ফন্ট সাইজ:
থিম:
Crazy Love

পর্ব 1

লেখক: Mafiya Queen

🖤 CRAZY LOVE

পর্ব ১: অন্ধকারের সেই যুবক

✍️ লেখক: Mafiya Queen 👑

Genre: Dark Romance | Mystery | Emotional Love Story

১. রাতের শহর

রাত তখন ১১টা ৪৭ মিনিট।

বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে আসছে। রাস্তার বাতিগুলোর হলুদ আলো বৃষ্টির পানিতে প্রতিফলিত হয়ে এক অদ্ভুত বিষণ্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে।

শহরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল একটি কালো প্রাসাদ।

প্রাসাদটির নাম—BLACKWOOD MANSION।

শহরের সবচেয়ে ধনী এবং রহস্যময় পরিবারের বাসস্থান এটি।

এই বাড়ির মালিক স্যাম ব্ল্যাকউড।

বয়স ছাব্বিশ।

শহরের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের একজন। তার সম্পদের হিসাব কেউ জানে না। তার জীবনে কী ঘটে, সেটাও কেউ জানে না।

মানুষ তাকে ভয় পায়।

কারণ স্যাম কখনো অকারণে হাসে না, কারও সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে না। তার চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকার সাহসও খুব কম মানুষের আছে।

তার চোখ দুটো অদ্ভুত।

শান্ত, অথচ ভেতরে যেন হাজারো ঝড় লুকিয়ে আছে।

কালো শার্টের হাতা গুটিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল স্যাম। এক হাতে কফির কাপ, অন্য হাতে একটি সিগারেট।

তার সামনে বিশাল বাগান।

বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে লাল গোলাপগুলো।

হঠাৎ পেছন থেকে একজনের কণ্ঠ ভেসে এল।

— স্যার?

স্যাম কোনো উত্তর দিল না।

— স্যার, আপনার জন্য একটা খবর আছে।

— বলো।

— আগামীকাল নতুন একজন মেয়ে আমাদের কোম্পানিতে যোগ দিচ্ছে। আপনার পার্সোনাল প্রজেক্টের জন্য তাকে নির্বাচন করা হয়েছে।

স্যাম ধীরে কফির কাপে চুমুক দিল।

— নাম?

— এলোরিয়া।

নামটা শুনে স্যাম একবার চোখ তুলল।

— এলোরিয়া?

— জি, স্যার।

স্যাম আবার বাগানের দিকে তাকাল।

— ঠিক আছে। কাল দেখা যাবে।

কিন্তু সে তখনো জানত না, এই একটি নাম একদিন তার গোটা পৃথিবী বদলে দেবে।

২. এলোরিয়া

সকাল ৮টা।

ছোট্ট একটা অ্যাপার্টমেন্টের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিল এলোরিয়া।

বয়স বাইশ।

মেয়েটির মধ্যে অদ্ভুত এক মায়া আছে। বড় বড় চোখ, মিষ্টি হাসি আর কথা বলার সময় গালে পড়া ছোট্ট টোল।

সে খুব সাধারণ জীবন পছন্দ করে।

বৃষ্টি হলে জানালার পাশে বসে গান শোনা, পুরোনো বই পড়া, নিজের মতো করে সময় কাটানো—এসবই তার ভালো লাগে।

তবে একটা বিষয় আছে।

এলোরিয়া সহজে কাউকে বিশ্বাস করে না।

তার কাছে ভালোবাসা মানে শুধু সুন্দর কিছু কথা নয়। ভালোবাসা মানে বিশ্বাস, সম্মান আর একে অপরের পাশে থাকা।

আজ তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

BLACKWOOD CORPORATION-এ তার প্রথম চাকরি।

— এলোরিয়া! তুই এখনো রেডি হোসনি?

রুমের বাইরে থেকে তার বান্ধবী মিরার চিৎকার।

— হচ্ছি তো! আর দুই মিনিট!

