ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিপক্ক

অপরিপক্ক পর্ব ১

লেখক: যাজিবা জাবিন

ভাদ্র-আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময় পড়েছে, সারা বছর প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রূপ সাজে, তবে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে প্রকৃতির এক নতুন রূপ দেখা মেলে, তখন খাল-বিলে প্রশস্ত হয়ে ফুটতে দেখা যায় শাপলা ফুল।

রেবেকা সুলতানা বয়স ১১ বছর, জালাল মিয়া আর রাবেয়া বেগমের তিন ছেলে দুমেয়ে, ভাই বোনের মধ্যে রেবেকা তৃতীয়,তার বড় দুই ভাই আছে, একজনের ১৭ বছর আর একজনের ১৫ আর ছোট ভাই বোন জমজ ৪ বছরের। জালাল মিয়া গৃহস্থের কাজ করে, মাঠের ফসল, ক্ষেতের সবজি, পুকুর ভর্তি মাছ, গোয়াল ভর্তি গরু এসব হচ্ছে তার জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস।

জালাল মিয়ার পৈতৃক ভীটায় সেনপুর গ্রামেই বসবাস করে।

সেনপুর গ্রামে কোন আধুনিকতার ছিটেফোটাও নাই, কুসংস্কারের ঠাসা মানুষের মস্তিষ্ক। পড়াশোনার কোন তাড়া নেই, সরকারি স্কুল তো আছে, শিক্ষকও আছে,তবে ছাত্র-ছাত্রী নেই, শিক্ষকরা টাইম মতো স্কুলে আসে,বেঞ্চে শুয়ে ঘুমায় সারাদিন, আবার ছুটি হলে বাড়িতে ফিরে যায় কারন এখনকার গ্রামবাসীদের শিক্ষার প্রতি কোন আগ্রহ নেই।

তাদের চিন্তা-ভাবনা আর সূর্য উঠলে দিনই হবে, আর সূর্য ডুবে গেলে রাত‌, খাও দাও গৃহস্থির কাজ করো আর রাত হলে ঘুমাও এটাই তাদের জীবন,

তাই শিক্ষাগত যোগ্যতার খুব অভাব গ্রামবাসীর মধ্যে, এবং সেই সুযোগে কুসংস্কার বিষয়টা খুব ভালোভাবে জায়গা করে নিয়েছে মানুষের মধ্যে।

**মিয়া বাড়ির জালাল মিয়ার মাটির বড় বড় দুইটা দালান প্রশস্ত বাড়ি বাপ মা স্ত্রী আর পাঁচ সন্তানদের নিয়ে তার বসবাস।

রাবেয়া বেগম সকালে পাতিল ভর্তি ভাত রান্না করছে সঙ্গে আলু- চেপা শুটকি ভর্তা। রাবেয়ার শাশুড়ি মুক্তা বেগম বারান্দায় বসে আছে,তার কোলে জালাল মিয়ার ছোট ছেলে।

রাবেয়া মাটির বারান্দায় শীতল পার্টি বিছিয়ে গরম ভাতের পাতিল এনে রাখলো তারপর এক এক করে থালা,- জগ- গ্লাস আলু ভর্তা চেপা শুটকি ভর্তা,জালাল মিয়া বাজারে যাবে রাবেয়া বেগম স্বামীকে ভাত বেড়ে দিল, রাবেয়ার শশুর মুমিন মিয়া মাথায় করে খাঁচা ভর্তি পটল এনে রাখলো বাড়ির উঠানে

রাবেয়া:: আব্বা ভাত খাইতাইন না, জলদি আইন ভাত তো জুড়াইয়া যাইবো।

মুমিন:: হ হ আইতাছি বৌমা।

জালাল মিয়া ভাতের লোকমা মুখে পুরে এদিক ওদিক তাকিয়ে বলে।

জালাল:::রাবেয়া আমার রেবেকা আম্মাজান ক‌ই দেহি না কে, ভাত খাইতো না ওয়।

রাবেয়া::: চেইচ্চা বিলে গেছে শাপলা কলি আনতে ক‌ইলো শাপলার লতা বিরান খাইবো।

মুক্তা::: ও মায়া মায়া গো‌ বৌ!!! তুমি আমার নাতনি ঢার সর্বনাশ না ক‌ইরা ছাড়তানা দেহি,এই বয়সে মাইয়াগোর দেইহা রাখতে হয়, জানোনা খারাপ বাতাস লাগলে বিয়ে করবো কেউ।

মুক্তা বেগমের এই কথা শুনে, জালাল মিয়া ভাতের লুকমা গিলে তার বাবা মুমিন মিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল ;

জালাল::: ভালো কতা আব্বা আন্নের লগে খুব দরকারি কতা আছিল।

// মুমিন মিয়া ভাত চাবায়,মাথা ঝাঁকায় ইশারা করে বলার জন্য ;

জালাল::আব্বা বীরপুরের তে একটা বিয়ার ঘর আইছে রেবেকার লেগ্গা, বীরপুরের সরকারি স্কুলে এর বড় মাস্টরের বড় পুতের লেগ্গা, পোলায় পড়ছে হাই স্কুল পর্যন্ত, শুনছি মাস্টার অনেক চেষ্টা করছে তার পুতেরে মাস্টার বানানোর লেগ্গা কিন্তু পোলায় নাকি পড়ে নাই,তবে বীরপুর বাজারে পোলার নিজের কাপুরের দোহান আছে,আর তা ছাড়া তাগোরে অবস্থা তো আন্নে জানোনই , বিশাল বড় গৃহস্থ বাড়ি।এহন কি ক‌ইতাম কন।

মুমিন মিয়া ভাত খেতে খেতে শান্তভাবে ছেলের সব কথা শুনলো, কিছু সময় চুপ থেকে চিন্তা করে বলল।

মুমিন::: বাজান বড় গৃহস্থ তো ভালোই ভাতের অভাব হ‌ইতো না পাতিল, কাইচ্ছায় যে ভাত হ‌ইবো আমার নাতিনে তা চারবার খাইতে পারবো।

বাপ ছেলের কথায় একটু অসন্তুষ্ট বোঝ করে রেবেকার মা রাবেয়া সে আমতা আমতা করে বলল;;

রাবেয়া::: কিন্তু রেবেকায় তো এহনো ছোঢো।

মুক্তা::: তো ছোঢাই তো ভালো,মাইয়া মাইনষের সাবালক শশুর বাড়ীত গিয়ে হ‌ওয়াই ভালো।

রাবেয়া আবার কিন্তু বলতে চাইলে মুক্তা বেগম বলে।।

মুক্তা::: তোর কথার ভিন্ন তুই আমার ভাইজি ভুইলা যায় না।তাই তোর কালে যা হ‌ইছে তা কি হ‌ইবো সবার কালে। ছেড়ি মাইনসের বিয়া নাবালিক থাকতেই দিতে হয়, জামাই বাড়ি যাইয়া সাবালিকা হইব এইডাই নিয়ম।

//মায়ের কথা শুনে জালাল মিয়া বিজ্ঞ জ্ঞানের মত মাথা নাড়ায় বলে।

জালাল::: তাইলে আব্বা কি করতাম তারা তো রেবেকারে দেখবার আইবার চায়

মুমিন::: আইবার ক‌ও দেইহা যাক।

জালাল::: আইচ্ছা

মুমিন:::আর হুনো মাস্টাররে মনে কইরা পোলারে সঙ্গে আনবার কইয়ো, আমাগোর পোলা দেহাডা হ‌ইয়া যাইবো।

সবার কথার মাঝেই রেবেকা, দুই হাতে জড়িয়ে ধরে এক বুক শাপলা কলি নিয়ে হাজির হয় বাড়ির উঠানে,তার পরনে এক প্যাচের শাড়ি কাপড়, পেটিকোট ব্লাউজ ছাড়া ১০ হাতের ছোট শাড়ি কাপুরের আবরনে মধ্যে ১১ বছরের গোটা রেবেকাটাই ঢেকে গেছে।

শাপলা কলি তুলতে গিয়ে চেইচ্চা বিলে নেমেছিল কোমর অব্দি শাড়ি ভেজা//

রাবেয়া দৌড়ে গিয়া শাপলা কলি হাতে নিলো, রেবেকাকে বললো, গোসল করে এসে ভাত খেতে ‌।

রেবেকা দৌড়ে যায় পুকুরে,তার খুব খিদা লাগেছে।

জালাল মিয়া পটলের খাঁচা মাথায় বড় দুই ছেলে নিয়ে হাটে গেছে সাথে গরুর দুধ আছে দুই কলসি। এগুলো বিক্রি করে তেল,নুন আর সংসারের অন্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে।

মুমিন মিয়া মাঠে গেছে কাজে।

রাবেয়া বেগম,মুক্তা বেগম আর রেবেকা ভাত খাচ্ছে জমজ ২ ভাইবোন নিয়া।

খাওয়ার মাঝে মুক্তা বেগম বললো।

মুক্তা::: রাবেয়া রেবেকার তো ১১ হ‌ইলো তয় এহনো ওর শ‌ইলেরডা (মা সি ক) হয় না কেন?

রাবেয়া::: হইয়া যাইবো আম্মা আমারও তো ১২ বছর বয়সে হয়েছিল।

রেবেকা::: কি হ‌ইবো বু (দাদী)?

মুক্তা::: শইলখারাপ হ‌ইবো , তুই ছুরি থাইকা বেডি হ‌ইবি। কিগো বৌ তুমি ওরে বুঝাও নাই কেন এখনো।

রাবেয়া::: আম্মা আন্নে বুঝান, আমি পারতাম না।

রেবেকা::: আম্মা ভর্তা এতো ঝাল কেন দিছো, জিব্বা জ্বলতাছে আমার।

শুক্তা::: ইস্ ঢং কত মাগির ঝাল লাগে ,দুদিন পর হাঙ্গা হ‌ইবো, এখন এত মিষ্টি না খাইয়া ঝাল খাওয়া শিখ,হোরবাড়ি কাজে দিবে।

**************

খালেদা খাতুন বাজারে বেগ থেকে মাছ, কাঁচা সবজি নামিয়ে ছুরিতে রাখছে, মিলন সাহেব বাজার করে এনেছে মাত্র।

মিলন::; আম্মা দেহেনতো মাছ তাজা হ‌ইছে না?

খালেদা::: হ হ তাজাই আছে, যা আব্বা গোসল ক‌ইরা আয়, আমি ভাত বারি।

মায়ের কথায় মিলন পুকুরে দিকে হাঁটতে হাঁটতে ছোট বোন কলিরে ডাকে বলে লুঙ্গি নিয়ে আসতে।

মিলন:: কলি জলদি লুঙ্গি নিয়া আয়, আমার খিদা লাগছে খাইয়া আবার দোকান খুলতে হ‌‌ইবো।

স্কুল মাস্টার বাদল ব্যাপারীর তিন সন্তান,বড় ছেলে মিলন ব্যাপারী (বয়স ২৬), ছোট ছেলে মাসুদ ব্যাপারী(বয়স ১৭) মাদ্রাসার ছাত্র। ছোট বোন জাহানারা কলি ((১৪বছর)))।

কলির বিয়ে হয়েছে ১৩ বছর বয়সে শ্বশুরের মাছের ফিশারি মাছের আরদ আছে,, জামাই এসব দেখা শোনা করে। কলি ১৫ দিন শশুর বাড়ি থাকলেই বাপের বাড়ি আসতে কান্নাকাটি করে,তাই বাধ্য হয়ে কলির শশুর তাকে রেখে যায়, আবার কিছুদিন পর এসে নিয়ে যায়, এটাই চলছে বিয়ের পর থেকে,, কলির জামাই রুহুল এই নিয়ে একবার একটা থাপ্পর দিয়েছে কলিকে, এই কথা মিলনের কানে আসার পর থেকে সে খুব চটে গেছে ,মিলন তো রেগে বলেই দিয়েছেন এই বার তার বোন আর ঐ বাড়ি দিবে না।

বাদল আলির বিশাল বসতভীটা, পুরো ভীটা জোড়ে মাটির দেয়ালের তৈরির চারটা বড় বড় ঘর,, ভীটার দুইদিকে বড় বড় দুইটা দিঘী ,, বাড়তি জায়গা গুলোতে খালেদা বেগমের নিজের হাতে রোপন করেছে লাউ, কুমড়ো, সিম, টমেটো গাছ এসব গাছের মাত্রই ফুল কলি দেখা দিয়েছে, বিকেল হয়েছে,কলি বদনা হাতে পুকুর থেকে পানি তুলে গাছের গোড়ায় ঢালছে।

মিলন ভাত খেতে একটু বিছানায় গা এলিয়েছে, উত্তর দিকের মাটির ঘরটা মিলনের,ঘরে খুব পুরনো ডিজাইনের একটা পালঙ্ক, সাথে কাঠের আলনা, কাঠের বিশাল ঢেকস্কু ((বড় ট্রাংক)) আর আছে লোহার সিন্দুক। মিলনের মাটির ঘরটা সামনে পেছনে বারান্দা আছে ,বিছানার সাথের কাঠের জানালা খুললেই বড় দিঘীটা সামনে পড়ে, মাটির ঘরে গরম কম তার ওপর বিছানায় পাশের জানালা খুলে পুরো ঘর শীতল বাতাসে ভরে যায়। মিলন কিছু সময় বিশ্রাম করে তারপর উঠে আলনা থেকে কালো রংয়ের একটা শার্ট গায়ে জড়ায়।

সাদা লুঙ্গির সাথে কালো শার্ট শ্যামলা ছিমছাম গঠনের যুবক মিলনকে বেশ সুদর্শন লাগে এই বেসে। মাটির দেয়ালের সাথে সংযুক্ত বড় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মিলন চিরুনি দিয়ে মাথার চুল গুলো ঠিক করেনিলো। বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দোকানের চাবি হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়াতেই তার বাবা বাদল আলি বললেন।

বাদল::: কাল শুক্রবার সকাল দশটার দিকে তৈরি থাইকো মাইয়া দেখতে যামু।

মিলন ভুরু কুঁচকিয়ে তাকায় ,কিন্তু বাবার কথার বিপরীতে কোন কথা বলে না ,এমনিতেই তার বাবা তার উপরে রাগ,রাগার যথেষ্ট কারণ আছে,মিলন খুব ভালো ছাত্র ছিলো, অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তী পেয়েছে ট্যালেন্টপুলে, কিন্তু মিলনের মেট্রিক টেস্ট পরীক্ষার সময় টাইফয়েড ধরা পড়ে।

প্রাথমিক অবস্থায় থাকায় চিকিৎসার মাধ্যমে তা ঠিক হয়, কিন্তু ঐ বছর মেট্রিক (s.s.c) দিতে না পারার দুঃখে সে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়, তার এক‌ই কথা সে কিছুতেই তা নিচের ক্লাসের ছাত্রদের সাথে পড়বে না যারা স্কুলে বড় ভাই বলে সালাম দিয়েছে এতো বছর।তখন মাস্টার তাকে অনেক বোঝায় তারপরও কিছুতেই সে পড়াশোনা আর করে নাই। যুক্তি তার সহপাঠীরা তার উপরে ক্লাসে উঠে গেছে তাই ছোট ক্লাসের ছাত্রদের সাথে পড়াশোনা করবে না। তখন থেকেই জেদি মিলনের উপর বাদল মাস্টার রেগে আছেন।

মিলন পড়া বন্ধ করলেও বেকার বসে নেই, তার কাপরের ব্যবসা বেশ বড়, বীরপুরের মধ্যে বেশ নাম ডাক আছে তার। সহপাঠিরা পড়াশোনা করেও এত উন্নতি করতে পারে নাই যতটা সে করেছে। তাই মাস্টার তাকে তেমন কিছু বলেনা ,তবে যতটুকু কথা বলে দুজনের কথার মধ্যে গাম্ভীর্য থাকে।

***************************

রেবাকাকে বেশ মনে ধরেছে বাদল মাস্টারের,মিলন কেও জালাল মিয়ার পছন্দ হয়েছে, মিলনের দাদা নাই কিন্তু দাদার ছোট ভাই রশিদ আলি এসেছেন তাদের সাথে।

রশিদ আলি _মুমিন মিয়া কে বলে ঠিক করেন আজ‌ই কাবিন হবে মিলন আর রেবেকার।

মাস্টার তার ছেলেকে বসিয়ে রেখে দোকানে গেলেন, নিজেদের দোকান থেকে বেছে চিনে পছন্দ করে ছেলের বউয়ের জন্য লাল টুকটুকে একটা শাড়ি নিয়ে আসলেন, সাথে রুপার তৈরি, চুরি, গলার চেইন, কানপাশা আর ছোট্ট একটা সোনার নাক ফুল।

জালাল মিয়া মিলনের জন্য, লুঙ্গি,সেন্টু গেঞ্জি আর একটা সাদা পাঞ্জাবি আনলেন আর সঙ্গে করে (কাজী) মসজিদের হুজুর নিয়ে আসলেন।

১১ বছরের রেবেকার দুধে আলতা গায়ের রং স্বাস্থ্য পুরো নাদুস নুদুস গোলগাল, লম্বা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি,, ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি মিলনের তুলনায় অনেক ছোট, তাদের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের।

কিন্তু তাদের পরিবেশ_সমাজের, পরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এটা সঠিক বয়স।

*গ্রামে একটা কুসংস্কার প্রচলিত আছে, মেয়েদের নাবালিকা (পি রি য় ড ) হওয়ার আগে বিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। সাবালিকা (পি রি য় ড)শশুর বাড়ি গিয়ে হলেই নাকি ভালো।এটা নাকি সওয়াবের কাজ তাই বাবা মায়েরা ছোট ছোট মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়ে সোয়াব আদায় করে। কিন্তু ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে সাবালিকা (পি রি য় ড)হলেই মেয়েরা বিয়ের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু পাড়া গ্রামে মানুষরা সর্বদা কুসংস্কার এর উপর নির্ভরশীল।। আর যুগের পর যুগ ধরে কিছু গ্রাম অঞ্চলে এমনটাই হয়ে আসছে।

মিলন তো বোঝে বিয়ে কি, কিন্তু রেবেকা তো নতুন, আর নতুন বউদের নাকি রাতের বেলায় ঘরের বাইরে যেতে হয় না , তবে মাস্টারের ইচ্ছাই ছিল না এখন বউকে বাড়ি তুলে নেওয়ার,, মেয়ে দেখতে এসে ছেলের বিয়ে দিল,ছেলেও তাদের সিদ্ধান্তের উপরে কোন কথা বলেনি, তাই বাড়ি গিয়ে মাস্টার বুঝতে চাইছে ছেলের মতিগতি।

*************************

কেটে গেল দুই মাস মিলন আগের মতই জীবন যাপন করছে সে যে একজন বিবাহিত পুরুষ, তার ভেতরে তেমন কোন ভাবান্তর নেই, মাস্টার খুব হতাশ, ভেবেছিল পুরুষ মানুষ হয়তো মুখ ফোটে না বলতে পারলেও আচরণে বোঝাবে তার এখন ব‍উ আছে কিন্তু কাছে নাই। দুই মাসে মাস্টার ৬ বার তার ছেলের বউকে দেখে গিয়েছে, রেবেকা মাথায় লম্বা ঘোমটা দিয়ে যখন বাদল আলির সামনে আসে তখন বাদল আলি হাসে, স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেয় রেবেকার মাথায়, মাস্টার যতবারই রেবেকাকে দেখতে গিয়েছে ততবারই মিলনের দোকান থেকে সর্বোচ্চ দামি শাড়ি কাপড় সঙ্গে নিয়ে গেছে, মিলন কিচ্ছু বলে নাই এই নিয়ে তার আব্বাকে।

রেবেকা ভীষণ খুশি, বিয়ে মানে তার কাছে নতুন কাপড়,, তবে রেবেকার দাদী খুব অসন্তুষ্ট, দুমাসে একটা বারের জন্য নাত জামাই আসেনি বাড়িতে, এখনো অব্দি শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে তুলে নেওয়ার কথা উল্লেখ করছে না। নাবালিকা বিয়ে দিয়েছে শশুর বাড়ি গিয়ে সাবালিকা হবে, অনেক অনেক সোয়াব আদায় হবে তাদের। আহা দাদীর আর সোয়াব কামানো হলোনা 😕

***সময় নদীর স্রোতের মতো বহমান কারো জন্য থেমে থাকে না, দেখতে দেখতেই রেবেকার বিয়ে হয়েছে ৬ মাস কমপ্লিট।

এদিকে জালাল মিয়ার গ্রামবাসী প্রতিবেশীরা কানাঘসা করছে, নিশ্চয়ই রেবেকার খুঁত আছে তাই তো নতুন জামাই একটাবারের জন্য আসলো না।

*** অন্যদিকে খালেদা খাতুন প্রতিবেলা খাবার বেড়ে দিয়ে ছেলের সামনে বসে থাকে, আর এটা ওটা বলে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বোঝায় বউ নিয়ে আসতে। মিলন প্রতিবার নির্বিকার চুপ।

তবে মিলনের দাদী আমেনা বেগম নাত বৌ দেখতে পাগল প্রায়।। সারাদিন ঘুনুর ঘুনুর করতেই থাকে সবার কানের কাছে।

আমেনা বেগম অসুস্থ মানুষ এই ভালো এই খারাপ হঠাৎ করেই সে বিছানায় পরে গেল।

জালাল মিয়া বীরপুর বাজারে ধান ক্ষেতে দেওয়ার জন্য সার কিনতে গিয়েছিল, ফেরার সময় ভাবল মেয়ের জামাইয়ের দোকানে গিয়ে তার সাথে একটু দেখা করে যাওয়া উচিত, তবে দোকানে গিয়ে পেল না মিলনকে, কর্মচারীর কাছ থেকে জানতে পারে, মিলনের দাদি অসুস্থ তাই আজকে দোকানে আসেনি।

জালাল মিয়া তা শুনে দেখতে গেলেন তাকে, তখন অসুস্থ আমেনা বেগম ঘরবর্তী মানুষের সামনে আবদার করে বসলো, নাত বউকে বাড়ি আনার। বাদল মাস্টার মায়ের কথা ফেলতে পারলোনা, সে তো এমন একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল, কেউ একজন বলবে আর সে গিয়ে তার পুত্রবধূকে নিয়ে আসবে। সুযোগটা লোভে নিল বাদল মাস্টার জালাল মিয়া কে বলে দিলো আগামী পরশু শুক্রবার ছেলের বউ নিতে আসছে তারা, আর এসব ঘটনা মিলনের সামনেই ঘটলো তবে সে এখনো নির্বিকার গম্ভীর চুপ করেই রইলো, এসবে তার ব্যক্তিগত কোন মতামত নেই

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অপরিপক্ক পর্ব ১ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন