোস নি কেন?
রেহানা বেগম পিছনে তাকায় অরিন কে ঘুমে ঠুলতে দেখে তিনি মাথায় হাত দেন
এই মেয়ে কি জানে না আজকে এই বাড়িতে বিয়ে?যা এক্ষুণি ফ্রেশ হয়ে আয় / অরিন আর মেহেরিন দু'জন দু'জনের দিকে এক পলক তাকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে দৌড় দেয়
মেহেরিন ড্রেসিং টেবিলের সাথে উষ্টা খেয়ে পড়ে
অরিন হাসতে হাসতে ওয়াশরুমে ডুকে যায়
®
ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে ছিলো অরিন তার সামনে বসে ছিলো মেহেরিন
অরিন কিছু একটা নিয়ে ভীশণ চিন্তা...সে ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে একই বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে করতে
মানুষের এত চোটা'চুটি তার যেনো চোখেই পরছে
তখনি আসমা বেগম আসে ড্রয়িংরুমে অরিন কে এভাবে বসে থাকতে দেখে তিনি বললেন
এই অরি কি হয়েছে তোর? অরিন কিছু বললো না আসমা বেগম এবার মেহেরিন কে জিজ্ঞেস করলেন
এই মেহু অরিনের কি হয়েছে এত চিন্তিত কেনো ও?
মেহেরিন : আরে চাচিমণি আমি তো নিজেই বুঝতে পারতেছি অরিন কি নিয়ে এত চিন্তা করছে
অরিন তুই কি এবার কিছু বলবি?
অরিন কিছু বলবে তার আগেই বাহির থেকে তার ডাক পরে
পরিচিত কন্ঠ পেতেই অরিন সধর দরজার দিকে তাকায়
অরিন মেহেরিন আমরা চলে এসেছি
তাদের দেখে অরিন আর মেহেরিন হা করে তাকিয়ে থাকে / তাদের ঠোঁটে এক চিলতি মাখা হাসি
কিরে হা করে তাকিয়ে আছিস কেন? আমাদের কি নতুন দেখছিস?
তাদের মধ্যে কেউ একজন অরিনের দিকে আসতে গিয়ে টেবিলের সাথে বারি খেয়ে উপর হয়ে পরে
বিগড় শব্দ হয় সাথে সাথে সবাই সেদিকে তাকায়
অরিন আর কোনো ভাবেই হাসি আঁটকে পারলো পিক করে হেঁসে দেয় সে...সে হাসছে দেখে অপ্রস্তুিত সবাই হেঁসে দেয় / একসময় সেই হাসি অট্টহাসিতে পরিণিত হয়
অরিন অট্টহাসি'তে সোফায় ঘরা'ঘরি খাচ্ছে
আর বেচারা অয়ন সবার দিকে তাকিয়ে আছে|
সে বললো অরিন তোরা এভাবে হাসছিস আমাকে নিয়ে মজা নিচ্ছিস?
সেভাবে পড়েছিস তা দেখে তো সবারই হাসার কথা
আচ্ছা থাম তোরা/ এই মাহি আয়শা আবির রিফাত আয়ান এদিকে আয়
মেহেরিনের কথায় রিফাত উঠে বসে
মাহি অরিন কে জড়িয়ে ধরে
কতদিন পর দেখছি তোদের আমার কিযে ভালো লাগছে এই কুদ্দুস তুই না আসবি না বলেছিস এখন কে এসেছি?
আবির : না মানে
আয়শা : ওই বলদের ব্রেকফাস্ট হয়ে গেছে
সবাই এক সাথে বলে উঠলো আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ
মেহেরিন : কিরে আবার মরা মরা হয়ে গেলি
আয়ান : কি হয়েছে ওর
মেহেরিন : জানি না রে /এই অরিন আবার কি হয়েছে তোর
তুই ভাইয়ার বিয়েতেও মন'মরা হয়ে আছিস
অরিন : ধুর ছাই একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করছি —করতে দে
কি বিষয় নিয়ে চিন্তা করছিস?
অরিন : দেখ আজকে আমাদের চাচাতো ভাইয়ের বিয়ে ফুফাতো বোনের সাথে /তো আমি কার বিয়ে খাবো? আমি তো দু'জনের বিয়েই খেতে চাই
তখন এর টা তখন দেখা যাবে এখন আমরা আনন্দ করবো
আবির : হুম এটাই তো-আর আমরাও চলে এসেছি সবাইকে হেল্প করতে আঙ্কেল আন্টির কোনো চিন্তা নেই আমরা সব কাজ করে দিবো
অরিন : তো কি ভেবেছিস কাজ না করেই বিয়ে খাবি?
আসমা বেগম : এই তোরা ওদের কে বসতে দিবি এতক্ষণ তো দাঁড়িয়েই আছে তোরা বস আমি তোদের জন্য কিছু নিয়ে আসি
®
সন্ধা তখন 7:00 টা সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে বলা চলে সবাই আড্ডা দিচ্ছে /সবার হাতেই চায়ের কাফ
গম্ভীর কন্ঠে মোজাম্মেল সিকদার বলেন/ সবাইকেই দাওয়াত দেওয়া হয়ে গেলো কিন্তু একজন এর পরীবার কে এখনো দাওয়াত দেওয়া হয়নি
কে সে বড় চাচ্ছু পরিচিত কেউ?
চলবে....