— তোর দুই মিনিট মানে বিশ মিনিট!

এলোরিয়া হেসে ফেলল।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকাল সে।

কালো রঙের ফরমাল পোশাক, খোলা চুল আর হালকা মেকআপ।

নিজেকে দেখে মুচকি হাসল।

— আজকে কোনো ঝামেলা চাই না, প্লিজ।

তারপর ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেল।

৩. প্রথম দেখা

BLACKWOOD CORPORATION।

বিশাল কাঁচের বিল্ডিং।

ভেতরে ঢুকতেই এলোরিয়া কিছুটা অবাক হয়ে গেল।

এত বড় অফিস সে আগে কখনো দেখেনি।

চারদিকে ব্যস্ত মানুষ, দামি আসবাবপত্র, ঝকঝকে মেঝে।

রিসেপশনে গিয়ে সে বলল,

— এক্সকিউজ মি, আমি এলোরিয়া। আজকে আমার জয়েনিং।

রিসেপশনিস্ট হাসিমুখে বলল,

— ওয়েলকাম ম্যাম। আপনার আইডি কার্ড তৈরি আছে। আপনি ৪২ তলায় চলে যান।

— থ্যাংক ইউ।

লিফটে উঠে ৪২ নম্বর বাটনে চাপ দিল সে।

লিফটের দরজা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে একটি হাত এসে দরজা আটকে দিল।

একজন যুবক ভেতরে প্রবেশ করল।

কালো শার্ট, কালো ঘড়ি, হাতে কয়েকটি আংটি।

তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।

এলোরিয়া একটু সরে দাঁড়াল।

যুবকটি তার পাশে এসে দাঁড়াল।

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

হঠাৎ যুবকটি বলল,

— নতুন?

এলোরিয়া তার দিকে তাকাল।

— জি?

— এই বিল্ডিংয়ে আগে দেখিনি।

— আজকে প্রথম দিন।

— নাম?

— এলোরিয়া।

যুবকটি একবার তার দিকে তাকাল।

তারপর ফোন বের করে কিছু একটা দেখতে লাগল।

এলোরিয়া মনে মনে ভাবল, মানুষটা এমনভাবে কথা বলে কেন? মনে হচ্ছে কথা বলাটাও তার কাছে বিরক্তিকর কাজ।

লিফট ৪২ তলায় থামল।

দরজা খুলতেই এলোরিয়া বেরিয়ে গেল।

যুবকটিও বের হলো।

এলোরিয়া সামনে এগিয়ে রিসেপশনের একজনকে জিজ্ঞেস করল,

— ম্যানেজারের কেবিনটা কোথায়?

লোকটি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল।

— স্যার, আপনি!

এলোরিয়া থমকে গেল।

স্যার?

সে ধীরে পেছনে তাকাল।

যুবকটি তার দিকে তাকিয়ে আছে।

লোকটি বলল,

— ম্যাম, উনি আমাদের কোম্পানির CEO, মিস্টার স্যাম ব্ল্যাকউড।

এলোরিয়ার মুখের হাসি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।

মনে মনে বলল,

'ওহ মাই গড! আমি CEO-র সঙ্গে লিফটে দাঁড়িয়ে এমনভাবে কথা বললাম!'

স্যাম কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

— আমার কেবিনে আসুন।

এলোরিয়া চুপচাপ তার পেছনে হাঁটতে লাগল।

৪. মিস্টার ব্ল্যাকউড

স্যামের কেবিনটা পুরোপুরি তার ব্যক্তিত্বের মতো।

কালো দেয়াল, বড় কাঁচের জানালা, দামি আসবাবপত্র আর একপাশে সাজানো কয়েকটি পুরোনো বই।

এলোরিয়া দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

— মে আই কাম ইন?

স্যাম ল্যাপটপ থেকে চোখ না তুলেই বলল,

— দরজা খোলা।

এলোরিয়া ভেতরে ঢুকল।

— বসুন।

সে চুপচাপ চেয়ারে বসল।

স্যাম একটি ফাইল তার দিকে এগিয়ে দিল।

— আপনার কাজের বিবরণ এখানে আছে। ভালো করে পড়ে নেবেন।

— জি, স্যার।

— আর একটা কথা।

— জি?

স্যাম এবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকাল।

— অফিসে ব্যক্তিগত আবেগের কোনো জায়গা নেই। কাজের সময় কাজ করবেন।

এলোরিয়া একটু বিরক্ত হলো।

সে কি দেখতে এতটাই আবেগপ্রবণ?

তবুও শান্তভাবে বলল,

— অবশ্যই, স্যার।

স্যাম আবার ফাইলে চোখ রাখল।

— You may leave.

এলোরিয়া উঠে দাঁড়াল।

দরজার কাছে গিয়ে আবার থামল।

— স্যার?

— হ্যাঁ?

— আপনার কেবিনে একটা জানালা আছে, কিন্তু পর্দা সব সময় বন্ধ রাখেন কেন?

স্যাম এবার সম্পূর্ণভাবে তার দিকে তাকাল।

প্রশ্নটা তার কাছে অপ্রত্যাশিত।

— আপনার কাজের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?

এলোরিয়া একটু হেসে বলল,

— কোনো সম্পর্ক নেই। এমনিই জানতে ইচ্ছে হলো।

স্যাম কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।

— কাজের দিকে মনোযোগ দিন, মিস এলোরিয়া।

— জি, স্যার।

সে বেরিয়ে গেল।

দরজা বন্ধ হওয়ার পর স্যাম কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল।

তারপর জানালার দিকে তাকাল।

অনেক দিন পর কেউ তাকে এমন অদ্ভুত একটা প্রশ্ন করল।

৫. অদ্ভুত মানুষটা

দুপুর ১টা।

অফিসের ক্যান্টিনে বসে খাবার খাচ্ছিল এলোরিয়া।

তার পাশে বসে আছে মিরা। মিরা এই কোম্পানিতেই আগে থেকে কাজ করে।

— কেমন লাগছে প্রথম দিন?

— ভালোই। তবে তোমাদের CEO-টা ভীষণ অদ্ভুত।

মিরা খাওয়া থামিয়ে তার দিকে তাকাল।

— কী বললি?

— কী আবার? লোকটা কথা বলে এমনভাবে, মনে হয় পৃথিবীর সবাই তার কাছে অপরাধী।

মিরা হাসি চাপার চেষ্টা করল।

— আস্তে কথা বল! কেউ শুনে ফেলবে।

— শুনলে শুনুক। আমি কি মিথ্যা বলেছি?

মিরা একটু কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,

— শোন, স্যাম ব্ল্যাকউডকে নিয়ে অফিসে বেশি কথা বলিস না।

— কেন?

— লোকটা খুব রহস্যময়। ওর অতীত সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। এমনকি ওর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কেউ কথা বলে না।

এলোরিয়া কৌতূহলী হয়ে উঠল।

— কেন? বিয়ে করেনি?

— না।

— গার্লফ্রেন্ড নেই?

— যতদূর জানি, নেই।

এলোরিয়া চোখ বড় করে বলল,

— এত সুন্দর দেখতে একটা ছেলে, অথচ গার্লফ্রেন্ড নেই?

মিরা হেসে ফেলল।

— তোর কাছে সুন্দর লাগছে?

এলোরিয়া তাড়াতাড়ি বলল,

— আমি কি বলেছি যে আমার ভালো লেগেছে?

— আচ্ছা, আচ্ছা!

দুজনেই হেসে উঠল।

কিন্তু ক্যান্টিনের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ তাদের কথোপকথন শুনছিল।

সে স্যামের ব্যক্তিগত সহকারী।

আর কিছুক্ষণ পরেই কথাগুলো পৌঁছে যাবে স্যামের কানে।

৬. প্রথম অস্বস্তি

বিকেল ৫টা।

অফিসের প্রায় সবাই বাড়ি চলে গেছে।

এলোরিয়া এখনো নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছে।

হঠাৎ তার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল।

Unknown:

'আপনি কি সব সময় এত প্রশ্ন করেন?'

এলোরিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

— এটা আবার কে?

সে রিপ্লাই দিল,

'কে আপনি?'

কয়েক সেকেন্ড পর উত্তর এল।

'যাকে আজ সকালে জানালার পর্দা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।'

এলোরিয়া এবার বুঝতে পারল।

তার চোখ বড় হয়ে গেল।

'স্যাম!'

সে দ্রুত লিখল,

'আপনি আমার নম্বর পেলেন কোথায়?'

উত্তর এল,

'আপনি আমার কোম্পানিতে কাজ করেন।'

এলোরিয়া মনে মনে বলল,

'বাহ! কী সুন্দর উত্তর!'

সে লিখল,

'তাই বলে কর্মচারীদের ব্যক্তিগত নম্বর নিয়ে মেসেজ করা কি আপনার কাজ?'

ওপাশে কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।

তারপর—

'আপনার কাজ শেষ হলে বাড়ি চলে যান।'

এলোরিয়া লিখল,

'আপনি কি আমাকে অফিস থেকে বের করে দিচ্ছেন?'

উত্তর এল,

'না। আপনাকে বাড়ি যেতে বলছি।'

এলোরিয়া এবার হেসে ফেলল।

'আপনি সব সময় এমন রাগী থাকেন?'

কোনো উত্তর নেই।

সে ফোনটা রেখে দিল।

কিন্তু স্যাম তখন নিজের কেবিনে বসে তার শেষ মেসেজটার দিকে তাকিয়ে ছিল।

তার ঠোঁটের কোণে খুব সামান্য হাসির রেখা ফুটে উঠেছিল।

সে নিজেও বুঝতে পারল না কেন।

৭. কালো গাড়ির মানুষটি

রাত ৮টা।

অফিস থেকে বেরিয়ে এলোরিয়া রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির অপেক্ষা করছিল।

বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

তার কাছে ছাতা নেই।

সে ফোন বের করে মিরাকে কল করল।

— হ্যালো, কোথায় তুই?

— বাসায়। তুই এখনো অফিসে?

— না, বের হয়েছি। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে। গাড়িও পাচ্ছি না।

— দাঁড়া, আমি একটা গাড়ি পাঠাচ্ছি।

— না না, লাগবে না। আমি পেয়ে যাব।

কল কেটে দিয়ে সে রাস্তার দিকে তাকাল।

ঠিক তখনই একটি কালো গাড়ি এসে তার সামনে থামল।

জানালার কাঁচ ধীরে নিচে নামল।

ভেতরে বসে আছে স্যাম।

— উঠুন।

এলোরিয়া অবাক হয়ে তাকাল।

— আপনি এখানে?

— দেখতে পাচ্ছেন না?

— জি, দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আপনি এখানে কী করছেন?

— আমার গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।

এলোরিয়া একটু সন্দেহের চোখে তাকাল।

— আপনার গাড়ি কি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যায়?

স্যাম বিরক্ত হয়ে বলল,

— মিস এলোরিয়া, বৃষ্টি হচ্ছে। উঠবেন, নাকি এখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করবেন?

এলোরিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

— আমি বাসায় যেতে পারব।

স্যাম কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— ঠিক আছে। সাবধানে যাবেন।

জানালার কাঁচ উঠে গেল।

গাড়ি চলতে শুরু করল।

এলোরিয়া অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

মানুষটা এতটাও খারাপ নয় হয়তো!

কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই গাড়িটা আবার থেমে গেল।

পেছনের দরজা খুলে স্যামের সহকারী নেমে এল।

— ম্যাম, স্যার আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে বলেছেন।

এলোরিয়া গাড়ির দিকে তাকাল।

স্যাম এবার জানালার বাইরে তাকাচ্ছেও না।

এলোরিয়া মুচকি হেসে গাড়িতে উঠে বসল।

৮. অজানা এক অতীত

রাত ৯টা ৩০ মিনিট।

BLACKWOOD MANSION।

স্যাম নিজের ঘরে বসে ছিল।

সামনে একটি পুরোনো ছবি।

ছবিতে একটি ছোট্ট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশে একজন নারী।

স্যাম ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে ছবিটি ড্রয়ারের ভেতর রেখে দিল।

ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।

— হ্যালো।

ওপাশ থেকে একজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেল।

— স্যাম, পুরোনো ব্যাপারটা আবার সামনে আসছে।

স্যামের মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তেই বদলে গেল।

— কে বলেছে?

— এখনো নিশ্চিত নই।

— আমি বলেছিলাম, বিষয়টা এখানেই শেষ করতে।

— কিন্তু...

স্যাম তাকে থামিয়ে দিল।

— I don't want to hear anything else.

কল কেটে দিল সে।

কিছুক্ষণ পর নিজের ঘরের জানালার সামনে দাঁড়াল।

বাইরে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

তার চোখে সেই পুরোনো শীতলতা ফিরে এসেছে।

কিন্তু আজ অদ্ভুতভাবে তার মনে পড়ছে একটি মেয়ের কথা।

এলোরিয়া।

যে কিনা প্রথম দিনেই তাকে জিজ্ঞেস করেছিল—

'আপনার কেবিনে জানালা আছে, কিন্তু পর্দা বন্ধ রাখেন কেন?'

স্যাম নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

৯. একটি অচেনা মেসেজ

রাত ১১টা।

এলোরিয়া বিছানায় শুয়ে ফোন দেখছিল।

হঠাৎ একটি মেসেজ এল।

Sam Blackwood:

'বাসায় পৌঁছেছেন?'

এলোরিয়া অবাক হলো।

এই লোক আবার মেসেজ করেছে!

সে লিখল,

'জি। আপনি?'

উত্তর এল,

'আমি কী?'

'আপনিও বাসায় পৌঁছেছেন তো?'

কিছুক্ষণ পর উত্তর এল,

'আমি বাসাতেই থাকি।'

এলোরিয়া হেসে ফেলল।

'ওহ! তাহলে আপনাকে শুভরাত্রি বলার দরকার নেই।'

স্যাম লিখল,

'কেন?'

'আপনার তো ঘুম আসে না মনে হয়। সব সময় এত গম্ভীর থাকেন!'

এবার উত্তর আসতে একটু সময় লাগল।

'সব মানুষকে নিজের মতো ভাববেন না, মিস এলোরিয়া।'

এলোরিয়া লিখল,

'তাহলে আপনাকে কীভাবে ভাবব?'

স্যাম মেসেজটা পড়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর লিখল,

'সেটা সময় হলে বুঝতে পারবেন।'

এলোরিয়া কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকল।

তারপর ফোনটা বুকে রেখে মুচকি হাসল।

— অদ্ভুত একটা মানুষ!

কিন্তু তার অজান্তেই এই অদ্ভুত মানুষটি ধীরে ধীরে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে।

১০. গল্পের শুরু মাত্র

পরদিন সকাল।

এলোরিয়া অফিসে ঢুকেই দেখল, তার ডেস্কের ওপর একটি কালো বাক্স রাখা।

বাক্সটির ওপর সাদা রঙের একটি ছোট্ট কার্ড।

কার্ডে লেখা—

'For the girl who asks too many questions.'

এলোরিয়া অবাক হয়ে বাক্সটি খুলল।

ভেতরে একটি সুন্দর কালো ডায়েরি।

ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা—

'কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেই। কিছু দরজা বন্ধ থাকাই ভালো।'

এলোরিয়া লেখাটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর কার্ডের পেছনে চোখ পড়তেই দেখল ছোট্ট একটি স্বাক্ষর।

— S.

তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

— মিস্টার ব্ল্যাকউড!

ঠিক তখনই তার ফোনে একটি মেসেজ এল।

Sam:

'ডায়েরিটা পছন্দ হয়েছে?'

এলোরিয়া লিখল,

'খুব সুন্দর। কিন্তু আপনি জানলেন কীভাবে যে আমি ডায়েরি পছন্দ করি?'

উত্তর এল,

'আপনার ফাইলের শেষ পাতায় আপনার শখের তালিকা লেখা ছিল।'

এলোরিয়া মুচকি হেসে লিখল,

'তাহলে ধন্যবাদ, স্যার।'

স্যাম উত্তর দিল,

'You're welcome, Eloria.'

নিজের নামটা স্যামের মেসেজে দেখে এলোরিয়া কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইল।

কেন জানি নামটা আজ অন্যরকম লাগছে।

কিন্তু ডায়েরির শেষ পাতায় এমন একটি জিনিস ছিল, যা সে তখনো খেয়াল করেনি।

একটি ছোট্ট কালো খাম।

খামের ভেতরে একটি পুরোনো ছবি।

ছবিতে স্যাম দাঁড়িয়ে আছে একটি বিশাল বাড়ির সামনে।

তার পাশে একজন অচেনা মেয়ে।

ছবিটির পেছনে লাল কালিতে লেখা—

'কিছু মানুষ জীবনে আসে ভালোবাসা হয়ে, আবার কিছু মানুষ আসে এমন এক রহস্য হয়ে, যার উত্তর কোনোদিন পাওয়া যায় না।'

এলোরিয়া ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

মেয়েটি কে?

স্যামের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী?

আর ডায়েরির ভেতরে ছবিটা রাখার কারণই বা কী?

সে জানালার বাইরে তাকাল।

আকাশটা আজও মেঘলা।

অন্যদিকে BLACKWOOD MANSION-এর বিশাল ঘরে দাঁড়িয়ে স্যাম নিজের ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে।

এলোরিয়ার নামের পাশে একটি নতুন মেসেজ।

Eloria:

'স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?'

স্যাম উত্তর দিল,

'বলুন।'

Eloria:

'আপনার সঙ্গে ছবির ওই মেয়েটি কে?'

মেসেজটি পড়ে স্যামের মুখের হাসি মুহূর্তেই হারিয়ে গেল।

তার আঙুল থেমে গেল ফোনের স্ক্রিনে।

কয়েক সেকেন্ড পর সে শুধু একটি উত্তর পাঠাল—

'ওই ছবিটা আপনার কাছে কীভাবে গেল?'

এলোরিয়া লিখল,

'ডায়েরির ভেতরে ছিল।'

স্যাম আর কোনো উত্তর দিল না।

সে ধীরে চোখ বন্ধ করল।

তারপর নিজের সহকারীকে ফোন করল।

— আমার সঙ্গে দেখা করো। এখনই।

— জি, স্যার।

— আর একটা কথা।

— বলুন।

স্যামের কণ্ঠ এবার আগের চেয়েও কঠিন।

— এলোরিয়ার ব্যাপারে আমাকে সব জানতে হবে। সে কোথা থেকে এসেছে, তার পরিবারে কারা আছে, সবকিছু।

কল কেটে গেল।

সেদিন প্রথমবার স্যাম বুঝতে পারল, এলোরিয়া তার জীবনের এমন একটি দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেটা সে বহু বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছিল।

আর সেই দরজার ওপারে অপেক্ষা করছে তার অতীত।

একটি অতীত, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং এমন কিছু সত্য, যা একদিন তাদের দুজনের জীবন বদলে দিতে পারে।

চলবে...

🖤 পরবর্তী পর্বে:

এলোরিয়া কি জানতে পারবে ছবির মেয়েটি কে? স্যাম কেন নিজের অতীত লুকিয়ে রেখেছে? আর কেনই বা এলোরিয়ার প্রতি তার এত অদ্ভুত কৌতূহল?

To be continued...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন